ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন ব্যাহত লুব-রেফের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:১০ পিএম
লুব-রেফের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব
লুব-রেফের কারখানায় উৎপাদন কাজে ব্যস্ত কর্মীরা। ছবি: খবরের কাগজ

ডলারসংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের। ডলারের অভাবে এলসি খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদামতো উৎপাদন করতে পারছে না কোম্পানি। এতে করে মুনাফা কমে গেছে।

লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয়ের পাশাপাশি মুনাফাও কমেছে।

তথ্যে দেখা যায়, কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে শূন্য দশমিক ২৫ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় কম হয়েছে শূন্য দশমিক ৮০ পয়সা বা ৭৬ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠনটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে কোম্পানি পরিচালনায় শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানি পরিচালনায় শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা।

লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি কবির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির আয় কমেছে ব্যাপকভাবে। ডলারসংকটের কারণে পণ্যের চাহিদা এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডলারসংকটে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছে না তাদের প্রতিষ্ঠান। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে মুনাফায়। কারণ লুব্রিক্যান্ট রিসাইক্লার এবং ব্লেন্ডার লুব্রিক্যান্ট পুরোটাই আমদানিনির্ভর।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় এবং বিদেশি উৎস থেকে উচ্চমূল্যে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়েছে। এতে তাদের পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির পণ্যগুলোকে প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়, যা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে তিনি জানান।

তথ্যে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিক্রি কমেছে ৫৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ৬ মাসে মোট বিক্রি করেছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ টাকার পণ্য। গত বছরের একই সময় ছিল ৯২ কোটি ৩ লাখ টাকা। চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানিটি ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রাথমিক ঘন প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি লুব-রেফ (বাংলাদেশ) মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। ঘাটতি পূরণে কোনো ব্যাংক থেকেই ঋণ নিতে পারছে না কোম্পানিটি। ইতোমধ্যে কোম্পানিটির সব স্থায়ী সম্পদ বন্ধক রেখে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে।
এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নীতিগত সহায়তা চেয়েছে লুব-রেফ। সম্প্রতি সময়ে কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে নীতি-সহায়তা চেয়ে আবেদন করে চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্যোক্তা এবং আইপিওর মাধ্যমে বর্তমানে কোম্পানির ইক্যুইটি শেয়ারের পরিমাণ ১৪৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কোম্পানির দীর্ঘ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ আছে যথাক্রমে ৫২ কোটি ৯৭ লাখ এবং ৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই দায় পরিশোধ করতে কোম্পানির কমপক্ষে ১৪০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক মূলধন প্রয়োজন, যেখানে কোম্পানির এখন অর্থায়ন এবং অর্থায়ন ছাড়া উভয়ভাবেই ৭০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক মূলধন আছে। 

জ্বালানি খাতের কোম্পানি লুব-রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২১ সালে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটি এ তহবিলের প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। কোম্পানিটির আইপিও তহবিল ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপন বাবদ ৯৮ কোটি, ব্যাংকঋণ পরিশোধ বাবদ ৪৬ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার ২৮২ ও আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ ৫ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি আমদানি বাবদ গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটি ৪৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ১০৭ টাকা ব্যয় করেছে, যা এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৪৬ দশমিক ১০ শতাংশ। ব্যাংকঋণের জন্য বরাদ্দ করা পুরো অর্থই কোম্পানিটি ব্যয় করেছে। অবশ্য আইপিওর খরচ বাবদ এখনো কোম্পানিটির ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩১২ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে, যা এ খাতে বরাদ্দ করা অর্থের ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে যন্ত্রপাতি বাবদ বরাদ্দ করা অর্থ গত ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যয় করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। সব মিলিয়ে গত ফেব্রুয়ারি শেষে কোম্পানিটি আইপিও তহবিল থেকে ৯৭ কোটি ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৯৫ টাকা ব্যয় করেছে। অব্যবহৃত রয়েছে ৫২ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ২০৫ টাকা। 

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল কোম্পানিটি। এ সময় কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৩ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ টাকা ৪১ পয়সা। ২০২১-২২ অর্থবছরে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এনএভিপিএস ছিল ৩২ টাকা ৩৭ পয়সা। 

২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লুব-রেফের অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৪৫ কোটি ২৪ লাখ ৩০ হাজার। রিজার্ভে ছিল ২৬১ কোটি ৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৪। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক শূন্য ৪, বিদেশি দশমিক শূন্য ৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪১ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। 

বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল
বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানার বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনিসুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে দূর্বল ব্যাংকের এমডি-ডিএমডি ভালো ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন না। এরকম অবস্থার মধ্যে বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানো হলো।

গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আগের দিন (সোমবার) সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আনিসুর রহমান ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ তার প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন। 

তিনি ১৯৮৮ সালে বিআরসির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, অঞ্চল প্রধান, সার্কেল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

অমিয়/

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০১ পিএম
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশে। যা গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পতন হয়েছে। আগের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও প্রবৃদ্ধি হারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থিরমূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৭৮ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সে তুলনায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ি, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প ও সেবার সব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। শুধুমাত্র কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

অপরদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতে কমেছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

শিল্প খাতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ১০ দশমিক ০০ শতাংশ। এবার কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে সেবা খতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবারের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে আইএএমএফ-এর পরামর্শ মোতাবেক বিবিএস ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি তিন মাস পর পর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জাহাঙ্গীর/ইসরাত/অমিয়/

এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম
এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

এবার বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইউসিবি ব্যাংকের একজন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে আজ বৈঠক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বৈঠকে ইউসিবি কর্তৃপক্ষকে একীভূত হওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংকের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একীভূতকরণ ইস্যুতে এর আগে দুই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিমালা জারি করেছে। যেখানে স্বেচ্ছায় ও বাধ্যতামূলক- এই দুইভাবে দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ হওয়ার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। অন্যদিকে ইউসিবির আর্থিক ভিত্তি সবল। 

এর আগে সোমবার (৮ এপ্রিল) বেসরকারি সিটি ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারি দুটি ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে এমওইউ সই করেছে। 

সালমান/

রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা ঘোষণা করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। রোজার মাসে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম ছাড়িয়েছে। প্রভাব পড়েছে মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতিতে। এ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৬৭। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৩ সালের মার্চে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের মার্চে তা ১০৯ টাকা ৮১ পয়সায় কিনতে হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চে এসব পণ্যের  মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৩।

চলতি অর্থবছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার। তবে সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু তাতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮, যেখানে শহরের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮, গ্রামে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও পূর্বাভাস দিয়েছে

তিন কারণে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বহাল থাকবে। কারণ তিনটি হলো- ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি সংকোচন ও জ্বালানি সংকট বহাল। 

জাহাঙ্গীর/সালমান/

দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

দুর্বল ব্যাংকগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শিগগিরই এসব ব্যাংক একীভূত করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় কোনো ইসলামি ব্যাংকের নাম নেই।

সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়েছে ধুঁকতে থাকা পদ্মা ব্যাংক। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ১০ বছরের মাথায় দেশের চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ডুবতে থাকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের মতো আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হবে খুব শিগগিরই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে বিভিন্ন সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। 

তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো- পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বিডিবিএল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংক।

তবে আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাংকের শেয়ার ওরিয়ন গ্রুপ কিনে নেওয়ার বিষয়ে কথা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

অন্যদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে।  তবে এসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

গত মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে পদ্মা ব্যাংক। এখন একীভূত হওয়ার প্রকৃয়ায় রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংক।

এরমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এবং বেসিক ব্যাংক সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে।

তাছাড়া তালিকায় থাকা অন্য ব্যাংকগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একীভূত হওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে কেউ একীভূত না হলে আগামী বছর মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এগুলোকে মিলিয়ে দেওয়া হবে।

গত ৪ এপ্রিল স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ‘একীভূতকরণের পর যে ব্যাংক বিলীন হয়ে যাবে, সেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছরের আগে ছাঁটাই করা যাবে না। তবে ওই ব্যাংকের বড় কর্মকর্তারা (এমডি, ডিএমডি) থাকতে পারবেন না।’

অমিয়/