নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের করমদাশী গ্রামর বাসিদা ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর দেলোয়ার হোসন দুলু ৫৩ বছর বয়সে দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা। তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজলার উমরগাড়ী দারুল খায়র দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার কারিগরি শাখায় কম্পিউটার ট্রেডের শিক্ষার্থী হিসাবে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বাংলা পরীক্ষায় তিনি ৬০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন।
ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর নাছির উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে জানান, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে নবম শ্রেণির ভর্তিতে বয়স শিথিলযোগ্য। গতবছরও জামনগর এলাকার ৬৮ সালে জন্ম নেওয়া মোস্তফা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এবারে ৭২ সালে জন্ম নেওয়া দুলু ওই পরীক্ষায় অংশ বিচ্ছেন। এতে এক সময়ের নানা কারণে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরা নতুনভাবে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর এর ফলে দেশে শিক্ষার হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ওই সুযোগ নিয়ে মানুষ যেকোনো বয়সে আবারও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন যা অপরদের উৎসাহিত করছে। এরই এক উদাহরণ ওই দুলু মেম্বর। তিনি দুলুর ভালো ফলাফলের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থী জানান, তিনি ১৯৭২ সালে ১২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। ১৯৯১ সালে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু এক পরীক্ষায় দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট তার সিটের পেছনে নকলের কাগজ পান। ওই কাগজ তার নয় এমন দাবি করলেও কোনো কথা না শুনে তাকে ৩ বছরের জন্য এক্সপেল করা হয়। ওই রাগে আর ক্ষোভে তিনি পড়ালেখা বাদ দেন।
তিনি আরও জানান, সংসার জীবনে তিনি তিন কন্যার বাবা। প্রথম জমজ কন্যা শারমিন সুলতানা ও শামিমা সুলতানা গণিতে মাস্টার্স করে চাকুরি করছেন। একজনকে বিয়ে দিয়েছেন এবং তার প্রায় দুই বছর বয়সী নাতি রয়েছে। ওদের ২০ বছরের ছোট তৃতীয় মেয়ে নুসরাত জাহান নাবিলা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
তার বাবা প্রাইমারি শিক্ষক ছিলেন। দুই ভাই শিক্ষক। স্ত্রীও শিক্ষিত। এমন অবস্থায় পুরো পরিবারেই তিনি ছিলেন বেমানান। এনিয়ে মেয়েসহ সকলেই দীর্ঘদিন থেকেই তাকে আবারও পড়ালেখা শুরুর কথা বলছিলেন। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তার দাবি, গত বছর নবম শ্রেণির পরীক্ষায় তিনি ৪.৬৪ পেয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফল করবেন এমন আশা রয়েছে তার। তিনি এসএসসি পাশ করে ক্রমান্বয়ে মাস্টার্স শেষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ইউপি মেম্বর শহিদুল ইসলাম জানান, দুলুর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিষদের সকলেই খুশি। এলাকাবাসী হিসাবেও তারা গর্বিত। তারা দুলুর পড়ালেখার ক্রমোন্নতি প্রত্যাশা করেন।
প্রতিষ্ঠানের সুপার মোজাম্মেল হক দাবি করেন, দুলু মেম্বর হিসাবে ২০২১ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে মানুষের সেবা করছে। মেম্বার হিসাবে তার সুনাম রয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায়ও সুনামের সঙ্গে পাশ করবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রবানী জানান, সরকার ইতোমধ্যেই জনপ্রতিনিধি প্রার্থী হওয়ার জন্য শিক্ষার মানদণ্ড ঘোষণা করেছেন। ওই ক্ষেত্রেও দুলুর শিক্ষা কাজে আসবে। দুলুর দেখাদেখি অনেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী হয়ে দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি করবে- এমন প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি দুলুর মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখার সিদ্ধান্তে সফলতা কামনা করেন।
কামাল মৃধা/মাহফুজ