ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রিমাল: কক্সবাজারে ক্ষয়-ক্ষতি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট: ২৭ মে ২০২৪, ০৮:৪৩ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রিমাল: কক্সবাজারে ক্ষয়-ক্ষতি
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমাল ২৬ মে দিবাগত রাতে উপকূল অতিক্রম করেছে। এতে ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহীত কার্যক্রমের তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। 

সোমবার (২৭ মে) রাত পৌনে আটটার দিকে জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান বিজ্ঞপ্তিতে জানান- ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। তন্মধ্যে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৭৮৭ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। আশ্রিতদের রান্না করা খাবারসহ শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পরিবেশন করা হয়েছে।

৯১টি মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিতদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলায় গাছের ডাল পড়ে মহেশখালী কুতুবজুম ইউনিয়নে ঘটিভাঙ্গা ডেম্বনিপাড়া এলাকায় আবুল ফয়েজের ছেলে আবুল কালাম (৭৫) নামক এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড এবং মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া এলাকায় মাটির বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে এবং ভাটা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকালয়ের পানি নেমে গেছে।

সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ৬৩ মে.টন চাল সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে যা বিতরণ চলমান আছে বলে জানিয়েছে।

এছাড়া ১৫৩টি কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় সতর্ক সংকেত তুলে নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণকারীগণ স্ব স্ব গৃহে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরগুলোর পরিবারকে পূনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জেলা, উপজেলা, স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরে তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ঘূর্ণিঝড় রিমাল এর প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সাড়াদান ও সমন্বয়ের জন্য ২৫ মে বিকাল ৫টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই তারিখ রাত ৮টার মধ্যে সকল উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে যা ২৪ ঘন্টা খোলা আছে।

মুহিববুল্লাহ মুহিব/এমএ/

টেকনাফে পানিবন্দি ৫০ গ্রামের মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
টেকনাফে পানিবন্দি ৫০ গ্রামের মানুষ

কক্সবাজারের টেকনাফে ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত ৯টার পর থেকে কক্সবাজারে বৃষ্টি শুরু হয়। বুধবার (১৯ জুন) দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আটটি গ্রাম, হ্নীলা ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম, টেকনাফ পৌরসভার সাতটি গ্রাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম, সাবরাং ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম, বাহারছড়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার অন্য কোনও উপজেলা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, তার ইউনিয়নের ১২ গ্রামের চার হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। গ্রামগুলো হলো- জালিয়াপাড়া, সাইটপাড়া, ফুলের ডেইল, আলী আকবর পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, আলীখালি, চৌধুরীপাড়া, পূর্ব পানখালী, মৌলভীবাজার লামার পাড়া, ওয়াব্রাং, সুলিশপাড়া, পূর্ব সিকদার পাড়া। এসব গ্রামের চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান জানান- টেকনাফ পৌরসভার কলেজপাড়া, শীলবুনিয়া পাড়া, ডেইলপাড়া, জালিয়াপাড়া, খানকার ডেইল, চৌধুরীপাড়া, কেকে পাড়া প্লাবিত হয়েছে। এই সাত গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। পানিতে ডুবে আছে টেকনাফ কলেজসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

পৌরসভার ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ঘরবাড়িসহ চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের ঘেরসহ লবণেও।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, সদরের ছয় গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হলো, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতুলি, লেঙ্গুরবিল, খোনকারপাড়া, মাঠপাড়া ও রাজারছড়া।

শাহপরীর দ্বীপের সাতটি গ্রামসহ সাবরাং ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর হোছাইন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারি জানিয়েছেন, লম্বা বিল, উলুবনিয়া, আমতলি, মিনাবাজার, উনচিপ্রাং, কাঞ্চনপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, রইক্ষ্যং গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে উনচিপ্রাং এলাকার একটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়িতে এক ফুট উচ্চতার পানি উঠেছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, তার ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ কমবেশি পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ভারি বৃষ্টির কারণে পানিবন্দি থাকা গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অতিভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান মিয়া জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে কেবল টেকনাফেই বুধবার সকাল ৬টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ আবহাওয়া অফিস।

টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস হওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।

মুহিববুল্লাহ মুহিব/অমিয়/

বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি; প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:১১ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:১১ পিএম
বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি; প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা গোবর্ধন এলাকার

উজানের ঢল ও কয়েকদিনে দেশের উত্তরাঞ্চলে চলা ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

বুধবার (১৯ জুন) দুপুর বারোটায় তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২ সেমি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেমি. নিচে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্ন অঞ্চলের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯২ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)।

এর আগে সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের পয়েন্টে ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানি নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রায় দুই হাজার পরিবারে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, চৌরাহা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। গত রাতে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চাপ বেড়েছে পানি। নদীর বাইরের এলাকাগুলোতে পানি বেড়ে মাছের ঘেরসহ নিচু রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। 

গোবর্ধন এলাকার আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘ঈদে ঢাকা থেকে ছেলে মেয়েরা এসেছে। হঠাৎ পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বাড়ির চুলাও ডুবে গেছে। রান্না করবার কোন সুযোগ নাই। রুটি-কলা খেয়ে আছি। ঈদের আনন্দ বলতে আমাদের কিছু নাই।’

হাতীবান্ধার ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান খোকন বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে ফকিরপাড়া ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডের প্রায় ২শত থেকে ৩শত পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, ‘গজলডোবায় পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছি।’

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ায় কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’

বকুল/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সিলেটে বন্যা: পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:২০ পিএম
সিলেটে বন্যা: পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ
ছবি : খবরের কাগজ

সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলাজুড়ে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন পানিবন্দি হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে সর্বশেষ এ তথ্য জানায় সিলেট জেলা প্রশাসন।

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সিলেটের সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সিলেটের ছয়টি উপজেলায় তিনটি নদীর পানি ছয় পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৫ মিলিমিটার। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৭ দশমিক ২ মিলিমিটার।

এদিকে আজ সিলেট বিভাগে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা ভারি ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সতর্কবার্তায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, সিলেটে আজ সকাল থেকে ভারি ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তা আরও পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) মধ্যরাতে সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, এ সময় পর্যন্ত সিলেট মহানগরীর ২১টি ওয়ার্ড ও জেলার ১২৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার এক হাজার ৩২৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত রয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

অপরদিকে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীদের উঁচু বাসা-বাড়িতে। অনেকেই সড়কের পাশে ট্রাক, পিকআপে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজন খুবই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

এই বন্যা পরিস্থিতিতে আজ সিলেটে আসছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুল ইসলাম। তিনি দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরীর মিরাবাজারে কিশোরী মোহন বালক উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হন। সেই বন্যা সড়ক, মহাসড়ক, ঘরবাড়ির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই আবার বন্যা আক্রান্ত হলেন সিলেটবাসী।

শাকিলা ববি/অমিয়/

মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
মৌলভীবাজার পৌরশহরে সৈয়ারপুর এলাকার পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্যা দেখা দিচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সদরসহ সাতটি উপজেলা গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। পানিবন্দি অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন।

বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ বসতবাড়ি ডুবে গেছে। ফলে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ও ফহেতপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়াও কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকায় কুশিয়ার নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকায় ভারি বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ধলাই নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমা ৩৪ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় মনু নদের পানি ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বন্যায় ইতোমধ্যে উপজেলার ৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুড়ীতে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরাতুন নাঈম জানান, উপজেলার ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, রাজনগরে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্তা নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, ‘মৌলভীবাজার সদরসহ রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যাকবলিতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি।’

তিনি বলেন, জেলার বন্যাকবলিত উপজেলার ইউএনওদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

পুলক পুরকায়স্থ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সন্দ্বীপে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দিল স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম
সন্দ্বীপে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দিল স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২০২৪ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে তরুণদের সংগঠন স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। 

রবিবার (১৬ জুন) সকাল ১০টায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ইমনের সভাপতিত্বে আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাহফুজুর রহহমান মিতা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন আবুল কাসেম হায়দার কলেজের অধ্যক্ষ মো. হানিফ, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সভাপতি রহিম মোহাম্মদ, লেখক ও প্রাবন্ধিক কবি কাজী শামসুল আহ্সান খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ নোমান, স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের উপদেষ্টা মাঈন উদ্দীন ভূঁইয়া, স্বর্ণদ্বীপ হাসপাতালের ম্যানেজার আকবর হোসেন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হান তানিন, স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ওসমান গণি প্রমূখ।

এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, ‘মেধাবীরাই আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার ক্ষেত্রে যেভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছ, তার সঙ্গে যদি নৈতিকতার ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জন করতে না পার, তাহলে এ মেধা দেশ ও জাতির কল্যাণে লাগানো যাবে না।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান বলেন, স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের চমৎকার অনুষ্ঠানের মূল কৃতিত্ব ফেয়ার পলি লিমিটেডের। দেশের এই ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান আমাদের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে অর্থায়ন করেছেন।

আলোচনা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন।

অমিয়/