ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ছাত্রলীগ নেতার পর একই নারীর সঙ্গে চেয়ারম্যানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৮ এএম
ছাত্রলীগ নেতার পর একই নারীর সঙ্গে চেয়ারম্যানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল
পচাকোড়ালীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার

বরগুনার তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পচাকোড়ালীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও নিয়ে পুরো উপজেলায় এখন সমালোচনার ঝড় বইছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান রাজ্জাক হাওলাদার ও এক নারী অন্তরঙ্গ সময় কাটাচ্ছেন। এর আগে গত ১২ এপ্রিল তালতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠুর সঙ্গে ওই একই নারীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল হলে তালতলীর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু ওই নারীর বিরুদ্ধে তালতলী থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলার সাক্ষী ছিলেন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার এবং ওই মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন ওই নারী।

এ বিষয়ে পচাকোড়ালীয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অপরদিকে ওই নারীর স্বজনদের দাবি, মিথ্যা মামলা করা হয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয় তার নানা বলেন, আমার নাতনিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে উল্টো মামলা দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে।

এ বিষয় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

মহিউদ্দিন অপু/জোবাইদা ইসলাম/

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:০৪ এএম
পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সালমাকে (৩০) শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী রুপচাঁনসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২৪ মে) ভোরে সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভা এলাকার ভট্টপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালমা পৌরসভার ভট্টপুর এলাকার মো. রুপচাঁনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত স্বামী রুপচাঁন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি কোম্পানিতে চাকরি করা নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গোপনে চলতে থাকে তাদের অবৈধ মেলামেশা। পরকীয়ার সম্পর্কটি প্রকাশ্যে এলে সালমা প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। এর ফলে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ হতো। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে।

নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ আরবান কাইফি বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। কিছুদিন আগেও মাকে অনেক মারধর করেছে। পরে আমি আমার নানির বাড়ির আত্মীয়দের জানিয়েছি। তারা বলেছিল, ঈদের পর বসবে। কিন্তু আজ আমার মাকে মেরেই ফেলল।’

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন মিয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্বামীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা যাবে।

২০ বছর পর বাংলাদেশে পা রাখলেন বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫৫ এএম
২০ বছর পর বাংলাদেশে পা রাখলেন বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির
ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘ বিশ বছর পর নিজের জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে এসেছেন সর্বাধুনিক চালকবিহীন হেলিকপ্টার আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির।

শুক্রবার (২৪ মে) দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে পাকুন্দিয়া উপজেলার বড় আজলদি গ্রামে আসেন তিনি।

দীর্ঘ বিশ বছর পর পাকুন্দিয়ার বড় আজলদি গ্রামে এসে এলাকার মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। তাকে এক নজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমায় বড় আজলদি গ্রামে।

এর আগে বুধবার (২২ মে) রাতে ঢাকায় আসেন বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন তার স্ত্রী ফরিদা কবির। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালের ৫ মার্চ কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত তিনি কিশোরগঞ্জের সার্কিট হাউজে থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে দেখতে এসেছি। বিশেষ করে আমার মা অসুস্থ সেই কারণে এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে এসেছি আমি খুবই আনন্দিত ও আবেগ আপ্লুত। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩০ মে ঢাকায় যাব এবং সেখান থেকে আমার কর্মস্থলে ফিরবো।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. হুমায়ুন কবির কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নাগের গ্রামের কৃতি সন্তান। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে তার নানাবাড়ি বড় আজলদিতে। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে থাকতেন।

ড. হুমায়ুন কবির ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাড়িতে লজিং থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

গণিতশাস্ত্র ও গবেষণার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল অনেক বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ না করেই তিনি পাড়ি জমান সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএস করার জন্য ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটনে। সেখান থেকে তিনি এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল মহাশুন্যযান ও রকেট বিজ্ঞান।

পিএইচডি শেষে অস্টিন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে গত ২৬ বছর ধরে কাজ করছেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন বোয়িং বিজ্ঞানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বোয়িং কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।

সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে রিমোট কন্ট্রোল এইচ-৫ হায়েন্স হেলিকপ্টার আবিষ্কার করেন তিনি।

এ ছাড়াও সম্প্রতি তিনি আমেরিকার স্পেশাল অপারেশন ফোর্সদের জন্য আরও একটি বিশেষ ও আধুনিক হেলিকপ্টার আবিষ্কার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও মেরিন কর্পসের জন্য তৈরী করা হয় এই বিশেষ হেলিকপ্টার।

তাসলিমা আক্তার/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫৪ এএম
চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু
মোক্তার আহমদ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সবজি খেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মোক্তার আহমদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। 

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনকিরচরের সেইন্যা পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

মোক্তার আহমদ একই এলাকার মৃত গুরা মিয়ার ছেলে।

শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আশিক হোছাইন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, সকালে মোটরচালিত যন্ত্রের সাহায্যে বাড়ির পাশেই সবজি ক্ষেতে পানি দিতে যান মোক্তার। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান তিনি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ খবরের কাগজকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

ইফতেখারুল/পপি/

চাহিদা থাকলেও বন্ধ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫০ এএম
চাহিদা থাকলেও বন্ধ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর
ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ভবন। ছবি সংগৃহীত

ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বন্ধ পড়ে আছে পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। অথচ দীর্ঘদিন থেকে এটি চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন এখানকার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। 

জানা যায়, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি ১৭ বছর ধরে বন্ধ ছিল। পরে গত ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর আবার বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ওই সময় তৎকালীন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেছিলেন, ‘ঈশ্বরদী থেকে আর কখনো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হবে না।’ কিন্তু সেই ঘোষণার সাড়ে ছয় মাস পর ২০১৪ সালের ২২ মে হঠাৎ বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর চালু হয়নি। 

স্থানীয়রা মনে করেন, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইপিজেডের কারণে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর ঘিরে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক, দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও কর্মকর্তারা বিমানবন্দরটি চালু হলে সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ডাল গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী সেনানিবাস, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়সহ অর্ধশতাধিক জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সহজ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। শুধু ঈশ্বরদী নয়, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের ব্যবসায়ীরাও বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এসব কারণে ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি চালু হলে স্থানীয়রা ও এয়ারলাইনস ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। এ ছাড়া জেলায় বেশ কিছু আধুনিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে রিসোর্টকেন্দ্রিক যাত্রীও আসা-যাওয়া শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৭৫ কিলোমিটার। ঢাকা-আরিচা হাইওয়ে ধরে এ পথ পাড়ি দিতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। অপরদিকে পশ্চিম রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় ঈশ্বরদীর পাকশীতে। এখান থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করে। ট্রেনে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। বাস ও ট্রেনে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঢাকায় যাওয়া-আসা করেন।

দীর্ঘদিন থেকে বিমানকেন্দ্রিক যাত্রীদের টিকিট কেনা-বেচা করে ঈশ্বরদীর সরকার এয়ার এক্সপ্রেস অ্যান্ড ট্রাভেলস। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাহান শাহ আলমগীর বাবু বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্প ও ইপিজেডে বিদেশিদের সংখ্যা অনেক। এদের অধিকাংশই বিমানে চলাচলে আগ্রহী। এ ছাড়া স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে পর্যাপ্ত যাত্রী রয়েছে। আগে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে রাজশাহীতে দুটি বিমান চলাচল করত। এখন রাজশাহীতে পাঁচটি বিমান চলাচল করে। বিমান চালু করা হলে রাজশাহীর মতো ঈশ্বরদীতে যাত্রীর অভাব হবে না।’ 

এ প্রসঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাইট অফিসের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এই প্রকল্পে কর্মকর্তা, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঁচ হাজারের বেশি রাশিয়ান নাগরিক কর্মরত আছেন। মন্ত্রণালয়সহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য তাদের অনেকের যাওয়া-আসা সড়কপথে হয়। সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতে তাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। বিমান চালু হলে তাদের এ অসুবিধা হতো না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধার্থে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হওয়া দরকার।’
 
ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট শিল্পপতি জালাল উদ্দিন তুহিন বলেন, ‘ব্যবসা ও বিনিয়োগ অনেকটা যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ঈশ্বরদীর যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে এখানকার বিমানবন্দরটি যুক্ত হলে দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনে করি। আমরা চাই ঈশ্বরদীতে দ্রুত বিমানবন্দর চালু হোক।’ 

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. ওমর আলী বলেন, ‘ঈশ্বরদী পাবনা জেলার সমতুল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি চালু হলে এখানকার গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। আরও সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি। তাই বন্ধ না রেখে বিমানবন্দরটি চালু করা দরকার।

‘ইরফানের জীবন’ প্রজেক্ট লাগে কোটি টাকা, মিলেছে ৫০ হাজার

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৪২ এএম
লাগে কোটি টাকা, মিলেছে ৫০ হাজার
মো. ইরফান

অন্য দিনের মতো গত বছর ৯ নভেম্বরও টিউশনি করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন ইরফান। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। হাত, বুক ও মাথায় আঘাত পান। দুর্ঘটনার পর প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

ইরফান চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার লনুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গটিয়া ডেঙ্গা গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তার পরিবারের পক্ষে প্রায় এক কোটি টাকার চিকিৎসা ব্যয়বহন করার সামর্থ্য নেই।

ইরফানের বড় ভাই আজাদ বলেন, ‘তিন মাস আইসিইউতে ছিল। আইসিইউর বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আইসিইউর বিল এসেছে ৩২ লাখ। এ ছাড়া অন্য খরচ হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। ব্রেন সার্জারিসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬টা অপারেশন করা হয়েছে। ইরফানকে বর্তমানে বাসায় নিয়ে এসেছি।’

টাকা কীভাবে জোগাড় হচ্ছে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য অনেক সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনিয়র, জুনিয়ররা যে যেভাবে পারছে সহযোগিতা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। তারপর তারা আর যোগাযোগ করেনি।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন তার চিকিৎসা ব্যয়ের আশ্বাস দিলেও আর কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের থেকে। 

এ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একবার অর্থ সহযোগিতা দিয়েছিল। পরে আরও টাকার ব্যাপারে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাকে জানিয়েছিল। তখন তাদের বলেছিলাম, প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে নোটিশ দাও, টাকা তোলার একটা ব্যবস্থা করতে হবে আর প্রশাসনকেও আমি বলবো।’ 

তবে প্রশাসনের আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থেমে থাকেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘ইরফানের জীবন’ নামে একটি প্রজেক্ট শুরু করে মাঠপর্যায়ে ঘুরে ঘুরে টাকা উঠানো শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা তোলা হয়। 

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহসীন জামিল বলেন, ‘আমরা স্ট্রিট লেভেলে যখন কাজ করি তখন ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। বর্তমানে কালেকশন হচ্ছে না। যদি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকত, আমরা শিক্ষার্থীরা সবাই কাজ করতে পারতাম।’