ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

জরিপের তথ্য বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩২ এএম
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো এক জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। রাজনীতিমুক্ত বুয়েটসহ পাঁচ দফা দাবিতে ষষ্ঠ দিন পেরিয়েছে আন্দোলন। দাবি আদায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই ৪ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বুয়েটে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে একই সঙ্গে এই আন্দোলনে ছাত্রদলের সংহতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার রাতে বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে চলমান ছাত্ররাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ‘বুয়েট শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে চলমান আন্দোলনের এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে ছাত্রদলের এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করি এবং তাদের এই রাজনৈতিকভাবে মদদপুষ্ট সংহতিকে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “২০২০-এর জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে ছাত্রদল যখন বুয়েটে তাদের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে, সেই সময়ের অগ্রজ ব্যাচ ‘পৌনঃপুনিক ১৫’ তাদের এই কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) স্যার বরাবর ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তখনো এর প্রতিবাদ জানাই এবং সামনেও আমরা ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা অব্যাহত রাখব।”

তারা আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো সংগঠনও যদি এমন বক্তব্য দিয়ে আমাদের আন্দোলনের দাবি এবং অবস্থানকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়, তবে আমরা তাদেরও প্রত্যাখ্যান করব।’

ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে নয়, এমন প্রসঙ্গ টেনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, আমাদের অবস্থান কোনো একক ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে নয়। আমরা ছাত্ররাজনীতি-ই ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিরুদ্ধে, অতএব এটি করতে চায়, এমন যেকোনো সংগঠনের বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান সমান এবং অনড়।’

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘হিজবুত তাহরীরের মতো নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠনের অস্তিত্বকেই আমরা সমর্থন করি না। সেখানে এরূপ নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থন বা সহানুভূতি গ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসে সব দলের ও মতের লেজুড়বৃত্তিক সাংগঠনিক রাজনীতি এবং মৌলবাদী দলসমূহের বিপক্ষে আছি এবং থাকব। আমাদের এই অবস্থান সব দল ও মতের ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।’

আবরারের মতো মর্মান্তিক পরিণতি নেমে আসতে পারে: ছাত্রদল

গতকাল ডিআরইউ সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব লিখিত বক্তব্য বলেন, ‘বুয়েটে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালু করার পদক্ষেপ বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা এখন শঙ্কিত, কারণ ছাত্রলীগের কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে তাদের পড়াশোনা এবং ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং, গেস্টরুমে হাজিরা দিতে হবে। তাদের কর্মসূচিতে অংশ না নিলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হবে। ছাত্রলীগের ক্যাডারদের বিরাগভাজন হলে বিতাড়িত করা হতে পারে হল থেকে। বুয়েটের প্রত্যেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত। যেকোনো মুহূর্তে তাদের যে কারও জীবনে ছাত্রলীগের নির্যাতনে শহিদ আবরারের মতো মর্মান্তিক পরিণতি নেমে আসতে পারে।’

বুধবারের বর্জন ছিল ক্লাস বর্জন

এদিকে গতকাল পূর্বঘোষিত পরীক্ষা থাকলেও তাতে অংশ নেননি শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, এদিন ২০১৮ ব্যাচের একটি টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, যেটি ঈদের আগেই শেষ পরীক্ষা। যদি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস খোলা ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে কেউই ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তা ছাড়া বৃহস্পতিবার বন্ধ, খুলবে ১৭ এপ্রিল। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সেই দিন একটি পরীক্ষা রয়েছে। এখন এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না, শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেবে কি না। কারণ এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

টানা ১৩ দিনের ছুটিতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা

রোজা, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটি মিলিয়ে টানা ১৩ দিনে ছুটিতে যাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ৪ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন তারা। যার ফলে ১৭ এপ্রিল একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে বুয়েটে। গত ৩০ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ছুটি ঘোষণা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও বুয়েটে দাপ্তরিক ছুটি থাকবে ৯-১৪ এপ্রিল।

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী

বুয়েটে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘বুয়েটে আড়ি পেতে শোনা’; ওই গ্রুপটিতে বুয়েট ‘বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকা উচিত নাকি অনুচিত?’ শীর্ষক এক জরিপে অংশ নেন ৪ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থী। গ্রুপটিতে সদস্যসংখ্যা সংখ্যা ২৪ হাজার ৫ জন। বলা হচ্ছে, অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর বুয়েট শিক্ষার্থীরা এই গ্রুপে সদস্য হতে পারে। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ওই জরিপে দেখা গেছে, শতকরা শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি দেখতে চায়। বাকি ৯৯ দশমিক ৫৯ ভাগ ছাত্ররাজনীতি দেখতে চায় না।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোসের সহকারী অধ্যাপক ও বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ লুৎফর রহমান বুয়েটে আড়ি পেতে শোনা গ্রুপ ও ওই জরিপ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘এই গ্রুপে ভেরিফাই করে মেম্বার যোগ করা হয়। বর্তমানে এই গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ২৪ হাজার ৫ জন। আমার জানামতে, বাংলাদেশে এটি একমাত্র গ্রুপ, যেখানে সদস্যদের ভোটে ছয় মাসের জন্য অ্যাডমিন প্যানেল নির্বাচিত হয়।’

তিনি ওই স্ট্যাটাসে জরিপ প্রসঙ্গে লেখেন, ‘এই পোস্ট লেখার আগ পর্যন্ত সর্বমোট ৪ হাজার ৭৯৬ জন ভোট দিয়েছেন এই পোলে। হ্যাঁ-তে ভোট পড়েছে ২০টি আর না-তে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৭৭৬টি। মানে বুয়েট কমিউনিটির শতকরা শূন্য দশমিক ৪১ ভাগ মানুষ বুয়েটে রাজনীতি দেখতে চান। বাকি ৯৯ দশমিক ৫৯ ভাগ মানুষ বুয়েটে রাজনীতি দেখতে চান না। জোর করে অনেক কিছুই করানো যায়। তাতে ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি হয়।’

এদিকে এ প্রসঙ্গে গতকাল বুয়েটে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সমমনা ও বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির পক্ষে থাকা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাগর বিশ্বাস অভিযোগ করেন, এই জরিপের ফলাফল আলাদা হতো যদি নাম-পরিচয় প্রকাশ অপ্রকাশিত রাখা হতো। তিনি বলেন, ‘এখনো পুরো বিষয়টিই প্রকাশ হচ্ছে। কারণ সেখানে নাম প্রকাশ হচ্ছে, যদি নাম না প্রকাশে ভোট দেওয়ার আয়োজন করা হয়। এর ফলাফল ভিন্ন হতো। কারণ অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চান। যারা রাজনীতির পক্ষে তারা যদি ভোট দেন, তারাও হুমকির সম্মুখীন হতে পারেন, সেই ভয়ে কিন্তু তারা ভোট দিচ্ছেন না।’

মেইল জরিপে ৯৭ শতাংশ রাজনীতির বিপক্ষে

গতকাল রাজনীতিমুক্ত বুয়েট দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বুয়েটের শতকরা ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী বুয়েটে ক্যাম্পাস রাজনীতির বিপক্ষে। ওই শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দুই দিনব্যাপী, জনমত নিরীক্ষণের জন্য, আমরা আমাদের নিজ নিজ ইনস্টিটিউশনাল মেইল ব্যবহার করে ছাত্ররাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে অনলাইনে ভোট গ্রহণ করি। যার ফলাফল হচ্ছে, সর্বমোট ছাত্রসংখ্যা ৫ হাজার ৮৩৪ জন। ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৩ জন। অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। সুতরাং আমাদের অবস্থানের যথার্থতা এখানে প্রমাণিত।’

জবিতে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
জবিতে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সহকারী ইমাম শেখ মো. সালাহ উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র পেশ ইমাম ও খতিব মো. ছালাহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, এবার ছুটিতে থাকায় সহকারী ইমাম নামাজ পড়াবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী যারা আছেন তারা নামাজ পড়তে আসেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা থাকবেন কি-না বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। কিন্তু গত বছর কোষাধ্যক্ষ ঈদের জামাত এখানে আদায় করেছিলেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মুজাহিদ/সালমান/

হলে সিট ফেরত পাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থী রাব্বী

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
হলে সিট ফেরত পাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থী রাব্বী
ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বী। ছবি : সংগৃহীত

হলে সিট ফেরত পাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বী। তার সিট বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। রাব্বীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৮ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে হলে রাব্বীর সিট ফেরত পেতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। শুনানিতে রাব্বীর পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। 

বুয়েটে গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় দফা দাবিতে পরদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বন্ধ থাকে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও বহিরাগত কিছু নেতা-কর্মী বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালান। ক্যাম্পাসে ‘বহিরাগতদের’ প্রবেশ ও রাজনৈতিক সমাগমের মূল সংগঠক পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন; যিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তাই তাকে বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তার সহযোগীদেরও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বীর হলের সিট বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। গত ৩০ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বুয়েট প্রশাসন।

ছাত্রলীগের পক্ষে রিট করে হাইকোর্টের নির্দেশে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফেরানো হয়। এরপর হলের সিট বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন রাব্বী। রিটের শুনানি শেষে রাব্বীর পক্ষে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট। 

ঢাবিতে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, বুয়েটে সোয়া ৭টায়

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৯ পিএম
ঢাবিতে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, বুয়েটে সোয়া ৭টায়
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 

সোমবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় দুটির জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ঢাবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন প্রধান খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র খতিব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদ এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় ঈদের পৃথক দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খোলা মাঠে নামাজের জামাতের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ জারি করলে কিংবা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে খেলার মাঠের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বলা হয়, প্রথম জামাত বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত বকসি বাজার বায়তুস সালাম মসজিদে সকাল ৮টায় এবং আজাদ আবাসিক এলাকা মসজিদে সকাল ৮টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাতে আসতে অনুরোধ করা হয়। 

আরিফ/সালমান/

সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে  রাবিতে ইফতার

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৭ পিএম
সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে  রাবিতে ইফতার

মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাস এলে সবাই রোজা রাখার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের দৈনন্দিন কার্যাবলির সময়সূচির মধ্যেও পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ মাসে বিকেল থেকেই ইফতারের জন্য বিভিন্ন আয়োজন শুরু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরাও বিকেল থেকে ঠিক একই আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে শহরে বা গ্রামের নিজ বাড়িতে ইফতারের যে আয়োজন করা হয় তার থেকে ক্যাম্পাসের আয়োজন কিছুটা ভিন্ন।

বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করলেও ক্যাম্পাসে এ আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণের মানুষ। এখানে একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্প্রীতির বন্ধনে সম্পর্ক হয়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের। কিন্তু এই সম্প্রীতির বন্ধনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি। এ কারণে সবাই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিতে পারছেন না। কেউ কেউ খরচ বহন করতে না পেরে ইফতার করছেন মসজিদেও।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, শহিদ হবিবুর রহমান হল মাঠ, শেখ রাসেল মাঠ, জুবেরি মাঠ, সাবাস বাংলাদেশ মাঠ, শাহ্ মখদুম হল মাঠসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গ্যালারি কক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন, বিভাগ, ব্যাচ ও বন্ধুদের ইফতার। জানা যায়, প্রত্যেকটি হলের কক্ষ ও ছাদেও মিলেমিশে ইফতার করেন শিক্ষার্থীরা। মেয়েরাও সিনিয়র-জুনিয়র মিলে নিজ নিজ হলে ইফতার করেন। এদিকে মেসে ও বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই। বিকাল হলেই তারা ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতারির এমন চিত্র জানান দেয় শিক্ষার্থীদের  সম্প্রীতি ও বন্ধনের কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানান, একসঙ্গে ইফতার করার অনেক আনন্দ থাকলেও বিপত্তি বাধে ইফতারসামগ্রী কিনতে গিয়ে। আকাশছোঁয়া দামে মনমতো কিছুই কিনতে পারেন না তারা। শুধু মুড়ি, ছোলা, জিলাপি, পিঁয়াজুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাদের।

বন্ধুদের সঙ্গে শহিদ মিনার চত্বরে ইফতার করতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করলে রোজার মাসে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে না পারার অপূর্ণতা আর থাকে না। সবার সঙ্গে মিলেমিশে ইফতার করলে মনে হয় পরিবারের সঙ্গেই আছি। তবে সবকিছুর দাম বেশি হওয়ার কারণে আশানুরূপ ইফতার করতে পারি না।

ইফতারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। নাম না প্রকাশ করে আরেক শিক্ষার্থী জানান, আমার বন্ধুবান্ধবরা একসঙ্গে ইফতার করলেও তাদের সঙ্গে আমি সবসময় থাকতে পারি না। যেখানে ৩০-৪০ টাকার মধ্যে আমি প্রতি বেলার খাবার খাই, সেখানে ইফতার করতেই শতাধিক টাকা চলে যায়। তাই মাঝে মাঝে একাই হালকা খাবার দিয়ে ইফতারি করি অথবা আশপাশের মসজিদে চলে যাই।

ইফতারের নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন মেয়েরাও। বিকাল হলেই শুরু হয় তাদের প্রস্তুতি। ইফতার আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রিয়া বলেন, আশপাশের কক্ষের শিক্ষার্থী অথবা বান্ধবীদের সঙ্গে ইফতার করেন তিনি।

জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ার কারণে হলেই ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি তৈরি করেন তারা। সবসময় তাদের ফলমূল খাওয়া হয় না। তবে সবাই একসঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোড়দার করছেন।

কলি

স্মৃতিতে কমলা রঙের বাস

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ পিএম
স্মৃতিতে কমলা রঙের বাস

ভর্তির আগে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল, নীল, সাদা, কমলা ইত্যাদি রঙের বাসের প্রেমে পড়েন। তৈরি হয় বাসের প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা। তেমনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে কমলা রঙের বাস, যাকে সবাই কমলা সুন্দরী বলে ডাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের চার বছর কাটে এই বাসের সঙ্গে। এই বাস ঘিরে তৈরি হয় তাদের কত স্মৃতি, গড়ে ওঠে সম্পর্ক, তৈরি হয় বন্ধুত্ব। ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসার বাসযাত্রার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনেক আবেগ, রোমাঞ্চগাথা স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবদারু কিংবা বিজয় সড়ক সংলগ্ন কৃষ্ণচূড়া রোডে চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায় কমলা রঙের বাসগুলো। সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের এই আনন্দ বলে দেয় কমলা সুন্দরী তাদের কত আপন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বাস পাঁচটি রুটে চলাচল করে। প্রতিটি রুটে বাসের রয়েছে আলাদা নাম ও নম্বর। নামগুলো হলো-একুশে, তিস্তা, শতরঞ্জি, শ্যামাসুন্দরী, জলেশ্বরী, পদ্মরাগ ও চর্যাপদ।

প্রায় সময়ই বেরোবির শিক্ষার্থীরা কমলা সুন্দরীতে বন্ধুবান্ধব মিলে শহরে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের  কেউ টিউশনি, কেনাকাটা, অন্যান্য  কাজের জন্য কমলা বাসে নানা গন্তব্যে ছোটেন। ওই সময় বাসে ওঠা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। কেউ আগে এসে ব্যাগ বা খাতা দিয়ে জায়গা ধরে রাখেন, আবার কেউ তার সহপাঠীর জন্য আগে থেকে বসে থাকেন। এসবের মধ্যেও যেন আলাদা  ভালো লাগা ও আনন্দ রয়েছে।

কমলা সুন্দরী শুধু শিক্ষার্থী বহন করে না। স্বপ্নও ফেরি করে বেড়ায়। যখন বাসগুলো রংপুর শহরের রাস্তাঘাটে চলাচল করে তখন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। সারা দিন ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্টের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় ফেরার এক বিশ্বস্ত মাধ্যম কমলা সুন্দরী।

কলি