ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
ছবি : খবরের কাগজ

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

রবিবার (২৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, আগামী ২৮ মের মধ্যে দাবি না মানলে ওই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। আগামী ৩ জুনের মধ্যে দাবি না মানা হলে পরদিন ৪ জুন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। যদিও এ সময়ে পরীক্ষা চলমান থাকবে। এর পরও দাবি না মানা হলে ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা চলবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য যে প্রত্যয় স্কিম আরোপ করা হয়েছে তা আমাদের পারিবারিক সুরক্ষা নষ্ট করছে। এই প্রত্যয় স্কিমের ফলে মেধাবীরা আর শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে কারা সেই শক্তি সেটি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে মনে করে ঢাবি শিক্ষক সমিতি। সব শিক্ষক আজ সংগ্রামে আছেন, বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আছেন।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘যারা আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগর (শিক্ষকরা) প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাদের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ১ হাজার ৬১ জন শিক্ষক এই প্রত্যয় স্কিমের বিপক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন। তবুও কেউ এই ধরনের বৈষম্যমূলক স্কিম গ্রহণ করবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি আজকে এই মানববন্ধন পালন করছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই এই স্কিমকে গ্রহণের পক্ষে নেই। অবিলম্বে দাবি না মানা হলে পর্যায়ক্রমে আমরা কঠোর আন্দোলন এবং কর্মবিরতিতে যাব।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সদস্য অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, শফিউল আলম ভূঁইয়া, ড. এম ওয়াহেদ, দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ মোস্তফা কাওসার আবুলউলায়ী, জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী, ফার্মেসি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সামাদ, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ প্রযুক্তি ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তির পছন্দক্রমের সময়সীমা বৃদ্ধি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম
প্রযুক্তি ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তির পছন্দক্রমের সময়সীমা বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাদানকল্পে পরিচালিত প্রযুক্তি ইউনিট, গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট এবং রাজধানীর অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ ভর্তিচ্ছুদের বিষয় ও কলেজ পছন্দক্রমের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত উত্তীর্ণ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবাসাইটের মাধ্যমে ওই পছন্দক্রমের ফরম পূরণ করতে পারবেন। 

রবিবার (২৩ জুন) ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ, প্রযুক্তি ইউনিট ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট এর পাশকৃত শিক্ষার্থীদের বিষয় ও কলেজ পছন্দক্রম পূরণ করার সময়সীমা আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

জানা যায়, ভর্তি সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইটে (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) গিয়ে প্রার্থীর ভর্তির প্রাথমিক আবেদনের বিস্তিারিত ফরম ও শিক্ষার্থীর ভর্তিযোগ্য বিষয়সমূহের পছন্দক্রম ফরম অবশ্যই সর্তকতার সাথে অনলাইনে পূরণ করতে হবে। পছন্দক্রম ফরম পরবর্তীতে কোনো অবস্থাতেই আর পরিবর্তন করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ঢাবি অধিভুক্ত রাজধানীর কলেজগুলো হলো, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ইউনিট অধিভুক্ত কলেজগুলোর ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রযুক্তি ইউনিটের অধীনে ৬টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ১টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে ৩টি সরকারি কলেজ এবং ১টি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং টেক্সটাইল রিলেটেড ২টি বেসরকারি কলেজ। 

এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে একটি সরকারি কলেজ ও বাকি পাঁচটি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। ঢাবি অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ক কলেজগুলো হলো, গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স, বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকনমিক্স কলেজ, ময়মনসিংহ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, আকিজ কলেজ অব হোম ইকনমিক্স এবং বরিশাল হোম ইকনমিক্স কলেজ।

আরিফ জাওয়াদ/এমএ/

ছাত্রীদের অঙ্কনে সাজল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
ছাত্রীদের অঙ্কনে সাজল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল

পড়াশোনার তাগিদে মাতৃস্নেহ ত্যাগ করে শহরে ছুটে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিজেদের বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলই শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপদ আবাসস্থল। এখানেই তারা নিজেদের সুখ-দুঃখ একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। আবাস্থলের কক্ষগুলোও গাঁয়ের ঘরগুলোর মতো আপন হয়ে ওঠে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আপন বাড়ি থেকে দূরে থাকলেও তাদের কাছে হল হয়ে ওঠে আরও একটি বাড়ি আরও একটি নতুন পরিবার।

এই বাড়িকে তাই নিজেদের মতো করেই তুলি-রঙে সাজিয়ে রাখেন তারা। নিজেদের কল্পনাগুলোকেই নানাভাবে তুলে ধরেন। নিজ বাড়ির বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে সাজসজ্জাকে ঘিরে থাকা আগ্রহ-উৎসাহ, আনন্দকে নতুন পরিবারের জন্য নিংড়ে দেন তারা। নতুন বাড়িকে নিয়েই তৈরি হয় কল্পনার নতুন নতুন পটচিত্র। বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে নতুন নতুন থিম তৈরি করে হলের ফ্লোরগুলোকে তুলি-রং, রং-বেরঙের কাগজ দিয়ে সাজান শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর উৎসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিজেদের ফ্লোরগুলোতে আল্পনায়, দেয়ালচিত্রে নতুন রঙের মহল তৈরি করেন। সবাই মিলেই কাজগুলোকে ভাগাভাগি করে নেন। ক্ষণিকের জন্যই অঙ্কন শিল্পীর দায়িত্ব নিজেরাই নিয়ে নেন।

সবার নিজের কাছে থাকা পানির বোতল, বাটি ইত্যাদিই যেন রংযুদ্ধের বাহন হিসেবে সঙ্গী হয়। এগুলোতে রং নিয়েই তুলি দিয়ে নিজেদের ফ্লোর সাজানোয় অংশ নেন। নিজেদের এই সরঞ্জামাদি নিয়েই কয়েকদিনের মধ্যেই নিজেদের ফ্লোরকে সাজানো সম্পন্ন করেন। প্রতিবার নতুন বছর আসে, রং পুরোনো হলেও নতুন করে আবারও নিজের স্মৃতিগুলোকেই যেন মনে করতে চান, নতুন কোনো রঙের আঁচড়ে আরও একবার।

কলি

মাইলস্টোন কলেজ একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৩৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৩৫ পিএম
মাইলস্টোন কলেজ একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাইলস্টোন কলেজ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম মাইলস্টোন কলেজের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। কলেজটি ২০০৮ সালে অর্জন করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি। শিক্ষাবান্ধব এমএনআরএস ট্রাস্ট পরিচালিত মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল নুরন্ নবী (অব.)। যিনি দেশসেরা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। কর্মজীবনে তিনি ফৌজদারহাট এবং ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজেও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাইলস্টোন কলেজ প্রতিষ্ঠার পর বেশ কবছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে কর্নেল নুরন্ নবী (অব.) উপদেষ্টা হিসেবে সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

মাইলস্টোন কলেজে রয়েছে প্লে/নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে পড়ার সুযোগ। জুনিয়র সেকশনে প্লে/নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত, সিনিয়র সেকশনে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং কলেজ সেকশনে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যায়নের সুযোগ রয়েছে। মাইলস্টোন কলেজ শুরু থেকেই বাংলা মাধ্যমের মতো ইংরেজি ভার্সনে তাদের পাঠকার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এটি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ইংরেজি ভার্সনে দেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম।  

এইচএসসি এবং এসএসসির ফলাফল
প্রতিষ্ঠানটির অতীত ও সাম্প্রতিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেধাতালিকা পদ্ধতি থাকাকালীন ১৩ বার দেশসেরা ও বোর্ডের মেধাতালিকায় স্থান, সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নিয়ে শতভাগ পাসসহ মাইলস্টোন কলেজের রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্যের এক বিস্ময়কর রেকর্ড। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে ২৯৫৩ জন ছাত্রছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৮৫ জন। ২০২৪ সালে মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ১৭৫০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৯৮ জন।

জেএসসি এবং পিইসির ফলাফল
এইচএসসি এবং এসএসসির মতো জেএসসি এবং পিইসির ফলাফলেও মাইলস্টোন কলেজের রয়েছে অনন্য এক সাফল্যের গল্প। জানা যায়, সবশেষ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসিতে মাইলস্টোন কলেজে থেকে পাসের হার ছিল শতভাগ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করে ৫৮৯ জন। মেধাতালিকা পদ্ধতি থাকাকালীন ঢাকা বোর্ডে জেএসসির মেধাক্রমে ২০১০ সালে ১৩তম, ২০১২ সালে সপ্তম এবং ২০১৩ সালে চতুর্থ স্থান অধিকার লাভ করে। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে সবশেষ অনুষ্ঠিত পিইসি পরীক্ষায় মাইলস্টোন কলেজের অন্তর্ভুক্ত মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১১৮১ জন পরীক্ষার্থী, শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ অর্জন করে ১১৩৮ জন। পিইসির প্রাতিষ্ঠানিক মেধাক্রমে সারা দেশে ২০১১ ও ২০১২ সালে চতুর্থ স্থান এবং ২০১৩ ও ২০১৪ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করে মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুল।  

একাডেমিক পর্ষদ
৪৫০ জনের নবীন, প্রবীণ এবং গুণগতমানের একাডেমিক পর্ষদ নিয়ে চলছে মাইলস্টোন কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাকারী এমএনআরএস ট্রাস্টের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন প্রাজ্ঞজন মমতাজ বেগম। মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছেন আইটি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম। স্কুল শাখার নির্বাহী অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিসেস রিফাত নবী আলম এবং কলেজের জ্যেষ্ঠ পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত আছেন মো. মাসুদ আলম। মাইস্টোন কলেজ শিক্ষক-শিক্ষিকার পেশাদারির ক্ষেত্রে সচেতন। এখানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

অবকাঠামো
উত্তরা মডেল টাউন ক্যাম্পাস ছাড়াও উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের দিয়াবাড়ীতে সুবিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে মাইলস্টোন কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাস। যা মেট্রোরেল উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত। বিশাল খেলার মাঠ, চারদিকে খোলামেলা সবুজ-শ্যামল পরিবেশের ক্যাম্পাসটি ইতোমধ্যেই উত্তরা এবং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের প্রাণের ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে। মাইলস্টোনে ছাত্র এবং ছাত্রীদের ক্লাস আলাদা আলাদা ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীরা কলেজের নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ পায়। রয়েছে ইন্টারনেট সুবিধাসহ আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, ব্যবহারিক ল্যাবরেটরি এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। সার্বক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা মাইলস্টোন কলেজকে পরিণত করেছে সময় উপযোগী অনন্য এক ক্যাম্পাসে।    

সহশিক্ষা কার্যক্রম
একাডেমিকভাবে সেরা ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজেদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম মাইলস্টোন কলেজ। বিতর্ক, বিজ্ঞান, কুইজ, আবৃত্তি, সংগীত, ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবল, ফটোগ্রাফি প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক ক্লাবের মাধ্যমে সারা বছরই চর্চা হয় সহশিক্ষা কার্যক্রমের। রয়েছে বিএনসিসি, স্কাউট এবং গার্লস গাইডের শাখা। মাইলস্টোন কলেজে অনুষ্ঠিত সহশিক্ষা কার্যক্রমের অনন্য দিক হলো শিক্ষাবর্ষের শেষভাগে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী খেলাধুলা প্রতিযোগিতা যাতে শিক্ষার্থীরা মনোদৈহিক বিকাশের পাশাপাশি নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।

অবস্থান
৩০ ও ৪৪ গরিব-ই-নেওয়াজ অ্যাভিনিউ, সেক্টর-১১ এবং দিয়াবাড়ী (মেট্রোরেল উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে), তুরাগ, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০।

কলি

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চাঁবিপ্রবি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চাঁবিপ্রবি

দ্বাদশ পাঞ্জেরী-দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উল্লাস (ফাইনাল) পর্বে সংসদীয় বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁবিপ্রবি)। বিপক্ষ দল হিসেবে ছিল চাঁদপুর সরকারি কলেজ। প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে।

প্রতিযোগিতার আয়োজনে ছিল চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি। সার্বিক সহযোগিতা করেছে অক্ষর-পত্র প্রকাশনী, দারসুন পাবলিকেশন্স। 
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সদস্যরা হলেন- ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের তানজিন তাজ ছোঁয়া, এস এম মানজুরুল ইসলাম সাজিদ, মো. নাইমুর রহমান নিয়ামুল, সাদিয়া ফারহানা, মোছা. অবনী খন্দকার এবং দলটির সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. বাইজীদ আহম্মেদ রনি।

সেরা বক্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তানজিন তাজ ছোঁয়া। সেরা দায়িত্ববান শিক্ষক নির্বাচিত হন দলটির সমন্বয়কারী বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. বাইজীদ আহম্মেদ রনি।

বিজয়ী দলের বিতার্কিকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার। 
সেরা বক্তা তানজিন তাজ ছোঁয়া বলেন, ‘বিতর্ক করার আগ্রহ ছিল ছোট থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে সুযোগ পাচ্ছি। আমার খুব ভালোলাগা কাজ করছে। সেরা বক্তা হওয়া ছিল আরও বেশি আনন্দের।’

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার বলেন, ‘আমার বিতর্ক টিমের উন্নতি কামনা করি। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক ক্লাব আছে। শিক্ষার্থীরা সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাক এই প্রত্যাশা থাকবে।’

দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ক্লাবের সমন্বয়কারী ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. বাইজীদ আহম্মেদ রনি বলেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম প্রচেষ্টাতেই দ্বাদশ পাঞ্জেরী চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ফাইনালে জিতেছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁবিপ্রবি বিতর্ক ক্লাবের সমন্বয়কারী হিসেবে প্রথম থেকেই এই বিতার্কিকদের আমি তৈরি করার চেষ্টা করেছি। আজকে আমার শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দ অনুভব করছি। আশা করি তারা ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জন করবে।

 কলি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখানে-সেখানে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:২৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:২৯ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখানে-সেখানে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিষাক্ত আগাছাজাতীয় উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম। ক্যাম্পাসের আবাসিক হল, শহিদ মিনার, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও লেক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হারে বেড়েছে এই উদ্ভিদটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্ভিদ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বীজ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে স্থানীয় উদ্ভিদের জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়। পার্থেনিয়ামের পাতা, ডালপালা এবং ফুলে পার্থেনিন নামক বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে, যা ত্বকের সংস্পর্শে এলে চুলকানি, ফোলা ভাব এবং লাল ভাবের কারণ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়াও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে জানা গেছে।

ইবি ক্যাম্পাসের অলি-গলিতে জন্মেছে এই পার্থেনিয়াম। বিশেষ করে সাদ্দাম হোসেন হলের উত্তর ও পূর্ব পাশে এবং কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রয়েছে এ উদ্ভিদের আধিক্য। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে, ফুটবল মাঠের পূর্ব পাশে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে আঙ্গিনায় জন্মেছে প্রচুর পরিমাণে। মফিজ লেক, পেয়ারা বাগান, শহিদ মিনার এলাকাসহ বিচ্ছিন্নভাবে ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে পার্থেনিয়ামের ছড়াছড়ি।

উল্লেখ্য, পার্থেনিয়ামের পুরো শরীরটাই ক্ষতিকর। বিশেষ করে ফুলের রেণুতে থাকা ‘সেস্কুটার্পিন ল্যাকটোন’ জাতীয় পদার্থ। যার নাম পার্থেনিন। এ ছাড়া রয়েছে ক্যাফেইক অ্যাসিড ও পি-অ্যানিসিক অ্যাসিড, যা চর্মরোগ সৃষ্টির অন্যতম রাসায়নিক। ফুলের রেণু নাকে প্রবেশ করলে হতে পারে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর। অ্যালার্জি রোগীদের চামড়ায় পার্থেনিয়ামের রস লাগলে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অধিক। গবাদিপশু খেলে অন্ত্রে ঘা হয় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়। যেকোনো ধরনের ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এই পার্থেনিয়াম।

লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, পার্থেনিয়াম খুব ক্ষতিকর একটি উদ্ভিদ। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এই উদ্ভিদটি ব্যাপক বংশবিস্তার করেছে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ভিদগুলো স্থায়ীভাবে নির্মূল করার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এসব ক্ষতিকর দিক পর্যালোচনা করে কৃষিবিদরা গাছটিকে পুড়িয়ে ফেলতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্ক না হলে যেকোনো ব্যক্তি বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন এটি কেউ কাটতে গেলে ওই ব্যক্তির হাতে-পায়ে লাগতে পারে। পোড়াতে গেলে ফুলের রেণু দূরে উড়ে বংশবিস্তার করতে পারে। আবার ব্যক্তির নাকে-মুখেও লাগতে পারে।

তাতে তিনি মারাত্মক বিষক্রিয়ায় পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে প্রথমে গাছটিকে কাটতে হবে। হাতে গ্লাভস, চোখে চশমা থাকলে ভালো হয়। অবশ্যই পা ভালোমতো ঢেকে রাখতে হবে। মোটা কাপড়ের প্যান্টের সঙ্গে বুটজুতা পরা যেতে পারে, সঙ্গে মোটা কাপড়ের জামাও পরতে হবে। গাছ কাটা হলে গভীর গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে। এ ছাড়াও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগাছানাশক ব্যবহার করে এ গাছ দমন করা যায়। সে ক্ষেত্রে ডায়ইউরোন, টারবাসিল, ব্রোমাসিল আধা কেজি ৫০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে হেক্টরপ্রতি প্রয়োগ করতে হবে।

কলি