ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

মোংলা বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৪, ১১:০৯ পিএম
আপডেট: ২৭ মে ২০২৪, ১১:০৯ পিএম
মোংলা বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু
ছবি : খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূল অতিক্রম করায় সোমবার (২৭ মে) বিকাল থেকে মোংলা বন্দর জেটিতে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তবে বাতাসের বেগ কিছুটা তীব্র এবং নদী উত্তাল থাকার কারণে মোংলা বন্দরের ভিটিএমআইএস এর মাধ্যমে চ্যানেলে অবস্থানরত নৌযানকে নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, এরই মধ্যে মহাবিপদ সংকেত থেকে নামিয়ে মোংলা বন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত ৩ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মোংলা বন্দর এলার্ট ৪নং থেকে ১ এ নামিয়ে এনেছে। 

এদিকে মোংলা বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত বিদেশি সব জাহাজ নিরাপদে রয়েছে। জেটি এরিয়ায় সংরক্ষিত শেড, ওয়্যার হাউজ ও ইয়ার্ডে রাখা গাড়ি, মেশিনারিজ ও কন্টেইনারও নিরাপদে রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার কারণে মোংলা বন্দর ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

মাকসুদ রহমান/এমএ/

গজারিয়ায় আ.লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ৬ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১০:০৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১০:০৮ পিএম
গজারিয়ায় আ.লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ৬ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯
আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি : খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগের দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এই সময় গুলিবিদ্ধসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গোয়ালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

তারা হলেন- হারুন অর রশিদ (৩৫), রনি (৩৪), আক্তার (৪০), মুক্তার (৪২), আনন্দ (২৫), হাসিব (২২), শাহিনূর বেগম (৫৫), রিয়াদ হোসেন (২৪) এবং আক্তার হোসেন (৪০)।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হোসেন্দী ইউনিয়নে শাহ পরান গ্রুপের সঙ্গে হারুন অর রশিদ গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাহ পরান মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে হারুন অর রশিদ গ্রুপের লোকজন অবস্থান নেন আমিরুল ইসলামের পক্ষে। নির্বাচনে খান জিন্নাহ জয়লাভ করায় চাপে ছিল হারুন গ্রুপের লোকজন। এর ধারবাহিকতায় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোয়ালগাঁও গ্রামের দিলা মিয়ার মুদি দোকানের সামনে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি হারুন অর রশিদসহ তার সমর্থক রনি, আক্তার, মুক্তার, আনন্দ, হাসিব গুলিবিদ্ধ হন। হামলার খবর পেয়ে হারুনের চাচি শাহিনূর আক্তার এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অন্যদিকে শাহ পরান গ্রুপের রিয়াদ ও আক্তার হোসেন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুজনকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

গুলিবিদ্ধ হারুন বলেন, ‘গতকাল রবিবার আমরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম এটা কি আমাদের অপরাধ? এই ঘটনার জের ধরে শাহ পরানের নেতৃত্বে অন্তত ২৫-২৬ জন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের সবার হাতে পিস্তলসহ বিভিন্ন রকম অস্ত্র ছিল। তারা আমাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আমাদের ছয়জনের গায়ে গুলি লাগে।’

এ বিষয়ে শাহ পরান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি এলাকাতেই ছিলাম না। আমি এখনো এলাকার বাইরে আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে দেখা করে যেতে পারেন। শুনেছি এলাকায় টুকটাক গ্যাঞ্জাম হয়েছে। আমাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় আমার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। আজকেও আমার একনিষ্ঠ কর্মী হারুন ও তার পরিবারের সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।’ 

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাজিব খান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত। কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছে কি না বলতে পারছি না।’ 

পুলিশ দেখেই পিকআপ ফেলে দৌড়, মিলল ২৫ বস্তা চোরাই চিনি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম
পুলিশ দেখেই পিকআপ ফেলে দৌড়, মিলল ২৫ বস্তা চোরাই চিনি
ডিবি পুলিশ দেখে এই পিকআপ ফেলে দৌড়ে পালায় চালক। ছবি : খবরের কাগজ

ভোরে একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুত সিলেট নগরীর দিকে আসছিল। পথে ডিবি পুলিশের টহল দেখে দূরে থেমে গেল পিকআপ। ডিবি পুলিশ রওনা করতেই পিকআপ ফেলে দৌড়ে পালায় চালক। ফেলে যাওয়া ওই পিকআপ থেকে ডিবি পুলিশ ২৫ বস্তা ভারতীয় চোরাই চিনি উদ্ধার করে। 

সোমবার (২৪ জুন) ভোর ৫টার দিকে সিলেট নগরীর শাহপরাণ থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিন সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া সেল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। 

এর আগে গতকাল রবিবার রাতে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশ চোরাই চিনির লাইনে টহল দিয়ে ফেনসিডিলসহ দুজনকে আটক করা হয়। চোরাই চিনির পথে মাদকও আসছে বলে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পিকআপ থেকে চিনি জব্দ করার ঘটনায় এসএমপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পিকআপ ভ্যান থেকে জব্দ হওয়া ২৫ বস্তা ভারতীয় চিনির মূল্য আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। ব্যবহৃত মিনি পিকআপ জব্দ করে অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামির বিরুদ্ধে এসএমপি শাহপরাণ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। 

অন্যদিকে চোরাই চিনির পথে টহল দেওয়ার সময় এসএমপি ডিবির অভিযানে ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। 

এসএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) শাহরিয়ার আল মামুন ও এসআই মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের দল রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ রোডে চোরাই চিনি পরিবহনে নজরদারি চালায়। 

এ সময় একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে আটক করা হলে জহির উদ্দিন (২৫) ও ফয়সাল আমিন (১৮) নামের দুই বাহকের কাছ থেকে ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। 

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ননু মিয়া খবরের কাগজকে জানান, এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করে আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

চিনিকাণ্ডে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ সভাপতির ভাগনে, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৭ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৭ পিএম
চিনিকাণ্ডে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ সভাপতির ভাগনে, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
নাজমুল হোসেন হীরা (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরাকে চিনি চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনো অধরা রয়ে গেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপিপুত্র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য তৌফিকুল হাসান সাগর।

গত রবিবার রাতে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড় এলাকা থেকে ছাত্রলীগের সভাপতির ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহ থেকে সোমবার (২৪ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা হাজতে আনা হয় তাকে। এদিকে চিনি চোরাচালানের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে নারী কেলেঙ্কারির তথ্য। পর্নোগ্রাফি আইনে দুই মামা-ভাগনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক তরুণী।

চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ জগতে মামা-ভাগনের রাজত্বের সাম্রাজ্য বিস্তারের কথা উঠে আসছে আস্তে আস্তে। চাঁদাবাজির টাকায় চার বছরে কোটিপতি বনে গেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন। ঢাকার উত্তরায় কোটি টাকার দুটি ফ্ল্যাট, বৌলাই বাইপাসের কাছে নিজের নামে ৮০ শতাংশ ফসলি জমি ও জেলা শহরের বয়লা এলাকায় ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন। সভাপতির পদবি পাওয়ার পর আর কারোর সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়নি। ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যের কমিটি এক বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সাংগঠনিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বা কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্ণপাত করছে না। এদিকে বেপরোয়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে পুঁজি করে ছাত্রলীগের সভাপতি গড়েছেন তার অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য। গত বছর পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার খুদিরজঙ্গল ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সহসভাপতি জুয়েলের মেয়েকে বিয়ে করেন ছাত্রলীগ সভাপতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুদিরজঙ্গল এলাকার কয়েকজন জানান, পারিবারিকভাবে সম্পন্ন তাদের বিয়ের খবর এলাকার সবাই জানেন।

মোল্লা সুমনের রাজনীতির হাতেখড়ি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিকের কাছে। তবে যার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা, তাকে ছেড়ে বেশির ভাগ সময় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপিপুত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখেন ছাত্রলীগ সভাপতি মোল্লা সুমন। সেই সখ্য থেকে চোরাই চিনির রমরমা ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন কৌশলে চোরাইপথে সুনামগঞ্জ থেকে চিনি আনা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। গত ১৪ জুন শুক্রবার ভোরে বগাদিয়া তালতলা এলাকা থেকে একটি চোরাই চিনির ট্রাক আটক করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ। চিনির ট্রাকটি ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপ আটকে দিলে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনতে থানার পুলিশকে খবর দেন মোল্লা সুমনের ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরা। 

এরপর থানা থেকে চিনির ট্রাক ছাড়িয়ে নিতে ভুয়া চালান থানায় জমা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তখন চিনির ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করা হয়। চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ। এদিকে মামলার পরপরই চিনি চোরাচালানে ব্যাংকে ও বিকাশে টাকা লেনদেন ও বিভিন্ন কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরও পুলিশ ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চোরাই চিনির সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতির সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলেও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সূত্র জানায়, কটিয়াদি ও পাকুন্দিয়া উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও গ্রামগুলোতে ভারতীয় চোরাই চিনি ছড়িয়ে দিতে একটি টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী সহযোগীর কাজ করে যাচ্ছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে সবচেয়ে বড় চিনি চোরাচালানের ঘটনায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপিপুত্র তৌফিকুল হাসান সাগরের হাত রয়েছে। সবকিছুই মুঠোফোনে নিয়ন্ত্রণ করেন সাগর। ইতোমধ্যে চিনি সিন্ডিকেটে জড়িত ব্যক্তিরা গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ভারতীয় চিনির ব্যবসায় সহযোগিতা করছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহম্মেদ তুহিন। তার নেতৃত্বে চিনি বিক্রয়ের টাকা জমা রাখা হয়। এই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হিমেল, যুবলীগ নেতা রাজন মিয়া, যুবলীগ নেতা রাজিব। তারা প্রত্যেকেই কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপির ঘনিষ্ঠ। তবে তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন মুখ খুলতে চান না। সবাই এমপির লোক বলে এলাকার মানুষজন ভয়ে ভয়ে থাকে।

চিনি সম্পৃক্ততায় ভাগনে হীরাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনকে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ খবরের কাগজকে বলেন, চিনি চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও যারা যারা চিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ঐতিহ্য কর্নার স্থাপন ও চিরন্তন চট্টগ্রাম গ্রন্থ ইতিহাস সৃষ্টি করবে’

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
‘ঐতিহ্য কর্নার স্থাপন ও চিরন্তন চট্টগ্রাম গ্রন্থ ইতিহাস সৃষ্টি করবে’
ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে ঐতিহ্য কর্নার স্থাপন ও ‘চিরন্তন চট্টগ্রাম’ গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ একটি ঐতিহাসিক কাজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। 

রবিবার (২৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

ড. অনুপম সেন আরও বলেন, ‘চিরন্তন চট্টগ্রাম গ্রন্থ ও ঐতিহ্য কর্নার স্থাপনের এই উদ্যোগ একটি মিউজিয়ামের আদলে তৈরি করা হবে। সার্বিকভাবে এতে বিশেষ ঘটনা ও বিষয়গুলো লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। যাতে চট্টগ্রাম নতুন প্রজন্মের কাছে মূর্ত হয়ে উঠে। পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম দখল করেছিল। সন্দ্বীপ থেকে তারা লোকজন ধরে নিয়ে ইউরোপে বিক্রি করত। চট্টগ্রামে শাহ সুজা আসেন। আরাকানরা এসেছিল। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা এখানে তুলে ধরা হবে। তরুণরাই মূল কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা তাদের পরামর্শ দেবেন ও গাইড করবেন।’ 

ড. অনুপম সেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সাবেক মুখ্য সচিব এম এ করিম, বাংলা একাডেমির ডিজি কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, পিএচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান, ইস্পাহানি গ্রুপের কর্ণধার সালমান ইস্পাহানি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সেকান্দর চৌধুরী, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশা, কবি সাংবাদিক রাশেদ রউফ, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল। 

সভায় চিরন্তন চট্টগ্রাম প্রকাশনা বিষয়ক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন গবেষক ও সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার। সভায় প্রস্তাবনার ওপরে বিশেষজ্ঞরা মতামত তুলে ধরেন এবং নানা দিকনির্দেশনা দেন। 

সভা শেষে উপস্থিত সবাই ঐতিহ্য কর্নার স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন। 

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ঐতিহ্য কর্নারকে ডিজিটালাইজড করতে চাই। যেন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ সংযুক্ত হতে পারে। আপনারা সবাই আছেন। সবার পরামর্শে আমরা কাজটি এগিয়ে নিতে চাই। পুরো চট্টগ্রামকে মানুষ যেন এই কর্নার থেকে জানতে পারে।’ 

বাংলা একাডেমির ডিজি কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘এই সংকলন যেন বৃহত্তর চট্টগ্রামভিত্তিক হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেন এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। মানুষকে একীভূত রাখে ভাষা। চাটগাঁইয়া ভাষা যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত তার সবটুকু যেন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়।’  

পিএচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগকে সফল করার জন্য আমরা প্রতিদিন আসতে চাই। যে বিদ্যা কেবল জৈবিক চাহিদা মেটায় তা অপরিপূর্ণ বিদ্যা। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ।’

সালমান/

নারী কেলেঙ্কারি : যশোরে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
নারী কেলেঙ্কারি : যশোরে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার
বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম

দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একই দলের নারী কর্মীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সালাউদ্দিন পিয়াস।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেত্রী জানান, দুই বছর আগে যশোর সরকারি এম এম কলেজের বাংলা বিভাগে পড়ার সময় একই কলেজের ভূগোল বিভাগের ছাত্র ও জেলা ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর আস্তে আস্তে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একে অপরকে দেন বিয়ের প্রতিশ্রুতি। সম্পর্ক গভীর হলে তারা একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। তরিকুল তার ভাড়া বাসায় স্ত্রী পরিচয়ে ওই নেত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন। তবে সম্প্রতি মেয়েটি বিয়ের কথা বললে সম্পর্ক অস্বীকার করে তাকে খুনের ভয় দেখাচ্ছেন তরিকুল। এমনকি অন্যত্র বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে মেয়ে দেখছে তরিকুলের পরিবার। 

ওই ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, ‘আমি তরিকুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের কাছে অভিযোগ করেছি। এরপরেও বিচার না পেলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তরিকুল আমার জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে।’ 

এদিকে ওই নেত্রীর সঙ্গে একান্তে কাটানো মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন পিয়াস বলেন, ‘তরিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’ 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।