ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
Nagad desktop

ইতিহাসের দ্রুততম করভেট আনল জেনারেল মোটরস

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫, ০৪:২০ পিএম
ইতিহাসের দ্রুততম করভেট আনল জেনারেল মোটরস
নতুন হাই-পারফরম্যান্স হাইব্রিড সংস্করণটি ২ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলবে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরস (জিএম) তাদের বিখ্যাত স্পোর্টস কার করভেটের লাইনআপে যুক্ত করেছে নতুন একটি হাই-পারফরম্যান্স হাইব্রিড সংস্করণ। গাড়িটির নাম দেওয়া হয়েছে  ‘২০২৬ করভেট জেডআর১এক্স’। অত্যাধুনিক এই হাইপার কারটি শূন্য থেকে ৬০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে পৌঁছাতে সময় নেয় দুই সেকেন্ডেরও কম। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে ‘হাইপার কার’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এটি করভেটের ইতিহাসে এ পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে দ্রুতগতির গাড়ি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়টে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন মডেলটি উন্মোচন করেছে জিএম। করভেট ই-রে হাইব্রিড মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নতুন এই সংস্করণে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত পারফরম্যান্স প্রযুক্তি। নতুন হাইপার কারটির টুইন-টার্বো ভি৮ ইঞ্জিনটি আগের জেডআর১ মডেলের মতোই শক্তিশালী হবে।

জিএম জানিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৩৭৫ কিলোমিটার (২৩৩ মাইল)। এতে ব্যবহৃত হয়েছে টুইন-টার্বো ভি৮ ইঞ্জিন, যা ১ হাজার ৬৪ হর্সপাওয়ার ও ৮২৮ ফুট-পাউন্ড টর্ক উৎপাদন করে। এই ইঞ্জিনের পাশাপাশি একটি বৈদ্যুতিক মোটর যুক্ত করা হয়েছে, যা আরও ১৮৬ হর্সপাওয়ার ও ১৪৫ ফুট-পাউন্ড টর্ক সরবরাহ করে। ফলে গাড়িটি এখন অল-হুইল-ড্রাইভ প্রযুক্তি সমর্থন করে।

করভেটের মার্কেটিং ম্যানেজার মেগান ড্যালি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি করভেটের ইতিহাসে সবচেয়ে উন্নত এবং দ্রুততম গাড়ি। আমেরিকার প্রকৃত হাইপার কার হিসেবে এটি বিশ্ববাসীকে চমকে দেবে।’

সাধারণত গতি, ত্বরণ ও ০–৬০ মাইল গতি তোলার সময়ের ওপর ভিত্তি করে একটি গাড়িকে ‘স্পোর্টস কার’, ‘সুপার কার’ অথবা ‘হাইপার কার’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। হাইপার কার পারফরম্যান্সের দিক থেকে সুপার কারেরও একধাপ ওপরে থাকে।

করভেটের প্রধান প্রকৌশলী জশ হোল্ডার বলেন, ‘জেডআর১ এবং ই-রে থেকে অর্জিত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে জেডআর১এক্স। এতে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ও অল-হুইল-ড্রাইভ ফিচার যুক্ত করে এক অনন্য ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

জেডআর১এক্স যুক্ত হওয়ার ফলে ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু করা করভেটের মডেল সংখ্যা এখন পাঁচে দাঁড়িয়েছে। এটি জিএমের লাভজনক ‘করভেট পরিবার’ স্ট্র্যাটেজির একটি অংশ, যেখানে প্রায় ৭০ হাজার ডলারের করভেট স্টিংরে থেকে শুরু করে ২ লাখ ডলারের বেশি দামের জেডআর১ পর্যন্ত বিভিন্ন মডেল রয়েছে।

জিএম এর আগে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক করভেট আনার কথা বললেও, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের ধীরগতির কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ বছরের শেষদিকে গাড়িটি বাজারে আসার সময় এর মূল্য ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে জিএম। এটি কনভার্টিবল (খোলা ছাদ) এবং কুপ (স্থায়ী ছাদ) উভয় সংস্করণে পাওয়া যাবে। কুপ সংস্করণে থাকবে ১৯৬৩ সালের ঐতিহাসিক করভেট মডেলের রিয়ার স্প্লিট উইন্ডোর আধুনিক রূপ। গাড়িটি তৈরি হবে কেন্টাকির বোলিং গ্রিনে অবস্থিত জিএমের কারখানায়।

ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্প এখন দ্রুত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভো তাদের নতুন ২০২৭ মডেলের ‘ইএক্স৬০’ এসইউভি গাড়ি উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় গাড়িটির পরীক্ষামূলক চালনা সম্পন্ন হয়। ভলভোর জনপ্রিয় জ্বালানিচালিত এক্সসি৬০ মডেলের বিকল্প হিসেবে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরছে।

গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভলভোর নিজস্ব ‘হাগিনকোর’ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। গুগল, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেম গাড়িটিকে একটি চলন্ত কম্পিউটারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে গাড়িটি নিয়মিত ওভার দ্য এয়ার (ওটিএ) আপডেট পাবে। একই সঙ্গে এর সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালকের আচরণ ও চারপাশের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবে। ভলভোর নতুন ‘এসপিএ৩’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই গাড়ির চ্যাসিস ও ব্যাটারি সংযুক্ত অবস্থায় থাকায় এর ওজন অনেক কমে এসেছে।

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসতে যাওয়া ইএক্স৬০ গাড়িটি কয়েকটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণ ‘পি৬’ একক মোটরের রিয়ার-হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তিসম্পন্ন, যা ৩৬৯ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করতে পারে। এতে রয়েছে ৮০ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৩০৭ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, শক্তিশালী ‘পি১০’ সংস্করণটি দ্বৈত মোটরের অল-হুইল ড্রাইভসমৃদ্ধ। এটি ৫০৩ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করে এবং এর ৯১ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩২২ মাইল রেঞ্জ দেয়। ৮০০ ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারের কারণে মাত্র ১০ মিনিটে গাড়িটিতে ১৬০ মাইলেরও বেশি রেঞ্জ যুক্ত করা সম্ভব। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬৭০ হর্সপাওয়ারের একটি ‘পি১২’ সংস্করণ বাজারে আসবে।

গাড়িটির ভেতরে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শৈলীর চমৎকার ও ছিমছাম নকশা চোখে পড়ে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ১৫ ইঞ্চির ওএলইডি টাচস্ক্রিন, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে চলে। এতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনাই’ যুক্ত করা হয়েছে, যা চালকের সাধারণ কথার উত্তর দিতে পারে। গাড়িটির কেবিন বেশ প্রশস্ত এবং এর আসনগুলো অত্যন্ত আরামদায়ক। তবে ভেন্টিলেশন ও এসির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণগুলো সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিননির্ভর হওয়ায় চলন্ত অবস্থায় তা পরিচালনা করা কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভলভো ইএক্স৬০-এর প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৯৫ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তির তুলনায় এই দাম জার্মান প্রতিযোগী অডি কিউ৬ ই-ট্রন বা বিএমডব্লিউ আইএক্স৩-এর চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে পি৬ সংস্করণের সময় লাগে ৫ দশমিক ৭ সেকেন্ড এবং পি১০ সংস্করণের লাগে মাত্র ৪ দশমিক ৪ সেকেন্ড। আধুনিক প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং চমৎকার রাইডিং কমফোর্টের কারণে ভলভোর এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে বেশ ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন
ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির চাকা ও ব্রেক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি এর সাসপেনশন ও স্টিয়ারিং সিস্টেম। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এই দুটি অংশ সব সময় সচল রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ির এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর ওপর বেশ বাড়তি চাপ পড়ে। একটু সচেতন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

গাড়ির সাসপেনশন মূলত রাস্তা থেকে আসা ঝাঁকুনি শোষণ করে। এটি গাড়িকে সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্টিয়ারিং সিস্টেম গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণ করে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িকে ডানে বা বামে মোড় নিতে সাহায্য করে এটি। এই দুটি সিস্টেমের একটিতে সমস্যা হলে অন্যটির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাসপেনশন নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ অতিরিক্ত ঝাঁকুনি। গাড়ি চালানোর সময় যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে শক অ্যাবজর্বার ও স্প্রিং দুর্বল হয়ে গেছে। এছাড়া মোড় নেওয়ার সময় গাড়ি একদিকে হেলে পড়লে বা ব্রেক করার সময় সামনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেলেও সাসপেনশন পরীক্ষা করা জরুরি।

স্প্রিং বা বল জয়েন্ট ঢিলে হয়ে গেলে স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়ি সোজা চালানোর সময়ও যদি স্টিয়ারিং হুইল একদিকে টেনে ধরে, তবে চাকার অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা রয়েছে। আবার স্টিয়ারিং ঘোরাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড কমে গেছে। অনেক সময় ফ্লুইড লিকেজ হওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই দুটি সিস্টেম দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। প্রতি ১০ হাজার কিলোমিটার পরপর চাকার ব্যালান্সিং এবং হুইল অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা উচিত। এটি চাকার অসমান ক্ষয় রোধ করে এবং স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিখুঁত রাখে। ভাঙাচোরা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুতগতিতে গর্তে পড়লে সাসপেনশনের বল জয়েন্ট, বুশিং ও স্ট্রাট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় চ্যাসিসের নিচের অংশ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কাদা ও বালু জমে বুশিংয়ের রাবার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ের তেলের স্তর নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তা পরিবর্তন করা উচিত।

গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ত্রুটি লক্ষ করলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো ছোটখাটো মেরামত না করলে পরবর্তী সময়ে পুরো সিস্টেমটি পরিবর্তন করতে হতে পারে। এতে মেরামতের খরচ অনেক বেড়ে যায়। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়ির এই দুটি প্রধান অংশের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রত্যেক গাড়িচালকের দায়িত্ব।

কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

অটোমোবাইল জগতে প্রথাগত বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা বদলে দিতে নতুন এক কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান কিয়া। সম্প্রতি মিলান ডিজাইন উইকে তারা প্রদর্শন করেছে ‘ভিশন মেটা ট্যুরিজমো’। এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়।

কিয়া এই গাড়িটিকে তাদের ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব জানিয়েছেন, ভিশন মেটা ট্যুরিজমো কিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার একটি মাইলফলক। এটি মূলত মানুষের আবেগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এক বৈদ্যুতিক বাহন।

বাহিরের নকশা
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেখতে বেশ গতিশীল। এর নিচু ও চওড়া কাঠামো একে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারের রূপ দিয়েছে। এর পেছনের অংশটি তীক্ষ্ণভাবে কাটা এবং এতে রয়েছে অতি সরু আলোকসজ্জা, যা বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজাইনাররা জানান, গাড়িটির কাঠামো তৈরিতে তারা যুদ্ধবিমান বা অ্যাভিয়েশন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রূপান্তর
প্রথাগত গাড়ির ভেতরের সজ্জার তুলনায় ভিশন মেটা ট্যুরিজমো অনেক বেশি বৈপ্লবিক। এর কেবিনকে গতিশীল ড্রাইভিং, ডিজিটাল মিথস্ক্রিয়া ও আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গাড়িটি যখন স্থির অবস্থায় থাকে, তখন এর আসন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একে অপরের মুখোমুখি বসা যায়। এমনকি এতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতের সুবিধাও নেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গেমিং
এই কনসেপ্ট কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, যা অনেকটা গেমিং কন্ট্রোলারের মতো। এতে স্পিডস্টার, ড্রিমার ও গেমার–তিনটি মোড রয়েছে। চালক চাইলে গাড়িটিকে পারফরম্যান্স মোডে চালাতে পারেন; আবার গেমার মোডে গাড়িটি একটি সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এতে কৃত্রিম ইঞ্জিনের শব্দ এবং ভাইব্রেশন যোগ করা হয়েছে, যাতে চালক যান্ত্রিক অনুভব করতে পারেন।

যদিও ভিশন মেটা ট্যুরিজমো এখনই সড়কে নামছে না, তবে এটি ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। কিয়া প্রমাণ করতে চাইছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি বহুমুখী ডিজিটাল স্থান হতে পারে। 

দেশের বাজারে বিওয়াইডির নতুন তিন মডেলের গাড়ি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
দেশের বাজারে বিওয়াইডির নতুন তিন মডেলের গাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাজারে নতুন তিন মডেলের পরিবেশবান্ধব নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) নিয়ে এসেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। নতুন মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘বিওয়াইডি সিল ৬’, হাইব্রিড সেডান ‘বিওয়াইডি সিল ৫’ এবং অল-হুইল-ড্রাইভ প্রযুক্তির হাইব্রিড এসইউভি ‘ বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি’।

রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়ি তিনটি উন্মোচন করা হয়েছে। দেশের সড়কে পরিবেশবান্ধব, স্মার্ট ও উন্নত প্রযুক্তির যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই গাড়িগুলো আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিওয়াইডি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং। এ সময় সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমিদ সাকিফ খান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশেরসহ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রি-অর্ডার করা ৬০টি বিওয়াইডি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

বিওয়াইডি সিল ৫
এটি মূলত একটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক সেডান। ১ হাজার ৫০০ সিসির ইঞ্জিনচালিত এই গাড়িতে বিওআইডির নিজস্ব ‘ডিএম-আই’ প্রযুক্তি ও ব্লেড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। একবারের পূর্ণ জ্বালানি ট্যাংক ও চার্জে গাড়িটি সর্বোচ্চ ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এতে রয়েছে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (এডিএএস) সেফটি প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও ১২.৮ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম।

বিওয়াইডি সিল ৬
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) এই সেডানটি একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। এতে রয়েছে ৯৫ কিলোওয়াট শক্তির মোটর ও ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে এডিএএস প্রযুক্তির পাশাপাশি অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সমর্থিত ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি
প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির এই হাইব্রিড এসইউভি গাড়িটিতে ১ হাজার ৫০০ সিসির টার্বোচার্জed ইঞ্জিন রয়েছে। শুধু ব্যাটারির শক্তিতে এটি ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। পারিবারিক ও দীর্ঘ ভ্রমণের উপযোগী এই গাড়িতে প্যানোরামিক সানরুফ, ইনফিনিটি সাউন্ড সিস্টেম, ভেন্টিলেটেড সিট ও ৭টি এয়ারব্যাগসহ উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে

অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং বলেন, ‘বিওয়াইডির বৈশ্বিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশের বাজার ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন এই মডেলগুলোর উন্নত প্রযুক্তি ও টেকসই কার্যক্ষমতা এ দেশের গ্রাহকদের আধুনিক যাতায়াতের অভিজ্ঞতা দেবে।’

বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘গ্রাহকদের ভিন্নধর্মী জীবনযাত্রা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ আনা হয়েছে। এটি দেশের পরিবেশবান্ধব স্মার্ট যাতায়াত ব্যবস্থার রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে।’

দরদাম
বাজারে বিওয়াইডি সিল ৫-এর প্রথম ৫০০ ইউনিটের বিশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিওয়াইডি সিল ৬ পাওয়া যাবে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এ ছাড়া প্রিমিয়াম এসইউভি বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তিনটি মডেলের গাড়িতে বিওয়াইডির নিজস্ব ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ওয়ারেন্টি সুবিধা থাকবে। 

০.৯ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি গতি রকেটচালিত চীনা গাড়ি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
রকেটচালিত চীনা গাড়ি
ড্রিমি উন্মোচন করেছে তাদের অবিশ্বাস্য এক কনসেপ্ট কার–‘ নেবুলা নেক্সট ০১ জেট এডিশন’। ছবি: সংগৃহীত

স্মার্ট গৃহস্থালি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনের ‘ড্রিমি’ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে এবার তারা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে অটোমোবাইল খাতে প্রবেশ করে। সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ড্রিমি উন্মোচন করেছে তাদের অবিশ্বাস্য এক কনসেপ্ট কার–‘ নেবুলা নেক্সট ০১ জেট এডিশন’। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, রকেট প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বৈদ্যুতিক গাড়ি মাত্র ০.৯ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগ তুলতে সক্ষম।

এর আগে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ডাইসন বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেও সফল হতে পারেনি। তবে ড্রিমি তাদের এই প্রকল্পের পেছনে ১০ বছর ধরে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। নেক্সট ০১ জেট এডিশন মূলত একটি বিশেষ রকেটচালিত বৈদ্যুতিক যান। এতে কাস্টম বিল্ট ডুয়াল সলিড ফুয়েল রকেট বুস্টার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। যদি এটি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে যায়, তবে এটি হবে বিশ্বের দ্রুততম গাড়ি। বর্তমানে এই তালিকার শীর্ষে থাকা রিমাচ নেভেরা ২ সেকেন্ডের কম সময় নিলেও ড্রিমির দাবি সেটিকেও ছাড়িয়ে যাবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে গাড়িটিতে রয়েছে ফোর হুইল ড্রাইভ এবং সলিড স্টেট লিথিয়াম সালফাইড ব্যাটারি প্যাক। একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ৩৪২ মাইল পথ চলতে পারবে। এতে আরও রয়েছে ‘ডিএইচএক্স১’ নামক পরবর্তী প্রজন্মের লিডার সিস্টেম, যা রাস্তার গর্ত বা ট্রাফিক সাইনের নিখুঁত ছবি ধারণ করতে পারে। ড্রিমির অটোনোমাস প্রযুক্তি দল গাড়িটিকে লেভেল ফোর পর্যায়ের সক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। গুগল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোনোমাস গাড়ি বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান থ্রুন এই আয়োজনকে অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। 

গাড়িটির বডি রোল বা মোড় নেওয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে এতে ‘ইএমএডি’ ইলেকট্রোম্যাগনেটিক অ্যাক্টিভ সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রকেট বুস্টার ব্যবহারের বিষয়টি বেশ কিছু আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রকেটচালিত গাড়ি সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, এর তীব্র উত্তাপ এবং নিরাপত্তাঝুঁকি আইনগতভাবে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রকেট বুস্টার বাদে নেবুলা নেক্সট ০১ গাড়িটি ২০২৭ সালে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর দাম সম্পর্কে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। মূলত পারফরম্যান্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, এই কনসেপ্ট কারের মাধ্যমে ড্রিমি সেই বার্তা দিতে চেয়েছে। আপাতত রকেটচালিত এই গতি দানব নিয়ে বিশ্বজুড়ে অটোমোবাইলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।