ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

দেশে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটছে

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৫ পিএম
দেশে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটছে
ফল বাগান করার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন এক চাষি। ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশে একসময় বাণিজ্যিকভাবে অঞ্চলভিত্তিক নানা ধরনের ফল উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বাণিজ্যিকভাবে ফলের আবাদ হচ্ছে। এতে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটছে। মাটিতে সঠিক পরিচর্যা, উন্নত জাত আর আধুনিক চাষাবাদের কারণেই ফল চাষে আশার আলো সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই যুগ আগেও এ দেশে আম আর কাঁঠাল ছিল প্রধান ফল। বাড়ির আনাচে কানাচে ফেলে দেওয়া বীজ থেকে চারা ও গাছ থেকে ফল উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে জাম, লিচু, কুল, কামরাঙা, পেঁপে, বেল, লেবু, আনারস, সফেদা, লটকন ও তরমুজ চাষ হচ্ছে। 

এ ছাড়াও বিদেশি ফল, মাল্টা, অ্যাভোকেডো, স্ট্রবেরি, থাই সফেদা, খাটো জাতের নারিকেল, আরবি খেজুর, রাম্বুটান, চেরি, আলুবোখারা, নাশপাতি, ড্রাগন ফ্রুট ও ডুরিয়ানও চাষাবাদের আওতায় এসেছে।

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফসল পুষ্টির জন্য মাটি থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান গ্রহণ করে বিধায় বিভিন্ন ফসল আবাদের ফলে মাটির উর্বরতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিভিন্ন ফসল মাটি থেকে বিভিন্ন পরিমাণে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে থাকে। তাই ঘাটতি পূরণের জন্য জমিতে জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বয়ে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা উচিত। এ ছাড়াও কিছু অঞ্চলে মাটির উর্বরতা মাঝারি। জৈব পদার্থের পরিমাণও কম, এসব অঞ্চলে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি কিন্তু ক্যালসিয়াম অনুপাতে কম। তাই এসব অঞ্চলে সার বেশি পরিমাণ প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা উচিত। আগে কৃষকরা মাটিতে জৈব সার ব্যবহারের দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু বর্তমানে তারা বিভিন্ন ধরনের সার সঠিক নিয়মে ব্যবহার করে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ফলনও হচ্ছে দ্বিগুণ। বর্তমানে দেশে চাষ হচ্ছে ৭২ প্রজাতির ফল।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘অধিক ফলন পেতে হলে উন্নত জাত, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও মাটির পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হবে। অনেক মাটিতে সঠিক গুণাগুণের পরিমাণ কম। ফলে ওইসব মাটিতে শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করলেও আশানুরূপ ফলন আসে না। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী রাসায়নিক সারও ব্যবহার করতে হয়। এতে মাটির গুণাগুণ পরিবর্তন হয় না। তবে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির গুণাগুণ কমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফলের উৎপাদন বাড়ার আরেকটি প্রধান কারণ জলবায়ুর পরিবর্তন। গাজীপুর কাঁঠাল-পেয়ারার জন্য ও পিরোজপুর পেয়ারা, ডাব ও আমড়া চাষের জন্য বিখ্যাত। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এসব ফল দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়াও রাজশাহীর আম ও দিনাজপুরের লিচু আবহাওয়া জনিত কারণেই অন্য জেলার চেয়ে স্বাদ ভালো হয়।’

একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. মোসলে উদ্দিন বলেন, ‘উপযুক্ত মাটি না হলে অর্থাৎ ফসলের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সমৃদ্ধ মাটি না হলে কাঙ্ক্ষিত ফসল পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় আবাদি জমির পরিমাণ খুবই কম। তাই এ জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের মাধ্যমে অধিক ফসল আবাদের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বর্তমানে কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকরাও বাণিজ্যিকভাবে ফলের বাগান করছেন। এতে সঠিকভাবে মাটির পরিচর্যা হচ্ছে। তারা উচ্চফলনশীল, রোগ, পোকামাকড় সহনশীল ও আবহাওয়া উপযোগী উন্নত জাত চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ন্ত গাছের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিমাণমতো সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের গোড়া থেকে সামান্য দূরে সার ছিটিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। ফলন্ত গাছে সাধারণত বছরে দুবার সার প্রয়োগ করতে হয়। সঠিক সময়ে পরিমিত সার প্রয়োগ করলে মাটির গুণগত মান পরিবর্তন না হয়ে ফলন বাড়বে।’

দীর্ঘদিন ধরে ফল নিয়ে গবেষণা করে আসছেন বিনার উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম মিঠু। তিনি দৈনিক খবরের কাগজকে জানান, বর্তমানে প্রতি বছর দেশে ভালো ফলন হচ্ছে। কিন্তু এখানেও চাহিদার তুলনায় কম। এ জন্য প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ফল এদেশে আমদানি করতে হয়। আমদানি বন্ধ করে রপ্তানি করতে জোর দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী ফল নিয়ে গবেষণা চলছে। একে একে উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন উন্নত জাত।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বীজ থেকে ফলগাছ হওয়ায় ফলন ও গুণমান উভয় নিম্নমানের হয়। এ জন্য মানসম্পন্ন কলম-চারার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ফলের চাহিদা ২০০ গ্রাম। আগে অসুখ না হলে কেউ ফল খাওয়ার কথা ভাবতেন না। কিন্তু এখন প্রতিদিন তাদের খাবারের তালিকায় থাকছে বিভিন্ন ধরনের ফল।

এ বিষয়ে বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘উৎপাদন বাড়াতে হলে মাটির গুণগত মান বজায় রেখে চাষাবাদ করতে হবে। আমরা চাই আমাদের কৃষিকে আধুনিক কৃষিতে, বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করতে যেন কৃষকরা চাষাবাদ করে লাভবান হন। আমরা এখন খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিতে জোর দিচ্ছি।’

দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চট্টগ্রাম চেম্বার-আইএলও কাজ করবে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০১ পিএম
দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চট্টগ্রাম চেম্বার-আইএলও কাজ করবে
চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইএলও'র যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন চেম্বার সভাপতি। ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম চেম্বার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামে প্রাইভেট সেক্টরের উন্নয়ন এবং দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপায় শীর্ষক আলোচনা সভা মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় আইএলওর প্রতিনিধিরা চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ জানান, চট্টগ্রাম এ অঞ্চলের অন্যতম ব্যবসায়িক হাব। এখানে রয়েছে দেশের বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর। যেখানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ৩টি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিসিকের শিল্পনগরীগুলোতে কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। এখানেও রয়েছে কর্মসংস্থানের দারুণ সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়িক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপায় বের করা ও দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে গুণগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, কক্সাবাজারে পর্যটন, ইকো ট্যুরিজম ও মেরিন ট্যুরিজম, ব্লু ইকোনমি এবং লবণ শিল্পের উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু এসব সেক্টরে কী পরিমাণ জনশক্তি প্রয়োজন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। তাই আইএলও এবং বাণিজ্য সংগঠনগুলো কর্মসংস্থানের সংখ্যা চিহ্নিতপূর্বক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। 

আইএলওর প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে মোট ৫টি সেক্টরের জন্য সমীক্ষা করে ৪৯টি স্কিল ক্যাটাগরি চিহ্নিত করেন। এই ৪৯টি ক্যাটাগরির দক্ষতা উন্নয়নের জন্য চিটাগাং চেম্বারের সঙ্গে আইএলও যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

এ সময় আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টিওমো পৌটিঅ্যাইন্যান, চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ এবং ওমর মুক্তাদির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ নাসিরুল আলম (ফাহিম), চট্টগ্রাম চেম্বার সেক্রেটারি ইনচার্জ প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক, বেপজা ও বেজার কর্মকর্তারা, ফুটওয়্যার, শিপিং, আইটি, ই-কমার্স, ট্যুরিজম, ইলেক্ট্রনিক্স, লজিস্টিক্স, টেক্সটাইল ও আরএমজি সেক্টরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শরীয়তপুরে বোরো আবাদ শেষ পর্যায়ে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
শরীয়তপুরে বোরো আবাদ শেষ পর্যায়ে
জমিতে বোরো ধানের পরিচর্যা করছেন এক কৃষক। ছবি : বাসস

শরীয়তপুরে বোরো আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেশব্যাপী লাগাতার শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বোরো আবাদ বাধাগ্রস্ত ও বিলম্বিত হলেও শরীয়তপুরে কোনো প্রভাব পড়েনি। 

এ বছর জেলায় ২৫ হাজার ৫১০ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও কৃষি বিভাগ আশা করছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি জমিতে বোরো আবাদ হবে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সময়মতো সার-বীজ পাওয়ায় বোরোর ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শরীয়তপুর সদরে ৫ হাজার ৩২৩, নড়িয়ায় ৫ হাজার ২২৭, গোসাইরহাটে ৪ হাজার ৩৮০, ভেদরগঞ্জে ৩ হাজার ৮২০, ডামুড্যায় ৩ হাজার ৫০০ ও জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হবে। বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২২ টন ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধানের ফলন হবে ধারণা করে কৃষি বিভাগ। আবাদ করা বোরোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাত হলো ব্রি ধান-২৯, ৫৮, ৭৪, ৮১, ৮৯, ৯২, বিনা-১০, ২৫ ও বঙ্গবন্ধু ধান ১০০। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলন হয় ব্রি- ৭৪ ধানের, হেক্টরপ্রতি গড়ে ৭ দশমিক ১৫ থেকে ৭ দশমিক ২০ টন উৎপন্ন হয়। জেলায় বোরোর গড় ফলন ৬ দশমিক ৯৫ টন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নুর আহমেদ বলেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কথা মাথায় রেখে বোরো ধান আবাদ করা হচ্ছে। মাটির উপযোগিতা যাচাই করে কোন জমিতে কোন জাত আবাদে কৃষক অধিক ফলন পাবেন সে বিষয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কৃষিবান্ধব সরকারের প্রণোদনা, যান্ত্রিকীকরণ ও কারিগরি সহায়তাসহ উন্নত জাতের ব্যবহারে সবসময় কৃষককে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কৃষক বেশি ফলন পাবেন।’

জেলার বার্ষিক ধানের চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৯৪২ টন। বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২২ টন। আউশ আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩২৪ টন, যা জেলার চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজার ৬০৪ টন বেশি।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামের কৃষক আবু আলেম মুন্সী বলেন, ‘আগে যে পদ্ধতিতে বোরো আবাদ করতাম তাতে খরচ বেশি হলেও ফলন কম পেতাম। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাটির উপযোগিতা অনুযায়ী ধানের জাত, লাইনে লাগানো ও জমিতে গাছের ডাল পুঁতে দেওয়ায় গাছের ডালে পাখি বসায় আমাদের কীটনাশক কম লাগছে, জমিতে আগাছাও কম হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কমেছে বেড়েছে ফলনও।’

নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের মালতকান্দি গ্রামের কৃষক রুবেল মালত বলেন, ‘এবার টিভি ও পত্রিকায় শীত-কুয়াশায় বোরোর ক্ষতির খবর দেখায় আমরাও একটু চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বীজতলার কোনো ক্ষতি না হওয়ায় আমরা সময়মতো জমিতে ধান লাগাতে পেরেছি। আশা করছি, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ঝড়-বাদলের আগেই ধান গোলায় তুলতে পারব।’ সূত্র : বাসস

কলা চাষে দেলোয়ারের আয় বছরে ৪০ লাখ টাকা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫০ এএম
কলা চাষে দেলোয়ারের আয় বছরে ৪০ লাখ টাকা
নিজ বাগানে কলার দেখভাল করছেন সফল চাষি সবুজ। ছবি : খবরের কাগজ

দেশি জাতের বিষমুক্ত কলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপে চাষ করে সাড়া ফেলেছেন লক্ষ্মীপুরের দেলোয়ার হোসেন সবুজ। 

১০ একর জমি বর্গা নিয়ে কলা চাষ করে সবুজ প্রথম বছরে বিক্রি করেন ৩৭ লাখ টাকার। চাষের দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ এ বছর তিনি ৪০ লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।  

সবুজই একমাত্র চাষি যিনি লক্ষ্মীপুরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ শুরু করেছেন। কলা চাষের পাশাপাশি এ মৌসুমে ৩ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। সাথি ফসল হিসেবে জমিতে মিষ্টিকুমড়া লাগিয়েছেন। মিষ্টিকুমড়ার ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে মিষ্টিকুমড়া বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। কুমড়া বিক্রি থেকে এক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন। অপরদিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে তার পেঁপেগাছ ফলন দিতে শুরু করবে। ফলন ভালো হলে ১২ মাসি এই পেঁপে থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকার ওপরে আয় করতে পারবেন বলে জানান সবুজ। 

সবুজের কলা ও পেপে চাষ জেলার বেকার যুবকদের আগ্রহী করে তুলেছে। তার অনুপ্রেরণায় অনেকেই কলা চাষের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সবুজের কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিচ্ছেন। 

সদর উপজেলার নলডগি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন সবুজ পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। কিন্তু সে পেশায় সুবিধা করতে না পেরে নতুন কিছু করার চিন্তা করতে থাকেন। একসময় ইউটিউবের এক ভিডিওতে কলা চাষের ধারণা পান। 

জমি বর্গা নিয়ে এবং নড়াইল থেকে কলার বীজ এনে শুরু করেন কলা চাষ। গাছের পরিচর্যা বিষয়ে আগে থেকে প্রশিক্ষণ না থাকায় তার পক্ষে সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও তাকে সহযোগিতা করতে পারেননি।

ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকেন। চালিয়ে যেতে থাকেন বাগানের পরিচর্যা। একসময় সবুজের কলা বাগান স্থানীয় বাসিন্দাদের অবাক করে তোলে। গাছে গাছে দেখা যায় শত শত কলার ছড়ি। সবুজের কলার বাগানের সুনাম পৌঁছে যায় জেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে। কলার বাগান দেখতে আসেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তিনি পরামর্শ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করেন। 

সবুজ জানান, ইতোমধ্যে কলা বিক্রির আয় দিয়ে জমির মালিকের বর্গার টাকা, বাবার রেখে যাওয়া ঋণ শোধ করেছেন। 

কলাচাষি সবুজ জানান, কলা ও পেঁপে ১২ মাসি ফসল। একবার চাষ করলে ১২ মাসই ফলন পাওয়া যায়। প্রতি সপ্তাহে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা যায়। কলা চাষে তিনি কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করেন না। বেশির ভাগ সময় গাছে পাকা কলা বিক্রির চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার বাগানে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এখন তিনি নতুন চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন। 

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা সবুজের কলা চাষের তথ্য পেয়ে তার বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি। তাকে সারসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তার হাত ধরে বাণিজ্যিকভাবে লক্ষ্মীপুরে নতুন করে কলা চাষ শুরু হয়েছে। তার কলাবাগান লক্ষ্মীপুরের বেকার যুবকদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। সবুজের মতো যুবকরা স্থানীয়ভাবে কলা চাষে এগিয়ে এলে এ জেলার কলার চাহিদা পূরণ হবে। বর্তমানে এ জেলার চাহিদা পূরণ করতে নরসিংদী ও নড়াইল থেকে কলা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এতে দামও বেশি পড়ে এবং বিষমুক্ত কলাও পাওয়া যায় না।

ঈশ্বরদীতে কেঁচো সারে আগ্রহ বাড়ছে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪২ এএম
ঈশ্বরদীতে কেঁচো সারে আগ্রহ বাড়ছে
চালনিতে ছেঁকে সার পরিষ্কার করছেন এলিমি নাসরিন (ডানে) ও তার সহযোগী

ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষকরা। প্রতিমণে প্রায় ৩৫০ টাকার করছেন এখানকার সার উৎপাদনকারীরা।

২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের একটি প্রশিক্ষণের অংশ নেওয়ার পর সিআইজি (কমন ইন্টারেস্ট গ্রাউন্ড) সদস্য হন এমিলি নাসরিন। সেখানে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি সম্পর্কে জানতে পারেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলে। ২০১৭ সালের শুরুতে কেঁচো সার উৎপাদনে সফলতা পান এমিলি নাসরিন। কেঁচো সার উৎপাদন করে সংসারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। কেঁচো সার বিক্রি করে এমিলি নাসরিনের  সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখে গ্রামের অন্য নারীরাও এ কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। 

কেঁচো সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়ে, যথাসময়ে ফসল উৎপন্ন হয়। সব ধরনের ফসলি জমিতে এই সার ব্যবহার করা যায়।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা হাটের ঈদগাহ পাড়ায় এমিলি নাসরিনের বাড়ি। বাড়ির চারপাশে সিমেন্টের তৈরি রিং বসিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন তিনি। স্বামী, দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। স্বামী আহমেদুর রহমান একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করতেন। তবে বর্তমানে কৃষিকাজের পাশাপাশি স্ত্রীকে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে সহযোগিতা করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এমিলি নাসরিন তার বাড়ির সামনে টিনের ছাউনি দেওয়া গোয়ালঘরের মতো ঘরে সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের তৈরি রিং বসিয়ে কেঁচো সার তৈরি করছেন। এমন সময় কথা হয় এই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে।

এমিলি নাসরিন বলেন, ‘গোবর, কেঁচো দিয়ে সার তৈরি করার কথা মনে করে প্রথমে খারাপ লেগেছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে খারাপ লাগাটা দূর হতে থাকে। দৃঢ় মনোবলে একটি থেকে ৬৫টি রিং বসিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক ট্রলি গোবরের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। এক ট্রলি গোবর ২০টি রিংয়ে রাখা হয়। ১৫ থেকে ২০ দিন পর প্রতি রিং থেকে ১ মণ কেঁচো সার উৎপন্ন হয়। প্রতিমণ সার উৎপন্নে খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বিক্রি করা হয় এক মণ ৪০০ টাকায়। প্রতিমণে লাভ হয় ৩৫০ টাকা।

ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষক ছাড়া আশেপাশের এলাকার কৃষকরা এসে কেঁচো সার কিনে নিয়ে যান। এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে যেসব কৃষক বিশেষায়িতভাবে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানদের জন্য সবজি উৎপাদন করেন তারাও এই সার কিনে নিয়ে যান। 

এমিলি নাসরিন জানান, এই সার উৎপন্নে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। গোবর ভরে এরপর কেঁচো রেখে রিং ঢেকে রাখা হয়। মাঝে মাঝে শুধু রিংয়ের ঢাকনি সরিয়ে কেঁচো ঠিকমতো আছে কি না, দেখা হয়। এভাবে ১৫ থেকে ২০ দিন যাওয়ার পর রিং থেকে সার বের করে তা চালনিতে ছেঁকে পরিষ্কার করে বস্তায় ভরা হয়। 

এই নারী উদ্যোক্তা আরও জানান, তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এলাকার ১০ নারী। এ ছাড়া গ্রামের আরও ১৫ থেকে ২০ নারী ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে অর্থ উপার্জন করছেন। ঈদগাহ পাড়ায় সবমিলিয়ে ২০০-এর বেশি রিংয়ে এই সার উৎপন্ন করা হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান এমিলি নাসরিন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, ‘জমির উর্বরতা শক্তি ধরে রাখতে ভার্মি কম্পোস্ট সার খুবই দরকার। এ সার ব্যবহারে কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ জন্য উৎপাদনেও অনেকে এগিয়ে আসছেন। ঈশ্বরদী কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এমিলি নাসরিন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। তিনি সফলতা পেয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় তার সার সরবরাহ করেন। তার সার উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছি। কিছু সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন এক যুগে সবচেয়ে কম

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩২ এএম
৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন এক যুগে সবচেয়ে কম
ছবি : সংগৃহীত

সরকার চাইলেও উন্নয়নকাজের গতি বাড়ছে না। গত ১২ বছরের সবচেয়ে কম অগ্রগতি হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। বেশি বরাদ্দ পেয়েও স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুটিকয়েক মন্ত্রণালয় ছাড়া বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। 

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১ শতাংশেরও কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি গত এক যুগের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মতো কখনো এত কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি।

গত এক যুগের বিভিন্ন অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। সে সময় এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল মোট বরাদ্দের ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০১৫-১৬, ২০২০-২১ সালে ছিল ২৮ শতাংশের ওপরে। বাকি অর্থবছরগুলো এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের তুলনায় কম হলেও মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত অর্থবছরের সমান হয়েছে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর ছাড়া গত এক যুগের মধ্যে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে চলতি অর্থবছরে। আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, শুধু জানুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।