ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

৩৭ মণ পদ্মরাজের দাম সাড়ে ১০ লাখ

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ২৮ মে ২০২৪, ০৯:৩১ এএম
৩৭ মণ পদ্মরাজের দাম সাড়ে ১০ লাখ
মাগুরা সদরের বেড়আকছি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পালিত ষাড় 'পদ্মরাজ'। ছবি খবরের কাগজ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন আলোচনার মূল বিষয় বড় আকারের ষাঁড়। আকৃতি ও সৌন্দর্যে মাগুরার ‘পদ্মরাজ’ নজর কাড়ছে সবার। ষাঁড়টির মালিক আবুল কালাম আজাদের দাবি, এখন পর্যন্ত এটিই খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাঁড়। যে কারণে প্রতিদিনই কেউ না কেউ কেনার আশায় দেখতে আসছেন। আবার অনেকে শুধু এত বড় ষাঁড়টি সামনাসামনি দেখার জন্যই আসছেন।

৩৭ মণ ওজনের ষাঁড় ‘পদ্মরাজের’ মালিক মাগুরা সদরের বেড়আকছি গ্রামের আবুল কালাম আজাদ পেশায় জেলা মৎস্য অফিসের গাড়িচালক। চার বছর আগে ২ লাখ টাকা দিয়ে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভি কেনেন তিনি। সেই গাভিটি পরপর তিনটি বাচ্চা দেয়। তিন নম্বর বাচ্চাটির নাম রাখা হয় পদ্মরাজ। পদ্মরাজের বয়স এখন আড়াই বছর। ছয় দাঁতের পদ্মরাজের ওজন প্রায় ৩৭ মণ। আসছে কোরবানির ঈদে এটি সাড়ে ১০ লাখ টাকা বিক্রি করতে চান আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান, চার বছর আগে দুই লাখ টাকা দিয়ে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভি কেনেন তিনি। সেই গাভিটি এর আগে আরো দুটি বাচ্চা দিয়েছে। তিন নম্বর বাচ্চাটির নাম রাখা হয় পদ্মরাজ। আড়াই বছর বয়সের হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের পদ্মরাজের ওজন হয়েছে এখন প্রায় ৩৭ মণ। ৬ ফিট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার পদ্মরাজ লম্বায় ১২ ফুট। প্রতিদিন খাবার হিসেবে ষাঁড়টিকে দেওয়া হয় দুই কেজি আখের গুড়, দুই কেজি ছোলা, দুই কেজি সয়াবিনের ভুসি, চার কেজি ভুট্টার দানা ও ছয় কেজি ধানের কুড়া। সঙ্গে থাকে কাঁচা ঘাস ও ধানের বিছালি। তিনি আরও জানান, পদ্মরাজের মায়ের ১৮ থেকে ২০ কেজি দুধ হলেও সেখান থেকে সংগ্রহ করা হতো পাঁচ থেকে ছয় কেজি। বাকি দুধ খাওয়ানো হতো পদ্মরাজকে। 

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিশালাকৃতির দেহ হওয়ায় এটির নাম দিয়েছি  পদ্মরাজ। অনেক খামারি কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করেন। কিন্তু আমি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে ষাঁড়টি পালন করেছি। খাবার হিসেবে আখের গুড়, ছোলা, ভুট্টার দানা, সয়াবিনের ভুসি, খড় এবং কাঁচা ঘাস দিয়েছি। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কেজি খাবার লাগে ষাঁড়টির। খুবই যত্ন করে এটি লালনপালন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আসছে কোরবানির ঈদে এটি বিক্রি করতে চাই। অনেকেই দেখার জন্য আসছে। দাম চাচ্ছি সাড়ে ১০ লাখ টাকা। তবে একটু কম হলেও বিক্রি করে দেব। ষাঁড়টিকে বড় করতে কোনো প্রকার মোটা তাজাকরণের জন্য ব্যবহৃত খাবার খাওয়ানো হয়নি। যে কারণে সে শারীরিকভাবে অনেক সুস্থ।’

ষাঁড়টির লালনপালনের দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, ‘ষাঁড়টিকে নিজের সন্তানের মতো করে লালনপালন করেছি। তাকে সবসময় ভালো খাবার দিয়েছি। মোটাতাজাকরণের খাবার ব্যবহার করিনি, যাতে তার কষ্ট না হয়।’ 

জেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাক্তার মিহির কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘জেলা প্রাণিসম্পদ সমৃদ্ধ একটি জেলা মাগুরা। জেলায় এ বছর কোরবানি পশুর চাহিদা আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। অতিরিক্ত কোরবানির পশুগুলো অন্যান্য জেলায় বিক্রি করা হবে। আর আমরা বিভিন্ন হাটবাজারের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে কোরবানির পশু বিক্রি প্রক্রিয়ার চেষ্টা করছি।’

চিনিকাণ্ডে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ সভাপতির ভাগনে, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৭ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৭ পিএম
চিনিকাণ্ডে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ সভাপতির ভাগনে, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
নাজমুল হোসেন হীরা (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরাকে চিনি চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনো অধরা রয়ে গেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপিপুত্র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য তৌফিকুল হাসান সাগর।

গত রবিবার রাতে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড় এলাকা থেকে ছাত্রলীগের সভাপতির ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহ থেকে সোমবার (২৪ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা হাজতে আনা হয় তাকে। এদিকে চিনি চোরাচালানের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে নারী কেলেঙ্কারির তথ্য। পর্নোগ্রাফি আইনে দুই মামা-ভাগনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক তরুণী।

চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ জগতে মামা-ভাগনের রাজত্বের সাম্রাজ্য বিস্তারের কথা উঠে আসছে আস্তে আস্তে। চাঁদাবাজির টাকায় চার বছরে কোটিপতি বনে গেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন। ঢাকার উত্তরায় কোটি টাকার দুটি ফ্ল্যাট, বৌলাই বাইপাসের কাছে নিজের নামে ৮০ শতাংশ ফসলি জমি ও জেলা শহরের বয়লা এলাকায় ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন। সভাপতির পদবি পাওয়ার পর আর কারোর সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়নি। ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যের কমিটি এক বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সাংগঠনিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বা কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্ণপাত করছে না। এদিকে বেপরোয়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে পুঁজি করে ছাত্রলীগের সভাপতি গড়েছেন তার অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য। গত বছর পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার খুদিরজঙ্গল ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সহসভাপতি জুয়েলের মেয়েকে বিয়ে করেন ছাত্রলীগ সভাপতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুদিরজঙ্গল এলাকার কয়েকজন জানান, পারিবারিকভাবে সম্পন্ন তাদের বিয়ের খবর এলাকার সবাই জানেন।

মোল্লা সুমনের রাজনীতির হাতেখড়ি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিকের কাছে। তবে যার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা, তাকে ছেড়ে বেশির ভাগ সময় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপিপুত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখেন ছাত্রলীগ সভাপতি মোল্লা সুমন। সেই সখ্য থেকে চোরাই চিনির রমরমা ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন কৌশলে চোরাইপথে সুনামগঞ্জ থেকে চিনি আনা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। গত ১৪ জুন শুক্রবার ভোরে বগাদিয়া তালতলা এলাকা থেকে একটি চোরাই চিনির ট্রাক আটক করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ। চিনির ট্রাকটি ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপ আটকে দিলে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনতে থানার পুলিশকে খবর দেন মোল্লা সুমনের ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরা। 

এরপর থানা থেকে চিনির ট্রাক ছাড়িয়ে নিতে ভুয়া চালান থানায় জমা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তখন চিনির ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করা হয়। চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ। এদিকে মামলার পরপরই চিনি চোরাচালানে ব্যাংকে ও বিকাশে টাকা লেনদেন ও বিভিন্ন কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরও পুলিশ ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চোরাই চিনির সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতির সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলেও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সূত্র জানায়, কটিয়াদি ও পাকুন্দিয়া উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও গ্রামগুলোতে ভারতীয় চোরাই চিনি ছড়িয়ে দিতে একটি টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী সহযোগীর কাজ করে যাচ্ছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে সবচেয়ে বড় চিনি চোরাচালানের ঘটনায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপিপুত্র তৌফিকুল হাসান সাগরের হাত রয়েছে। সবকিছুই মুঠোফোনে নিয়ন্ত্রণ করেন সাগর। ইতোমধ্যে চিনি সিন্ডিকেটে জড়িত ব্যক্তিরা গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ভারতীয় চিনির ব্যবসায় সহযোগিতা করছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহম্মেদ তুহিন। তার নেতৃত্বে চিনি বিক্রয়ের টাকা জমা রাখা হয়। এই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হিমেল, যুবলীগ নেতা রাজন মিয়া, যুবলীগ নেতা রাজিব। তারা প্রত্যেকেই কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপির ঘনিষ্ঠ। তবে তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন মুখ খুলতে চান না। সবাই এমপির লোক বলে এলাকার মানুষজন ভয়ে ভয়ে থাকে।

চিনি সম্পৃক্ততায় ভাগনে হীরাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনকে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ খবরের কাগজকে বলেন, চিনি চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের ভাগনে নাজমুল হোসেন হীরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও যারা যারা চিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ঐতিহ্য কর্নার স্থাপন ও চিরন্তন চট্টগ্রাম গ্রন্থ ইতিহাস সৃষ্টি করবে’

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
‘ঐতিহ্য কর্নার স্থাপন ও চিরন্তন চট্টগ্রাম গ্রন্থ ইতিহাস সৃষ্টি করবে’
ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে ঐতিহ্য কর্নার স্থাপন ও ‘চিরন্তন চট্টগ্রাম’ গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ একটি ঐতিহাসিক কাজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। 

রবিবার (২৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

ড. অনুপম সেন আরও বলেন, ‘চিরন্তন চট্টগ্রাম গ্রন্থ ও ঐতিহ্য কর্নার স্থাপনের এই উদ্যোগ একটি মিউজিয়ামের আদলে তৈরি করা হবে। সার্বিকভাবে এতে বিশেষ ঘটনা ও বিষয়গুলো লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। যাতে চট্টগ্রাম নতুন প্রজন্মের কাছে মূর্ত হয়ে উঠে। পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম দখল করেছিল। সন্দ্বীপ থেকে তারা লোকজন ধরে নিয়ে ইউরোপে বিক্রি করত। চট্টগ্রামে শাহ সুজা আসেন। আরাকানরা এসেছিল। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা এখানে তুলে ধরা হবে। তরুণরাই মূল কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা তাদের পরামর্শ দেবেন ও গাইড করবেন।’ 

ড. অনুপম সেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সাবেক মুখ্য সচিব এম এ করিম, বাংলা একাডেমির ডিজি কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, পিএচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান, ইস্পাহানি গ্রুপের কর্ণধার সালমান ইস্পাহানি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সেকান্দর চৌধুরী, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশা, কবি সাংবাদিক রাশেদ রউফ, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল। 

সভায় চিরন্তন চট্টগ্রাম প্রকাশনা বিষয়ক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন গবেষক ও সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার। সভায় প্রস্তাবনার ওপরে বিশেষজ্ঞরা মতামত তুলে ধরেন এবং নানা দিকনির্দেশনা দেন। 

সভা শেষে উপস্থিত সবাই ঐতিহ্য কর্নার স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন। 

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ঐতিহ্য কর্নারকে ডিজিটালাইজড করতে চাই। যেন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ সংযুক্ত হতে পারে। আপনারা সবাই আছেন। সবার পরামর্শে আমরা কাজটি এগিয়ে নিতে চাই। পুরো চট্টগ্রামকে মানুষ যেন এই কর্নার থেকে জানতে পারে।’ 

বাংলা একাডেমির ডিজি কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘এই সংকলন যেন বৃহত্তর চট্টগ্রামভিত্তিক হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেন এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। মানুষকে একীভূত রাখে ভাষা। চাটগাঁইয়া ভাষা যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত তার সবটুকু যেন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়।’  

পিএচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগকে সফল করার জন্য আমরা প্রতিদিন আসতে চাই। যে বিদ্যা কেবল জৈবিক চাহিদা মেটায় তা অপরিপূর্ণ বিদ্যা। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ।’

সালমান/

নারী কেলেঙ্কারি : যশোরে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
নারী কেলেঙ্কারি : যশোরে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার
বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম

দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একই দলের নারী কর্মীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সালাউদ্দিন পিয়াস।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেত্রী জানান, দুই বছর আগে যশোর সরকারি এম এম কলেজের বাংলা বিভাগে পড়ার সময় একই কলেজের ভূগোল বিভাগের ছাত্র ও জেলা ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর আস্তে আস্তে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একে অপরকে দেন বিয়ের প্রতিশ্রুতি। সম্পর্ক গভীর হলে তারা একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। তরিকুল তার ভাড়া বাসায় স্ত্রী পরিচয়ে ওই নেত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন। তবে সম্প্রতি মেয়েটি বিয়ের কথা বললে সম্পর্ক অস্বীকার করে তাকে খুনের ভয় দেখাচ্ছেন তরিকুল। এমনকি অন্যত্র বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে মেয়ে দেখছে তরিকুলের পরিবার। 

ওই ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, ‘আমি তরিকুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের কাছে অভিযোগ করেছি। এরপরেও বিচার না পেলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তরিকুল আমার জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে।’ 

এদিকে ওই নেত্রীর সঙ্গে একান্তে কাটানো মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন পিয়াস বলেন, ‘তরিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’ 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

পদ্মায় গোসলে নেমে দুই ভাইসহ ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:০৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:০৯ পিএম
পদ্মায় গোসলে নেমে দুই ভাইসহ ৩ জনের মৃত্যু
নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। ছবি : খবরের কাগজ

পাবনায় পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (২৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরিয়া ডাঙ্গীর পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো- চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোহাইলবাড়ি এলাকার আলাল হোসেনের দুই ছেলে নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছাব্বির হোসেন (১৪) ও গোহাইলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন (১০) এবং চরতারাপুর ইউনিয়নের আটঘরিয়াপাড়া গ্রামের ইসলাম সরদারের ছেলে কাঁচিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নূর হোসেন (১০)। 

স্থানীয়রা জানান, দুপুর ২টার দিকে তারা নদীতে গোসল করতে যায়। তারা উঁচু-নিচু বালুর স্তূপের ওপর দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা ধসে পড়ে পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করে। অপর তিনজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ছোট দুইজনকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই ছাব্বিরেরও মৃত্যু হয় বলে জানান তারা।

এদিকে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের বাবা আলাল হোসেন বলেন, ‘আমি এখন কেমন করে বেঁচে থাকব? আমিতো এতিম হয়ে গেলাম। দুই ছেলে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। একজন বাবার পক্ষে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’

চরতারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে চারজন তলিয়ে যায়। একজনকে বাঁচানো গেলেও তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অল্প কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে পুরো গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, ‘একসঙ্গে গোসলে নেমে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’ 

পার্থ হাসান/সালমান/ 

কুশিয়ারায় উল্টোচিত্র, ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫৩ পিএম
কুশিয়ারায় উল্টোচিত্র, ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
ছবি : খবরের কাগজ

সিলেটের প্রায় সব উপজেলায় নদ-নদীর পানি কমতে থাকলেও ব্যতিক্রম ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। সিলেটজুড়ে যখন মানুষের ঘরবাড়ি থেকে পানি নামছে তখন ফেঞ্চুগঞ্জের মানুষের ঘরবাড়িতে পানি। ইতোমধ্যে কুশিয়ারার পানি বেড়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

সিলেটের অন্যান্য নদীর পনি দ্রুত কমতে থাকলেও এই উপজেলা উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারার পানি কমছে খুব ধীরে। বৃষ্টি ও ভারতের উজানের ঢল না থাকলেও ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে এই উপজেলার মানুষ।  

ফেঞ্চুগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারার পানির উল্টোচিত্রের কারণ হিসেবে আরও দুটি নদীর পানিপ্রবাহের চাপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ধীরগতিতে পানি কমার কারণ বিশ্লেষণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস খবরের কাগজকে বলেন, জুড়ি নদী ও মনু নদী কুশিয়ারায় এসে মিলেছে। এছাড়া সব হাওর, নদীসহ নিচু এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। তাই পানি ধারণের জায়গা নেই। এজন্যই কুশিয়ারা নদীর পানি ধীর গতিতে কমছে। তবে যেহেতু সিলেটে বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং দুদিন যাবত রোদ ওঠছে তাই একটু সময় দিতে হবে এই নদীর পানি কমার জন্য। বর্ষাকাল চলমান তাই বৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের সিলেট এবং ভারতে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পানি আবারও বাড়বে।

এদিকে এই পানিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যাক্রান্ত মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ করতে বেগ পতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন তারা। 

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পাড়ে পূর্ব পিটাইটিকর নয়াগ্রামের বাসিন্দা মো. লুকুস মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগের দিন পানি ওঠে আমাদের বাড়িতে। এখনও পানিবন্দি আছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। চেয়ারম্যান, মেম্বার, এমপি অনেক হর্তাকর্তা আছেন কিন্তু আমাদের কেউ একটু সাহায্য করেনি। আমার আমাদের বাচ্চাকাচ্চা, গরু বাচুর নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। পানি যেদিন ঢুকেছে সেদিন ঘরের অর্ধেক মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এখন দুয়েকটি কাঁথা বালিশ আছে এগুলোতেই পরিবার নিয়ে কোনোভাবে বসবাস করছি।’

একই এলাকার বাসিন্দা মো. বাছন মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগের দিন পানি ওঠে বাড়িতে। রান্নার চুলা পানির নিচে। তাই ঈদের দিনও কিছু রান্না করে খেতে পারিনি আমরা। নৌকা দিয়ে উচু জায়গায় গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু খাবার রান্না করে আনি। আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কেউ একটু শুকনো খাবারও দেয়নি। ঈদের দিন থেকে খেয়ে না খেয়ে এখন পর্যন্ত দিন যাপন করছি আমরা।’

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ৫টি ইউনিয়নের ২৫টির বেশি গ্রামে বন্যাপ্লাবিত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ১২০ জন। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রে এক হাজার ১৩৫ জন বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। 

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা খবরের কাগজেকে বলেন, ‘অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জের পানি অনেক ধীরগতিতে নামছে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। যখন যেখানে জেনেছি মানুষজন পানিবন্দি আছেন সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। তবে যেহেতু এলাকা বড় এবং বন্যাকালীন সময় তাই কিছু পানিবন্দি মানুষের খবর আমরা নাও পেতে পারি। কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট করে বলেন, কোথায় কতজন পানিবন্দি আছেন আমরা ত্রাণ পৌঁছে দেব।’

পূর্ব পিটাইটিকর নয়াগ্রামের বাসিন্দারা এখনো কোনা ত্রান পাননি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা সদর ইউনিয়নে পড়েছে। এই এলাকার দায়িত্ব চেয়ারম্যান সাহেব নিজে নিয়েছেন। তিনি যদি কাউকে সাহায্য না করেন তাহলে আমাকে নিদিষ্ট করে কতজন মানুষ ত্রাণ পাননি জানালে আমি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেব।’

শাকিলা ববি/অমিয়/