ঢাকা ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু
Nagad desktop

মুনাফা দেখানো ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম
আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
মুনাফা দেখানো ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ৩ হাজার কোটি টাকা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

প্রকাশ্যে মুনাফায় থাকা ‘ঘুরে দাঁড়ানো’ ইসলামী ব্যাংক প্রকৃত পক্ষে বড় অঙ্কের লোকসানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে একথা জানা গেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির গুপ্ত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। 

যেকোনো ব্যাংকের আর্থিক চিত্র নির্ধারিত হয় ব্যাংকটির মুনাফা দিয়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক মুনাফায় ছিল শীর্ষে। প্রতিবছর তা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। করোনার সময়ের দুই বছর বাদে প্রতিবছরই সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে ব্যাংকটি। 

২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত অর্জিত মুনাফার ওপর ভিত্তি করে ২০২৪ সাল শেষে ইসলামী ব্যাংক মুনাফা দেখায়। তবে তা প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন নয়। এদিকে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকেও মুনাফা দেখিয়েছে ব্যাংকটি। সব ব্যাংক ২০২৫ সালের মুনাফা ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক মুনাফা ঘোষণা করেনি। 

এর কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক হয়তো তার আর্থিক বিবরণীতে কিছু মুনাফা দেখাবে কিন্তু বাস্তবে বিশাল অঙ্কের লোকসান রয়েছে ব্যাংকটিতে, যা এখন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি আরও বলেন, বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্বকালে এ রকম তথ্য গোপনের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ও সহায়তা পাওয়া যেত। এখন তা না পাওয়াতে মুনাফা ঘোষণা করতে পারছে না ব্যাংকটি। 

ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, যখন কোনো ঋণ (বিনিয়োগ) খেলাপি হয়ে যায়, তখন যেদিন থেকে বকেয়া হয়, সেদিন থেকে আর কোনো মুনাফা আরোপ করা যায় না। তার পরিবর্তে সেখানে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়। এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ব্যাংকের মুনাফায় নেওয়া যায় না। ইসলামী শরিয়াহর বিজ্ঞ আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে। কিন্তু বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক সে মূলনীতি থেকে সরে এসে ওই ক্ষতিপূরণের টাকাও মুনাফায় অন্তর্ভুক্ত করছে। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগে ক্ষতিপূরণ আরোপের দুটি ভাগ রয়েছে। প্রথম ভাগটি হচ্ছে ক্ষতিপূরণ আদায়যোগ্য এবং দ্বিতীয় ভাগটি হচ্ছে ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে। প্রতি মাসে খেলাপি ঋণের (বিনিয়োগ) ওপর ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়, যা গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় হলেই ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে বলে দেখানো যায়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক ওই আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের টাকাও মুনাফায় অন্তর্ভুক্ত করছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। আর এই পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক এখন পর্যন্ত মুনাফা দেখালেও প্রকৃত অর্থে ব্যাংকটি এই পরিমাণ লোকসানে আছে। এটি শরিয়াহর দৃষ্টিতে হারাম এবং প্রচলিত ব্যাংকিং নীতির পরিপন্থি।

লোকসানে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ইসলামী ব্যাংকে মুনাফা দেখানো হচ্ছে, তা জানতে ব্যাংকের আর্থিক প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগের আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের টাকা মুনাফা হিসাবে দেখানো হচ্ছে। এতেও লোকসান থাকায় বকেয়া ক্ষতিপূরণও মুনাফা হিসাবে দেখানো হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকিং নীতি অনুসারে যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ইসলামি শরিয়াহ আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির অনুমোদন আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু লোকসান দেখালে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হবে এবং আমানত কমে যাবে, তাই আদায় না হলেও ক্ষতিপূরণকে মুনাফা হিসাবে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটা ইসলামি ব্যাংকিং নীতির পরিপন্থি গর্হিত অপরাধ এবং সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের চেয়েও মারাত্মক। এতে মানুষের মনে ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি হবে। তারা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি প্রকৃত অর্থে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে অবশ্যই বিশেষ নিরীক্ষা করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিরীক্ষা করলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত চিত্র বের হয়ে যাবে– এমন আশঙ্কায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।’ 

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান শ্রেণিকৃত ঋণ (বিনিয়োগ) ৪৮ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮০ শতাংশ। যেখানে ৫ আগস্টের আগে শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। বিপুল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ কীভাবে হলো জানতে চাইলে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান ম্যানেজমেন্ট এবং পর্ষদের অপেশাদার ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের এ বিশাল উল্লম্ফন। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর এস. আলম গ্রুপের ব্যবসা-বাণিজ্য জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়ে গ্রুপটির সব ঋণ খেলাপি দেখানো হয়। এ সুযোগে অন্য ব্যবসায়ীরা ঋণের টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সেখানে এস. আলমের ঋণ ৬২ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৬৮ হাজার কোটি টাকা অন্য গ্রাহকদের, যা বিগত ১৮ মাস সময়ে খেলাপি হয়েছে। ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তাদের খেলাপি আদায়ের ব্যাপারে কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। শুধু মামলা করে তারা দায়িত্ব শেষ করেন। এস. আলমের ওপর দোষ চাপিয়ে এভাবে একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির ব্যাংককে লোকসানি ব্যাংকে পরিণত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাংকের এমডি থেকে শুরু করে নির্বাহী কর্মকর্তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। ব্যাংকের এইচআর পলিসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ। ব্যাংকারদের ব্যাংকিং বাদ দিয়ে রাজনীতিতে জড়ানোও এ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর্থিক খাত সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যার ধারাবাহিকতায় ব্যাংকের একজন পরিচালককে অপসারণ করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে অসংখ্য, অবর্ণনীয় অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অন্য পরিচালক ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখনো স্বপদে বহালতবিয়তে রয়ে গেছেন। তাদের অপসারণ না করলে এ ব্যাংক আরও সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সার্বিক বিষয়ে মতামত জানতে ব্যাংকের বর্তমান এমডি ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই তিনি ঘোষণা করেন যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে এস. আলম গ্রুপ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ওপরে হাতিয়ে নিয়েছে এবং তা দেশের বাইরে পাচার করেছে। এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে স্বতন্ত্র পরিচালকের মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরই তিনি ঘোষণা করেন, ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। শরিয়াভিত্তিক আরও কয়েকটি ব্যাংকের ব্যাপারে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এসব ব্যাংক দুর্বল। শুরুতে ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি সেই ব্যাংকগুলো থেকেও গ্রাহকের টাকা উত্তোলনের হিড়িক লেগে যায়। পরে ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াচ্ছে–গভর্নরের এমন বক্তব্যে ব্যাংকটি থেকে আমানত উত্তোলন কিছুটা কমে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিশেষ গোষ্ঠী ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় অতীতে জঙ্গি অর্থায়নসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যায় ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় দখল করে ওই রাজনৈতিক দলের সাবেক ও বর্তমান ব্যাংকারদের দিয়ে পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্ট গঠন করা হয়। ব্যাংক সংস্কারের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে তাদের এক ধরনের ওপেন চেক অনুমোদন দেয়। এতে বেসরকারি খাতে দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের করুণ পরিণতি হয়েছে। শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংক খাতেই তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা। 

জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একটি রাজনৈতিক দলের অধীনে এই ব্যাংকটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। জঙ্গি অর্থায়ন ও অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ফলে ব্যাংকটি যখন দেশ-বিদেশে ব্যাপক ইমেজসংকটে পড়ে তখন তদানীন্তন শেয়ারহোল্ডাররা তাদের শেয়ার বিক্রয় করে দেন এবং নতুন উদ্যোক্তারা ওই শেয়ারের মালিকানা কিনে নেন। পরবর্তী সময়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন শেয়ারমালিকদের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে ব্যাংক তার হারানো ইমেজ ফিরে পায়। যেখানে ১৯৮৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের আমানত ছিল ৬৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত ব্যাংকের আমানত ছিল ১৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ ওই সময়ে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা আমানত বেড়েছে, যা ব্যাংকের পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার প্রতি আমানতকারীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এভাবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, মুনাফা ও অন্য সব ক্ষেত্রে এ ব্যাংক শীর্ষস্থানে পৌঁছে যায়। দেশের প্রবাসী আয়ের এক-তৃতীয়াংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছিল।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির বর্তমান ম্যানেজমেন্ট ও পর্ষদ নানা আশার বাণী শুনিয়ে দাবি করেছিল যে, ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যদিও ব্যাংকটির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির প্রকৃত আমানত বৃদ্ধির হার অনেক কম। 

যদিও ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫ আগস্ট থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ২০ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকের প্রকৃত আমানত বৃদ্ধির পরিমাণ অর্ধেকেরও কম। কারণ উক্ত সময়ের মধ্যে পূর্বের আমানতের ওপর ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত মুনাফা যুক্ত হয়ে বর্তমান আমানতের পরিমাণ দেখানো হচ্ছে।

দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

বন্দরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। তাই বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত প্রি-বাজেট রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভির গনি। রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় গতকাল বুধবার রাতে এ রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন থাকার পরেও বলে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের স্ক্যানিং মেশিন কার্যকর করার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশে অনেক নীতি আছে। কিন্তু কার্যকর হয় না। কাস্টমসের বড় সমস্যা হলো নীতি তৈরি। আমরা সংস্কার করে জনগণের জন্য সেই নীতি তৈরি করতে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। আমরা অলিগার্কদের মতো নই। আমরা নির্বাচিত সরকার গঠন করেছি। জনগণের সেবা করার জন্যই আমরা নির্বাচিত হয়েছি। সেভাবে সরকার কাজ করছে। ১১ মে বাজেট পেশ করা হবে। ব্যবসা করতে গেলে ১৯টা লাইসেন্স লাগে। তা পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত লাগে। তাই বিনিয়োগের জন্য এক জায়গা থেকে পারমিশন (লাইসেন্স) দেওয়া হবে। তা পেতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ লাগবে। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনে সেই ব্যবস্থা করা হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি ঘুরছে শুধু শিল্পের দিকে। আমরা জিডিপি বলতে শুধু শিল্পকে বুঝি। কিন্তু আমরা সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছি। তাই আমরা বিভিন্ন দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ১৩০ বিঘা জমি পাওয়া গেছে। থিয়েটার সিটি করা হবে। কামার, কুমার, তাঁতি সবাইকে বাজেটের আওতায় আনা হবে। তারা এতদিন বাজেটের বাইরে ছিল। অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব মানুষের কাছে যেতে হবে। তাই আমরা প্রত্যেক গোষ্ঠীকে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছি।’ 

উন্নয়নকাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, আগে প্রজেক্ট করা হয়েছে নিজের পকেট ভর্তির জন্য। এমন এমন প্রজেক্ট করা হয়েছে যেগুলো কোনো প্রয়োজন নাই। যেগুলো ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ হয়েছে সেগুলো বাদ দিচ্ছে না। কিন্তু নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে চারটা জিনিস দেখা হচ্ছে। সেগুলো পূরণ করা হলেই পাস হবে। তা না হলে ফেরত দেওয়া হবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হয়েছেন বহুজাতিক কোম্পানির ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আজ থেকেই তিনি বিএসইসিতে যোগ দেবেন।

এছাড়া কমিশনার পদে নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান এবং নাফিজ-আল-তারিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

মাসুদ খান ৪৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপে যোগদানের আগে তিনি লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন পদে দেশে ও বিদেশে ২০ বছর কাজ করেছেন।

এ ছাড়া তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংকের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। বিএসইসি থেকে পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন, মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।

নাঈম/

৪ জুন: কমল প্রায় সব মুদ্রার দাম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
৪ জুন: কমল প্রায় সব মুদ্রার দাম
বৈদেশিক মুদ্রা। ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.7500 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 --
ইউরো     142.32 142.37 - 0.45
ব্রিটেন পাউন্ড     164.68 164.73 - 0.6
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     87.49 87.52 - 0.51
জাপানি ইয়েন 0.76 0.76 --
কানাডিয়ান ডলার 88.32 88.33 - 0.36
সুইস ক্রোনা 13.03 13.05 - 0.14
সিঙ্গাপুর ডলার 95.58 95.63 - 0.32
চায়না ইউয়ান     18.10 18.10 - 0.04
ইন্ডিয়ান রুপি     1.28 1.28 --
সৌদি রিয়াল 32.53 32.53 - 0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.26 33.26 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

মুদ্রা কেনাবেচার দর: ৪ জুন, ২০২৬

নাঈম/

বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও চারজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই তারা পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মু. মহসীন চৌধুরী। এরপর ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সবশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।

অমিয়/

লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

কয়েক দিন আগেও রাজশাহীর আমবাগানগুলো ছিল উৎসবের রঙে রাঙানো। গাছে গাছে ঝুলছিল পাকা গোপালভোগ, গুটি আর লক্ষ্মণভোগের থোকা। চাষিদের চোখে ছিল ভালো দামের আশা। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই সেই আশায় ভাটা পড়েছে। আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীর মোকামগুলোতে এখন একটাই আলোচনা—দাম নেই, ক্রেতা নেই, লাভ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহীর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে; যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অনুকূল আবহাওয়া এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এ বছর ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।

রাজশাহীর বৃহত্তম আমের মোকাম পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্যান, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে করে আম নিয়ে আসছেন চাষিরা। কিন্তু হাটে পৌঁছানোর পর অনেকের মুখেই হতাশার ছাপ। আড়তদাররা আমের মান যাচাই করে দর বলছেন, আর সেই দর শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন চাষিরা।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আমের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মৌসুমের শুরুতে যে গোপালভোগ আমের মণ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২ হাজার টাকায়, এখন সেটি নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। একইভাবে গুটি আমের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ১৫ মে বাজারে আসা গুটি আমের মণপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

২৫ মে থেকে বাজারে উঠতে শুরু করা রানীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ আমও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে না। লক্ষ্মণভোগের মণ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে এই আমের দাম দেড় হাজার টাকার নিচে নামেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ৩০ মে থেকে বাজারে আসা ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর আম তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই জাতের আমের মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দামও কিছুটা কম।

পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি আমিনুল ইসলামের প্রায় ২০ বিঘা আমবাগান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সারের দাম, কীটনাশক, সেচ খরচ ও শ্রমিকের মজুরি সবই বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে আমের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এত খরচ করে আম উৎপাদন করছি, কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচই তুলতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে অনেক চাষি আগামীতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।’

শুধু আমিনুল ইসলাম নন, হাটে আসা অনেক চাষির কণ্ঠেই একই হতাশা। তাদের অভিযোগ, বাগানে ফলন ভালো হলেও বাজারে ক্রেতা কম থাকায় দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই চাষিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত বাজারে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে মানুষের প্রধান ব্যস্ততা থাকে পশু কেনাবেচা, কোরবানি এবং মাংস সংরক্ষণ নিয়ে। ফলে ফলমূলের বাজারে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমে যায়। একই সময়ে কুরিয়ার ও পরিবহন সেবাও সীমিত আকারে পরিচালিত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে আম পাঠানো ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে।

বানেশ্বর হাটের ব্যবসায়ী ইমান আলী বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে গোপালভোগের মণ ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা। এবার বাজারে আমের জোগান বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা নেই। ফলে দাম কমে গেছে।’

একই কথা বলেন ব্যবসায়ী মো. রাজিবুর। তার মতে, ঈদের সময় মানুষ সাধারণত ফলের চেয়ে মাংস নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। ঈদে যানবাহন তেমন পাওয়া যায়নি, ফলে আমের চাহিদা কমে যায়। তবে এখন মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এতে বাজারে আবার গতি ফিরতে পারে।

দুর্গাপুর উপজেলার পালি গ্রামের আমচাষি রাজু মিয়া বলেন, বর্তমান দামে আম বিক্রি করে শ্রমিক, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটিতে গোপালের কপালই খারাপ। এই দামে আম বিক্রি করা মানে লোকসান গোনা।’

তবে ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি হতাশ নন। তাদের ধারণা, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। মানুষ কর্মস্থলে ফেরার সময় সঙ্গে করে আম নিয়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি কুরিয়ার ও পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।

জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। ফলে সামনের দিনগুলোতে আমের বাজার আরও জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে সরবরাহও বেশি। ফলে দামের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে মৌসুম যত এগোবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, বাজার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করছি।’