সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার কালিঞ্চিতে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় দলের কমপক্ষে ৬ জন আহত হন। এর ভেতর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন- স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ লাল্টু, বিএনপিকর্মী নূর আহাদ, জামায়াতকর্মী আব্দুর রহমান, আব্দুল খালেক, আব্দুস সবুর ও মুনসুর আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চিতে ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের স্মার্ট কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্ড বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
জানা গেছে, একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে আগে কার্ড দেওয়াকে নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় মেম্বার আব্দুল হামিদ লাল্টুর কথা কাটাকাটি হয়। লাল্টু আওয়ামী লীগকর্মী নেতা হওয়ায় প্রথমে স্থানীয় বিএনপিকর্মীরা তার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে সেখানে জামায়াত নেতা-কর্মীরাও হাজির হয়।
জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গেলে আওয়ামী লীগ সমথির্ত ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু ও আলী আজগর বুলুর নেতৃত্বে তাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে জামায়াতের একাধিক কর্মী গুরুতর আহত হন। আর এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান রমজাননগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির গাজী নজরুল ইসলাম।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লালটু বলেন, 'স্মার্ট কার্ড বিতরণ নিয়ে দুইটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আমি বিষয়টি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ালে তারাসহ জামায়াতকর্মীরা আমার ওপরে হামলা চালায়। এতে আমি আহত হয়। এ সময় আমাকে উদ্ধার করতে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন। এতে আত্মরক্ষার্থে আমার লোকজন তাদের ওপরে হামলা চালায়।'
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) ফকির তাইজুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাজমুল শাহাদাৎ/জোবাইদা/