ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস কৃষি শব্দকোষ টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা
Nagad desktop

ভোলায় দুর্গম চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে কিং আব্দুল্লাহ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৫, ১০:২৯ এএম
ভোলায় দুর্গম চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে কিং আব্দুল্লাহ
কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ মোবাইল হসপিটাল।

ভোলা জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে পাঙ্গাসিয়া গ্রাম। গ্রামের একটি খালে ভাসমান ‘কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ মোবাইল হসপিটাল’। এ হাসপাতালে রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অস্ত্র পাচারের মতো জটিল সেবা দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। হাসপাতালটিতে সবকিছুই মিলছে বিনামূল্যে। হাতের নাগালে এমন মোবাইল হাসপাতাল পেয়ে খুশি দুর্গম চরের হতদরিদ্র বাসিন্দারা।

সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা পাঙ্গাসিয়া চরের কিষানি আমেনা বেগম, সুফিয়া, কৃষক সিরাজুল, মোহাব্বত মাঝি ও ওহাব মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তারা সবাই খুশি। তারা বলেন, জীবনের প্রথম আমরা বিনামূল্যে সঠিক চিকিৎসা পেয়েছি। এ হাসপাতালে ডাক্তার স্যাররা খুব ভালো ব্যবহার করেন। ভালো চিকিৎসাও দেন। বিনামূল্যে ওষুধও দেন। 

ভোলার দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা যেন সোনার হরিণ। এর আগে স্থানীয়ভাবে সরকারি কিংবা বেসরকারি, কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পেত না তারা। দ্বীপ জেলা ভোলার দুর্গম চরের প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ মোবাইল হসপিটালের প্রধান উদ্দেশ্য। একই ধরনের পাঁচটি জাহাজকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা উপযোগী করে দেশের উপকূলীয় ১২টি জেলায় বিনামূল্যে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এ ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। সারা বছর দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘুরে ঘুরে নতুন নতুন চরে নোঙর করে স্বাস্থ্যসেবা দেয় এ হাসপাতাল। আর হাতের নাগালে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে খুশি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। 

হাসপাতালের সুপারভাইজার রমিজ রিমন জানান, ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই বাংলাদেশে এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। সেই থেকে উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় তারা নিয়োজিত। চলতি বছরের ১৬ মে থেকে তারা ভোলার পশ্চিম ইলিশা খালে ভিড়ে সেখানকার ‘ভাষা শহীদ স্মৃতি’ কলেজ মাঠে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যা আগামী তিন মাস চলবে। 

তিনি বলেন, এই তিন মাস ভোলা সদরের চরাঞ্চল ও দৌলতখান উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত করে কোনো চরের তালিকা করা হয়নি। এ দুই উপজেলার সব চরের বাসিন্দাদের জন্য চিকিৎসাসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এখানে তিনজন মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৩৫ জন স্টাফ কর্মরত আছেন। এখানকার কাজ শেষ করে অন্য কোনো উপকূলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে যাবে এ হাসপাতাল। 

রিমন আরও জানান, এ কার্যক্রমের অধীনে আরও চারটি হাসপাতাল আছে। এ পাঁচটি হাসপাতাল উপকূলীয় ১২টি জেলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খুলনা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর। অপর চারটি ভাসমান হাসপাতাল বর্তমানে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার চরাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী ভাসমান এ হাসপাতালগুলো এসব জেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে তিন মাস করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে। 

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সঞ্জীব প্রামাণিক বলেন, সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ ভাসমান ভ্রাম্যমাণ এ হাসপাতালটির মূল উদ্যোক্তা। তার মহানুভবতায় এটি চলমান রয়েছে। এখানে গরিব, অসহায় ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিন এ ক্যাম্পে গড়ে ২৫০ নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। এখানে নারীদের গর্ভ-পরবর্তী সমস্যাগুলোর চিকিৎসাই বেশি দেওয়া হয়।  

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবায় ভাসমান এ হাসপাতাল একটি চমৎকার ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশেষ করে উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন জনপদের জন্য এটি আশীর্বাদ বলে মনে করি।’ 

ভোলার সামাজিক সংগঠন বদ্বীপ ফোরামের আহ্বায়ক মীর মোশাররফ অমি বলেন, ‘উপকূলবাসীর জন্য সার্বক্ষণিক উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাতের নাগালে এ ধরনের আরও হাসপাতাল চালু করা দরকার।’

জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মুবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভাসমান এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিঃসন্দেহে চরের গরিব মানুষের জন্য একটি আশার প্রদীপ।’

জানা যায়, সৌদি আরবের প্রাক্তন বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ ভাসমান একই ধরনের পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল তৈরি করে দিয়েছেন। বর্তমানে এটির আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে সৌদি আরব। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এগুলোকে মনিটরিং করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, আগামী পাঁচ বছর পর ভ্রাম্যমাণ এ জাহাজগুলো পুরোপুরি সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে চলে যাবে। সূত্র: বাসস

 

টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।  

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

এদিকে বিশৃঙ্খলারোধে গোপালপুরের নলীন বাজার, গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষে একজন মারা যাওয়ায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আরেক দফায় মাইকিং করে সহিংসতার ডাক দেয় গোপালপুরের লোকজন। 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরই গোপালপুর ও ভূঞাপুরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। 

তবে আজ সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে অন্তত তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান খবরের কাগজকে বলেন, প্রথমে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হলেও এখন একাধিক গ্রামে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। 

উল্লেখ্য, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ান দুই গ্রামের লোকজন। দেশীয় অস্ত্রে দফায় দফায় চলে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সংঘর্ষে কালাম তালুকদারসহ অনেকেই আহত হন। পরে তাদের ভূঞাপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

জুয়েল রানা/থিও

ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই
ছবি: খবরের কাগজ

মায়ের মৃত্যুর পর যেন থমকে গেছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন তিন ভাইয়ের জীবন। ক্ষুধা লাগলে নির্বাক এই তিন ভাই হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে বসে থাকেন মায়ের চিতার পাশে। পটুয়াখালীর বাউফলে মানবেতর জীবনযাপন করা এই তিন ভাই এখন বেঁচে আছেন কেবল প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপর ভর করে।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠী গ্রামের দাসনগর এলাকায় একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করেন রিপন দাস (৪৫), সাধন দাস (৩৮) ও নিদু দাস (৩৫)। জন্ম থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই তিন ভাইয়ের মধ্যে সাধন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, আর রিপন ও নিদু বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ক্ষুধা লাগলে তারা ঠিকমতো খাবারও চাইতে পারেন না। 

একসময় বাবা রতন চন্দ্র দাস ও মা সরস্বতী রানীর স্নেহ-ভালোবাসায় কোনোমতে চলছিল তাদের জীবন। কিন্তু ২০২৫ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের কাঁধে। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিন সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন লিভার ও কিডনি রোগে ভুগে গত মাসে মারা যান মা সরস্বতী রানীও। এরপর থেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন তিন প্রতিবন্ধী ভাই।

পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড় বোন প্রায় ২০ বছর আগে ভারতে চলে যান। অপর এক ভাই দিনমজুরের কাজ করে নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো সামর্থ্য তারও নেই।

স্থানীয়রা খবরের কাগজকে জানান, এখন তাদের জীবন চলে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারে। কেউ খাবার দিলে তারা খেতে পারেন, না দিলে অনেক সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। ক্ষুধার কষ্টে কখনও কখনও তারা খাবারের প্লেট হাতে মায়ের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এক বেলা খাবার খাইলে দুই বেলা না খাইয়া থাকতে হয়। আমরা যদি খাবার না দেই, তাইলে না খাইয়া দিন কাটে। প্রতিবেশীরা তো সবসময় সাহায্য করতে পারে না। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি এগিয়ে আসে, তাহলে তাদের একটু উপকার হয়।’

আরেক প্রতিবেশী বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পরও তাদের মা অনেক কষ্ট করে তিন সন্তানকে আগলে রাখছিলেন। কিন্তু মা মারা যাওয়ার পর তারা একেবারে অসহায় হয়ে গেছে। এখন দুই বেলা খাবার দেওয়ার মতোও কেউ নাই। কেউ দিলে খায়, না দিলে না খাইয়াই থাকতে হয়।’

এদিকে, তিন ভাইয়ের দুর্দশার খবর পেয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিন প্রতিবন্ধী ভাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ কেজি চাল ও ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও তাদের পরিবারের যে সুস্থ ভাই আছেন, তার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।’

মা-বাবা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জীবনে এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা দুবেলা খাবার। ক্ষণস্থায়ী সরকারি সহায়তা মিললেও দীর্ঘমেয়াদে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী সহযোগিতা। স্থানীয়দের আশা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন এ তিন ভাই।

মশিউর মিলন/থিও

নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর হাপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ২৩৮ নম্বর পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ভারতীয় ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পান্নাছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করে। যাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তবে হাপানিয়া বিওপির টহল দল ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনেই আটকে দিয়েছে।

বর্তমানে তাদের কাঁটাতারবিহীন অংশ দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তামান্না রুপা/

ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

বাজারে কাপড়, কসমেটিকস, ফলের দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে।

তামান্না রুপা/

মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা ও মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সদর থানার টরকী উচ্চ বিদ্যালয় (জুনিয়র স্কুল) সংলগ্ন ব্রীজের ওপর থেকে তাদের আটক করা হয়।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গিয়েছে, আটককৃতরা হলেন, সুমন মিঝি (২৮), খান জাহান আলী (২৪), মো: লিংক মিঝি। আটক তিনজনই সদর উপজেলার টরকী এলাকার বাসিন্দা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সুমন মিঝি, খান জাহান আলী ও মোঃ লিংক মিঝি কে ২৪ ক্যান করে মোট ৭২ ক্যান বিয়ারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে সুমন মিঝি ও খান জাহান আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক দশটার দিকে জাহেদ মিঝি গংদের পুকুর পাড়ের ঝোপের মধ্যে থেকে ১৬৮ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সুমন/থিও/