চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীতে সারবাহী এমভি বাখেরাহ জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই জাহাজের খালাসি আসামি আকাশ মন্ডল প্রকাশ ইরফান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে তোলা হলে আসামি ইরফান এ জবানবন্দি দেন।
ইরফান আদালতকে বলেন, ‘জাহাজের মাস্টার কিবরিয়ার বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। এরপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোট আটজনকে হত্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে জুয়েল নামে একজন বেঁচে যান।’
চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জর্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কোহিনূর বেগম জানান, বিগত ২৪ ডিসেম্বর মেঘনা নদীতে সংগঠিত ৭ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি আকাশ মন্ডল প্রকাশ ইরফানকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে মর্মে তাকে আদালতে তোলা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে সে এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড এবং নিজেই এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে জানায়। এ সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
এ দিকে আকাশ মন্ডল প্রকাশ ইরফানকে আদালতে আনার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেশ তৎপর দেখা গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে আসামি আকাশ মন্ডল ইরফানকে র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় র্যাব-১১ কুমিল্লা অভিযান চালিয়ে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে আসামিকে র্যাব-১১ কুমিল্লায় নিয়ে আসে। সেখানে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন র্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চাঁদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌপুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো. কালাম খান আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর ইশানবালা মাঝেরচর খালের মুখে নোঙর করে রাখা সারবাহী জাহাজ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
খুন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- জাহাজের মাস্টার ফরিদপুর সদরের জোয়াইর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া (৬৫), তার ভাগনে লস্কর- শেখ সবুজ (৩৫), সুকানি নড়াইলের লোহাগড়ার আমিনুল মুন্সী (৪০), মাগুরার মহম্মদপুরের মাজেদুল ইসলাম (১৭), একই এলাকার লস্কর সজিবুল ইসলাম (২৬), ইঞ্জিন চালক নড়াইল লোহাগড়া এলাকার সালাউদ্দিন মোল্লা (৪০) এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার বাবুর্চি রানা (২০)। এছাড়া আহত সুকানি জুয়েল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন।
ইউরিয়া সারবোঝাই করে জাহাজটি চট্টগ্রামের কাফকো সার কারখানা থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল।
ফয়েজ আহমেদ/মাহফুজ/এমএ/