ঢাকা ৭ বৈশাখ ১৪৩১, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম
শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা
ছবি : খবরের কাগজ

বয়স যতই হোক, প্রিয় ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের সংস্পর্শ যেন সবাইকে সেই শিক্ষার্থীজীবনে ফিরে নিয়ে যায়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই চিত্রই ফুটে উঠেছিল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় পুনর্মিলনীতে। 

এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। দলে দলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমিয়েছেন আড্ডা, করেছেন স্মৃতিচারণ, সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী-সন্তানরাও। 

শুধু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয় বিভিন্ন দেশ থেকেও এই পুনর্মিলনীতে ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের টানে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তনরা।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি বিল্ডিংয়ের সামনে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) দুই দিনের এই মিলনমেলাকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন। 

অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ এবং সব শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাউল সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। 

দ্বিতীয় দিন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সবশেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও ভয়েজ অব মাইলসের কনসার্টের মাধ্যমে শেষ হয় মিলনমেলা।

অর্থনীতি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন খুশবু বলেন, ‘আমাদের এই পুনর্মিলনীতে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য অ্যালামনাই অংশ নিয়েছেন। আমাদের এ মিলনমেলায় সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শাবিপ্রবি অর্থনীতি সমিতির সকল সদস্যদের।

এ ছাড়াও যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে পুনর্মিলনী সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

পুনর্মিলন উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাকিম বলেন, ‘অনেকদিন পর আমার সিনিয়র, সহপাঠী, জুনিয়র এবং একজন শিক্ষক হিসেবে আমার অনেক পুরনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। যা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

পুনর্মিলনীকে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন বলে মনে করেন অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, ‘এই পুনর্মিলন বিভাগ ও শিক্ষার্থী সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান চাকরির বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এখান থেকে পড়ালেখা শেষে কর্মসংস্থানের দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। তারা এখান থেকে বের হয়ে যদি জানতে পারে সিনিয়ররা কে কোথায় আছেন তাহলে তারা তাদের কাছ থেকে পরামর্শ এবং সাহায্য চাইতে পারে। এই পরিচয়টা ঘটানোর জন্য পুণর্মিলন আয়োজন করা দরকার’

ইসফাক আলী/অমিয়/

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরামের বৃত্তি কার্যক্রম

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪২ এএম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরামের বৃত্তি কার্যক্রম
ছবি : সংগৃহীত

সেবার মাধ্যমে বন্ধুত্ব’ এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সবুজ চত্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোটার‌্যাক্ট ক্লাব। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ক্লাবের সদস্যরা বিভিন্ন সেবামূলক সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। কেবলমাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের প্রাক্তন সদস্যরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরাম গঠন করেন। মূলত সেবামূলক সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং সদস্যদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই ফরম গঠিত হয়। 

এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরামের বৃত্তি কার্যক্রম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত মেধাবী এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে অধ্যায়ন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বৃত্তির পরিমাণ মাসিক ২ হাজার টাকা এবং প্রথম বছরে (২ সেমিস্টারে) ১৭টি বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

বৃত্তির জন্য যেসব শর্ত

১. অন্য কোনো উৎস থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত হলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরামের বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে না।

২. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরামের বৃত্তিপ্রাপ্ত হলে অন্য কোনো উৎস থেকে বৃত্তি নেওয়া যাবে না। অন্য কোনো উৎস থেকে বৃত্তি নিতে চাইলে প্রাপ্তবৃত্তি বাতিলের জন্য ফোরামের সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। 

৩. কোনো অসামাজিক কিংবা বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত কোনো শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বৃত্তিপ্রাপ্ত কোনো ছাত্র এসব কাজে লিপ্ত হলে তার বৃত্তি বাতিল করা হবে। 

৪. আবেদনপত্রে কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য দেওয়া যাবে না। মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে আবেদনপত্র/বৃত্তি বাতিল করা হবে। 

৫. অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র এবং যেকোনো ধরনের সুপারিশ আবেদনকারীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। 

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বৃত্তির জন্য আবেদনপত্র নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই এবং বৃত্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-রোটার‌্যাক্টর্স ফোরামের ৯ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন এবং সদস্য সচিব ছিলেন গোপালগঞ্জের দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম মিলন। 

প্রথমে মেধাভিত্তিক ৪১ জন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করা হয় এবং পরে তাদের মৌখিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদির ভিত্তিতে এবং প্রদত্ত তথ্য যাচাইবাছাই করে বৃত্তির জন্য ১৭ জন শিক্ষার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার সময় কমিটি মনে করে, তিন-চারজন আবেদনকারী ছাড়া সবাই এই বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে বৃত্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে তাহলে এই কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে আরও বেগবান করা যাবে। এতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।

সালমান/

জবিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
জবিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত
ছবি : খবরের কাগজ

মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া রিকশাচিত্রকে প্রতিপাদ্য করে এবং ‘বৈশাখে নূতন করিনু সৃজন, মঙ্গলময় যত তনু-মন’ স্লোগানকে সামনে রেখে পহেলা বৈশাখ ১৪৩১ উদযাপন করেছে জবি।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক ঘুরে আবার ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনের দায়িত্বে ছিল চারুকলা অনুষদ।

শোভাযাত্রায় রিকশাচিত্রের পাশাপাশি সংকটাপন্ন প্রাণি প্রজাতির মধ্যে কুমিরের মোটিফ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও স্থান পেয়েছে লক্ষ্মীপেঁচা, ফুল, মৌমাছি, পাতা, বাঘের মুখোশ এবং গ্রামবাংলার লোক কারুকলার নিদর্শনসমূহ স্থান পায়। 

শোভাযাত্রা শেষে একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ভাস্কর্য চত্বরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান, নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে মঞ্চায়ন করা হয় ‘প্রতিবাদী মাইকেল’। এছাড়াও জবি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠির পরিবেশনা এবং জবি ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া সত্ত্বেও সীমিত অবকাঠামো ও স্বল্প পরিসর নিয়েও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকলের সহযোগিতায় হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যায়ের মূল প্রাণ হচ্ছে শিক্ষার্থী, আর এ ধরণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা তুলে ধরতে পারছে। পশ্চিম বঙ্গ, পূর্ব বঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান তারপর বাংলাদেশ এবং এই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্য। বঙ্গবন্ধুর এই অবদান যেন আমাদের নতুন প্রজন্ম তাদের চিন্তা চেতনায় ধারণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাইকে সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করতে পারি। পারিবারিকভাবেই নারী পুরুষ সমতাকরণে, নারীকে মানুষ ভাবার মানসিকতার শিক্ষা দিতে হবে, নতুন প্রজন্মকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে লিখতে হবে, বলতে হবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচ তলায় ‘প্রকাশনা প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থ, জার্নাল, সাময়িকী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বার্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রকাশিত গ্রন্থ স্থান পায়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বর্ষবরণ উৎসবে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

বুয়েটে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় বসেনি কোনো শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৩ পিএম
বুয়েটে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় বসেনি কোনো শিক্ষার্থী
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসসহ পাঁচ দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আসছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার (১৭ এপ্রিল) ১৩ দিনের ছুটি শেষে বুয়েটে একাডেমিক কার্যক্রম চালু হলেও একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরেনি শিক্ষার্থীরা। গতকালের মতো বৃহস্পতিবারও (১৮ এপ্রিল) পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বুয়েট ২২ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পূর্ব নির্ধারিত। এই ব্যাচে সবমিলিয়ে ১ হাজার ৩০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেননি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে বলেন, ‘যদিও বুয়েটে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ। পূর্ব নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী আজকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। এতে কেউই অংশ নেয়নি। এখন আগামীতে পরীক্ষায় সবাই অংশ নেবে কি না তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

জানা যায়, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ৮ মে পর্যন্ত পরীক্ষার রুটিন রয়েছে। এ ছাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুয়েটে এখন ক্লাস নেই, এ সময় জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষার শিডিউল।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি গণমাধ্যমকে। ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। তাদের দাবি মেনে নিলেই একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। গত ১ এপ্রিল এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ ২০১৯ সালে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধে কর্তৃপক্ষের জারি করা সেই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে উচ্চ আদালত। এদিকে আদালতের আদেশ হাতে পেলে আইনি লড়াইয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ২৮ মার্চ রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তুলে ছয় দফা দাবি তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। গত ৩০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনকারীরা, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।

খুলল বুয়েট, দাবি আদায়ে অনড় আন্দোলনকারীরা

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৩ এএম
খুলল বুয়েট, দাবি আদায়ে অনড় আন্দোলনকারীরা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১৩ দিনের রোজা, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটি শেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ক্লাস-পরীক্ষা অংশ নেননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) ছুটি শেষে বুয়েট ২১ (দ্বিতীয় বর্ষ) ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাতে ১ হাজার ২৭১ জনের মধ্যে মাত্র এগারো জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে বুয়েট ১৮ (চতুর্থ বর্ষ) ব্যাচের কোন শিক্ষার্থীই অংশ নেয়নি।

বুয়েট শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, এখন একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সকল বর্ষের ক্লাস থাকাতে আপাতত পরীক্ষা চলছে। যদিও রাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে দাবির আন্দেলনের ফলে বর্জন রয়েছে ক্লাস পরীক্ষা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (ডাব্লিউআরই) এক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজকে পরীক্ষা ছিল বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এখন আগামীতে পরীক্ষায় অংশ নেবে কি না সেটি বলা যাচ্ছে না। কারণ এটি তো আর একার সিদ্ধান্ত নয়, একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

এদিকে পরবর্তী আন্দোলনের সম্পর্কে কিভাবে ভাবছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়েও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। 

গত ২৮ মার্চ রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, দপ্তর সম্পাদকসহ অনেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তুলে ছয় দফা দাবি তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেয়। 

এ ঘটনায় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি পর্যন্ত গঠন করে বুয়েট প্রশাসন।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

হাইকোর্টের আদেশ পেলে আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৪ পিএম
হাইকোর্টের আদেশ পেলে আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট
বুয়েট উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান। ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এখন পর্যন্ত পায়নি বুয়েট কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে আইনি উপায়ে শেষ অবধি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বুয়েট উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান। 

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বুয়েটে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোর্টের কোনো অর্ডার পাইনি। আমরা যতটুক জানতে পেরেছি, ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কোর্ট বন্ধ রয়েছে। হয়তো এর পর অর্ডারটি পেতে পারি। হাইকোর্টের আদেশটি হাতে পেলে আমরা দেখব সেখানে কী বলা হয়েছে। ২০১৯ সালে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণের যে বিজ্ঞপ্তিটি ছিল, সেই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করা হয়েছে না কি, বলা হয়েছে স্থগিত করা হলো অথবা কেন বাতিল করা হলো কিংবা কেন স্থগিত করা হবে না? নিশ্চয়ই হাইকোর্ট আমাদের কারণ দর্শাবেন। যদি কারণ দর্শানো হয় তখন কনটেন্ট-মেরিট দেখে আমাদের উত্তর দিতে হবে। এই উত্তর না দেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কারণ এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে, আমরা বুয়েট কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার বাহিরে থাকতে চাচ্ছি। এটি আসলে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতিতেই আমাদের অবশ্যই রেসপন্স করতে হবে এবং আমরা করব। ২০১৯ সালে আমরা যেই বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছিলাম সেটি কেন, কোন প্রেক্ষাপটে এবং আমাদের অর্ডিন্যান্সের কোন ক্ষমতাবলে ইত্যাদি উল্লেখ করে আমরা সেই জবাব দেব।’

বুয়েট উপ-উপাচার্য বলেন, ‘আইনি যে প্রক্রিয়া রয়েছে এটি শেষ অবধি আমরা কনটেস্ট করব। অ্যাপিলেড ডিভিশনে যাওয়া অ্যাপিল করা। মোট কথা আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ পথটিই আমরা ব্যবহার করব এবং সেখানে আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইরা থাকবেন।’

বুয়েটে এখন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বুয়েটের উপ-উপাচার্য বলেন, ‘যেহেতু আমরা কোর্টের কাছ থেকে আদেশ পাইনি। কোনো অর্ডার আমাদের হাতে আসেনি, কাজেই ২০১৯ সালের বিজ্ঞপ্তি ছিল সেটি এখন পর্যন্ত ভ্যালিড আছে বলেই আমরা মনে করি। আর যদি আইনি প্রক্রিয়ায় এমন হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হেরে গেল, তাহলেই একমাত্র ক্যাম্পাসে রাজনীতি ফিরবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল ১৪ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা এসেছিল। ছুটি থাকার পরও আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় একটা পক্ষ হয়ে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে। আমরা চাই তারা যেন এই আইনি প্রক্রিয়ায় পক্ষভুক্ত হয়। এতে স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বুয়েট প্রশাসনের যেন দূরত্ব না তৈরি হয়, সেটির জন্য এটি জরুরি। তারা যদি মনে করে, তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়ে পক্ষভুক্ত হবে। তাদের এটিও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পছন্দের ৫-৬ জন আইনজীবী প্যানেলের নাম আমাদের কাছে প্রস্তাব করে এবং সেখান থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। তাদের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরা নয়, এর পাশাপাশি দেশে ও বিদেশের অ্যালামনাইরা যদি এই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান, তাদেরও অভিনন্দন জানাব।’

এদিকে টানা ১৩ দিনের রোজা, ঈদুল ফিতর ও পয়লা বৈশাখের ছুটি শেষে বুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল ছুটি শেষে বুয়েট ’২১ (দ্বিতীয় বর্ষ) ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাতে ১ হাজার ২৭১ জনের মধ্যে মাত্র ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে বুয়েট ’১৮ (চতুর্থ বর্ষ) ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থীই অংশ নেননি।

বুয়েট শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, এখন একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সব বর্ষের ক্লাস থাকাতে আপাতত পরীক্ষা চলছে। যদিও রাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে দাবির আন্দোলনের ফলে বর্জন রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (ডব্লিউআরই) এক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজকে পরীক্ষা ছিল বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অংশ নেননি। এখন আগামীতে পরীক্ষায় অংশ নেবেন কি না, সেটি বলা যাচ্ছে না। কারণ এটি তো আর একার সিদ্ধান্ত নয়, একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

পরবর্তী আন্দোলনের সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বুয়েট ক্যাম্পাসে ঢুকলে ছয় দফা দাবি তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি পর্যন্ত গঠন করে বুয়েট প্রশাসন।