ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

ঢাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ডেমো রকেটের ওপর কর্মশালা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
ঢাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ডেমো রকেটের ওপর কর্মশালা
ছবি : খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেমো রকেট বানানোর ওপর কর্মশালা এবং প্রথমবারের মতো ওয়াটার রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির উদ্যোগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) স্পেসভার্স ১.০ উৎসবে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া মহাকাশ ও মহাকাশ অর্থনীতি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আয়োজন ছিল ওই উৎসবে। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল স্পেসভার্স ১.০ উৎসবের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘খুদে শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। যে জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজস্ব উদ্ভাবন রয়েছে, সে জাতিই বিশ্বে সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা মৌলিক গবেষণা ও নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে আসীন করবে, সেটিই প্রত্যাশা রাখি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সভাপতি মোহাইমিনুল হক মীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ উদ্দীন ভূঁইয়া নবীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইটি সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কাজী মোহাইমিন আস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

ইবিতে শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের সত্যতা মিলেছে

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
ইবিতে শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের সত্যতা মিলেছে
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের নবীন এক শিক্ষার্থীকে রাতভর র‌্যাগিং ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে দুজনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের শাস্তির সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তদন্ত কমিটি সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুদাচ্ছির খান কাফি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. সাগর। তারা লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে থাকেন। এ ছাড়াও অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের অনুসারী বলে জানা গেছে।
 
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে (গণরুম) নবীন এক শিক্ষার্থীকে গভীর রাতে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ রড দিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও লালন শাহ হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটিতে তৎকালীন শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মাকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর মিথুন বৈরাগীকে সদস্যসচিব করা হয় এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সেলিনা নাসরীন। হল কর্তৃপক্ষ গঠিত কমিটিতে লালন শাহ হলের আবাসিক শিক্ষক ড. আলতাফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও হলের সহকারী রেজিস্ট্রার জিল্লুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয় এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন হলের আবাসিক শিক্ষক আব্দুল হালিম ও ড. হেলাল উদ্দিন। 

লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। জড়িতদের শাস্তির সুপারিশ করে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা নেবেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ১৩৬ নং কক্ষে কাফি ও সাগর পরিচয়পর্বের নামে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ডাক দেন। এ সময় তাকে নানা কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতে বাধ্য করলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। ফলে তাকে বারবার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তারা জোর করে বিবস্ত্র করে টেবিলের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয় ভুক্তভোগীর ওপর।

ববির ১০৩০ শিক্ষার্থী বিসিএসের স্বপ্নভঙ্গ সেশনজটে

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৮ পিএম
ববির ১০৩০ শিক্ষার্থী বিসিএসের স্বপ্নভঙ্গ সেশনজটে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক

‘বাবা-মা অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। ছয় বছর চলছে, এখনো অনার্স শেষ হয়নি। জানি না কবে শেষ হবে। বিভাগের এখন যে অবস্থা তাতে এ বছরও শেষ হবে বলে মনে হয় না। এক সঙ্গে ভর্তি হয়ে অন্য বিভাগের বন্ধুরা বিসিএসসহ অন্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। কিন্তু আমরা পারছি না।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী হৃদয় (ছদ্মনাম)। শ্রেণিকক্ষ-সংকট, শিক্ষকদের উদাসীনতা, শিক্ষক রাজনীতি, নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার না থাকাসহ একাধিক কারণকে এ সংকটের জন্য দায়ী করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের ২৫টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে সেশনজটের কারণে ১৫টি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১ হাজার ৩০ শিক্ষার্থী ৪৬তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অন্যদিকে, সেশনজটমুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি বিভাগের ৪৩৩ শিক্ষার্থী অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। যেসব প্রার্থীর অনার্স চতুর্থ বর্ষের সব পরীক্ষা বিসিএস আবেদনের আগে শেষ হবে, কিন্তু ফলাফল প্রকাশিত হবে না, তাদের অ্যাপিয়ার্ড বা অবতীর্ণ প্রার্থী বলা হয়। আগামী শুক্রবার ৪৬তম বিসিএসের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, ওই শিক্ষাবর্ষের ১৫টি বিভাগের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেশনজটের কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা চলমান রয়েছে। আবার অনেক বিভাগে কবে নাগাদ অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে সেটাও নিশ্চিত নয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, সেশনজটের কারণে বিসিএসসহ অনেক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় তারা অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। মাত্র ৯টি বিভাগ স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করতে পারলেও বাকি বিভাগগুলোতে সেশনজট তৈরি হয়েছে। এতে তারা অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছেন।  

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ছয়টি বিভাগের মধ্যে চারটি (সিএসই, গণিত, রসায়ন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা) বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের কারণে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পেরেছেন।

জীব বিজ্ঞান অনুষদের চারটি বিভাগের মধ্যে একটির (কোস্টাল স্টাডিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। অন্যদিকে, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চারটি বিভাগের প্রত্যেকটিতে সেশনজট রয়েছে। এই চার বিভাগের (মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ফিন্যাস অ্যান্ড ব্যাংকিং) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বিসিএসে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ছয়টি বিভাগের মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ছাড়া চারটি (অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন) বিভাগে সেশনজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বাদে বাকি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে সেটাও অনিশ্চিত। অন্যদিকে, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া সমাজকর্ম বিভাগের কোনো ব্যাচ এখনো বের হয়নি।

কলা ও মানবিক অনুষদের চারটি বিভাগের দুটিতে জট রয়েছে। এ কারণে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষার আবেদনও করতে পারেননি। এই অনুষদের দর্শন, ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের শিক্ষার্থীরাই বিসিএসের আবেদন করতে পেরেছেন। আইন অনুষদের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা চার মাসে সেমিস্টার শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির ছয়টি অনুষদের ১০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে সময় লাগে নয় মাস, কখনো দশ মাসও। এরপর ফলাফল ঘোষণা করতে সময় লাগে আরও ছয় মাস। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও প্রশাসনের তদারকির অভাবকে সেশনজটের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। প্রশ্ন করেছেন, এক বিভাগ পারলে অন্য বিভাগ কেন পারবে না?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন তানভীর কায়ছার বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক বিভাগ একটু পিছিয়ে ছিল। আগামী দেড় মাসের মধ্যে আমাদের বিভাগের (ইংরেজি) অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

অনুষদভুক্ত অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেন বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারিনি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না জেনে মন্তব্য করতে চাই না। বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে বলতে পারব।’

বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. শফিউল আলম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তা অনেকাংশে কমে এসেছে।’ আগামী দিনে সেশনজট শূন্যের কোটায় নামবে বলে অশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হলো। ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত বলতে পারব।’

ঢাবির সুইমিংপুলে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০৩ পিএম
ঢাবির সুইমিংপুলে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ঢাবির দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ সোয়াদ। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সুইমিংপুলে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে মুহাম্মদ সোয়াদ (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাবির দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার (২২ এপ্রিল) বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সুইমিংপুলে গোসলের সময় তার মৃত্যু হয়। ঢাবি শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক শাহজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোর্শেদ আলম শফিক বলেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে, কিন্তু বুঝিনি সে মারা যাবে। আট ফুট গভীরের পুলে ছিল ছেলেটা। সম্ভবত সাঁতার জানত না সে। ইমার্জেন্সির কথা অনেকবার বলেছি, কিন্তু কেউ হেল্প করেনি। তা ছাড়া ফার্স্ট এইড দেওয়ার মতো কোনো লোকও ছিল না।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা গরমের কারণে দুপুরের দিকে সুইমিংপুলে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নামি। এ সময় সাঁতার কাটতে গিয়ে হঠাৎ সোয়াদ পানিতে ডুবে যায়। এরপর তাকে তুলে পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করা হয়। এ সময় সোয়াদের শ্বাস চলছিল। পরে সোয়াদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীকে নিয়া আসা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী পানি বেশি খেয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ মর্গে রাখা আছে।

দাবদাহের মধ্যে ক্লাস চলবে রাবিতে

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৬ এএম
দাবদাহের মধ্যে ক্লাস চলবে রাবিতে

তীব্র দাবদাহের কারণে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাবিতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়  ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। তবে বিভাগগুলো প্রয়োজনবোধে অনলাইনে ক্লাস নিতে পারবে। 

রবিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পাণ্ডে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘মাউশির নির্দেশনায় দাবদাহের কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। আজ (রবিবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে সকল অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও প্রশাসনের সকলের উপস্থিতিতে এক জরুরি সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে যেহেতু রাজশাহীর তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আছে, তাই আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম যথারীতি চলবে। তবে বিভাগগুলো প্রয়োজনবোধে অনলাইনে ক্লাস নিতে পারবে।’ 

এরপর ১ মে সরকারি ছুটি এবং ৩ মে থেকে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শুরু হওয়ার কথা। তবে ২ মে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা ও অফিস যথারীতি চলবে, কিন্তু ক্লাস বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া এই সময়ে লোডশেডিং কমাতে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জাবিতে ৮ বছর পর ডিন নির্বাচন

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
জাবিতে ৮ বছর পর ডিন নির্বাচন
ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দীর্ঘ ৮ বছর পর বিভিন্ন অনুষদের ডিন নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন।

রবিবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনের সাময়িক ভোটার তালিকা আগামী ২২ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে। ২৪ এপ্রিল দুপুর ২টা পর্যন্ত সাময়িক ভোটার তালিকার বিষয়ে আপত্তি দাখিল করা যাবে। ২৫ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

এতে আরও বলা হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল দুপুর ২টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুমোদিত ফরমে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ৩০ এপ্রিল। বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ মে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৬ মে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ ছাড়া ৭ মে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ১৫ মে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে নিয়োগ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী নির্বাচিত ডিনের মেয়াদ ২ বছর হলেও সবশেষ ২০১৬ সালের ১০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত ডিনদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন।