ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪১ পিএম
ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা খবরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে জনমনের বিভ্রান্তি দূর করতে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাংক একীভূতকরণ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত তথ্যনির্ভর নয়। ফলে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে জনমনে নানা রকমের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়টি স্পষ্টীকরণের জন্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে।

মূলত দু'টি উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক একীভূতকরণ’ নিয়ে কাজ করছে। প্রথমত, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে কার্যকর ব্যাংকিং সেবা দিতে দেশে অধিক সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হবে। যাতে করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরূপ বাধার সৃষ্টি না হয়।

দ্বিতীয়ত, অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং একইসঙ্গে অপেক্ষাকৃত সবল ব্যাংকের কার্যক্রম উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, যাতে করে জনস্বার্থে একীভূত ব্যাংক-কোম্পানি অধিক সেবা দিতে পারে। 

জন বিভ্রান্তি দূর করতে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে যে- ক. একীভূতকরণের প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলোতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের জমা আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে। একীভূতকরণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও নিজ নিজ ব্যাংকের হিসাবধারীদের বর্তমান হিসাব, পূর্বের ন্যায় চলমান থাকবে।

খ. একীভূতকরণের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালক, বর্তমান পর্ষদ ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির ভিত্তিতেই একীভূতকরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

গ. ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার নং-৮ এ বর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করেই একীভূতকরণের সকল কার্যক্রম সম্পাদন হবে।

এমএ/

এপ্রিলের ভারী বৃষ্টির প্রভাবে যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি কমেছে

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৪ পিএম
এপ্রিলের ভারী বৃষ্টির প্রভাবে যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের দোকানগুলোতে খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কম হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা ঘর থেকে বের হতে না পারায় বিক্রি কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ সম্প্রচার মাধ্যমটির খবরে বলা হয়, এপ্রিলে বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে। বিশ্লেষকরা প্রায় দশমিক ৫০ শতাংশ বিক্রি কমবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। সে হিসাবে মাসটিতে দোকানগুলোর বিক্রি অনেক বেশি কমেছে। 

যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) বলেছে, পোশাকের খুচরা বিক্রেতা, খেলাধুলার সরঞ্জাম, গেমস ও খেলনার দোকান এবং আসবাবপত্রের দোকানগুলোতে বিশেষভাবে বিক্রি কমেছে। কারণ খারাপ আবহাওয়ার কারণে দোকানগুলোতে আসা লোকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে দশমিক ২০ শতাংশ বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে মার্চের পূর্বাভাসটিও সংশোধিত হয়েছিল। তবে এর আগে বিক্রি স্থিতিশীল হবে বলে অনুমান করা হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়, এপ্রিল মাসে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সাধারণত খারাপ আবহাওয়ায় অনলাইন বিক্রিতে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব পড়ে। তবে মাসটিতে অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রিও ১ দশমিক ২০ শতাংশ কমেছে।

যদিও ওএনএস বলছে, প্রতিবেদনটিতে বিক্রির পরিসংখ্যান ঋতু অনুসারে সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মৌসুম বা উৎসবের প্রভাবগুলো প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে বিভিন্ন মাসের মধ্যে বিক্রয়ের তুলনা করা সহজ হয়। যদিও এটি (মৌসুমের প্রভাব) কখনো কখনো সম্পূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে না। গত বছর ইস্টার সানডের ছুটি এপ্রিল মাসে পড়েছিল এবং এই বছর এটি মার্চ মাসে ছিল। 

স্টকব্রোকার (শেয়ার কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারী) এজে বেলের আর্থিক বিশ্লেষণের প্রধান ড্যানি হিউসন বলেছেন, ‘ইস্টারে (ইস্টার সানডে উৎসব) তাড়াতাড়ি আসা এবং সুস্বাদু চকলেট, ডিম ও পারিবারিক ভোজ- এগুলো পরিসংখ্যান বাড়াতে সাহায্য করেনি যে যার কারণে আমরা বলতে পারব আগের মাসের মোট বিক্রির পরিসংখ্যানের সঙ্গে এটা যোগ করা হয়েছে। তবুও মার্চ মাসের বিক্রির হার পর্যালোচনা করে মোট পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেখানো হয়েছে।’

ড্যানি হিউসন বিলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে ধাক্কা অনেককে সতর্ক করে দিয়েছে। মানুষ অনেক কিছু ছাড়িয়ে দিয়েছে এবং যদি এর অর্থ হয় জরুরি অর্থের একটি ছোট্ট ভাণ্ডার তৈরি করা, যা তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করবে, তাহলে তারা তা করতে থাকতে পারে।’ অর্থাৎ প্রয়োজনের মুহূর্তে খরচ করার জন্য অর্থ সঞ্চয় করতে গিয়ে মানুষ হয়তো কেনাকাটা কমিয়ে দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন হিউসন। এর ফলে এপ্রিল মাসের খুচরা বিক্রি কমতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। 

এদিকে আরও বিস্তারিত বলতে গেলে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শেষ তিন (ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল) মাসের সঙ্গে জানুয়ারি পর্যন্ত শেষ তিন (নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি) মাসের তুলনা করলে বিক্রি দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে। তবে ওএনএস বলেছে, এটি প্রধানত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অস্বাভাবিক খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে হয়েছিল।

বিবিসি জানায়, ভেজা আবহাওয়ায় লোকজন ঘরে বন্দি থাকায় এপ্রিল মাসে জ্বালানি বিক্রি ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। এটি ২০২১ সালের অক্টোবরের পর থেকে সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।

এদিকে গবেষণা সংস্থা জিএফকের একটি পৃথক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভোক্তার আস্থা (ক্রয়ক্ষমতা) দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। তবে জিএফকের সূচক, যেটিতে পরিমাপ করা হয় যে, লোকেরা কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত অর্থ এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেখে, সেটি নেতিবাচক রয়ে গেছে।

ব্রিটিশ বহুজাতিক পেশাদার পরিষেবা নেটওয়ার্ক ডেলোইটের খুচরা বিক্রয় বিভাগের প্রধান অলিভার ভার্নন-হারকোর্ট বলেন, ‘যদিও ভোক্তাদের আস্থা বাড়তে শুরু করেছে, তবে অনেকেই আতঙ্কিত এবং এখনো তারা খুব একটা খরচ করছে না। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় আইটেম ও পণ্য, যেমন পোশাক ও জুতা কেনায়।

শেরপুরে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১৭ পিএম
শেরপুরে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু
ছবি: খবরের কাগজ

শেরপুরে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। 

শনিবার (২৫ মে) দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে এ সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তার কার্যালয় এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ছানুয়ার হোসেন ছানু।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজাবে রহমতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এই সরকার থাকলে কৃষকের উন্নতি হয়। কারণ, এই সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের কথা ভাবেন। সাধারণ কৃষকরা যেন খুব সহজে গুদামে সরাসরি ধান দিয়ে লাভবান হতে পারেন সে জন্যই এই ব্যবস্থা। তবে, ধান দিতে এসে কেউ যেন হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা যেন হয়রানি না হন সেজন্য বিশেষ করে জেলা খাদ্য বিভাগকে সজাগ থাকতে হবে।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৪৫ টাকা দরে ২১ হাজার ২১৩ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে সদর থেকে ১৫ হাজার ৬৫৮ মেট্রিক টন, নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ৫১৭ মেট্রিক টন, নকলায় ৬৯৭ মেট্রিক টন, শ্রীবরদীতে ৫৬৭ মেট্রিক টন ও ঝিনাইগাতীতে ১ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। 

আবার ৩২ টাকা দরে ১০ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে সদর থেকে ২ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন, নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন, নকলায় ১ হাজার ৪১ মেট্রিক টন, শ্রীবরদীতে ১ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন ও ঝিনাইগাতীতে ১ হাজার ৬৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। 

এবার ‘কৃষকের অ্যাপে’র মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। এখন পর্যন্ত জেলায় কৃষকের অ্যাপে নিবন্ধিত কৃষকের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৮৭ জন। আর শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ‘খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ এফপিএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। জেলায় চুক্তিযোগ্য সেদ্ধ চালকলের মধ্যে ১৪৪টি হাসকিং ও ২৪টি অটোসহ মোট ১৬৮টি।

মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১৪ পিএম
মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি
ছবি: খবরের কাগজ

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বন্দর দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে রাজস্ব আদায়। মোংলা বন্দরে চলতি বছর এপ্রিলে জাহাজ এসেছে ৬৩টি। গত বছরের এপ্রিলে মোংলা বন্দরে জাহাজ এসেছিল ৫২টি। গত বছর এপ্রিল মাসের তুলনায় এবার মোংলা বন্দরে ১১টি জাহাজ বেশি এসেছে। 

গত বছরের এপ্রিলে বন্দরে ৪ দশমিক ৬৭ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং, ১ হাজার ৮২২ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও ২০ কোটি ১২ লাখ ৬১ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। এ বছর একই মাসে বন্দরে ৬ দশমিক ৩৭ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং, ২ হাজার ১৮৯ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও প্রায় ২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এপ্রিলে জাহাজ বেশি এসেছে ১১টি, কার্গো হ্যান্ডলিং ১ দশমিক ৭০ লাখ টন কার্গো বেশি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৩৬৭ টিইইউজ কনটেইনার বেশি ও প্রায় ৪ কোটি ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে বন্দরে আটটি কনটেইনার জাহাজ এসেছে, যা মোংলা বন্দরের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড। জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে (জুলাই-এপ্রিল) প্রথম ১০ মাসে বন্দরে ৭২৬টি জাহাজ আসে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে একই সময়ে জাহাজ আসে ৭০৮টি। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজ বেশি এসেছে ১৮টি। 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোংলা বন্দরে সবকটি সূচকে সন্তোষজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে বন্দরের দূরত্ব কমেছে। বন্দরের পণ্য লোড-আনলোডে আধুনিক যন্ত্রপাতি, নিয়মিত ড্রেজিংয়ে চ্যানেলে নাব্য ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে মোংলা বন্দর।’ 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিক জাহাজের মাধ্যমে ফেব্রিকস, মেশিনারি, আপেল, ট্রাই সাইকেলপার্টস, ইলেকট্রিক্যাল গুডস, হোয়াইট ক্লিংকার, ফার্টিলাইজার, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, কপার ক্যাথোডস আমদানি এবং জুট, জুট গুডস, সিরিমপস, কার্বস, হোয়াইট ফিশ, ক্লে টাইলস, ড্রাইড ফিশ, মেশিনারি, গার্মেন্টস প্রোডাক্টস, কটন ইয়ার্ন ইত্যাদি রপ্তানি করা হয়। 

বর্তমানে বন্দর জেটিতে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দুটি করে কনটেইনার জাহাজ আসছে। বন্দরে আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজনের ফলে জেটি থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে কনটেইনার খালাস ও বোঝাই সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে গিয়ারলেস জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কনটেইনারবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থ বছরের সবকটি সূচকে এখন পর্যন্ত মোংলা বন্দরে সন্তোষজনক বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।

খাগড়াছড়িতে সবজি চাষে সফল প্রতিবন্ধী শফিউল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১১ পিএম
খাগড়াছড়িতে সবজি চাষে সফল প্রতিবন্ধী শফিউল
ছবি: খবরের কাগজ

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে সবুজে ঘেরা গোমতির বান্দরছড়া গ্রাম। সেখানেই অন্যের কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া ৯ বিঘা জমিতে সবজি সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শফিউল বশর। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রতিবন্ধিতা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে তিনি আজ সফল সবজি চাষি। অর্জন করেছেন সফল সবজি চাষির জাতীয় স্বীকৃতিও।

পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির গোমতির বান্দরছড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিউল। নিজের জমি না থাকলেও চাষাবাদ করেও যে সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করা যায় তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

১৯৯৬ সালে এক প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে বাম পায়ে বিষাক্ত কিছু লেগে সংক্রমণ দেখা দেয় শফিউল বশরের। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২০০১ সালে বাম পা কেটে ফেলতে হয় তার। তখন থেকেই ক্র্যাচে ভর করে চলছে তার জীবন-জীবিকা।

সম্প্রতি সবজি খেতের ছোট আইলে ক্র্যাচে ভর করে হাঁটতে হাঁটতে এই প্রতিবেদককে নিজের সবজি বিপ্লবের গল্প শোনান শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শফিউল বশর।

তিনি জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলেও ভিক্ষাবৃত্তি নয়, নিজের মনের জোরে সাফল্যের স্বপ্ন দেখেছেন। নিজের দশ শতক জমিতে স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এ চিন্তা থেকেই ১০-১২ বছর আগে বাড়ির আশপাশে অন্যের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে তার বাড়ির চারপাশে অন্যের কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া ৯ বিঘা জমিতেই গড়ে তুলেছেন সবজি খেত। সবজি খেতে আলুর আড়ালে শোভা ছড়াচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। তার সবজি জমিতে রয়েছে ক্ষীরা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ, ভেলু (ডালজাতীয়), করলা ও টমেটো। ডায়মন্ড জাতের আলুগাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন ভুট্টা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও ক্র্যাচে ভর করেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা সবজি বাগান দেখভাল করেন শফিউল বশর নিজেই। তার পরামর্শেই সবজি উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করছেন ৯-১০ জন নিয়মিত শ্রমিক।

বন্ধকি জমিতে সবজি চাষ করে বছরে ৫-৬ লাখ টাকা উপার্জন করেন এ চাষি। শুধু নিজের নয়, তার জমিতে নিয়মিত কাজ করা শ্রমিকদের পরিবারেও আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে।

স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার শফিউল বশরের। সবজি চাষ করে পরিবারের ব্যয় মিটিয়ে তার দুই ছেলেকে বি এ পাস করিয়েছেন। ছেলেরা শিক্ষিত হয়েও সানন্দে প্রতিবন্ধী বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। শ্রমিকের সঙ্গেই কাজ করেন দুই ছেলে। ৯ বছর আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সফল এ মানুষটি।

শারীরিক প্রতিবন্ধী সবজি চাষি মো. শফিউল বশরের বড় ছেলে আবুল বাশার বলেন, ‘লেখাপড়া শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে বাবার স্বপ্ন পূরণে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছি। বাবার অদম্য মনোবল আমাদের অনুপ্রাণিত করে।’

খাগড়াছড়ি জেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধিতাকে হার মানিয়ে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন শফিউল বশর, যা এলাকার মানুষকে উজ্জীবিত করেছে।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও স্বাবলম্বী হতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত শেখ মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মো. শফিউল বশর একই জমিতে একাধিক ফসল ফলান। ফলে ফসলে রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। প্রতিবন্ধী কৃষক শফিউল বশরের মতো কৃষি নৈপুণ্যে উদ্যোগী হয়ে অনেকে এগিয়ে আসবে বলে আশা করি।’ সূত্র: বাসস

হিলিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১১ পিএম
হিলিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
ছবি: খবরের কাগজ
হিলিতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। এদিকে বিপাকে পড়েছেন জমি বর্গা চাষ করা কৃষকরা।
 
হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সোনালি রঙের পাকা ধান। আবহাওয়া ভালো থাকায় দিন-রাত নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে এসব ধান কাটছেন শ্রমিকরা। আর এগুলোর পরিচর্যা ও সেদ্ধ-শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক পরিবার। 
 
কৃষক মিজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ধান কাটা-মাড়াই মিলিয়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নিচ্ছেন। বাজারে ধানের চাহিদা ও ভালো দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়েই শঙ্কিত বর্গাচাষিরা।
 
হাকিমপুর উপজেলার মোল্লাবাজার এলাকার কৃষক শুভ হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এবার আমি ছয় বিঘা জমিতে চিকন জাতের ইরি ধানের চাষ করেছি। ইতোমধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু করেছি। বিঘাপ্রতি ২২-২৩ মণ ধান ঘরে তুলতে পারব। তবে বাজারে ধানের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দামও কমে গেছে। প্রথম দিকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ থাকলেও বর্তমানে ধানের দাম ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।’
 
আলীহাট ইউনিয়নের বর্গাচাষি মিজান ইসলাম বলেন, ‘এবার ছয়-সাত বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় জমির মালিককে ১০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রিম দিতে হয়। এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে, এতে আমি খুব খুশি। বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে, তাই ইরি ধান চাষে খরচা বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম নেই। বর্তমান যে দাম তাতে হয়তো কাটা-মাড়াই করে সমান সমান হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমি তৈরি থেকে ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১৩-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আবার জমির মালিক ১০ হাজার টাকা নেন। আর এক বিঘা জমিতে ধান পাওয়া যাচ্ছে ২২-২৩ মণ। বাজারে ধানের দাম না থাকলে আমরা বর্গাচাষিরা জমির মালিককে কী দেব, আমরাই বা কী পাব।’
 
শ্রমিক নেতা হান্নান বলেন, ‘আমরা ১৬ জনের একটি দল দেশের বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করি। এবার হিলিতে এসেছি, এখানে প্রতি বিঘা ধান কাটা-মাড়াইসহ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নিচ্ছি। আমরা দিনে প্রায় সাত-আট বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই করে থাকি। এখন আবহাওয়া ভালো আছে তাই এ দামে ধান কাটছি। ঝড়-বাতাস ও বৃষ্টি হলে ধান কাটার মূল্য বৃদ্ধি পাবে।’
 
হাকিমপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৬১৫ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর। এবার হাকিমপুর উপজেলায় বোরো ধানের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে চার হাজার কৃষককে। এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। জাতভেদে ধান বিঘাপ্রতি ২৪-২৫ মণ করে হচ্ছে।’