দ্বিতীয় অধ্যায় : সমাজকর্মের শাখা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-২
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
রাসেল একজন সমাজকর্মী। তিনি মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করেন। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সহায়তা করেন।
ক. প্রবীণ কল্যাণের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
খ. চিকিৎসা সমাজকর্মীর একটি কাজ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন শাখার জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ওই শাখার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. প্রবীণ কল্যাণের ইংরেজি প্রতিশব্দ Gerontology।
খ. চিকিৎসা সমাজকর্মীর একটি কাজ হলো রোগীকে হাসপাতালে সামঞ্জস্য বিধানে সাহায্য করা। কম অভিজ্ঞতার কারণে নতুন পরিবেশ, নতুন মুখ, একাকিত্ব, ভয়ভীতি, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, সন্দেহ-সংকোচ ইত্যাদি সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে রোগীকে হাসপাতালে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা।
আরো পড়ুন : সমাজকর্মের শাখা অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
গ. উদ্দীপকে সমাজকর্মের শিল্প সমাজকর্ম শাখার জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে।
বস্তুবাদী-পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে শিল্প-কারখানায় সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা, কৌশল ও পদ্ধতির প্রয়োগকে কেন্দ্র করে শিল্প সমাজকর্ম গড়ে উঠেছে। শিল্প সমাজকর্ম সমাজকর্মের এমন একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র যেখানে শ্রমিক শ্রেণির মানবিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো কর্মস্থলের পরিবেশের সঙ্গে শ্রমিকদের অভিযোজন ব্যবস্থা করা। শিল্প সমাজকর্ম শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে। উদ্দীপকের মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাসেল সাহেব শিল্প সমাজকর্মীর ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং উদ্দীপকে শিল্প সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজকর্ম শাখা বিদ্যালয় সমাজকর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
শিল্প সমাজকর্মী প্রকৃতপক্ষে একজন পরিবর্তনশীল প্রতিনিধি। মালিক পক্ষের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ সৃষ্টিই তার উদ্দেশ্য। তিনি একজন পরামর্শক, উপদেষ্টা, মধ্যস্থতাকারী, যোগাযোগকর্মী, উদ্বুদ্ধকারী। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দেওয়া এবং কারখানার কর্মপরিবেশ ইত্যাদি বিষয়গুলোয় মালিক, শ্রমিক ও সরকার পক্ষের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখেন। শিল্প সমাজকর্মী শিল্পের কর্মপরিবেশে খাপ খাওয়াতে কর্মীকে শিল্পের বিভিন্ন দিকের ওপর প্রেষণা দেন এবং ব্যক্তিগত ও দলের সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেন। শিল্প শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা, ব্যক্তিগত, পারিবারিক সমস্যাগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক সুস্থতার জন্য কাউন্সেলিং দিয়ে শিল্প সমাজকর্মী ভূমিকা রাখেন। শিল্প মালিকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উপদেষ্টার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যার ক্ষেত্রে তারা কর্মী ব্যবস্থাপনায় কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করেন। কর্মীদের জন্য চিত্তবিনোদনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে মালিকপক্ষকে এবং কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে তারা শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করেন। মোটকথা, শিল্পক্ষেত্রের সর্বাঙ্গীণ সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর