ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

উৎসব রঙে রঙিন জেন্টল পার্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
উৎসব রঙে রঙিন জেন্টল পার্ক

ঈদে চলতি ধারার পাশাপাশি অনেকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা একসঙ্গে ধারণ করতে চান। পোশাকের কাট, প্যাটার্ন ও নকশার সমন্বয়ে তাই গুরুত্ব থাকে ক্রেতা চাহিদার। এই প্রেক্ষিতে এবারের ঈদে জেন্টল পার্কের পোশাকের মূল বিষয় ফেস্টিভ মুডে আভিজাত্য। সময়টা ঝাঁঝালো গরম হওয়ায় তাই কাপড় ও রংয়ে পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।রুচিশীল ও ট্রেন্ডি পোশাক, প্যাটার্নে আনা হয়েছে ভিন্নতা, থাকছে দেশি ঘরানার ফিউশনও।

মোটিফের সঙ্গে মিলিয়ে নানা রঙের ফেব্রিক ও স্টাইলিংয়ের সমন্বয় সমৃদ্ধ করেছে জেন্টল পার্কের এবারের ঈদ আয়োজন। মুসলিম নারীদের পোশাকের সংযমী বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দিয়ে আরাম, সহজে পরিধানযোগ্য ও অভিজাত মডেস্ট পোশাক সংগ্রহও থাকছে জেন্টল পার্কে। অন্যদিকে, সকালে নামাজ থেকে শুরু করে সারা দিনের ঘোরাঘুরি-আড্ডা এবং রাতে ঈদের পার্টিতে অংশ নেবার পাঞ্জাবিতেও থাকছে কাট বৈচিত্র্য এবং ভ্যালু এডিশন।

উৎসবের পোশাকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে ফ্যাশন ব্র্যান্ড জেন্টল পার্কের চেয়ারম্যান ও চিফ ডিজাইনার শাহাদাৎ চৌধুরী বাবু জানান, “শুধু পোশাকের ম্যাটেরিয়াল নয়, পোশাকের নকশা ও কাটিং সবকিছুতেই থাকছে উপমহাদেশীয় ফিউশন ও দেশীয় আবহের নিরীক্ষাধর্মী উপস্থাপনা। ঈদে থাকছে বিভিন্ন ডিজাইনের নিট, ওভেন ও ফ্যাশন এক্সেসরিজ পণ্য। গরমের কারণে রঙ ও উৎসব ভিত্তিক পোশাকে দেয়া হয়েছে বিশেষ যত্ন।  এসব রেডি টু ওয়ার আপনাকে দিবে সামারে সাতন্ত্র্য লুক। পাশাপাশি জেন্টল পার্কের ফরমাল বা ক্যাজুয়াল রেডি টু ওয়ারগুলো ঈদ বাদেও পরা যাবে বছরজুড়েই।”

উল্লেখ্য, ঈদ উৎসবে দেশীয় পোশাক কেনাকাটাতে আগ্রহ বাড়াতে জেন্টল পার্কের দেশজুড়ে থাকা ৫২টি স্টোরে থাকছে বিভিন্ন ব্যাংক কার্ডে ক্যাশবাকসহ অনলাইন কেনাকাটাতে মূল্যছাড় সুবিধাও। এ ছাড়া পাশ্চাত্য ঘরনার পোশাকের ক্ষেত্রে ছেলেদের পোলো টি-শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, জিনসসহ স্টাইলিশ সব পোশাকও রয়েছে।

মেয়েদের পোশাকেও ওয়েস্টার্ন প্যাটার্নের টপস, টিউনিক, কামিজ, কর্ডস, লেয়ারিং জামা, বটম কালেকশন দিয়ে নিজেদের ঈদ ও গরমের সংগ্রহ সাজিয়েছে ব্র্যান্ডটি। ফ্যাশনিস্তাদের ঈদের সকল পোশাক বা পণ্যের হালনাগাদ তথ্য মিলবে জেন্টল পার্কের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ও ওয়েব সাইটে। সারাদেশের স্টোরের পাশাপাশি ঈদ পণ্য অর্ডার করা যাবে ১০% মূল্যছাড়ে অনলাইনে। ঠিকানা : www.gentlepark.com

জাহ্নবী

 

বৈশাখী আয়োজনে বিশ্বরঙ !

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৫ পিএম
বৈশাখী আয়োজনে বিশ্বরঙ !

বাংলা নববর্ষ উদযাপন মানেই বাঙালির সত্তার নিজস্ব উৎসব, আমাদের যাপিত জীবনে, মননে, সংস্কৃতিতে প্রতি মুহুর্ত উদযাপনই আমাদের বৈশাখ, আমাদের উৎসব। উৎসব পার্বন উৎযাপনে বিশ্বরঙ সবসময়ই অগ্রপথিক তাই উৎসব পাবর্নে দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা বিশ্বরঙ এর স্বভাবসিদ্ধতা সুদীর্ঘ ২৯ বছর ধরে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি ।

মাহে রমজানের শেষদিকে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাংলা নতুন বছরকে উন্মুক্ত চিত্তে স্বাগত জানাতে এবং বাঙালির জীবনে নতুন বছরের আনন্দকে আরো রাঙিয়ে দিতে দেশের অন্যতম ফ্যাশন ব্রান্ড বিশ্বরঙ -এর রয়েছে বিশেষ প্রয়াস। “বিশ্বরঙ” এর পোশাক মানেই নতুনত্ব এবং ঐতিহ্যগত আভিজাত্যের গর্বিত উপস্থাপনা। বৈশাখী উৎসবের এই আনন্দের রঙে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড় ও উপকরণ ব্যাবহার করে “বিশ্বরঙ” এবারেও বৈশাখী আয়োজনে পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্যকে নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন করেছে, কালের আবর্তে প্রায় হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বাহারি রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ব্যাবহৃত নকশার অনুপ্রেরণায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজ হাতে তৈরি পোশাক দিনে দিনে প্রায় বিলুপ্তির পথে, তাই আমাদের এবারের আয়োজন আদিবাসীদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতাকে আমাদের নাগরিক জীবনে পৌছে দেয়ার অভিপ্রায় মাত্র।  

বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড়, উপকরণ ব্যবহার করে ”বিশ্বরঙ” এবারেও বৈশাখী আয়োজনে পোশাকে ট্রেন্ডি এবং ট্রেডিশনাল লুকের নান্দনিক উপস্থাপন করেছে। দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি রঙের ব্যবহারেও কনট্রাস্ট কালারের পাশাপাশি ম্যাচিউরড টোন এর পরিমিত ব্যবহার লক্ষ্যনীয়।

কাজের মাধ্যম হিসাবে রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, বøক প্রিন্ট, ইন্ডাষ্ট্রীয়াল প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারী, কম্পিউটার এমব্রয়ডারী, হ্যান্ড এমব্রয়ডারী, কারচুপি, নকশী কাঁথা জারদৌসীসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল। এবারের বৈশাখী আয়োজনে ”বিশ্বরঙ” প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের জন্যই ভিন্ন কিছু যোগ করেছে। বাচ্চাদের জন্য এনেছে নান্দনিক সব কালেকশন সেই সাথে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং নারীদের জন্য আছে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া।


স্বতন্ত্রতায় বিশ্বাসী বিশ্বরঙ সুপ্রিয় ক্রেতা সাধারণের উৎসব আনন্দে অনন্যা মাত্রা যোগ করার প্রয়াসে প্রতিবারের মত এবারও  ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।শুভ্যানুধায়ীদের সাধ ও সাধ্যের সমন্ময় ঘটাতে নির্দিষ্ট পোশাকে রয়েছে ৫০% মূল্য ছাড়। নির্দিষ্ট শাড়ীতে রয়েছে ২০% মূল্য ছাড় এবং বিভিন্ন ব্যাংক এর কার্ডে ১০% মূল্য ছাড় তো থাকছেই।

শোরুমে গিয়ে কেনাকাটার সুযোগের পাশাপাশি যে কেউ ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন। www.bishworang.com.bd এই ওয়েব পেইজটি এবং BISHWORANG ফেইজবুক পেইজের মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসেই কিনতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি ।

কলি

সুস্বাদু ঈদের খাবার

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
সুস্বাদু ঈদের খাবার

ঈদে অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য থাকে নানা আয়োজন। ঈদের স্পেশাল রেসিপিগুলো দিয়েছেন বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক এবং কালিনারি এক্সপার্ট আয়শা ফারজানা 

বিন্দি পোলাও 

উপকরণ

চিনিগুঁড়া চাল আধা কেজি, ঘি ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, বাদাম বাটা (কাজু ও চিনা বাদাম) ১ টেবিল চামচ। নারকেল দুধ দিয়ে বেটে নেওয়া বা ব্লেন্ড করা, লবণ পরিমাণমতো। 

বিন্দি টিকিয়ার জন্য 
আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ, মুরগির ব্রেস্টের মাংস এক কাপ, বুটের ডাল সেদ্ধ ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি, কাঁচামরিচ কুচি, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া সামান্য, ডিম অর্ধেকটা, তেল ভাজার জন্য পরিমাণমতো। 

প্রণালি 
টিকিয়ার সব উপকরণ মিশিয়ে ছোট ছোট টিকিয়া বানিয়ে তেলে বাদামি ভেজে নিন। এবার অন্য হাঁড়িতে ঘিতে গরম মসলা ফোড়ন দিয়ে সব পেস্ট করা মসলাগুলো কষিয়ে নিয়ে পোলাও চাল দিয়ে কষিয়ে নিন। হাফ লিটার গরম পানি দিয়ে কম আঁচে রেখে দিন ১৫ মিনিট। তারপর পানি শুকিয়ে গেলে টিকিয়াগুলো ওপরে দিয়ে দমে কিছুক্ষণ রাখুন। ওপর-নিচ মিক্স করে নামিয়ে নিন।

দম হাঁড়ির মাংস

উপকরণ
মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ ১০টি ছ্যাঁচা দিয়ে নেওয়া, আদা ছ্যাঁচা ১ টেবিল চামচ, রসুন আস্ত একটু ছেঁচে নেওয়া ২টি, আস্ত শুকনা মরিচ ৭-৮টি, আস্ত জিরা টেলে নেওয়া ১ চা চামচ, আস্ত তেজপাতা ৩টি, গরম মসলা আস্ত, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, শুকনা মরিচ টেলে গুঁড়া করা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, আলু বোখারা ৬-৭টি, তেঁতুল চাটনি ২ টেবিল চামচ, ভেজিটেবল অয়েল ১ কাপ, টমেটো ২টি, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি
গুঁড়া মসলা বাদে সব ছ্যাঁচা মসলা দিয়ে মাংসটা এক ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। তারপর মাংসটা হাঁড়িতে বসিয়ে আধা কাপ গরম পানি দিন। এরপর ঢাকনা দিয়ে আটা গুলিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করুন। কম আঁচে এক ঘণ্টা রেখে দিন। ঢাকনা খুলে তেঁতুল চাটনি, গরম মসলা, বেরেস্তা ও জিরা গুঁড়া ও শুকনা মরিচ গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। দারুণ স্বাদের এই দম মাংস লুচি, পরোটাসহ পোলাও বা সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


টক-ঝাল বিফ

উপকরণ 
মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কাটা ১ কাপ, রসুন আস্ত ২টি কোয়া বের করে নেওয়া, শুকনা মরিচ, আস্ত ৬-৭টি, গরম মসলা আস্ত, আদা কুচি ২ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ, সয়াবিন তেল পৌনে এক কাপ, লবণ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, তেজপাতা ৩টি, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, লেবুর রস আধা কাপ, তেঁতুল চাটনি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি 
সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে (চাটনি ও চিনি বাদে) চুলায় কম আঁচে মাংসটা কষিয়ে নিন। তিন-চারবার কষানোর পর কম আচে রেখে সেদ্ধ করুন। মাঝে মাঝে অল্প গরম পানি দিয়ে নেড়ে দিন। হয়ে এলে তেঁতুল চাটনি, চিনি ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে দমে রেখে নামিয়ে নিন।

কলি

ঈদে মিষ্টিমুখ

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
ঈদে মিষ্টিমুখ

ঈদের দিন সকালটা শুরু হয় মিষ্টিমুখ করে। অতিথি আপ্যায়নে ঈদে মিষ্টি আইটেম ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। এবারের আয়োজনে কয়েকটি মিষ্টিজাতীয় খাবারের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা

জাফরানি পায়েস 

উপকরণ
দুধ ২ লিটার, চিনি ১ কাপের বেশি, এলাচ ও দারুচিনি ২/৩ পিস করে, পোলাওয়ের চাল ১ কাপ, জাফরান সামান্য, কাজুবাদাম ১ টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ। 

প্রণালি
হাঁড়িতে দুধ ফুটে উঠলে চাল দিন। পরে চাল সিদ্ধ হলে চিনি, এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে নেডে কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম, এক চিমটি জাফরান দিয়ে নেড়ে নেড়ে ঘন করে রান্না করুন। পরে সার্ভিং ডিশে রেখে কাজু, পেস্তা বাদাম ও জাফরান ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ডিমের মিষ্টি

উপকরণ
লিকুইড দুধ ১ লিটার, পানি ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, চায়না গ্রাস ১ মুঠ, ভ্যানিলা এসেন্স আধা চা চামচ।

প্রণালি
হাঁড়িতে পানি ফুটে উঠলে চায়না গ্রাস দিয়ে লিকুইড করে নিন। পরে অন্য হাঁড়িতে লিকুইড দুধ গরম করে ঘন করে চিনি দিন। পরে লিকুইড করা চায়না গ্রাস আর ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে মিশিয়ে ২-৪ মিনিট রান্না করে নিন

ডিমের কুসুমের উপকরণ
গাজর পেস্ট ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, ঘি+সয়াবিন তেল আধা কাপ, মুড়ির গুঁড়া আধা কাপ, এলাচ ও দারুচিনি ২ পিস করে।

প্রণালি
গাজরের খোসা ফেলে সেট করে কেটে হালকা সেদ্ধ করে পেস্ট করে নিন। পরে কড়াইতে সয়াবিন তেল ঘি গরম হলে এলাচ ও দারুচিনি ফোঁড়ন দিন। এরপর গাজর পেস্ট ও চিনি দিয়ে অনবরত নেড়ে হালুয়া তৈরি করে নিন। পরে মুড়ির গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। এবার ডিমের কুসুমের মতো করে নিন, ডিমের খোসা আগে থেকে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। এবার ডিমের খোসার ভেতর গাজরের হালুয়া করে পরে দুধের সাদা মিশ্রণ ঢেলে নিন। পরে ২-৩ ঘণ্টা পরে ডিমের খোসা ছাড়িয়ে ২ ভাগ করে পরিবেশন করুন।

সেমাই পুডিং

উপকরণ
লিকুইড দুধ ১ লিটার, গুঁড়া দুধ ৪ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, ভ্যানিলা আধা চা চামচ, লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট, ডিম ২টা, চায়না গ্রাস আধা কাপ, পানি ২ কাপ  হলুদ রং সামান্য, সবুজ চেরি সাজানোর জন্য।

প্রণালি
লিকুইড দুধ চুলায় দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার গুঁড়া দুধ, চিনি, ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে ১০ মিনিট রান্না করে ঘন করুন। পরে পানিতে চায়না গ্রাস গরম করে লিকুইড করে ফুটানো দুধের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এবার ডিম এবং লাচ্ছা সেমাই দিয়ে আরেকটু সময় রান্না করুন। সামান্য হলুদ রং দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। এবার মোন্ডে ঢালুন, তারপর ঠাণ্ডা করে সার্ভিং প্লেটে পরিবেশন করুন।

কলি

 

ঈদের আতর ও টুপি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫২ পিএম
ঈদের আতর ও টুপি
ছবি: শরিফ মাহমুদ

আর কয়েক দিন পর ঈদুল ফিতর। ইতোমধ্যে অনেকে ঈদের কেনাকাটা করে ফেলেছেন। নতুন পোশাকের সঙ্গে টুপি, আতর কেনার বিষয়টিও কেনাকাটার পরিকল্পনায় রাখতেই হয়। কারণ ঈদের দিন নতুন পোশাকের সঙ্গে মাথার টুপি এবং শরীরের সুবাস না থাকলে সাজে পূর্ণতা আসে না। তাই নতুন কাপড়ের পাশাপাশি মাহে রমজানের শুরু থেকে বিক্রি বেড়েছে আতর-সুগন্ধি, টুপির। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে নানা ডিজাইনের টুপি, আতর-সুগন্ধি সারি সারি সাজানো। ক্রেতারা দামদর করছেন। বাজার ঘুরে ঈদের আতর টুপি নিয়ে লিখেছেন মো. আল আমিন

আতর 
ঈদের নতুন কাপড়ের ঘ্রাণটাকে আরও তীব্র করে তুলতে সবার কাছে অ্যালকোহলমুক্ত, হালাল সুগন্ধি আতরের বিকল্প যেন শুধুই আতর। তাই রাজধানীর নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম, চকবাজার, কাকরাইল মসজিদ মার্কেট, চাঁদনী চক, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, গুলিস্তান ও মৌচাক মার্কেটসহ বিভিন্ন ফুটপাতের সুগন্ধির দোকানগুলোর ভিড় চোখে পড়ার মতো। মানভেদে একেক জায়গায় আতরের দাম একেক রকম হয়ে থাকে। ফুটপাতের দোকানগুলোয় ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ছোট আকারে বোতলে বিভিন্ন রকমের আতর পাওয়া যায়। দেশীয় আতরের মধ্যে গোলাপ, বেলি, হাসনাহেনা ও রজনীগন্ধার চাহিদা কিছুটা বেশি। আর একটু ভালো মানের আতর কম দাম নিতে চাইলে যাওয়া যেতে পারে বায়তুল মোকাররমের সামনে।

সেখানে দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের আতর। যেমন- আম্বার, হুগোবস, গুচি, রোমান্স, সিলভার, মেশক আম্বার, জান্নাতুল ফেরদৌস ইত্যাদি। আর যারা দামি আতর কিনতে চান তারা ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে আতর পেয়ে যাবেন এসব মার্কেটে। 

টুপি 
ঈদের দিনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো নতুন পাঞ্জাবির সঙ্গে নতুন টুপি। সারা বছর টুপি ব্যবহার করলেও ঈদের দিনে নতুন জামা কাপড়ের সঙ্গে নতুন টুপি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন সবাই। আতরের মতো রাজধানীর প্রায় সব মার্কেটেই টুপি পাওয়া যায়। ফেব্রিক্স, ডিজাইন, নানা ধরন ও মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামের টুপি পাওয়া যায়। দেশে তৈরি টুপিগুলো পাবেন ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে নানা ধরনের বিদেশি টুপিও পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি, আফগান, চীনা, তুর্কি, ভারতীয় ও দুবাইয়ের টুপি। কম দামে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের টুপির চাহিদা বেশি। কাপড় ভেদে ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দামের টুপি পাওয়া যায়। এ ছাড়া বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে গুলিস্তান, নিউমার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি রকমের টুপি।

কলি

উৎসবের মেহেদি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
উৎসবের মেহেদি
মডেল: সাদিয়া নিশা মেকআপ: শোভন মেকওভার,ছবি: শরিফ মাহমুদ।

মেহেদি ছাড়া ঈদ উৎসবের কথা যেন চিন্তা করা যায় না। ঈদকে জমজমাট করতে চাঁদরাতে হাতে মেহেদি পরার ঐতিহ্য আমাদের দেশে বহুকাল ধরে। এই ঐতিহ্য পরিবর্তন না হলেও মেহেদির নকশায় এসেছে আধুনিকতা। প্রতিবছরই ঈদের মেহেদি নকশার পরিবর্তন হয়। এবারে ঈদের ট্রেন্ডি মেহেদির নকশা নিয়ে জানিয়েছেন শোভন মেকওভারের মেহেদি আর্টিস্ট সায়েম হোসেন লিখেছেন সানজিদা রিমু

এ বছরও মেহেদির নকশায় হালকা প্যাটার্নের ট্রেন্ড দেখা যাবে। হাতজুড়ে নকশা করা হবে না, হাতের কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে নকশা করা হবে। আঙুলেও থাকবে একেবারে হালকা আধুনিক ছিমছাম নকশা। এই নকশা তাসের থিম নকশা হিসেবে পরিচিত। ইন্ডিয়ান অ্যারাবিক স্টাইলের মেহেদির নকশাও আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। অনেককে এই নকশা ঈদ উৎসবে পরতে দেখা যাবে। এ নকশাটিও হাতজুড়ে হয় না। হাতের কবজি বা তার একটু ওপর পর্যন্তই এর দৈর্ঘ্য হয়। হাতের মাঝখানে খালি থাকে। আমাদের দেশের তরুণীরা নিজেদের রাঙাতে দুবাইয়ের মেহেদির নকশা করে থাকে। অনেক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে এই নকশা। তবে এই নকশায় কিছুটা ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া যাবে। ফ্লোরাল স্টাইলের নকশা এ বছরও চলবে তবে বর্তমানে ফুলেল নকশায় এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। শুধু লম্বা করে ফুল বা লতাপাতা নকশা করা হবে না, ভরাট ফ্লোরাল যেমন- গোলাপ, টিউলিপ, লোটাসের নকশা দেখা যাবে। আবার যারা ক্ল্যাসিক ও ট্র্যাডিশনাল নকশা পছন্দ করে তারা মানডালা নকশা বেছে নেবেন। যাদের হাত লম্বা তারা আবার গোল নকশা বেছে নিতে পারেন।

গোল নকশা অনেক বেশি গর্জিয়াস লাগবে। পিকক নকশাও ট্রেন্ডে রয়েছে। এই নকশা হাতের ওপরের অংশে করা হয়। এই নকশার আঙুল জুড়ে ভরাট নকশার সঙ্গে ময়ূরের কারুকাজ আনবে উৎসবের আমেজ। এ ছাড়া হাতের ওপরের অংশের জন্য চেক বা গ্রিডস নকশা ও বেশ আধুনিক। নকশাটি ভরাট হলেও বেশ ছিমছাম। সব সময় কিশোরীদের পাশাপাশি অনেক শিশুও মেহেদি দিয়ে থাকে। ছোটদের হাতে মেহেদির নকশায় সহজ-সরল মোটিফ ব্যবহার করাই ভালো। কোনো একটা থিম বেছে নিয়ে সেই থিমে হাতজুড়ে মেহেদি দিলে দেখতে ভালো লাগবে। শুধু শিশুদের হাতের ওপরের অংশের আঙুল ও কবজির কিছু অংশ মেহেদিতে রাঙিয়ে দিতে পারেন। চাইলে প্রিয় কার্টুন চরিত্রও আঁকতে পারেন।

কার হাতে কেমন নকশা
হাত অনুযায়ী নকশা করাটা জরুরি। যাদের হাতের পাতা বড় তারা হাতে ভরাট নকশা করলে দেখতে ভালো লাগবে। যাদের হাত ছোট তারা একপাশে লম্বালম্বি ডিজাইন করলে বেশ বানাবে। এ ছাড়া হাতের আঙুল যদি ছোট হয়, তবে অনামিকা বা মাঝের আঙুলে লম্বা করে নকশা করলে মানানসই হবে। আবার যাদের হাত লম্বা তারা কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে ভরাট ডিজাইন করতে পারেন। তবে উৎসব উপলক্ষে দুই হাত ভরে মেহেদির নকশা করতে পারেন দেখতে ভালো লাগবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে মেহেদির নকশা যেন সূক্ষ্ম হয়। সূক্ষ্ম ডিজাইনের কিছুটা অংশ ভরাট করে নকশায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসা যায়। বর্তমানে মেহেদির নকশায় এসেছে ফিউশন। পুরো হাতে ছিমছাম নকশার আবেদন সব সময়ই বেশি থাকে। মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা রেখে নকশাকে সুন্দর করে তোলা হয় এ ধরনের ডিজাইনে। নখের চারপাশে ভরাট করে মেহেদি দেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে নখে হালকা রঙের নেইলপলিশ লাগাতে পারেন।

কোথায় পরবেন মেহেদি
বিভিন্ন কোম্পানি ঈদের আগে মেহেদি উৎসব করে থাকে। সেখান থেকে পরতে পারেন। আপনি যদি নিজে মেহেদি ডিজাইন দিতে দক্ষ হন তবে ডিজাইনের বই দেখে নিজেই নকশা করে মেহেদি পরতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ, ইউটিউব ও ফেসবুকে থেকেও নকশা বেছে নিয়ে ডিজাইন করতে পারেন। আশপাশে বন্ধু বা বাড়ির কেউ বা পাশের ফ্ল্যাটের এক্সপার্ট কারও কাছ থেকে মেহেদি পরে নিতে পারেন। তাছাড়া বাড়ির পাশের বিউটি স্যালন তো আছে, চাইলে সেখান থেকে পরতে পারেন। তবে অবশ্যই চাঁদ রাতে অনেক ভিড় থাকবে। তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখলে ভালো হবে।

মেহেদি দেওয়ার আগে 
মেহেদি লাগানোর আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। হাতে ওয়াক্সিং করতে চাইলে মেহেদি দেওয়ার এক সপ্তাহ আগে করুন। কারণ ওয়াক্সিং করলে ত্বক মসৃণ হয়ে যায়। সেখানে মেহেদি রং ভালোভাবে বসবে না এবং গাঢ় হবে না। সব সময় চেষ্টা করুন উজ্জ্বল আলোতে মেহেদি দিতে, নাহলে আবছা আলোতে মেহেদি দিলে ডিজাইন ভালো হবে না। এ ছাড়া মেহেদি চিকন টিউব বা চিকন কোণে দেওয়াটাই ভালো। এতে ডিজাইন সুন্দর হবে। মেহেদি লাগানোর সময় টিস্যু, হালকা সুতি কাপড়, টুথপিক বা আলপিন সঙ্গে রাখুন। মেহেদি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন, যেন অতিরিক্ত নড়াচড়ার কারণে মেহেদির নকশা নষ্ট না হয়ে যায়।

মেহেদি দেওয়ার পরে
মেহেদি দেওয়ার পর শুকনা নকশার ওপর লেবু, চিনি, লেবুর পানি হাতে ব্যবহার করতে পারেন। এতে মেহেদি ভালোভাবে হাতের ওপর বসবে, রং গাঢ় হবে। এ ছাড়া ৮ থেকে ১০টি লবঙ্গ ঘিতে পুড়িয়ে হাতে ভাপ নিলেও রং গাঢ় এবং স্থায়ী হয়। মেহেদি উঠানোর পর হাতে সরিষার তেলও মাখতে পারেন।

কলি