ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড : দগ্ধ আরও এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২১ পিএম
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড : দগ্ধ আরও এক শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সোহেল (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার শিশুর মৃত্যু হলো।

বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে এক শিশু ও দুই নারী। তারা হলেন- জোবায়দা (২২), রোসমিনা (৫), আমেনা খাতুন (২৪)।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ‘সোহেল নামে আরও এক শিশু পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার শরীরের ৫২ শতাংশ দগ্ধ হওয়াসহ শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।’

এর আগে শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভাসানচরে দগ্ধ ৫ শিশুসহ ৭ জনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেল নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া গত সোমবার ভোরে মোবাশ্বেরা ও সন্ধ্যায় রবি আলম নামে আরও দুই শিশু মারা যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে নোয়াখালীর ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।

ইসরাত চৈতি/

ময়মনসিংহে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেলো দুই অটোরিকশা যাত্রীর

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪০ এএম
ময়মনসিংহে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেলো দুই অটোরিকশা যাত্রীর

ময়মনসিংহে ব্রক্ষ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পঁচাপুকুরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যাত্রীবাহী ব্রক্ষ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি পঁচাপুকুরপাড় এলাকা পর্যন্ত আসতেই যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশা রেলক্রসিংয়ের ওপর উঠে পড়ে। এসময় অটোরিকশাটিকে ট্রেন ধাক্কা দিয়ে অন্তত ১০০ গজ দূরে নিয়ে যায়। এতে অটোরিকশা দুমড়েমুচড়ে গিয়ে দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

তিনি বলেন, এ দুর্ঘটনায় একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ এখনও ট্রেনের নিচে আটকে আছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরিচয় সনাক্তসহ কতজন আহত হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। রেলক্রসিংয়ে গেট ব্যারিয়ার না ফেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটছে কী না তাও জানতে চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএ/

তীব্র দাবদাহ : বৃষ্টির জন্য রাজশাহীতে ইস্তিসকার নামাজ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১৯ পিএম
তীব্র দাবদাহ : বৃষ্টির জন্য রাজশাহীতে ইস্তিসকার নামাজ
দাবদাহ থেকে রক্ষায় বৃষ্টির ফরিয়াদ জানিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়াতে ইস্তিসকার নামাজ আদায়। ছবি : খবরের কাগজ

তীব্র দাবদাহ ও প্রখোর রোদ রাজশাহী অঞ্চলে দিনভর ছড়াচ্ছে আগুনের হল্কা। ঠাঁঠা রোদে তপ্ত কড়াইয়ের মতো তেঁতে উঠেছে পথ-ঘাট। দুপুর গড়াতেই তাপমাত্রার পারদ গিয়ে ঠেকেছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে। গেল কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীজুড়ে হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। টানা দাবদাহের কারণে ভুট্টা ও পাটসহ নানা ধরনের ফসল ঝলসে গেছে। এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় বৃষ্টির ফরিয়াদ জানিয়ে পুঠিয়ায় ইস্তিসকার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) পি এন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ নামাজ আদায় করা হয়।

পুঠিয়া উপজেলার ওলামা পরিষদের আয়োজনে এই নামাজে ইমামতি করেন আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম। সেখানে দুই রাকাত নামাজ শেষে রাজশাহীসহ সারা দেশেই বৃষ্টির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাত থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

গত ১৭ এপ্রিল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবশেষ মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। এছাড়া ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠলেই তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে, তীব্র খরার কবলে পড়ে হু হু করে নেমে যাচ্ছে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। অবর্ণনীয় এক নিদারুণ কষ্টে একেকটি দিন-রাত পার করছেন এ অঞ্চলে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিও গরমে হাঁসফাঁস করছে। অচল হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বৃষ্টির জন্য চারিদিকে হাহাকার পড়ে গেছে। দুর্বিষহ গরমে খা খা করছে মহানগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক।  বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগবালাই। গেল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে অধিকাংশ মসজিদেই চলমান তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেল দুই দিন থেকে রাজশাহীতে তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্ক থাকতে মাইকিং করেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। তারা এই গরমে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা উম্মে ছালমা জানান, তীব্র খরার কবলে পড়েছে কৃষি ফসলও। এরমধ্যে বিশেষ করে ভুট্টা ও পাটের খেত পুড়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের জমিতে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল দীর্ঘ ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এর আগে ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নিখোঁজের ২৫ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫০ পিএম
নিখোঁজের ২৫ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
ছাত্রলীগ নেতা মোখলেছ উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে তুর্জয়। ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৫ দিন পর মিঠামইন উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে শহরের নরসুন্দা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত মোখলেছ উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে তুর্জয় (২৫) জেলার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ৫ নম্বর কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি জেলা জজ আদালতের একজন পেশকারের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহভাজন আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসুন্দা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে লাশ উদ্ধার হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই আশরাফ আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিন মাস ধরে মোখলেছ কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া বউবাজার এলাকার চুন্নু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি গত ২৯ মার্চ ভাড়া বাসা থেকে আনুমানিক রাত ৯টার দিকে নিখোঁজ হন। তার সর্বশেষ অবস্থান রাস্তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত হয়। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার সঙ্গে কয়েকজনকে দেখা যায়। তার ধারণা ওরাই তাকে অপহরণ করে মেরে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে তুর্জয়ের বন্ধু মিজান শেখের পরিবারের একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলছে। এর জের ধরে তুর্জয়কে মেরে লাশ গুম করেছে। আজ আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তুর্জয়ের গলাকাটা ছিল। ওকে মেরে পেটে পাথর বেঁধে লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে। এ বিষয় সদর থানায় মামলা করেন তুর্জয়ের আরেক বড় ভাই মো. মিজানুর রহমান।’

এর আগে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ মিঠামইনের কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন ফুলপুর গ্রামের শেফুল শেখ (৬৫) ও তার তিন ছেলে মিজান শেখ (২৮), মারজান শেখ (২৬) এবং রায়হান শেখকে (২১) হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মোখলেছকে হত্যা করে লাশ নরসুন্দা নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে জানায়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা নিখোঁজ হওয়ায় তার পরিবার অপহরণ মামলা করেন। পরে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়। এরপর আটক হওয়া ব্যক্তিরা হত্যার কথা স্বীকার করেন। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মিজানের দেওয়া বক্তব্য অনুসারে নরসুন্দা নদী থেকে ছাত্রলীগ নেতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।’

অপহরণের শিকার দেলোয়ার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৮ পিএম
অপহরণের শিকার দেলোয়ার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান
দেলোয়ার হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জেরে অপহরণের শিকার দেলোয়ার হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই ঘোষণা দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেলোয়ার এ খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ জানান, আগামী ৮ মে নাটোর সদর, নলডাঙ্গা ও সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। মঙ্গলবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নাটোর সদর উপজেলায় ৫ জন, নলডাঙ্গা উপজেলায় ৯ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সিংড়া উপজেলায় দেলোয়ার হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

দেলোয়ারের ভাই এবাদুল হোসেন জানান, ফলাফল ঘোষণার সময় তিনি নির্বাচন অফিসে ছিলেন। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তিনি দেলোয়ারকে ফোনে জানান। খবরটি শুনে দেলোয়ার আবেগাপ্লুত হয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও দ্রুতই তিনি এলাকায় আসার জন্য ব্যস্ত হয়ে তাদের বারবার তাগাদা দিচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে গত ৩ এপ্রিল পদত্যাগ করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর হাবিব রুবেল। এরপর ৮ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত ১৫ এপ্রিল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের ভাই এবাদুল ও আলাউদ্দিন মুন্সি নামে দুজনকে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। একই দিন বিকেলে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বের হতেই দেলোয়ারকেও অপহরণ করা হয়। পরে বেদম মারপিট করে জখম ও অজ্ঞান দেলোয়ারকে তার বাড়ির পাশে ফেলে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর দেলোয়ারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি তার আরেক ভাই মজিবর রহমান অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এদের ম্যধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত রুবেলের মাইক্রোবাসসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে। অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ইতোমধ্যেই একজনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবলীগ।

এদিকে দেলোয়ারকে অপহরণের ঘটনা জানাহানি হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে এমপি-মন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা উপজেলায় প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফিরে গত ১৯ এপ্রিল দেলোয়ারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রুবেলকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগও রুবেলকে একই আহ্বান জানালে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে দেলোয়ারকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হলো।

আচরণবিধি লঙ্ঘন : প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ইসি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম
আচরণবিধি লঙ্ঘন : প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ইসি
জামিল হাসান। ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাখা চেয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামিল হাসানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংসা। তার বিরুদ্ধে গত রবিবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শত শত নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মিছিল ও শোডাউন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

জামিল হাসান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলীর বড় ভাই। তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রবিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন শত শত নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা চত্বরে মিছিল ও শোডাউন করেন জামিল হাসান দুর্জয়। এ সময় তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগানও দেন। 

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শোভন রাংসা গতকাল সোমবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় বলেন, এটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা-২০১৬-এর বিধি ১১ উপবিধি(২)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামিল হাসান দুর্জয়কে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন নির্বাচন কমিশনে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।