ঠাকুরগাঁওয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ফারহানা সরকার নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার কালিতলায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে।
নিহত ফারহানা সরকার সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের ফরহাদ হোসেনের মেয়ে। সে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবগঞ্জ রোড থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও রোড থেকে আসা একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে অটোরিকশাটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ফারহানা মারা যায়।
কালিতলা এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাসান আলী বলেন, ‘আমি রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে আসছে আর বিপরীত দিক থেকে আসছিল অটোরিকশাটি। মুহূর্তের মধ্যেই সংঘর্ষ ঘটে। আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি অটোরিকশার সব যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’
এই দুর্ঘটনায় আহত বাকি চারজন হলেন শিবগঞ্জ এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), আকচা ইউনিয়নের আব্দুল আজিজের মেয়ে মুক্তা (৫০), জামালপুর ইউনিয়নের ফুটকিবাড়ি গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে রিদম (১৫) ওপীরগঞ্জ উপজেলার মো. আতিকুর রহমানের ছেলে সাজু ইসলাম (২৪)।
আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল আলম চয়ন বলেন, ফারহানাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তাদের চিকিৎসা চলছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। একজন স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছে, ট্রাক চালকের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা সড়কের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে। এই রাস্তায় এর আগেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরও প্রাণ ঝরবে।
নবীন হাসান/মাহফুজ/এমএ/