ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

কলাপাড়ায় বিক্রির সময় ট্রাকসহ ৪ টন সরকারি বই জব্দ

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম
কলাপাড়ায় বিক্রির সময় ট্রাকসহ ৪ টন সরকারি বই জব্দ
ছবি : খবরের কাগজ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চার টন সরকারি বই ফেরিওয়ালাদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করার সময় একটি ট্রাকসহ জব্দ করেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মহিপুর থানার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও জনসম্মুখে আসে আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে।

জানা যায়, বইগুলো বিক্রি করেন মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুবকর সিদ্দিক। সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ট্রাকে থাকা প্রায় চার টন বই জব্দ করেন। যার বাজারমূল্য আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা।

জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারুপাঠ, কৃষি শিক্ষা, আনন্দপাঠ, গার্হস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই বিক্রি করেছেন তিনি।

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর সালেহিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একেএম আবুবকর সিদ্দিক ও বাংলার প্রভাষক হাসান রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের সরকারি বিনামূল্যের বই কেজি দরে ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করে দেন। পরে স্থানীয়রা ফেরিওয়ালাদের কাছে সরকারি বই দেখতে পেয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জবাবে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বইগুলো কিনেছেন বলে জানান।

ফেরিওয়ালা কাওছার শেখ জানান, তিনি বইগুলো মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে কিনেছেন। বইগুলোর গায়ে ‘২০২১ শিক্ষাবর্ষ’ ও ‘২০২২ শিক্ষাবর্ষ’ লেখা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, ‘‘আমরা সন্ধ্যার পরে মাদ্রাসার সামনে একটি ট্রাক ও কয়েকজন লোককে দেখতে পাই। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে আমরা স্থানীয় কয়েকজনকে খবর দিই। তারা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত স্কুল মাঠ ত্যাগ করেন। আমরা পরবর্তী সময়ে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রাকসহ তাদের আটক করি। সেখানে কেন এসেছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘এই স্কুল থেকে কিছু বই কিনেছি’। দেখতে চাইলে তারা উপস্থিত লোকজনের সামনে বইগুলো দেখান।”

সরকারি বই বিক্রির বিষয়ে অভিযুক্ত আবুবকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি একা নই, স্কুলের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে রেজুলেশন করে পুরোনা বইগুলো বিক্রি করেছি।’

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা বিক্রি করা বইগুলো জব্দ করেছি। অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘সরকারি বই বিক্রি করার সময় একটি ট্রাক জব্দ করি। পরে ট্রাকসহ বইগুলো মহিপুর থানায় হস্তান্তর করেছি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে বই বিক্রি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা বইগুলো জব্দ করেছি। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে নিয়মিত মামলা করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মরিয়ম বেগম বলেন, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বই বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

হাসিবুর রহমান/জোবাইদা/অমিয়/

মানবেতর জীবন কাটছে ৫ বিডিআর পরিবারের

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
মানবেতর জীবন কাটছে ৫ বিডিআর পরিবারের

বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম ১৫ বছরেও শেষ হয়নি। এ ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা পঞ্চগড়ের পাঁচ বিডিআর পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ওই পরিবারের স্বজনরা। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের।

জানা যায়, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা দুজন, সদর, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার একজন করে মোট পাঁচজন বিডিআর সদস্য বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া লোহাকাচী গ্রামের সফিউল ইসলামের ছেলে হাসিনুর রহমান, একই উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের হাওয়াজোত শিপাইপাড়া গ্রামের মৃত আসির উদ্দীনের ছেলে বাবুল হোসেন, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাগোজিয়াপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে সুবেদার সপিজ উদ্দীন, বোদা উপজেলার বোসপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে আফতাবুর রহমান ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বেংহারী কালীগঞ্জ গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফুল ইসলাম। 

স্মারকলিপি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় ওই পাঁচ আসামির মধ্যে অনেকে খালাস পেয়েছেন। অনেকে আবার হত্যা মামলায় ফৌজদারি আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগও শেষ করেছেন। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিস্ফোরক দ্রব্য মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় অসহায় পরিবারগুলো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের কাছে না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। জামিন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রেপ্তার আসামিদের স্বজনরা।

বিডিআর সদস্য বাবুল হোসেনের স্ত্রী রেজিনা আক্তার বলেন, ‘যখন ওই ঘটনা ঘটে, তখন আমার মেয়ের বয়স মাত্র তিন মাস ছিল। এখন তার বয়স ১৫ বছর। মেয়ে আমার নবম শ্রেণিতে পড়ে। কখনো বাবার সোহাগ-আদর পায়নি। কারাগারে দূর থেকে শুধু বাবাকে দেখেছে আর কেঁদেছে। আমার মেয়ের কী অপরাধ? সে কি কখনো বাবার আদর পাবে না? আমি খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। টাকার অভাবে মামলা চালাতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত যেন বিস্ফোরক মামলার নিষ্পত্তি হয়।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

খাড়িয়া ভাষা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৫ এএম
তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে খাড়িয়াভাসী দুই বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। খবরের কাগজ

প্রতিবছর নানা দিবস আসে, চলে যায়। ভাষা দিবসও চলে গেল। বাঙালি জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল, অহংকারে চিরভাস্বর এই ভাষা দিবস। তখন ভাষা নিয়ে চলে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। এর এক বিশাল অংশজুড়ে থাকে আমাদের নিজস্ব মাতৃভাষার কথা।

মানুষের প্রয়োজনে মাতৃভাষার জন্ম হয়েছিল, আবার হারিয়েও যাচ্ছে অন্য ভাষার আধিপত্যে টিকতে না পেরে। নিজ নিজ ভাষার মাধুর্য অন্যরকম। যেখানে আছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য ও রসবোধ, রয়েছে নিজস্ব অহংকার। খাড়িয়া এমনি এক ভাষা। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ভাষায় কথা বলতে পারেন কেবল দুই বৃদ্ধা বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। তাদের মৃত্যু হলে খাড়িয়া ভাষারও মৃত্যু ঘটবে। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা ও একটি সংস্কৃতি।

ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মুখেই কেবল খাড়িয়া ভাষাটি টিকে আছে এদেশে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে। ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, ‘নিজের ভাষায় কথা বলার লোক পাই না বলে দুঃখ হয়। আমরা দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।’

খ্রিস্টিনা কেরকেটা বলেন, ‘ইচ্ছে তো করে নিজেদের ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলি। কিন্তু উপায় নেই। আমাদের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনির সঙ্গে কথা বলতে হয় বাংলা ভাষায়।’

খাড়িয়া ভাষা রক্ষার উদ্যোক্তা পিউস নানোয়ার বলেন, ‘২০১৭ সালে বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার নামে একটি খাড়িয়া ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র খুলে তরুণ প্রজন্মকে ভাষা শেখানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনো সফলতা পাইনি। কারণ, বাংলাদেশে খাড়িয়াদের নিজস্ব বর্ণমালা নেই।’

পিউস নানোয়ারের দেওয়া তথ্য মতে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি চা-বাগানে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০২০ সালে এক জরিপে দেশে এ জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৭০০ জনের তালিকা করা হয়। অনুসন্ধানে ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা ছাড়া আর কোথাও খাড়িয়া ভাষায় কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করা আহমদ আফরোজ বলেন, ‘এই দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে খাড়িয়া ভাষা বলতে পারেন না। তারা হারিয়ে গেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই মাতৃভাষা খাড়িয়া।’

চা-শ্রমিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গবেষণা করা শিক্ষক দীপংকর শীল জানান, চা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ অতি দরিদ্র হওয়ায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কোনো ভাষার জনসংখ্যা কম হলে সহজেই সেই ভাষা হারিয়ে যায়। তবে বিপন্ন ভাষার গান, আবৃত্তি রেকর্ড করে সংরক্ষণ করতে পারলে কিছুটা রক্ষা করা সম্ভব।

ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে লোক গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের সংগঠিত করে এদের জীবনচর্চা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে লালনের মাধ্যমে রক্ষা করা যেতে পারে। এদের রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যও এক দিন হারিয়ে যাবে।’

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংকটে রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি, প্রথা, ইতিহাস ও উৎসব বাঙালিদের মুগ্ধ করলেও চর্চা এবং সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা। এরমধ্যে দেশের ১৬৮টি চা-বাগানের মধ্যে ৯০টিরই অবস্থান মৌলভীবাজারে। এসব বাগানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই পাহাড় টিলার পাদদেশে, বনজঙ্গলে কিংবা সমতলভূমিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনযাপন করছেন। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত এসব নৃগোষ্ঠীর জাতীয় অর্থনীতিতে আছে যথেষ্ট অবদান। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকারসহ মাতৃভাষা রক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে এই জনগোষ্ঠী।

৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২১ এএম
৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা
ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রায় ৫ বছরের মধ্যে এক দিনও খেলাধুলা হয়নি। তবে এই স্টেডিয়ামে সপ্তাহে প্রতি শনিবার গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাবেচার হাট বসানো হয়। ফলে সব ধরনের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ এই মাঠটিতে খেলাধুলার উপযোগী করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম দেখা যায়, খেলার মাঠজুড়ে খানাখন্দে ভরা, মাঠের চারদিকে বসানো গ্যালারি বেঞ্চগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরপুর, বৃষ্টির পানিতে মাঠের মাটি ও প্যালাসাইডিং ধসে গেছে, চড়ানো হয় গরু-ছাগল, বর্জ্যে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট, ভবনের আস্তরণ খসে পড়ছে। পাবলিক টয়লেট ভবন, গোলপোস্ট বেহাল। এ ছাড়া স্টেডিয়াম নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় খেলোয়াড় তানজীনুর রহমান ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্টেডিয়ামটি পড়ে রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি শনিবার বসে গরু-ছাগলের হাট। মাঠটিতে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। এর ফলে নির্মাণের পর থেকে এই মাঠে এক দিনও কোনো খেলাধুলা হয়নি। অথচ কর্তৃপক্ষ অন্য বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে খেলাধুলার আয়োজন করেন। তাহলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেডিয়াম তৈরি করার দরকার কী ছিল?’

এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই স্টেডিয়ামে ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে জানতাম না। এই মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। খেলার উপযোগী করে স্টেডিয়াম মাঠে সকল খেলাধুলার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, ‘শিয়ালকোল হাটের পাশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পর থেকে স্টেডিয়াম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। মাঠ ও চারপাশের পরিবেশ একেবারেই নোংরা হয়ে আছে। স্টেডিয়ামটি গরু-ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি।’

শিয়ালকোল হাট কমিটির সভাপতি মো. রকিবুল ইসলাম ভূঞাসহ অনেকেই জানান, ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি সরকারি নিয়ম অনুসারে তদারকি অভাবে ঠিকাদার মানসম্পন্ন কাজ না করে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘স্টেডিয়ামের বিষয়ে জেনে বিস্তারিত জানানো হবে। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এর আগে ২০১৭ সালে টেন্ডার হওয়ার পর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানি নামে দুটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শেখ রাসেল এই মিনি স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। সেই সময় কাজ শেষ হতে না হতেই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে প্যাভিলিয়ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

জানা যায়, সরকার ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান উন্নয়নের জন্য মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেয়। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে ৭টি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভূঞাপুরের শিয়ালকোলে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দেখা গেছে, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, গ্যালারি এবং আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভূঞাপুরের শিয়ালকোলের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে শুধু একটি একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন নির্মাণ ও কয়েকটি ইট-সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চ বসানো হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়ামটি নির্মাণে আয়তন কমিয়ে ফেলেছে। ৩৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০০ ফুট প্রস্থ করার কথা থাকলেও মাত্র ২৭০ ফুট বাই ২০০ ফুট মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠ ভরাট করে আয়তন বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং আগে নির্মিত হেলিপ্যাডের প্রায় ৬০ হাজার ইট স্থানীয় ইটভাটাসহ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।

মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০০ এএম
মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মণিপুরি, পাত্র ও চা-শ্রমিক সম্প্রদায় কেবল বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় কাজ করছে সিলেট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘একডো’। ভাষা শেখার সঙ্গে তারা শিক্ষা উপকরণ দিয়ে ১২৫ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছে তারা। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা হলরুমে এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণের আয়োজন করা হয়।  
 
একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনের মিজ স্টিনা, এলিজাবেথ স্বেলা এবং সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিত কুমার পাল। 

অনাড়ম্বর ও আন্তরিকতায় পূর্ণ এই অনুষ্ঠানে একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করি। আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগে সব সময় সবার সহযোগিতা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ অনুষ্ঠানে সংস্থার সহযোগী হিসেবে উপস্থিত বিদেশি নাগরিকদের তিনি ক্ষুদ্র নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। 

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউএনও বলেন, ‘এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য একডো এবং সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনকে ধন্যবাদ জানাই। এ প্রকল্পের উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’ তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা মাফিক নিজ নিজ সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠান শেষে একডো নির্বাহী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের একাত্ম হওয়া অভিভাবকদের পরামর্শক্রমে একডো চা-বাগান এলাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেট শহরতলীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে এই সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় একডো পরিচালিত প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি করারও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
 
উজ্জ্বল মেহেদী/জোবাইদা/

রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার
ছবি: খবরের কাগজ

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পেলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান। মামলার রহস্য উদঘাটন, গণমুখী পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য তিনি পিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত হন।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এ পদক পরিয়ে দেন।

পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২৭তম বিসিএসের একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রিফাত/ইসরাত চৈতি/