ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন চলে এসেছে ৫০০ কোটির ঘরে

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ পিএম
২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন চলে এসেছে ৫০০ কোটির ঘরে

ধারাবাহিকভাবে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন কমেছে। জানুয়ারি মাসে পুঁজিাবাজারে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়ে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে আসে। সূচক বেড়ে ২২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে চলে যায়।

অথচ চলতি সপ্তাহের চার দিনে দৈনিক গড়ে ৪৩৩ কোটি লেনদেনে হয়েছে। গত সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৪৯৩ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৯৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে ৫০০ কোটি টাকার নিচে লেনদেন হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি, কারসাজি এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি

বুধবার (৩ এপ্রিল) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৭ পয়েন্ট বাড়লেও এখনো প্রায় তিন বছরের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১২ মে এ সূচক ৫ হাজার ৭৫০ পয়েন্টে ছিল। গতকাল এটি অবস্থান করছিল ৫ হাজার ৭৭৬ পয়েন্টে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ব্যাংকের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে রয়েছে কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম্য- সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে এমন দশা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এর আগের দিন এ বাজারে ৩৬৭ কোটি ৬৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরও আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৬৮ কোটি ৮২ লাখ ১২ হাজার টাকার শেয়ার। 

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা লক্ষ করা গেছে। বাজারের এ পতন শুরু হয়েছে শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর থেকে। গত ২১ জানুয়ারি থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কয়েক ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়। এরপর কিছুদিন বাজারে শেয়ারের দাম বাড়লেও ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মোটামুটি একটানা দরপতন শুরু হয়।

পুঁজিবাজারের পতন ঠেকাতেই ২০২২ সালের জুলাই থেকে সর্বশেষ দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়েছিল। এর মাধ্যমেই দেড় বছরের বেশি সময় কৃত্রিমভাবে বাজারকে একটি সীমার মধ্যে ধরে রেখেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর বাজার আর বেঁধে রাখা যায়নি। থেমে থেমে দরপতন চলছেই।

কেন দরপতন

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস দিয়ে বাজারকে দীর্ঘদিন কৃত্রিমভাবে ধরে রেখে যে ক্ষতি করা হয়েছে, তারই ফলাফল এখনকার এ দরপতন। ফ্লোর প্রাইস যে দীর্ঘ মেয়াদে বাজারের জন্য নানামুখী সংকট তৈরি করেছে, তা এখন পরিষ্কার হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে নগদ টাকার যে সংকট রয়েছে, তাতে সেখান থেকে পুঁজিবাজারে খুব বেশি অর্থ আসার সুযোগ নেই। এসব কারণে বাজারে টানা দরপতন চলছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইসের কারণে দেশের পুঁজিাবাজরে কিছু সংকট তৈরি হয়েছিল। এসব সংকটর ফলাফল এখন দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া আমানতের বিপরীতে সুদের হার বেড়েছে, সুদের হার বাড়লে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রবণতা কমে।

তাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা বিদ্যমান। তবে এ নেতিবাচক প্রবণতা থেকে শিগগিরই দেশের পুঁজিবাজার শিগগিরই ইতিবাচক হবে বলেও মনে করেন তিনি। 

বাজারে সাপোর্ট দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) টাকার অভাবে পড়েছে। ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো শেয়ার কেনার বদলে বিক্রির চাপ বাড়াচ্ছে। আবার কিছু খাতের প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়েই বাজারে টানা দরপতন চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে নানা গুজব। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দায়িত্বশীলদের নিয়ে নানা কটু কথা বলা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে এখন চরম আস্থার সংকট।

এমন পরিস্থিতিতে ‘জেড’ গ্রুপ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতা পুঁজিবাজার আবার অস্থিতিশীল করে তোলে। কীসের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘জেড’ গ্রুপে যাবে, সে বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক নির্দেশনা জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ওই নির্দেশনার শেষ পয়েন্টে বলা হয়, ইস্যুয়ার কোম্পানির পরবর্তী লভ্যাংশ-সংক্রান্ত ঘোষণা অথবা বার্ষিক/অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ-সংক্রান্ত ঘোষণার দিন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন নির্দেশনা থাকলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে হুট করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২২ কোম্পানিকে ‘জেড’ গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ঘোষণা আসে নতুন করে আর কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ গ্রুপে নেওয়া হবে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি কোম্পানিকে ‘জেড’ গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়।

এভাবে কিছু কোম্পানিকে ‘জেড’ গ্রুপে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দরপতনের মধ্যে পড়ে পুঁজিবাজার। প্রায় এক মাস ধরে ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার।

বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল
বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানার বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনিসুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে দূর্বল ব্যাংকের এমডি-ডিএমডি ভালো ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন না। এরকম অবস্থার মধ্যে বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানো হলো।

গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আগের দিন (সোমবার) সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আনিসুর রহমান ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ তার প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন। 

তিনি ১৯৮৮ সালে বিআরসির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, অঞ্চল প্রধান, সার্কেল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

অমিয়/

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০১ পিএম
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশে। যা গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পতন হয়েছে। আগের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও প্রবৃদ্ধি হারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থিরমূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৭৮ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সে তুলনায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ি, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প ও সেবার সব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। শুধুমাত্র কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

অপরদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতে কমেছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

শিল্প খাতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ১০ দশমিক ০০ শতাংশ। এবার কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে সেবা খতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবারের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে আইএএমএফ-এর পরামর্শ মোতাবেক বিবিএস ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি তিন মাস পর পর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জাহাঙ্গীর/ইসরাত/অমিয়/

এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম
এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

এবার বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইউসিবি ব্যাংকের একজন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে আজ বৈঠক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বৈঠকে ইউসিবি কর্তৃপক্ষকে একীভূত হওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংকের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একীভূতকরণ ইস্যুতে এর আগে দুই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিমালা জারি করেছে। যেখানে স্বেচ্ছায় ও বাধ্যতামূলক- এই দুইভাবে দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ হওয়ার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। অন্যদিকে ইউসিবির আর্থিক ভিত্তি সবল। 

এর আগে সোমবার (৮ এপ্রিল) বেসরকারি সিটি ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারি দুটি ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে এমওইউ সই করেছে। 

সালমান/

রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা ঘোষণা করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। রোজার মাসে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম ছাড়িয়েছে। প্রভাব পড়েছে মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতিতে। এ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৬৭। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৩ সালের মার্চে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের মার্চে তা ১০৯ টাকা ৮১ পয়সায় কিনতে হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চে এসব পণ্যের  মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৩।

চলতি অর্থবছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার। তবে সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু তাতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮, যেখানে শহরের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮, গ্রামে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও পূর্বাভাস দিয়েছে

তিন কারণে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বহাল থাকবে। কারণ তিনটি হলো- ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি সংকোচন ও জ্বালানি সংকট বহাল। 

জাহাঙ্গীর/সালমান/

দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

দুর্বল ব্যাংকগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শিগগিরই এসব ব্যাংক একীভূত করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় কোনো ইসলামি ব্যাংকের নাম নেই।

সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়েছে ধুঁকতে থাকা পদ্মা ব্যাংক। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ১০ বছরের মাথায় দেশের চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ডুবতে থাকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের মতো আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হবে খুব শিগগিরই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে বিভিন্ন সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। 

তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো- পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বিডিবিএল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংক।

তবে আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাংকের শেয়ার ওরিয়ন গ্রুপ কিনে নেওয়ার বিষয়ে কথা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

অন্যদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে।  তবে এসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

গত মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে পদ্মা ব্যাংক। এখন একীভূত হওয়ার প্রকৃয়ায় রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংক।

এরমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এবং বেসিক ব্যাংক সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে।

তাছাড়া তালিকায় থাকা অন্য ব্যাংকগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একীভূত হওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে কেউ একীভূত না হলে আগামী বছর মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এগুলোকে মিলিয়ে দেওয়া হবে।

গত ৪ এপ্রিল স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ‘একীভূতকরণের পর যে ব্যাংক বিলীন হয়ে যাবে, সেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছরের আগে ছাঁটাই করা যাবে না। তবে ওই ব্যাংকের বড় কর্মকর্তারা (এমডি, ডিএমডি) থাকতে পারবেন না।’

অমিয়/