ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

উপকূলের বেড়িবাঁধে ভাঙন আতঙ্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:১৬ এএম
উপকূলের বেড়িবাঁধে ভাঙন আতঙ্ক
খুলনার কয়রার উত্তর বেদকাশিতে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

খুলনার কয়রার শাকবাড়ীয়া নদীর তীরে গাববুনিয়া বেড়িবাঁধ। গত ৩০ বছর ধরেই দুর্যোগে কিংবা জোয়ারে পানির চাপে ভাঙছে সেটি। যেনতেনভাবে সংস্কার হয়। কিন্তু টেকসই বাঁধ নির্মাণ হয় না। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বাড়িঘর, কৃষিজমি।

কয়রার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে গাববুনিয়া বেড়িবাঁধের মতো মদিনাবাদ লঞ্চঘাট থেকে গোবরা, হরিণখোলা-ঘাটাখালী, মহারাজপুর, কাশিয়াবাদ, দশহালিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। 

কয়রার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাওনেওয়াজ শিকারী জানান, সারা বছর ধরেই ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধের সংস্কারকাজ হয়। কিছু যেনতেনভাবে সংস্কারকাজে সরকারি বরাদ্দের লুটপাট ছাড়া সাধারণ মানুষের লাভ হয় না। আগে বাঁধের নিচে ৬০ ফুট চওড়া ছিল। ঢালের মতো বাঁধের উপরের অংশে ছিল ১০-১২ ফুট। এখন ঠিকাদার-ওয়াপদা (পানি উন্নয়ন বোর্ড) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাঁধের নিচের মাটি এস্কাভেটর দিয়ে কেটে ওপরে সংস্কার করা হয়। এতে বাঁধের উপরে ১০-১২ ফুট ঠিক থাকলেও নিচের দিকে মাটি কমে যাওয়ায় বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে বাঁধ সংস্কারের কিছুদিনের মধ্যেই পানির তোড়ে সহজে বাঁধ ভেঙে যায়।  

জানা যায়, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে কালীবাড়ি, গিলাবাড়ি সিংহের কোনা, হড্ডা চৌকিদারপাড়া, আলোর কোলসহ ১০-১২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধ ভাঙলে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ তৈরি হওয়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে উপকূলে। আবহাওয়া অফিস বলছে, সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক শামীম হাসান বলেন, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তা বাংলাদেশের সুন্দরবন, খুলনা এবং তৎসংলগ্ন কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে ২৬-২৭ মে ঝড়টি হতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

অপরদিকে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা। খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছার ৬০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ৩টি মুজিবকেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উপজেলায় ৫ হাজার ২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।

৫১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ : ঘূর্ণিঝড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা, বাগেরহাট সাতক্ষীরার প্রায় ৫১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদ-নদীতে পানির চাপ বাড়লে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) খুলনা পওর বিভাগ-২-এর আওতায় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। কয়রার মদিনাবাদ লঞ্চঘাট থেকে গোবরা ও হরিণখোলা-ঘাটাখালী এলাকায় দুই কিলোমিটার বাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। মহারাজপুর, কাশিয়াবাদ, মঠেরকোনা মঠবাড়ি দশহালিয়ায় দুই কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। দাকোপে সুতারখালি, কালাবগী, চেয়ারম্যানবাড়ি, বটিয়াঘাটা বুজবুনিয়ায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ ও ২ আওতায় ১৩ কিলোমিটার ও বাগেরহাটে আরও ১৫ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বরাদ্দের টাকা নয়ছয়, টেকসই বাঁধ হয় না: খুলনার দাকোপ উপজেলার ৩২ নম্বর পোল্ডারের ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও দুই কিলোমিটার নদীশাসন কাজে গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন একই বাঁধ সংস্কারে আরও ১৫২ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে পাউবোর পক্ষ থেকে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পটি সার্ভে হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে নদীর গতি-প্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে। ফলে আরও ছয় কিলোমিটার জায়গা নদীশাসনে আনা প্রয়োজন। এতে প্রায় ১৫২ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

একইভাবে ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৪-২০১১ পর্যন্ত সমন্বিত টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৯৮-২০০৫ সালে উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প পোল্ডার নং-৩৪/২ (অংশ) (আমিরপুর-ভাণ্ডারকোট-বালিয়াডাংগা) সংস্কারকাজ বাস্তবায়িত হয়।

বর্তমানে কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটার বিভিন্ন অংশে বাঁধ মেরামত কাজ চলছে। খুলনা পওর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, উপকূলীয় এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনায় বাঁধ মেরামত ও টেকসই করতে নিয়মিত সংস্কারকাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য জিও ব্যাগ, সিনথেটিক ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।   

টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি স্থানীয়দের: বেড়িবাঁধ নিয়ে সমন্বয় সভায় আসেন না পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ঠিকাদারদের মাধ্যমে যেনতেনভাবে বাঁধ সংস্কার করা হয়। স্থানীয়দের বাঁধ নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত করা হয় না। কেউ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি তুললে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে বলে তাকে হয়রানি করা হয়। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরপর কয়েক বছরের দুর্যোগ ও নদীভাঙনে বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। বিলীন হয়েছে বাজার, চলাচলের রাস্তাসহ একাধিক স্থাপনা। আর এ ভাঙন মোকাবিলায় পাউবোর জরুরি সংস্কারের নামে গা ছাড়া কাজ চলছে সারা বছর ধরেই। বেড়িবাঁধ রক্ষায় এলাকায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভাঙনে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়।

তিস্তা-দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:০৬ পিএম
তিস্তা-দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল। ছবি : খবরের কাগজ

বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে শঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ককরণ কেন্দ্র। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পাউবোর তথ্য বলছে, মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৬টায় দুধকুমারের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। একই সময়ে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বেড়েছে ৩৮ সেন্টিমিটার পানি। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার ও ধরলার সেতু পয়েন্টে ওই সময়ের মধ্যে ৪৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় বিস্তীর্ণ এলাকা। বেশকিছু সবজিখেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। 

নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে অল্প সময়ের ভেতর ঘরে পানি ঢুকতে পারে। এতে ভোগান্তিতে পড়বে মানুষ। তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়েছে বেশকিছু এলাকায়। 

তিস্তার স্রোতে রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দুধকুমারে ভাঙছে চরভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ, বামনডাঙ্গা, বল্লভেরখাসসহ একাধিক ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকা। রৌমারী উপজেলার হবিগঞ্জ বাজার, সোনাপুর, ফলুয়ারচর ঘাট, রাজীবপুরের কোদালকাটিতেও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সোনাপুরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। এদিকে ভাঙনপ্রবণ সাতটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভাঙনরোধে একটিতে জরুরি কাজ চলছে।’ ভাঙনপ্রবণ অন্য এলাকাগুলোতে কাজ করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গোলাম মওলা/সালমান/

টেকনাফে পানিবন্দি ৫০ গ্রামের মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
টেকনাফে পানিবন্দি ৫০ গ্রামের মানুষ

কক্সবাজারের টেকনাফে ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত ৯টার পর থেকে কক্সবাজারে বৃষ্টি শুরু হয়। বুধবার (১৯ জুন) দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আটটি গ্রাম, হ্নীলা ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম, টেকনাফ পৌরসভার সাতটি গ্রাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম, সাবরাং ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম, বাহারছড়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার অন্য কোনও উপজেলা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, তার ইউনিয়নের ১২ গ্রামের চার হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। গ্রামগুলো হলো- জালিয়াপাড়া, সাইটপাড়া, ফুলের ডেইল, আলী আকবর পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, আলীখালি, চৌধুরীপাড়া, পূর্ব পানখালী, মৌলভীবাজার লামার পাড়া, ওয়াব্রাং, সুলিশপাড়া, পূর্ব সিকদার পাড়া। এসব গ্রামের চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান জানান- টেকনাফ পৌরসভার কলেজপাড়া, শীলবুনিয়া পাড়া, ডেইলপাড়া, জালিয়াপাড়া, খানকার ডেইল, চৌধুরীপাড়া, কেকে পাড়া প্লাবিত হয়েছে। এই সাত গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। পানিতে ডুবে আছে টেকনাফ কলেজসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

পৌরসভার ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ঘরবাড়িসহ চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের ঘেরসহ লবণেও।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, সদরের ছয় গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হলো, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতুলি, লেঙ্গুরবিল, খোনকারপাড়া, মাঠপাড়া ও রাজারছড়া।

শাহপরীর দ্বীপের সাতটি গ্রামসহ সাবরাং ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর হোছাইন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারি জানিয়েছেন, লম্বা বিল, উলুবনিয়া, আমতলি, মিনাবাজার, উনচিপ্রাং, কাঞ্চনপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, রইক্ষ্যং গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে উনচিপ্রাং এলাকার একটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়িতে এক ফুট উচ্চতার পানি উঠেছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, তার ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ কমবেশি পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ভারি বৃষ্টির কারণে পানিবন্দি থাকা গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অতিভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান মিয়া জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে কেবল টেকনাফেই বুধবার সকাল ৬টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ আবহাওয়া অফিস।

টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস হওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।

মুহিববুল্লাহ মুহিব/অমিয়/

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি; প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:১১ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি; প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা গোবর্ধন এলাকার

উজানের ঢল ও কয়েকদিনে দেশের উত্তরাঞ্চলে চলা ভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

বুধবার (১৯ জুন) দুপুর ১২টায় তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯২ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)।

এর আগে সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের পয়েন্টে ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় দুই হাজার পরিবারে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, চৌরাহা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। গত রাতে জেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে চাপ বেড়েছে পানি। নদীর বাইরের এলাকাগুলোতে পানি বেড়ে মাছের ঘেরসহ নিচু রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

গোবর্ধন এলাকার আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘ঈদে ঢাকা থেকে ছেলে-মেয়েরা এসেছে। হঠাৎ পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বাড়ির চুলাও ডুবে গেছে। রান্না করবার কোনো সুযোগ নেই। রুটি-কলা খেয়ে আছি। ঈদের আনন্দ বলতে আমাদের কিছু নেই।’

হাতীবান্ধার ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান খোকন বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে ফকিরপাড়া ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, ‘গজলডোবায় পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছি।’

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ায় কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’

বকুল/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সিলেটে বন্যা: পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:২০ পিএম
সিলেটে বন্যা: পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ
ছবি : খবরের কাগজ

সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলাজুড়ে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন পানিবন্দি হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে সর্বশেষ এ তথ্য জানায় সিলেট জেলা প্রশাসন।

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সিলেটের সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সিলেটের ছয়টি উপজেলায় তিনটি নদীর পানি ছয় পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৫ মিলিমিটার। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৭ দশমিক ২ মিলিমিটার।

এদিকে আজ সিলেট বিভাগে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা ভারি ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সতর্কবার্তায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, সিলেটে আজ সকাল থেকে ভারি ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তা আরও পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) মধ্যরাতে সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, এ সময় পর্যন্ত সিলেট মহানগরীর ২১টি ওয়ার্ড ও জেলার ১২৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার এক হাজার ৩২৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত রয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

অপরদিকে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীদের উঁচু বাসা-বাড়িতে। অনেকেই সড়কের পাশে ট্রাক, পিকআপে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজন খুবই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

এই বন্যা পরিস্থিতিতে আজ সিলেটে আসছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুল ইসলাম। তিনি দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরীর মিরাবাজারে কিশোরী মোহন বালক উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হন। সেই বন্যা সড়ক, মহাসড়ক, ঘরবাড়ির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই আবার বন্যা আক্রান্ত হলেন সিলেটবাসী।

শাকিলা ববি/অমিয়/

মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
মৌলভীবাজার পৌরশহরে সৈয়ারপুর এলাকার পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্যা দেখা দিচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সদরসহ সাতটি উপজেলা গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। পানিবন্দি অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন।

বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ বসতবাড়ি ডুবে গেছে। ফলে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ও ফহেতপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়াও কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকায় কুশিয়ার নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকায় ভারি বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ধলাই নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমা ৩৪ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় মনু নদের পানি ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বন্যায় ইতোমধ্যে উপজেলার ৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুড়ীতে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরাতুন নাঈম জানান, উপজেলার ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, রাজনগরে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্তা নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, ‘মৌলভীবাজার সদরসহ রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যাকবলিতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি।’

তিনি বলেন, জেলার বন্যাকবলিত উপজেলার ইউএনওদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

পুলক পুরকায়স্থ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/