ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

বিদেশি ফলে ফুটপাত সয়লাব, দামও কম

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৯ এএম
বিদেশি ফলে ফুটপাত সয়লাব, দামও কম
ছবি: সংগৃহীত

প্রতি কেজি আপেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা (আনার) ৩৮০ থেকে ৪৮০ টাকা, কমলা ৩০০ টাকা, নাশপাতি ও মাল্টা ২৮০ টাকা ও আঙুর ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফুটপাতের ফল বিক্রেতা মো. জিহাদ এভাবেই দামের কথা জানান। শুধু জিহাদই নন, রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়, এমনকি মসজিদের সামনে ফুটপাতে বা ভ্যানে এই দরে বিদেশি ফল বিক্রি করছেন অসংখ্য বিক্রেতা।

তারা বলছেন, দেশি ফলের মৌসুমেও বিদেশি ফল বিক্রিতে ভাটা পড়েনি। আগের চেয়ে দোকান বাড়ছে। এসব ফল কিনতে মধ্যবিত্তরাই আসছেন বেশি। ক্রেতারাও বলছেন, একই পণ্য ফুটপাতে কম দামে পাওয়া যায়। মার্কেটে কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য জানা গেছে।

আমের মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই দাম বেশি। আগে বিভিন্ন জাতের আম ১২৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০০ টাকা কেজি ছাড়িয়েছে। তবে ড্রাগন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, পেয়ারা ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি এবং কলার ডজন ৯০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারপরও রাজধানীতে বিদেশি ফলের ছড়াছড়ি। 

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) কারওয়ান বাজারে দেখা যায় অসংখ্য ফল বিক্রেতা ফুটপাতে ভ্যানে করে বিদেশি বিভিন্ন ফল বিক্রি করছেন। জিহাদ, মালেকসহ অন্য ফল বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, বছর দুয়েক ধরে ফলের দর বেড়েছে। তারপরও ভালোই বিক্রি হয়। কিন্তু গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর মানুষের টাকা কমে গেছে। তারপরও রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি বাজার থেকে কেনার কারণে মার্কেটের তুলনায় একটু কম দামেই বিক্রি করছি। এ জন্য কাস্টমারও আসেন। এ সময় জিহাদের দোকানে প্রান্থপথ থেকে আসা সুব্রত নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আনার দিন। ৪০০ টাকা কেজি রাখেন।’ জিহাদ বলেন, ‘এটা সাইজে বড়। দেওয়া যাবে না। ৪৮০ টাকা কেজি। তবে একটু ছোটগুলো নেন ৩৮০ টাকায় দেওয়া যাবে।’ অবশেষে সুব্রত ৪৬০ টাকা কেজি দরে কেনেন। অন্য ক্রেতাদেরও কিছু ফল কিনতে দেখা যায়। এ সময় জিহাদ বলেন, ‘ভালোই জিনিস রাখি। দোকানে একই আনার অনেক বেশি দামে বিক্রি করছে।’ 

তার কথার সত্যতা যাচাই করতে একই বাজারের কিচেন মার্কেটের মায়ের দোয়া ফল বিতানসহ অন্য দোকানে যাই। দোকানের বিক্রেতারা দামের ব্যাপারে খবরের কাগজকে জানান, আপেল ৩৬০ থেকে ৪৫০ টাকা, মাল্টা ও নাশপাতি ৩২০ টাকা, আনার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কমলা ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু এই বাজারেই নয়, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। এই বাজারের আফজাল ফল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. আফজাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের চেয়ে বিদেশি সব ফলের দাম বেড়েছে। আবার সরকার বদলের পর কাস্টমারও কমেছে। অনেকের আয়ও কমে গেছে। এ জন্য বিক্রি কমে গেছে। তারপরও আঙুর ৪০০ টাকা কেজি, বিচি ছাড়া আঙুর ৭০০ টাকা, আনার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, নাশপাতি ৩২০ টাকা, কমলা ৩৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’ দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাদামতলী থেকে ক্যারেটে আনা হয়। তাতে কিছু বাদ যায়। তারা সিন্ডিকেট করেই দাম বাড়ায়-কমায়। কিছু লাভ করে আমাদের সেভাবেই বিক্রি করতে হয়।’ 

অথচ ফুটপাতে বিভিন্ন ফল বিক্রেতা মার্কেটের চেয়ে কম দরে এসব ফল বিক্রি করছেন। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের কাছে ফুটপাতের ফল বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আপেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, আঙুর ৩৫০ থেকে ৪৫০ ও মাল্টা ২৮০ টাকায় বিক্রি করছি।’ শুধু ফুটপাতেই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মসজিদের সামনে জুমার দিনে (শুক্রবার) ভ্যানে বিদেশি ফল বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, দোকান ভাড়া লাগে না। বাদামতলী থেকে সরাসরি এনে কিছু লাভে বিক্রি করা হয়। তবে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় আগের চেয়ে বিক্রি কমে গেছে। 

বিক্রেতাদের কথার সত্যতা যাচাই করতে বিদেশি ফলের মোকাম বাদামতলীতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাথী ফ্রুটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘একদিকে সরকার বিদেশি ফলকে লাক্সারি পণ্য মনে করে বেশি করে শুল্ক আরোপ করেছে। এতে ফলের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে গত বছর সরকার পরিবর্তনের ফলে অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে বেচাবিক্রি ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কারণ ফলের বাজারও অর্থনীতির বাইরে নয়। তাই মন্দার প্রভাব এখানেও পড়েছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না। এর ফলে আমদানিও কমে গেছে।’ 

দেশে আমদানি করা ফলের প্রধান বাজার বাদামতলী। অভ্যন্তরীণ এবং আমদানি করা ফলের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবসা এই পাইকারি বাজারকেন্দ্রিক। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার ফল বেচাকেনা হয় এখানে। তবে বাদামতলীতে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। তারাই ফলের দাম ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে। বাদামতলীতে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ থেকে ২০০টি ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানভর্তি আমদানি করা ফল আসে। 

বিদেশি ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় আপেল, আঙুর, কমলা, মাল্টা, আনার ও নাশপাতি। বিশ্বের ৪৬টি দেশ থেকে এই ছয়টি ফল আমদানি হয়। এর মধ্যে চীন, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ভুটান, মিসর ও দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। বিদেশি ফলের বাজারে বেশি আধিপত্য আপেল, মাল্টা ও আঙুরের। তবে রোজার মাসে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুরের। তখন দামও বেড়ে যায়। 

দামের ব্যাপারে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার ওপর দাম নির্ভর করে। কোনো সিন্ডিকেট কাজ করে না। প্রতি কেজি আপেল, নাশপাতি মাল্টাতে শুল্ক দিতে হয় ১১০ টাকা করে, আনারে ১৪৮ টাকা ও আঙুরে ১৬০ টাকা। সরকার যদি শুল্ক কমায় তাহলে ভোক্তারা আরও কম দরে বিদেশি ফল খেতে পারবেন।’

দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

বন্দরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। তাই বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত প্রি-বাজেট রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভির গনি। রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় গতকাল বুধবার রাতে এ রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন থাকার পরেও বলে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের স্ক্যানিং মেশিন কার্যকর করার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশে অনেক নীতি আছে। কিন্তু কার্যকর হয় না। কাস্টমসের বড় সমস্যা হলো নীতি তৈরি। আমরা সংস্কার করে জনগণের জন্য সেই নীতি তৈরি করতে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। আমরা অলিগার্কদের মতো নই। আমরা নির্বাচিত সরকার গঠন করেছি। জনগণের সেবা করার জন্যই আমরা নির্বাচিত হয়েছি। সেভাবে সরকার কাজ করছে। ১১ মে বাজেট পেশ করা হবে। ব্যবসা করতে গেলে ১৯টা লাইসেন্স লাগে। তা পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত লাগে। তাই বিনিয়োগের জন্য এক জায়গা থেকে পারমিশন (লাইসেন্স) দেওয়া হবে। তা পেতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ লাগবে। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনে সেই ব্যবস্থা করা হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি ঘুরছে শুধু শিল্পের দিকে। আমরা জিডিপি বলতে শুধু শিল্পকে বুঝি। কিন্তু আমরা সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছি। তাই আমরা বিভিন্ন দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ১৩০ বিঘা জমি পাওয়া গেছে। থিয়েটার সিটি করা হবে। কামার, কুমার, তাঁতি সবাইকে বাজেটের আওতায় আনা হবে। তারা এতদিন বাজেটের বাইরে ছিল। অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব মানুষের কাছে যেতে হবে। তাই আমরা প্রত্যেক গোষ্ঠীকে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছি।’ 

উন্নয়নকাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, আগে প্রজেক্ট করা হয়েছে নিজের পকেট ভর্তির জন্য। এমন এমন প্রজেক্ট করা হয়েছে যেগুলো কোনো প্রয়োজন নাই। যেগুলো ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ হয়েছে সেগুলো বাদ দিচ্ছে না। কিন্তু নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে চারটা জিনিস দেখা হচ্ছে। সেগুলো পূরণ করা হলেই পাস হবে। তা না হলে ফেরত দেওয়া হবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হয়েছেন বহুজাতিক কোম্পানির ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আজ থেকেই তিনি বিএসইসিতে যোগ দেবেন।

এছাড়া কমিশনার পদে নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান এবং নাফিজ-আল-তারিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

মাসুদ খান ৪৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপে যোগদানের আগে তিনি লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন পদে দেশে ও বিদেশে ২০ বছর কাজ করেছেন।

এ ছাড়া তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংকের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। বিএসইসি থেকে পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন, মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।

নাঈম/

৪ জুন: কমল প্রায় সব মুদ্রার দাম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
৪ জুন: কমল প্রায় সব মুদ্রার দাম
বৈদেশিক মুদ্রা। ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.7500 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 --
ইউরো     142.32 142.37 - 0.45
ব্রিটেন পাউন্ড     164.68 164.73 - 0.6
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     87.49 87.52 - 0.51
জাপানি ইয়েন 0.76 0.76 --
কানাডিয়ান ডলার 88.32 88.33 - 0.36
সুইস ক্রোনা 13.03 13.05 - 0.14
সিঙ্গাপুর ডলার 95.58 95.63 - 0.32
চায়না ইউয়ান     18.10 18.10 - 0.04
ইন্ডিয়ান রুপি     1.28 1.28 --
সৌদি রিয়াল 32.53 32.53 - 0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.26 33.26 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

মুদ্রা কেনাবেচার দর: ৪ জুন, ২০২৬

নাঈম/

বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও চারজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই তারা পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মু. মহসীন চৌধুরী। এরপর ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সবশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।

অমিয়/

লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

কয়েক দিন আগেও রাজশাহীর আমবাগানগুলো ছিল উৎসবের রঙে রাঙানো। গাছে গাছে ঝুলছিল পাকা গোপালভোগ, গুটি আর লক্ষ্মণভোগের থোকা। চাষিদের চোখে ছিল ভালো দামের আশা। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই সেই আশায় ভাটা পড়েছে। আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীর মোকামগুলোতে এখন একটাই আলোচনা—দাম নেই, ক্রেতা নেই, লাভ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহীর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে; যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অনুকূল আবহাওয়া এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এ বছর ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।

রাজশাহীর বৃহত্তম আমের মোকাম পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্যান, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে করে আম নিয়ে আসছেন চাষিরা। কিন্তু হাটে পৌঁছানোর পর অনেকের মুখেই হতাশার ছাপ। আড়তদাররা আমের মান যাচাই করে দর বলছেন, আর সেই দর শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন চাষিরা।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আমের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মৌসুমের শুরুতে যে গোপালভোগ আমের মণ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২ হাজার টাকায়, এখন সেটি নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। একইভাবে গুটি আমের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ১৫ মে বাজারে আসা গুটি আমের মণপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

২৫ মে থেকে বাজারে উঠতে শুরু করা রানীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ আমও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে না। লক্ষ্মণভোগের মণ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে এই আমের দাম দেড় হাজার টাকার নিচে নামেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ৩০ মে থেকে বাজারে আসা ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর আম তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই জাতের আমের মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দামও কিছুটা কম।

পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি আমিনুল ইসলামের প্রায় ২০ বিঘা আমবাগান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সারের দাম, কীটনাশক, সেচ খরচ ও শ্রমিকের মজুরি সবই বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে আমের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এত খরচ করে আম উৎপাদন করছি, কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচই তুলতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে অনেক চাষি আগামীতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।’

শুধু আমিনুল ইসলাম নন, হাটে আসা অনেক চাষির কণ্ঠেই একই হতাশা। তাদের অভিযোগ, বাগানে ফলন ভালো হলেও বাজারে ক্রেতা কম থাকায় দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই চাষিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত বাজারে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে মানুষের প্রধান ব্যস্ততা থাকে পশু কেনাবেচা, কোরবানি এবং মাংস সংরক্ষণ নিয়ে। ফলে ফলমূলের বাজারে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমে যায়। একই সময়ে কুরিয়ার ও পরিবহন সেবাও সীমিত আকারে পরিচালিত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে আম পাঠানো ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে।

বানেশ্বর হাটের ব্যবসায়ী ইমান আলী বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে গোপালভোগের মণ ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা। এবার বাজারে আমের জোগান বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা নেই। ফলে দাম কমে গেছে।’

একই কথা বলেন ব্যবসায়ী মো. রাজিবুর। তার মতে, ঈদের সময় মানুষ সাধারণত ফলের চেয়ে মাংস নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। ঈদে যানবাহন তেমন পাওয়া যায়নি, ফলে আমের চাহিদা কমে যায়। তবে এখন মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এতে বাজারে আবার গতি ফিরতে পারে।

দুর্গাপুর উপজেলার পালি গ্রামের আমচাষি রাজু মিয়া বলেন, বর্তমান দামে আম বিক্রি করে শ্রমিক, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটিতে গোপালের কপালই খারাপ। এই দামে আম বিক্রি করা মানে লোকসান গোনা।’

তবে ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি হতাশ নন। তাদের ধারণা, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। মানুষ কর্মস্থলে ফেরার সময় সঙ্গে করে আম নিয়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি কুরিয়ার ও পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।

জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। ফলে সামনের দিনগুলোতে আমের বাজার আরও জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে সরবরাহও বেশি। ফলে দামের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে মৌসুম যত এগোবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, বাজার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করছি।’