ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

অযত্নে ভাষাশহিদ স্মৃতিচিহ্ন রফিক উদ্দিন আহমেদ গ্রন্থাগার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
অযত্নে ভাষাশহিদ স্মৃতিচিহ্ন রফিক উদ্দিন আহমেদ গ্রন্থাগার
ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। খবরের কাগজ

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল প্রাঙ্গণে এলে পুলিশ গুলি চালায়, এতে রফিক উদ্দিন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগের জন্য ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন। ২০০৮ সালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের রফিকনগর গ্রামে তার স্মৃতিতে সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয় ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। নির্মাণের পরই সেখানে বই ছাড়া ছিল না শহিদ রফিকের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেখানে যুক্ত হয় ভাষাশহিদ রফিকের ব্যবহার করা কিছু আসবাবপত্র। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিংগাইর উপজেলার রফিকনগরে অবস্থিত ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের একটি কর্নারে শহিদ রফিকের ব্যবহৃত চারটি চেয়ার, একটি টেবিল, ফুলতোলা টেবিল ক্লথ, একটি ফতুয়া ও একটি লুঙ্গি আছে। আর গ্রন্থাগারে সব মিলে বই আছে ১৫ হাজারের মতো। ২০০০ সালে বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র দুটি আধা-পাকা ঘর তৈরি করে দেয়।

অপরদিকে ২০১৬ সালে শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদের বাড়ির সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ। তবে, যে ঘরে রফিকের জন্ম সে ঘরটি এখন জরাজীর্ণ। বাড়িটিতে আত্মীয়স্বজন ও দর্শনার্থীদের থাকার উপযোগী নেই কোনো ঘর। 

স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি নামেই করা হয়েছে। অন্য জাদুঘরে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আমাদের এখানে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, এখানে তেমন কিছুই নেই। থাকার মধ্যে রফিকের ব্যবহৃত চেয়ার, টেবিল, ফতুয়া ও লুঙ্গি আর বেশ কয়েকটি আলমারিতে কয়েক হাজার বই আছে। দেশের প্রথম ভাষাশহিদ তিনি। তার স্মৃতি রক্ষার্থে তার বাড়িসংরক্ষণসহ এখানে পর্যটনকেন্দ্র করা হলে আরও ভালো হতো।

ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছরেও রফিকের পরিবারের পাশে না দাঁড়ানোয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে শহিদ পরিবারের।

শহিদ রফিকের ভাতিজা মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের ভাষাশহিদরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আজ পর্যন্ত কেউ তেমন কোনো বড় পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল গ্রামের নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায়ও নানা উন্নয়ন হবে। প্রসার ঘটবে শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির। কিন্তু তা হয়নি।’

শহিদ রফিকের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস এলেই রফিকের পরিবারের গুরুত্ব বাড়ে। এ সময় অনেকে অনেক কিছু করতে চায়। ২১ তারিখ চলে গেলে যে যা প্রতিশ্রুতি দেয় তার সবই ভুলে যায়। তখন আর কেউ খোঁজ রাখেন না। শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদকে কবর দেওয়া হয় ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে। এখনো তার কবরটি চিহ্নিত করা হয়নি। জানি না আর কত সময় হলে এটি করা সম্ভব হবে।’

ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের লাইব্রেরিয়ান ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘জাদুঘরে সব মিলে প্রায় ১৫ হাজারের মতো বই আছে। এখানে পড়ার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার ও টেবিলের ব্যবস্থা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই কম আছে। শুরুর দিকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই শ দর্শনার্থী এলেও এখন দর্শনার্থীর সংখ্যা খুব কম। গেল বছর জাদুঘরে শহিদ রফিকের ব্যবহার করা চারটি চেয়ার, একটি টেবিল, টেবিল ক্লথ ও গায়ের ফতুয়া ও একটি লুঙ্গি যুক্ত হয়েছে।’

লেখক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিয়াজান কবির বলেন, ‘রফিক উদ্দিন আহমদ ছিলেন ১৯৫২ সালের প্রথম ভাষাশহিদ। তার স্মৃতিকে জাগ্রত করে রাখার জন্য রফিকের জন্মভিটাকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণ করলে এখানে গড়ে উঠতে পারে একটি পর্যটনকেন্দ্র। এ ছাড়া রফিকনগরে নির্মিত জাদুঘরটি আরও সমৃদ্ধ করাসহ এই শহিদের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’

বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মাজেদ খান বলেন, ‘শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ আমাদের অহংকার। ভাষা আন্দোলনে তার আত্মদানে সিংগাইর উপজেলার পারিল গ্রামের মাটি ও মানুষ ধন্য। এই ফেব্রুয়ারি মাসসহ বিভিন্ন সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন। এখানে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা। তাই দর্শনার্থীদের জন্য একটি বাংলো নির্মাণ করার দাবি জানান তিনি।’

জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার বলেন, ‘ভাষাশহিদ রফিকের মায়ের কবর সংরক্ষণ, জাদুঘরে রফিক কর্নার স্থাপনসহ কিছু কাজ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কাজ করা হবে।

স্ট্রোক করে বাবার মৃত্যু পরীক্ষা দিলাম, এখন বাড়িতে গিয়ে বাবার লাশ দাফন করব’

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪০ এএম
পরীক্ষা দিলাম, এখন বাড়িতে গিয়ে বাবার লাশ দাফন করব’

এসএসসি পরীক্ষার্থী নাঈম হোসেন হৃদয় মোল্যা। এ বছর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হাদিউজ্জামান মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গত সোমবার রাতে তার বাবা স্ট্রোক করে মারা যান। পরে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে। নাঈম হোসেন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মোল্যার ছেলে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরকারি মুকসুদপুর কলেজে ধর্ম পরীক্ষা দেয় ওই শিক্ষার্থী। কলেজের কেন্দ্রসচিব অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরীক্ষা শেষে নাঈম হোসেন বলে, ‘বাবার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে আমি বিসিএস ক্যাডার হব। কিন্তু বাবার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাবা দেখে যেতে পারলেন না আমার ভবিষ্যৎ। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।’ 

পরীক্ষার্থী নাঈম হোসেন আরও বলে, ‘আমার বাবা মনিরুজ্জামান মোল্যা গত সোমবার রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। আজ আমার ধর্ম পরীক্ষা ছিল। বাবার লাশ দাফন করা হবে আজ (মঙ্গলবার)। কিন্তু আমি বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য তার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে এসেছি। পরীক্ষা দিলাম, এখন বাড়িতে গিয়ে বাবার লাশ দাফন করব।’

তার চাচা বাবুল মোল্যা বলেন, ‘আমার ভাই মনিরুজ্জামান মোল্যা সোমবার রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। ভাতিজার আজ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এখন আমার বড় ভাইয়ের লাশ দাফন করব।’

কেন্দ্রসচিব অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষার্থী নাঈম হোসেনের বাবা মারা গেছেন। আমরা খবর পেয়ে তাকে আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সে জানিয়েছিল, সবার সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দেবে। তবে পরীক্ষা দেওয়ার সময় সে স্বাভাবিক ছিল। তার পরীক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা মুকসুদপুর থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থী নাঈম হোসেনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে দেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’

মানবেতর জীবন কাটছে ৫ বিডিআর পরিবারের

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
মানবেতর জীবন কাটছে ৫ বিডিআর পরিবারের

বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম ১৫ বছরেও শেষ হয়নি। এ ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা পঞ্চগড়ের পাঁচ বিডিআর পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ওই পরিবারের স্বজনরা। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের।

জানা যায়, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা দুজন, সদর, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার একজন করে মোট পাঁচজন বিডিআর সদস্য বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া লোহাকাচী গ্রামের সফিউল ইসলামের ছেলে হাসিনুর রহমান, একই উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের হাওয়াজোত শিপাইপাড়া গ্রামের মৃত আসির উদ্দীনের ছেলে বাবুল হোসেন, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাগোজিয়াপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে সুবেদার সপিজ উদ্দীন, বোদা উপজেলার বোসপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে আফতাবুর রহমান ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বেংহারী কালীগঞ্জ গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফুল ইসলাম। 

স্মারকলিপি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় ওই পাঁচ আসামির মধ্যে অনেকে খালাস পেয়েছেন। অনেকে আবার হত্যা মামলায় ফৌজদারি আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগও শেষ করেছেন। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিস্ফোরক দ্রব্য মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় অসহায় পরিবারগুলো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের কাছে না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। জামিন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রেপ্তার আসামিদের স্বজনরা।

বিডিআর সদস্য বাবুল হোসেনের স্ত্রী রেজিনা আক্তার বলেন, ‘যখন ওই ঘটনা ঘটে, তখন আমার মেয়ের বয়স মাত্র তিন মাস ছিল। এখন তার বয়স ১৫ বছর। মেয়ে আমার নবম শ্রেণিতে পড়ে। কখনো বাবার সোহাগ-আদর পায়নি। কারাগারে দূর থেকে শুধু বাবাকে দেখেছে আর কেঁদেছে। আমার মেয়ের কী অপরাধ? সে কি কখনো বাবার আদর পাবে না? আমি খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। টাকার অভাবে মামলা চালাতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত যেন বিস্ফোরক মামলার নিষ্পত্তি হয়।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

খাড়িয়া ভাষা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৫ এএম
তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে খাড়িয়াভাসী দুই বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। খবরের কাগজ

প্রতিবছর নানা দিবস আসে, চলে যায়। ভাষা দিবসও চলে গেল। বাঙালি জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল, অহংকারে চিরভাস্বর এই ভাষা দিবস। তখন ভাষা নিয়ে চলে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। এর এক বিশাল অংশজুড়ে থাকে আমাদের নিজস্ব মাতৃভাষার কথা।

মানুষের প্রয়োজনে মাতৃভাষার জন্ম হয়েছিল, আবার হারিয়েও যাচ্ছে অন্য ভাষার আধিপত্যে টিকতে না পেরে। নিজ নিজ ভাষার মাধুর্য অন্যরকম। যেখানে আছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য ও রসবোধ, রয়েছে নিজস্ব অহংকার। খাড়িয়া এমনি এক ভাষা। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ভাষায় কথা বলতে পারেন কেবল দুই বৃদ্ধা বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। তাদের মৃত্যু হলে খাড়িয়া ভাষারও মৃত্যু ঘটবে। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা ও একটি সংস্কৃতি।

ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মুখেই কেবল খাড়িয়া ভাষাটি টিকে আছে এদেশে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে। ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, ‘নিজের ভাষায় কথা বলার লোক পাই না বলে দুঃখ হয়। আমরা দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।’

খ্রিস্টিনা কেরকেটা বলেন, ‘ইচ্ছে তো করে নিজেদের ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলি। কিন্তু উপায় নেই। আমাদের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনির সঙ্গে কথা বলতে হয় বাংলা ভাষায়।’

খাড়িয়া ভাষা রক্ষার উদ্যোক্তা পিউস নানোয়ার বলেন, ‘২০১৭ সালে বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার নামে একটি খাড়িয়া ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র খুলে তরুণ প্রজন্মকে ভাষা শেখানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনো সফলতা পাইনি। কারণ, বাংলাদেশে খাড়িয়াদের নিজস্ব বর্ণমালা নেই।’

পিউস নানোয়ারের দেওয়া তথ্য মতে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি চা-বাগানে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০২০ সালে এক জরিপে দেশে এ জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৭০০ জনের তালিকা করা হয়। অনুসন্ধানে ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা ছাড়া আর কোথাও খাড়িয়া ভাষায় কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করা আহমদ আফরোজ বলেন, ‘এই দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে খাড়িয়া ভাষা বলতে পারেন না। তারা হারিয়ে গেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই মাতৃভাষা খাড়িয়া।’

চা-শ্রমিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গবেষণা করা শিক্ষক দীপংকর শীল জানান, চা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ অতি দরিদ্র হওয়ায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কোনো ভাষার জনসংখ্যা কম হলে সহজেই সেই ভাষা হারিয়ে যায়। তবে বিপন্ন ভাষার গান, আবৃত্তি রেকর্ড করে সংরক্ষণ করতে পারলে কিছুটা রক্ষা করা সম্ভব।

ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে লোক গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের সংগঠিত করে এদের জীবনচর্চা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে লালনের মাধ্যমে রক্ষা করা যেতে পারে। এদের রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যও এক দিন হারিয়ে যাবে।’

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংকটে রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি, প্রথা, ইতিহাস ও উৎসব বাঙালিদের মুগ্ধ করলেও চর্চা এবং সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা। এরমধ্যে দেশের ১৬৮টি চা-বাগানের মধ্যে ৯০টিরই অবস্থান মৌলভীবাজারে। এসব বাগানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই পাহাড় টিলার পাদদেশে, বনজঙ্গলে কিংবা সমতলভূমিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনযাপন করছেন। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত এসব নৃগোষ্ঠীর জাতীয় অর্থনীতিতে আছে যথেষ্ট অবদান। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকারসহ মাতৃভাষা রক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে এই জনগোষ্ঠী।

৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২১ এএম
৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা
ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রায় ৫ বছরের মধ্যে এক দিনও খেলাধুলা হয়নি। তবে এই স্টেডিয়ামে সপ্তাহে প্রতি শনিবার গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাবেচার হাট বসানো হয়। ফলে সব ধরনের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ এই মাঠটিতে খেলাধুলার উপযোগী করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম দেখা যায়, খেলার মাঠজুড়ে খানাখন্দে ভরা, মাঠের চারদিকে বসানো গ্যালারি বেঞ্চগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরপুর, বৃষ্টির পানিতে মাঠের মাটি ও প্যালাসাইডিং ধসে গেছে, চড়ানো হয় গরু-ছাগল, বর্জ্যে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট, ভবনের আস্তরণ খসে পড়ছে। পাবলিক টয়লেট ভবন, গোলপোস্ট বেহাল। এ ছাড়া স্টেডিয়াম নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় খেলোয়াড় তানজীনুর রহমান ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্টেডিয়ামটি পড়ে রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি শনিবার বসে গরু-ছাগলের হাট। মাঠটিতে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। এর ফলে নির্মাণের পর থেকে এই মাঠে এক দিনও কোনো খেলাধুলা হয়নি। অথচ কর্তৃপক্ষ অন্য বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে খেলাধুলার আয়োজন করেন। তাহলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেডিয়াম তৈরি করার দরকার কী ছিল?’

এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই স্টেডিয়ামে ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে জানতাম না। এই মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। খেলার উপযোগী করে স্টেডিয়াম মাঠে সকল খেলাধুলার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, ‘শিয়ালকোল হাটের পাশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পর থেকে স্টেডিয়াম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। মাঠ ও চারপাশের পরিবেশ একেবারেই নোংরা হয়ে আছে। স্টেডিয়ামটি গরু-ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি।’

শিয়ালকোল হাট কমিটির সভাপতি মো. রকিবুল ইসলাম ভূঞাসহ অনেকেই জানান, ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি সরকারি নিয়ম অনুসারে তদারকি অভাবে ঠিকাদার মানসম্পন্ন কাজ না করে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘স্টেডিয়ামের বিষয়ে জেনে বিস্তারিত জানানো হবে। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এর আগে ২০১৭ সালে টেন্ডার হওয়ার পর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানি নামে দুটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শেখ রাসেল এই মিনি স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। সেই সময় কাজ শেষ হতে না হতেই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে প্যাভিলিয়ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

জানা যায়, সরকার ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান উন্নয়নের জন্য মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেয়। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে ৭টি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভূঞাপুরের শিয়ালকোলে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দেখা গেছে, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, গ্যালারি এবং আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভূঞাপুরের শিয়ালকোলের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে শুধু একটি একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন নির্মাণ ও কয়েকটি ইট-সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চ বসানো হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়ামটি নির্মাণে আয়তন কমিয়ে ফেলেছে। ৩৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০০ ফুট প্রস্থ করার কথা থাকলেও মাত্র ২৭০ ফুট বাই ২০০ ফুট মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠ ভরাট করে আয়তন বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং আগে নির্মিত হেলিপ্যাডের প্রায় ৬০ হাজার ইট স্থানীয় ইটভাটাসহ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।

মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০০ এএম
মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মণিপুরি, পাত্র ও চা-শ্রমিক সম্প্রদায় কেবল বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় কাজ করছে সিলেট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘একডো’। ভাষা শেখার সঙ্গে তারা শিক্ষা উপকরণ দিয়ে ১২৫ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছে তারা। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা হলরুমে এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণের আয়োজন করা হয়।  
 
একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনের মিজ স্টিনা, এলিজাবেথ স্বেলা এবং সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিত কুমার পাল। 

অনাড়ম্বর ও আন্তরিকতায় পূর্ণ এই অনুষ্ঠানে একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করি। আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগে সব সময় সবার সহযোগিতা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ অনুষ্ঠানে সংস্থার সহযোগী হিসেবে উপস্থিত বিদেশি নাগরিকদের তিনি ক্ষুদ্র নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। 

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউএনও বলেন, ‘এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য একডো এবং সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনকে ধন্যবাদ জানাই। এ প্রকল্পের উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’ তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা মাফিক নিজ নিজ সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠান শেষে একডো নির্বাহী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের একাত্ম হওয়া অভিভাবকদের পরামর্শক্রমে একডো চা-বাগান এলাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেট শহরতলীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে এই সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় একডো পরিচালিত প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি করারও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
 
উজ্জ্বল মেহেদী/জোবাইদা/