ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

সমবায় সমিতির খপ্পরে ৫০ হাজার গ্রাহক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫০ এএম
সমবায় সমিতির খপ্পরে ৫০ হাজার গ্রাহক
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতির প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক। ছবি: খবরের কাগজ

মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ি বাজার। শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে একটি অফিস এই বাজারে রয়েছে। আগে প্রায়ই এখানে জমশেদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে দেখা যেত। চলাফেরায় অক্ষম সত্তর-ঊর্ধ্ব এই ব্যক্তি হামাগুঁড়ি দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে সমিতির অফিসে উঠতেন। জানতে চাইতেন তার টাকা কবে পাবেন। কিন্তু তাকে দীর্ঘদিন ঘোরানো হয়। এখন ওই অফিসটি তালাবদ্ধ। গ্রাহকদের টাকা না দিয়েই তারা পালিয়ে গেছেন। পেশায় ভিক্ষুক জমশেদ মিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। অধিক লাভের আশায় ওই টাকা রেখেছিলেন শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতিতে। ভেবেছিলেন প্রতি মাসে পাওয়া মুনাফার টাকায় জীবন কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু এখন তিনি আসল-মুনাফা দুটোই হারিয়েছেন।

প্রবাসী ছেলের পাঠানো টাকা ও বিদেশফেরত স্বামীর সারাজীবনের জমানো ৪৫ লাখ টাকা একটি সমবায় সমিতিতে জমা রাখেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আলিয়া বেগম। কথা ছিল সুবিধামতো সময়ে ওই টাকা তুলে তিনতলা বাড়ি বানাবেন, জীবনের শেষ সময়গুলো কাটাবেন সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে। বাড়ি করার জন্য সব প্রস্তুতি নিলেও টাকা উত্তোলনের সাত দিন আগেই উধাও হয়ে যান ওই সমিতির কর্মকর্তারা। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা আলিয়া বেগমের চোখে এখন শুধুই হতাশার জল। অর্থের অভাবে স্বামী ও নিজের চিকিৎসা করাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। শুধু তারাই নন বিভিন্ন সমিতির গ্রাহক খোদেজা বেগম, শাহাদাত হোসেন, সুশান্ত চন্দ্র ঘোষ, শাপলাসহ আরও অনেক গ্রাহকের গল্প কমবেশি একই রকম। 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সমবায় কার্যালয়ের নিবন্ধন নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমের আদলে গ্রাহকদের আমানত সংগ্রহ করে উধাও হয়ে গেছে বেশ কিছু সমবায় সমিতি। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব সমিতি ব্যাংকের চেয়ে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে। শুরুর দিকে গ্রাহকদের মুনাফা দিলেও বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকজন টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। ফলে সর্বস্ব হারিয়ে গ্রাহকরা এখন দিশেহারা। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, সমিতিগুলোর অনিময় তদন্ত করে দেখা হবে।

জানা গেছে, উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন নামে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক সমবায় সমিতি। এগুলোর মধ্যে মাদারগঞ্জ আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি, শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতি, স্বদেশ বহুমুখী সমবায় সমিতি, নবদ্বীপ বহুমুখী সমবায় সমিতি, জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি অন্যতম। বিভিন্ন পেশার অন্তত ৫০ হাজার গ্রাহক এসব সমিতিতে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার আমানত জমা রাখেন। সবচেয়ে বেশি টাকা হাতিয়েছে আল-আকাবা আর শতদল বহুমুখী সমিতি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।

সরেজিমনে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ শহরের বিভিন্ন আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে বাহারি নামের বিভিন্ন সমবায় সমিতি। একটি ভবনেই পাওয়া যায় অন্তত ১০টি সমিতির কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে একেকজন গ্রাহক সর্বনিম্ন দুই লাখ থেকে শুরু করে কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত রেখেছেন। এখন প্রায় সব সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। আর গ্রাহকরা লভ্যাংশ তো দূরের কথা জমানো আমানত কীভাবে ফিরে পাবেন সেই আশায় প্রতিদিন সমিতির কার্যালয়ের সামনে এসে ভিড় করছেন।

আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহক শিল্পী আক্তার জানান, নিজের ও স্বামীর জমানো সাড়ে ছয় লাখ টাকা তিনি ওখানে জমা রাখেন। আমানতের বিপরীতে প্রতি মাসে ভালো মুনাফা পাওয়ায় ভাইয়ের বিদেশ যাওয়ার জন্য মা আনোয়ারা বেগমের সঞ্চিত সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা রাখেন শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতিতে। কিন্তু গত এক বছর ধরে সমিতি দুটি মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ গত তিন সপ্তাহ আগে সমিতির অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

মাদারগঞ্জ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত আল-আকাবার আমানত ৪১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, শতদলের ২২১ কোটি ৮৫ লাখ ৮১ হাজার ৫৫ টাকা, নবদ্বীপের ২৫ কোটি ৮০ লাখ, স্বদেশের ৫৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫১ টাকা। এ ছাড়াও আরও ১০ থেকে ১৫টি সমিতির আমানত ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে বলা হলেও বাস্তবে এসব সমিতির মূলধন ও সম্পদের পরিমাণ সমবায় কার্যালয়ের হিসাবের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি।

মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান রহমতুল্লাহ রিমু বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম না থাকলেও সবাই যেভাবে টাকা লেনদেন করেছে, আমরাও সেভাবে করেছি। তবে টাকা নিয়ে সমিতির অন্য পরিচালকরা ঝামেলা করছে বুঝতে পেরে আমি কেন্দ্রীয় বমুমুখী সমবায় সমিতি এবং রূপসী বাংলা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি থেকে কয়েক মাস আগে পদত্যাগ করেছি।’  

জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, ‘প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এতগুলো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের আমানত আত্মসাৎ করতে পেরেছে।  এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাকদের কাছ থেকে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছে।’

জেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, ‘আইন অনুযায়ী সমিতিগুলো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। তারা এতদিন ধরে অবৈধ লেনদেন করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মাদারগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খানকে শোকজ করা হয়েছে। এসব সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হবে। সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি।   

জেলা প্রশাসক শফিউর রহমান বলেন, ‘আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দেখব, কেন এতগুলো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তারা আইন মেনে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল কি না, সেটাও দেখা হবে।’ এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার আগে সাধারণ মানুষকে ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

চরে আটকেপড়া ৮০ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল নৌ-পুলিশ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৬ পিএম
চরে আটকেপড়া ৮০ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল নৌ-পুলিশ
ছবি : খবরের কাগজ

ঈদে ঘুরতে এসে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীতে জেগে উঠা দুর্গম আব্দুল্লাহ চরে আটকেপড়া ৮০ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ মাধ্যমে ফোন পেয়ে আটকেপড়া নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৮০ দর্শনার্থীকে তিনটি ট্রলারে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদৌস আহমেদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘শনিবার বিকেলে বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা মেঘনা নদীর দুর্গম আব্দুল্লাহ চরে ঘুরতে যান। রামগতি উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে এ দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি। নদীর স্রোতের কারণে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই আটকা পড়েন। সে সময় তাদের মধ্য থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। ৯৯৯ থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়। আমরা জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট, ট্রলার এবং বড় নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে আটকেপড়া ৮০ জনকে উদ্ধার করি। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।’

রফিকুল/সালমান/

 

বৈশাখের আলপনায় রঙিন হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪০ পিএম
বৈশাখের আলপনায় রঙিন হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১৪ কিলোমিটার সড়কে আঁকা হয়েছে আলপনা। ছবি : খবরের কাগজ

আলপনার রঙে রাঙানো হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ১৪ কিলোমিটার সড়ক। গিনেজ বুকে নাম লেখাতে মিঠামইনে জিরো পয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে আঁকা হয়েছে আলপনা। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ‘আলপনায় বৈশাখ-১৪৩১’ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

হাওরাঞ্চলে সবচেয়ে দীর্ঘ আলপনা দেখতে বৈশাখের প্রথম দিন ভিড় জমিয়েছেন অনেক মানুষ। বিকেলে অলওয়েদার সড়কে পর্যটকদের পদচারণায় আলপনা দেখাই যায়নি। হাজার হাজার মানুষ এই আলপনা দেখতে ভিড় জমান মিঠামইন জিরো পয়েন্ট ও অষ্টগ্রামের কাস্তল জিরো পয়েন্টে। দুপুরের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে অনেকেই আসেন একনজর আলপনা দেখার জন্য।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ, খুলনা, ঢাকা এই তিন ঐতিহ্যবাহী জেলায় শিল্পীর তুলিতে বৈশাখের মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একইসঙ্গে বিশ্বরেকর্ড গড়ার অনবদ্য প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয়েছে বৈশাখের আলপনা উৎসব। বাঙালির আবহমান ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যেই হাওরাঞ্চলে ‘আলপনায় বৈশাখ-১৪৩১’ উৎসব। এই সড়কে আলপনা আঁকার পর বিশ্বরেকর্ড হিসেবে গিনেস বুকে নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অফিসার তাইমুর রহমান, বার্জার পেইন্টস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুপালী চৌধুরী, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরেশ জাকের।

এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড এ উৎসবের আয়োজন করে। 

এর আগে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) মিঠামইনে আলপনা অঙ্কন উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন এশিয়াটিক-সিক্সটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নূর, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ প্রমুখ।

তাসলিমা/সালমান/

সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১০ পিএম
সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের গুটমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন আলম (২৬) ও চুনু (২৫)। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। নিহত অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহাগ রানা জানান, উপজেলার গুটমা গ্রামের বাসিন্দা আহাদ আলীর বাড়িতে নির্মাণাধীন একটি সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নামেন তিন শ্রমিক। কাজ করা অবস্থায় ট্যাংকের ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেপটিক ট্যাংক ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সালমান/

নাবিক সাব্বিরের পরিবারে বইছে ‘ঈদের’ আনন্দ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম
নাবিক সাব্বিরের পরিবারে বইছে ‘ঈদের’ আনন্দ
নাবিক সাব্বির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ নাবিককে মুক্ত করা হয়েছে। নাবিকদের মুক্তির খবরে তাদের পরিবারে বইছে আনন্দ। দুদিন আগে ঈদ উদযাপিত হলেও তাদের কাছে মনে হচ্ছে, আজই যেন তাদের ঈদ। 

মুক্তি পাওয়া ২৩ নাবিকের একজন সাব্বির হোসেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামে। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। 

ছেলের মুক্তির খবরে তার মা সালেহা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছেলে বন্দি হওয়ার পর থেকে পরিবারে কোনো আনন্দ ছিল না। দুই দিন আগে ঈদ গেল, পরিবারের কেউ সেই আনন্দে ছিল না। কিন্তু আজ সাব্বিরের খবর পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আজই আমাদের ঈদের দিন। পরিবারের সবার মুখে আজ হাসি ফুটেছে।’

সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, ‘এক মাস পর যখন ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললাম মনে হলো দুনিয়ার সব সুখ আমাদের পরিবারের মাঝে এসেছে। এই একটা মাস পর মনে হলো ভাইকে আবার ফিরে পেলাম। আমরা এখন অনেক আনন্দে আছি।’ 

তার বাবা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘কখনো চিন্তাই করিনি ছেলের সঙ্গে আবার দেখা হবে, কথা হবে। কিন্তু আজ কথা বলে খুবই ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’ 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমি কথা বলে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সাব্বির তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। পরিবারের সবাই ও আমরাও অনেক আনন্দিত।’ 

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ওই জাহাজের ২৩ নাবিককে জিম্মি করা হয়। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। 

জুয়েল/সালমান/

শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৮ পিএম
শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ
শ্রীমঙ্গলে শেখ রাসেল শিশু উদ্যানের মুক্তমঞ্চে অনুশীলন চক্রের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন। ছবি : খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সূর্য ওঠার পরপরই শহরের শেখ রাসেল শিশু উদ্যানের মুক্তমঞ্চে ‘অনুশীলন চক্র’ আয়োজিত বর্ষবরণ উৎসবে আবাহনী সংগীতের মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শ্রীমঙ্গল শাখা।

পরে অনুশীলন চক্রের আয়োজনে বণার্ঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ।

শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন স্কুল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা বিভিন্ন রঙের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, মুখোশসহ যুক্ত হন। 

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানেও বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে গান পরিবেশন করে উদীচী, কচিকাঁচার মেলাসহ স্থানীয় সংগঠনগুলো। 

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।

নববর্ষ উপলক্ষে শহরের শেখ রাসেল শিশু উদ্যানে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে অনুশীলন চক্র।

শুভ/পপি/