ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

যে তিনটি সিদ্ধান্ত  আপনাকেই নিতে হবে

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫১ এএম
যে তিনটি সিদ্ধান্ত  আপনাকেই নিতে হবে

ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হলো ‌‘আমি কোন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করব?’ এবং ‘আমার কি এই চাকরির প্রস্তাবটি গ্রহণ করা উচিত নাকি প্রত্যাখ্যান করব?’

এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়টাতে আমরা বেশ মানসিক চাপে থাকি। কোনো ভুল হয়ে যায় কি না, আমরা শুধু সেই ভয়েই থাকি। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী এই মুহূর্তগুলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতার মুহূর্তও বটে।

ক্যারিয়ারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আপনাকে অবশ্যই আপনার মস্তিষ্ক, হৃদয় এবং ভেতর থেকে আসা প্রতিটি সংকেত মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে পারেন।

ক্যারিয়ার সম্পর্কিত তিনটি সিদ্ধান্তই সবচেয়ে মৌলিক এবং অনেক সুদূরপ্রসারি প্রভাব বিস্তারকারী। এই তিনটি সিদ্ধান্ত বিশেষ কোনো একটি মুহূর্তে গ্রহণ করার মতো নয়। বরং এই সিদ্ধান্তগুলো আপনাকে জগৎ সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি এবং নিজের সম্পর্কে আপনার বুঝ এবং জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি নিতে হবে।

ক্যারিয়ার সম্পর্কিত এই তিনটি সিদ্ধান্ত হলো:

আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে কী পেতে চান

আপনার কাছে যখন কোনো চাকরির প্রস্তাব আসবে তখন আপনাকে প্রথমেই যে বিষয়টি ভাবতে হবে তা হলো, ‘আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে আসলে কী পেতে চান?’

কেউ আপনাকে এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শটি দিতে পারবেন না যদি তারা না জানেন আপনি আসলে কী করতে চাইছেন। অনেক চাকরিই আছে যেগুলো বেতনের কারণেই অনেক বড় মনে হয়। সেসব চাকরি থেকে এর বেশি কিছু পাওয়া যায় না। আসলে সেসব চাকরি এর বেশি কিছু দেওয়ার প্রস্তাবের ভানও করে না।

অনেক চাকরি আছে বেতন বেশি দেওয়ার চেয়েও বেশি কিছু দেওয়ার প্রস্তাব করে। আপনার মেধা এবং আগ্রহের সঙ্গে এসব চাকরির সঙ্গতি রয়েছে। যে আগ্রহের কারণেই আপনি প্রতিদিন কাজে যেতেও সবচেয়ে বেশি আগ্রহ বোধ করেন। অনেক চাকরি আছে আবার এর মাঝামাঝি অবস্থানে। আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে আসলে কী চান। আর আপনি নিজেই সে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করুন।

আপনার ক্যারিয়ার চালাবে কে

বেশির ভাগ কর্মজীবীই এ ব্যাপারে সচেতন নন যে তারা একটি কোম্পানি চালাচ্ছেন। আর এই কোম্পানিটি হলো তাদের নিজেদের ক্যারিয়ার বা কর্মজীবন।

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আপনার যেহেতু এখন একটি ভালো চাকরি আছে সুতরাং আপনাকে আর কর্মজীবন নিয়ে বাড়তি কোনো ভাবনায় সময় ব্যয় করার দরকার নেই। এটা ভুল ধারণা। এটা আপনার ব্যবসা আর আপনাকেই এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনিই আপনার জীবনের সিইও। আর যে কোনো ব্যবসার সিইও তার ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দূরদৃষ্টি রাখেন এবং স্পষ্ট পরিকল্পনা অবলম্বন করেন।

ভবিষ্যৎ জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার সময় যে প্রশ্নগুলো দিয়ে শুরু করবেন:

পেশাগতভাবে আমি এখন যা করছি এর কোন বিষয়টি আমি ভালোবাসি।

আমি কীসে আরও ভালো করতে চাই।

আমি কোন বিষয়ে আরও বেশি শিখতে চাই।

এক বছর পর আমার ক্যারিয়ারের কোন বিষয়ে আমি আরও উন্নতি করতে চাই।

এক বছর পর আমি আমার জীবনটাকে কেমন দেখতে চাই।

১০ বছর পর আমি আমার জীবন ও ক্যারিয়ারকে কেমন দেখতে চাই।

যতটা খুশি ততটা প্রশস্ত এবং বিস্তৃত পরিপ্রেক্ষিতে ভাবলে আমি পেশাগতভাবে কী করব? আমি যদি নিজের কোনো সীমা না টানি তাহলে পেশাগত জীবনে আমি আসলে কী করব?

নিজের পথ অনুসরণ করবেন কি না

অনেক কর্মজীবীই নিজেদের কাছ থেকে আর কোনো কিছুই প্রত্যাশা করেন না। কারণ ইতোমধ্যেই তারা অনেক নির্মমতা ও রূঢ়তা এবং অনায্যতার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ক্যারিয়ারের বর্বর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে যে কেউ তাদের নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করতে পারেন। তবে এরপরও আপনার রয়েছে প্রচুর শেখার সম্ভাবনা। এরপরও আপনি অনেক কিছুই অর্জন করতে পারেন এবং বিশ্বের জন্য অবদান রাখতে পারেন। 

সময় কারও জন্য বসে থাকে না। সুতরাং নিজের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কেন আপনি সময়কে ব্যবহার করছেন না?

কেউ আপনার ব্যর্থতায় হাসবে না। আর যারা হাসবে তারা নিশ্চয়ই আপনার বন্ধু নন। সুতরাং তারা যদি আপনাকে একলা ফেলে চলেও যান তাতেও আপনার কিছুই যায় আসে না। আপনি তাদের ছাড়াই অনেক ভালো থাকবেন।

আপনি নিজের মতো কোনো একটি সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন এবং বিষয়টি নিয়ে চুপ করে থাকুন। বিশ্বের অনেক মেধাবী উদ্ভাবক এবং শিল্পীই এমনটি করেছেন।

যেকোনো একটি মুহূর্তে ছোট্ট একটি পদক্ষেপই আপনি গ্রহণ করতে পারেন এবং এগিয়ে যেতে পারেন। তা হতে পারে এমনকি এখনই। আপনার স্বপ্নের জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি কী করতে চান তা নিয়ে ভাবতে আপনি সেই ছোট্ট পদক্ষেপটি গ্রহণ করতে পারেন।

সূত্র: ফোবর্স

কলি

 

ব্যবসার জন্য পুঁজি যেখানে পাবেন

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০২ পিএম
ব্যবসার জন্য পুঁজি যেখানে পাবেন

ব্যবসা করার জন্য যেমন নিত্যনতুন আইডিয়া দরকার ঠিক তেমনি প্রয়োজন অর্থ। নতুন ব্যবসা কিংবা উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুঁজি বা ফান্ডিং জোগাড় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কী পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে এবং সেগুলোর উৎস কী হবে, তা নির্ভর করে ব্যবসার পরিধি এবং ধরনের ওপর। নতুন কোনো উদ্যোগের স্টার্টআপ বা চলমান কোনো ব্যবসায় পুঁজি বা ফান্ডিং জোগাড় করার জন্য রয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় ও কার্যকরী পন্থা। সেগুলো হলো-

১. ব্যাংক ঋণ
পুঁজি জোগাড় করার ক্ষেত্রে ছোট এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ব্যাংক ঋণ। দেশে এখন অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংক বিভিন্ন মেয়াদ ও সুযোগ-সুবিধায় ঋণ দিয়ে থাকে। নিজের ব্যবসার ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ খুঁজে বের করতে হবে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, শুধু ভালো আইডিয়া থাকলেই ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না। বরং ব্যাংক ঋণ পেতে কোম্পানির ভালো ট্র্যাক রেকর্ড এবং ক্রেডিট থাকা জরুরি। কোনো স্টার্টআপ ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টির দরকার পড়ে। ব্যাংক ঋণ সাধারণত দুই ধরনের হয়- ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোন এবং ফান্ডিং। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোনের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখেছে এমন উদ্যোগকে বাছাই করা হয়। অন্যদিকে ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন কিন্তু বাস্তবসম্মত এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনাসংবলিত প্রোজেক্টগুলোকে বাছাই করা হয়।

২. সরকারি স্টার্টআপ ফান্ডিং
দেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই স্টার্টআপ কালচার শুরু হয়েছে। সরকার বিভিন্ন মেয়াদে নতুন আইডিয়া সংবলিত স্টার্টআপ উদ্যোগগুলোয় বিনিয়োগ করে থাকে। এসব ফান্ডিং পেতে বেশ কিছু স্ক্রিনিং প্রসেস পার করতে হয়। আমাদের দেশে সরকারপ্রদত্ত স্টার্টআপ ফান্ডিংগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইনোভেশন সার্ভিস ফান্ড, ইনোভেশন ফান্ড, আইসিটি ডিভিশন ফান্ড, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইত্যাদি।

৩. ক্রাউড ফান্ডিং
সাধারণত ক্রাউড ফান্ডিং বলতে বোঝায় একটি ব্যবসায় অনেক লোকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগ। বিভিন্ন পণ্য বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ক্রাউড ফান্ডিং একটি কার্যকরী পন্থা। ক্রাউড ফান্ডিংয়ে যারা টাকা তুলতে সহায়তা করে, তাদের প্ল্যাটফর্ম বলা হয়। অন্যদিকে ক্রাউড ফান্ডে যারা অর্থায়ন করেন তাদের বলা হয় ‘ব্রেইকার’। তাদের প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার, স্বীকৃতি ইত্যাদি দেওয়া হয়। পুরস্কারগুলোর অর্থমূল্যের চেয়ে শুভেচ্ছামূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেমন- টি-শার্ট, স্টিকার, ধন্যবাদ জ্ঞাপকপত্র ইত্যাদি। প্ল্যাটফর্ম তাদের সেবার বদলে সার্ভিস চার্জ পেয়ে থাকে।

বিশ্বজুড়ে অনেক জনপ্রিয় হলেও ক্রাউড ফান্ডিং একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ব্যবস্থা। কেননা এতে জালিয়াতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো ক্রাউড ফান্ডিংয়ে জালিয়াতি ঠেকাতে প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে ক্রাউড ফান্ডিং এখনো সেভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে যেহেতু বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে শিগগির ক্রাউড ফান্ডিং এদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

৪. অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টিং
যখন কোনো উদ্যোক্তা তার ব্যবসার স্টার্টআপের সময় কিংবা চলমান ব্যবসায় আর্থিক সংকটের সময় অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যবসার অংশীদারত্ব বিক্রির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে তখন তাকে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টিং বলে। অংশীদারত্ব কেনার মাধ্যমে যিনি বিনিয়োগ করেন তাকে বলা হয় অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর। সাধারণত অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর উদ্যোক্তার কোনো আত্মীয়, বন্ধু কিংবা পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন। ব্যক্তির পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠানও অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারে। এ ধরনের ফান্ডিংয়ের একটি সুবিধা হলো সহজেই ইনভেস্টর পাওয়া যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে উদ্যোক্তার সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, অংশীদারত্ব বিক্রির বিনিময়ে তিনি সঠিক পরিমাণ বিনিয়োগ পাচ্ছেন কি না, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরকে নিজের প্রতিষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে গ্রহণ করার পর পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতের মিল ধরে রাখাও কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৫. ভেঞ্চার ক্যাপিটাল
সাধারণত কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম বা কোম্পানি দ্বারা গঠিত হয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা তহবিল। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসংবলিত (যেমন আইটি, আইটিইএস, বায়োমেডিকেল ইত্যাদি) তহবিল যেখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা বিত্তশালীরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করেন। একটি ভেঞ্চার ফান্ডের সময়কাল সাধারণত ৫-১৫ বছর হয়ে থাকে। এই পুরো তহবিলের দেখাশোনা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম করে থাকে যার বিনিময়ে তারা ব্যবস্থাপনা ফি নিয়ে থাকে। ভেঞ্চার ফান্ডে যারা বিনিয়োগ করেন তাদের লিমিটেড পার্টনার বা এলপি বলা হয়। অন্যদিকে যারা এই ফান্ড ব্যবস্থাপনা করে থাকে তাদের জেনারেল পার্টনার বা জিপি বলে। ভেঞ্চার ফান্ড থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে বিনিয়োগের ব্যাপারটি ভেঞ্চার ফার্ম নিয়ন্ত্রণ করে। বিনিয়োগ সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদের হয় (৩ থেকে ৮ বছর)। বিনিয়োগ প্রধানত সাধারণ শেয়ার ও আংশিক পুঁজির (কোয়াসি ইক্যুইটি) মাধ্যমে করা হয়। মেয়াদ শেষে অথবা সুবিধাজনক সময়ে ভেঞ্চার ফার্ম সেই শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারে। এক্ষেত্রে লাভ বা লোকসান যেকোনো কিছুই হতে পারে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল একটি উদ্যোগের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থায়ন করে- (১) সিড বা বীজ পর্যায়, যখন ব্যবসা উদ্যোক্তার মনে আইডিয়া আকারে থাকে (২) প্রাথমিক পর্যায়, যখন উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরুর জন্য কাজ শুরু করেছে কিন্তু বিক্রয় বা সেবা প্রদান শুরু হয়নি (৩) সম্প্রসারণ পর্যায়, যখন বিক্রি শুরু হয়েছে কিন্তু কোম্পানি লাভ করছে না এবং (৪) বর্ধিষ্ণু পর্যায়, যখন কোম্পানি ভালো আয় বা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে পরিচিত ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মধ্যে আছে, লংকা বাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, এথেনা ভেঞ্চার এবং ইক্যুইটি লিমিটেড, বিডি ভেঞ্চার, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেড, মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেড, ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড ইত্যাদি।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল দিয়ে বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলো আজকের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপ ডট ইনক, কিং ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট, যা ক্যানডি ক্রাশ সাগা গেমটি তৈরি করেছে—এরা সবাই ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মাধ্যমেই নিজেদের ব্যবসায় অর্থসংস্থান করেছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের উচিত হবে, ব্যবসায় অর্থসংস্থানের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জোগান নিশ্চিত করা।

৬. ক্ষুদ্রঋণ
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বিভিন্ন এনজিও, যেমন গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা বাংলাদেশ ইত্যাদি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের আওতায় ঋণ দিয়ে থাকে। তারা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে এমন উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে, যাদের জন্য ক্ষুদ্রঋণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষুদ্রঋণের অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যায়। অন্যদিকে পরিশোধ করতে হয় ভেঙে ভেঙে। তাই, অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই ক্ষুদ্র ঋণ অর্থসংস্থানের জনপ্রিয় মাধ্যম।

জাহ্নবী

 

যেসব কারণে নষ্ট হতে পারে ক্যারিয়ার

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০০ পিএম
যেসব কারণে নষ্ট হতে পারে ক্যারিয়ার

প্রত্যেক মানুষই চায় একটি সুন্দর ও সফল ক্যারিয়ার। তবে শুধু চাইলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক কর্মপরিকল্পনা। ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেকটা কাচ দিয়ে পিরামিড সাজানোর মতো। এখানে প্রতিটি কাজ করতে হয় সতর্কতার সঙ্গে। কোনো একটি কাজে ভুল হলে তা সম্পূর্ণ বিষয়টিকে চুরমার করে দিতে পারে। আর এক্ষেত্রে যেসব কাজ আপনার ক্যারিয়ার নষ্ট করতে পারে, তেমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

১. অতিরিক্ত আশ্বাস ও কম কাজ
কাজের ক্ষেত্রে আপনি যদি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত আশ্বাস দেন তাহলে সে অনুযায়ী কাজও করা প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলে তা ধ্বংস করতে পারে আপনার ক্যারিয়ার। তাই কাজ যতটুকু করতে পারবেন ঠিক ততটুকুই আশ্বাস দিন।

২. পরিবর্তনে তাল মেলানো
নতুন নতুন আইডিয়া প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করবেই। নতুন বিষয়কে আয়ত্ত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি এসব বিষয়ের সঙ্গে তাল মিলাতে না পারেন তাহলে আপনি প্রাচীনপন্থি বলে চিহ্নিত হবেন। ফলে আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতির সম্ভাবনা কমে আসবে। একটা সময় ক্যারিয়ার ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে।

৩. ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা 
ভবিষ্যতে কী হবে সেটা চিন্তা না করে ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থাতেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ অবস্থার পরিবর্তনে যদি আপনি আগেই ভীত হয়ে যান এবং নতুন অবস্থানে যেতে অনাগ্রহী হন তাহলে তা ক্যারিয়ারকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে পারে।

৪. সমস্যা চিহ্নিতকারী বনাম সমাধানকারী
যেকোনো কাজে সমস্যা থাকবেই। অনেকেই এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে। কিন্তু সমাধান করতে পারাতেই মূল দক্ষতার পরিচয়। এক্ষেত্রে আপনি যদি প্রতিষ্ঠানের বহু সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেন কিন্তু সমাধান করতে না পারেন তাহলে তা আপনার জন্য মোটেই ভালো ফলাফল আনবে না।

৫. আত্মতুষ্টিতে ভোগা
কোনো প্রতিষ্ঠানে ভালোভাবে কাজ করা মানে ক্রমাগত গতিশীল হয়ে থাকা। আপনি যদি আত্মতুষ্টিতে ভোগেন এবং আর নতুন কোনো অবস্থান গ্রহণ করতে আগ্রহী না হন তার অর্থ আপনি আপনার কাজে যথেষ্ট মনোযোগী নন। এ অবস্থা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।

বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে

জাহ্নবী

কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পেতে যা করবেন

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৭ এএম
কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পেতে যা করবেন

কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজ ঠিকমতো করতে পারলে পদোন্নতি পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে অনেকেই আছেন যারা কঠোর পরিশ্রম করেন ঠিকই কিন্তু সে অনুযায়ী ফল পান না। আবার অনেকেই অতিরিক্ত পরিশ্রম না করেও উন্নতি করে ফেলেন। কর্মক্ষেত্রে এমন অবস্থা দেখে অনেকেই হতাশায় ভুগে থাকেন। তবে হতাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে এর পেছনেও অনেকগুলো কারণ রয়েছে। নিজের অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে নতুন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে আপনিও কর্মজীবনে সাফল্য পেতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য যে ৫ অভ্যাস প্রয়োজন সেগুলো হলো-

লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যান
প্রতিষ্ঠানের সফল কর্মীরা একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যান। লক্ষ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করে থাকেন। আপনিও এ কাজটিই করুন। আপনার কাজের নিয়মিত অগ্রগতি যখন প্রতিষ্ঠানের চোখে পড়বে তখন নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত হবেন।

ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন
কর্মক্ষেত্রে সফলতা পেতে চাইলে সব সময় ইতিবাচক মনোভাব রাখুন। সফল কর্মীরা সব সময় এ কাজটিই করে থাকেন। তারা কখনো নেতিবাচক কিছু নিয়ে পড়ে থাকেন না। কোনো বিপত্তি এলেও সেগুলো মোকাবিলা করার মানসিকতা রাখেন। তাদের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা কর্মজীবনে সফল হয়ে ওঠেন। তাই কর্মক্ষেত্রে সফল হতে গেলে এ ধরনের মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান
কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য যোগাযোগ দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যোগাযোগ দক্ষতা না থাকলে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পেতে হলে আপনাকে ভালো শ্রোতা হতে হবে। অন্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা কর্মীদের তাদের সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে, যা কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য একটি ভালো সুযোগ।

নতুন কিছু শেখার আগ্রহ রাখুন
কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পেতে চাইলে সব সময় নতুন কিছু শেখা জরুরি। শেখার আগ্রহ না থাকলে কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়া কঠিন। যারা নতুন কিছু গ্রহণ করতে পারে না তারা সাধারণত কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পান না। তাই কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে চাইলে যেকোনো বিষয়ে আপ টু ডেট থাকতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার মানসিকতাও থাকতে হবে।

উদ্যোগ নিন, কাজ করুন
যারা উদ্যোগ নিতে পছন্দ করেন তাদের ভাগ্যে পদোন্নতি শব্দটি বারবার ধরা দেয়। এ ধরনের কর্মীরা কী করতে হবে এসব নিয়ে কোনো নির্দেশনার অপেক্ষা না করে নিজ থেকেই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করেন। এসব মানুষকে সবাই পছন্দ করে থাকেন। তাই নিজের মধ্যে এ ধরনের মানসিকতা আনতে হবে।

জাহ্নবী

টিআইবিতে কাজের সুযোগ

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
টিআইবিতে কাজের সুযোগ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বাংলাদেশে পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন: টুওয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (পিএসিটিএ) প্রকল্পে কর্মী নিয়োগ দেবে সংস্থাটি। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

পদের নাম: ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর-প্রকিউরমেন্ট
পদসংখ্যা: ১
যোগ্যতা: বিজনেস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এ ধরনের বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকিউরমেন্ট/অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে অন্তত ছয় বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে অন্তত তিন বছর জাতীয়/আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগে সাবলীল হতে হবে। ইআরপি সফটওয়্যার ও এমএস অফিস অ্যাপ্লিকেশনের কাজ জানতে হবে।
চাকরির ধরন: ফুল টাইম
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: মাসিক বেতন ১,৩৭,৫৫০ টাকা। সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আছে।

আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের টিআইবির ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের https://career.ti-bangladesh.org/job/169 এই লিংক থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে Apply Now বাটনে ক্লিক করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।

জাহ্নবী

পূবালী ব্যাংকে বড় নিয়োগ পদ ৫৪০

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৪ এএম
পূবালী ব্যাংকে বড় নিয়োগ পদ ৫৪০

পূবালী ব্যাংক পিএলসি জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটি ডেপুটি জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। এ পদে মোট ৫৪০ জনকে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।

পদের নাম: ডেপুটি জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ)
পদসংখ্যা: ৫৪০
যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। এসএসসিতে জিপিএ ৫–এর মধ্যে অন্তত ৩.৫০ এবং এইচএসসিতে জিপিএ–৪ থাকতে হবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ৪–এর স্কেলে অন্তত ৩ থাকতে হবে। কোনো ব্যাংকে অন্তত দুই বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে।
বয়স: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে সর্বোচ্চ ৩২ বছর
কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে
বেতন: মাসিক বেতন ৩৭,৮০০ টাকা।

আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের পূবালী ব্যাংকের চাকরিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের https://vacancy.pubalibankbd.com/ এই লিংক ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য https://www.pubalibangla.com/pdf/Career_Opportunity_2024.pdf এই লিংকে জানা যাবে।

আবেদনের শেষ সময়: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।