ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ত্রিপুরা উপাখ্যান ও সাবিনার কথা

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১১:১৩ এএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
ত্রিপুরা উপাখ্যান ও সাবিনার কথা
অলংকরণ : নিয়াজ চৌধুরী তুলি

গত সংখ্যার পর

পুরনো এই খামটা ডাক্তার দত্তের জীবনের বড় স্মৃতিস্মারক। মাঝেমধ্যে পা ফেলে তিনি দেয়ালটার কাছে যান। চশমা মুছে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখেন। চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে।

একদিন সকালের চা খেতে খেতে আনন্দবাজারসহ কয়েকটা দৈনিকের পাতা ওল্টাচ্ছিলেন রথীন বাবু। পাশের টেবিলে রাখা আগরতলার দৈনিক সংবাদ ও কলকাতার আরও কিছু কাগজ। হঠাৎ একটি খবরে তার চোখ পড়ল। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বাংলাদেশের, সে নিয়ে কলকাতার সাউথ ব্লক ও ঢাকার সেগুন বাগিচার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগাম প্রস্তুতি চলছে। নতুন দিল্লি ডেটলাইনের খবরটা তিনি মনোযোগসহকারে পড়লেন। কী মনে করে চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। ধীরে এগিয়ে গিয়ে দেয়ালে সাঁটানো পুরনো চিঠিটা হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলেন। ইদানীং তার হাত কাঁপে- তবু পিন খুলে চিঠিটা হাতে নিলেন সার্জন দত্ত। তারপর আবার চেয়ারে গিয়ে বসলেন।

চিঠিটা আগেও তিনি বহুবার পড়েছেন। তবু ইচ্ছে হল আরেকবার পড়েন। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসতেই চশমা খুলে মুখের হাওয়া দিয়ে কাচ ভেজালেন- পাঞ্জাবির কোনা দিয়ে মুছলেন। ভাবলেন অনেক বছর চলে গেছে এরই মধ্যে। কত স্মৃতি তার আগরতলার, ত্রিপুরা রাজ্যের! অনেক স্মৃতি আছে, যা মুছে যায়, কিছু স্মৃতি থেকে যায়, অক্ষয় হয়। অবসরপ্রাপ্ত সার্জন চোখ বন্ধ করে ১৯৭১ সালে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। কিছু ছবি স্পষ্ট কিছু অষ্পষ্ট। স্মৃতির সেই ছবি বেশির ভাগই আগরতলার- ত্রিপুরার। যেখানে তিনি জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন।

সকাল গড়াতেই কলকাতার সড়কগুলো সবে সরব হতে শুরু করেছে। যানবাহনের শব্দ আসছে। তার কুঞ্জবন এ রকম ছিল না। কী শান্ত একটি জনপদ! জীবনের চঞ্চলতা নেই বলা যাবে না কিন্তু তার মধ্যে বাংলার পুরনো গ্রাম আছে- যা কলকাতায় নেই! কিন্তু কলকাতা মহানগরীর ভোরের কোলাহল ছাপিয়েও তিনি যেন আগরতলা দেখতে পান, পুরনো দিনের কথা শুনতে পান! তার ফেলে আসা জীবন, শিলংয়ের স্কুল, আসামের ডিব্রুগড়ে ডাক্তারি পড়া, কলকাতায় আসা, শল্যবিদ্যা নিয়ে দেশ-বিদেশে পড়ালেখা, গবেষণা- সবকিছু মনে পড়ে তার। একের পর এক পুরনো দিনের ছবি ভেসে ওঠে। আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ হাসপাতালের কৃতি সার্জন ডাক্তার রথীন দত্ত, এফআরসিএস, এফএফআইএমএস স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।

হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠতেই বর্তমানে ফিরে আসেন রথীন বাবু। কাজের মেয়ে বাসন্তী তখন সকালের কাজকর্ম সারতে রীতিমতো ব্যস্ত। ঘর পরিষ্কার করে বাসন মাজতে গেছে। বাসন মাজার শব্দ শোনা যাচ্ছে। অতএব, ভজহরিকে হাঁক দিয়ে বললেন- দেখ তো কে এল সকাল সকাল?

ভজহরি দুয়ার খুলে বাইরে গেল- ফিরেও এল ঝটপট। এসে জানাল- টিভির লোকজন। ওরা বলল- আপনি নাকি আজ সকালের দিকেই ওদের আসতে বলেছিলেন।

ওরা ফোনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেই এসেছে কিন্তু রথীন বাবু মনে রাখতে পারেননি। আগে এমনটা হতো না। পেশাগত জীবনের গোটা সময়টা ছিল গোছানো- টিপটপ। অ্যাপয়েন্টমেন্ট খাতায় সবকিছু লেখা থাকত। অ্যাসিসট্যান্টরা ঠিক সময়ে মনে করিয়ে দিত। অতএব, ভুলে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। খানিক ভেবে নড়েচরে বসলেন সার্জন দত্ত। ভজহরিকে বললেন- ও হ্যাঁ, বলেছিলাম তো, দেখ তো একেবারেই ভুলে গেছি! ঠিক আছে আমি পোশাকটা পাল্টে আসি, তুই ওদের ভিতরে এনে বসা। চা-নাস্তাও কিছু দিতে বলিস, সকাল সকাল এসেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আয়োজন চলছে। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে যারা যুক্ত হয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগই এখন বেঁচে নেই। যারা আছেন তাদের মধ্যে রথীন দত্ত একজন। কারণ আগরতলার এই কৃতিসার্জনের সঙ্গে যেমন ত্রিপুরার গোবিন্দ বল্লভ হাসপাতালের ইতিহাস জড়িয়ে আছে তেমনি আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের হাজারো আহত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবার ইতিহাস। ইদানীং রথীন বাবুর শরীর ভালো যায় না বটে, এরপরও ত্রিপুরার কয়েকটি দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেল এসেছিল। ওরা আগেভাগেই সাক্ষাৎকার নিয়ে গেছে। এড়াতে পারেননি। এবার এসেছে কলকাতার সংবাদকর্মীরা।

টিভির চটপটে নারী সাংবাদিক, ঘরে ঢুকেই রথীন বাবুকে প্রণাম করল। বোঝা গেল, ইন্টারভিউ নেওয়ার কৌশলটা সে ভালোভাবেই রপ্ত করেছে। এক টুকরো হাসি ছুড়ে দিয়ে সে বলল- স্যার, আমার নাম মল্লিকা, মল্লিকা সেনগুপ্ত। আপনার কথা অনেক শুনেছি, আজ সামনাসামনি দেখবার সৌভাগ্য হলো। আমাদের মতো নবীনরা আপনার মতো মহীরুহের সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য বোধ করছি। এখন আপনার শরীর কেমন, স্যার?

মেয়ের চাইতেও কম বয়েসী বালিকার মুখে কথাগুলো শুনে রথীন বাবু খুশি হলেন। হেসে বললেন- এই তো চলছে, একেবারে মন্দ বলি কী করে? তা ক’ বছর আছ তুমি জার্নালিজমে?

মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল- বছর আটেক হবে, স্যার। তবে আমি বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করি, বারকয়েক গেছিও, বর্ডার ক্রাইম- বর্ডার কিলিং ইত্যাদি নিয়েও রিপোর্ট করেছি। সামনের বছরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, এ নিয়ে ভারতেও নানা আয়োজন চলছে। তাই ভাবলাম, আপনার মতো মানুষের কিছু স্মৃতিসম্ভার ধরে রাখি, নতুন প্রজন্ম উপকৃত হবে।

ঠিক এভাবে কোনো সংবাদকর্মী আগে কথা বলেনি। অতএব, সার্জন দত্ত খুশি হলেন। বললেন- ঠিক আছে। শরীরটা ততটা ভালো থাকে না, সবকিছু মনেও নেই এখন, তবু দেখি কতটা কী মনে করতে পারি।

এরই মধ্যে ভজহরি চা-নাস্তা নিয়ে এল। রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যান গৌরব ঘোষ প্রায় একসঙ্গে বলে উঠল- আমরা কিন্তু চা-নাস্তা সেরে এসেছি স্যার,
শুধু শুধু-

-খেয়েছ তো কী হয়েছে, আরেকবার খাও। আমিও তোমাদের সঙ্গে বসব।

সার্জন দত্ত এরপর হাতের ইশারায় ওদের টেবিলে বসতে বললেন। সোফার একপাশ থেকে তিনি সাবিনার চিঠিটা সরিয়ে রাখলেন। কিন্তু রথীন বাবুর এই সাধারণ কাজটিও রিপোর্টারের চোখ এড়াল না। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল- অনেক পুরনো চিঠি মনে হয়, স্যার?

দত্ত বাবু বললেন- হ্যাঁ, পুরনো তো বটেই। এই ধর বাংলাদেশের বয়স যদি ৫০ হয় এ চিঠির বয়সও কম হবে না।

চলবে...

১ম পর্ব

প্রিয় পুরুষ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৩:৫৭ পিএম
প্রিয় পুরুষ
প্রতীকী ছবি

কেমন আছো জানতে চাইব না, কারণ আমি জানি তুমি আমায় ছাড়া ভালো থাকতে পারবে না। বেঁচে আছো, এতেই আমি সুখী! কতকাল হয়ে গেল তুমি মাথিন নামটাকে ছোট্ট করে আদর করে মাথু বলে ডাকো না। এই শহরে এত এত মানুষ, শুধু তুমিই নেই। এই ভিড়ের মাঝে আমার চোখজোড়া শুধু তোমাকেই খোঁজে। শুধু তুমি নেই বলেই সুখ আমার কাছে এসেও পাশ কাটিয়ে চলে যায়, তুমি কি সেই খবর রাখো? আচ্ছা তুমিও কী দূর থেকে আমাকে এমন ভেঙেচুড়ে ভালোবাস; যেমনটা আমি বাসি। জানো তোমার জন্য ভীষণ মন পোড়ে, এই মনে হয় তুমি আমার সামনে এসে দাঁড়াবে আর আমি লোকলজ্জা ভুলে তোমায় জাপটে ধরব, তোমার বুকের মাঝে নিজেকে গুটিয়ে নিব। আদতে তা কখনো হবে না, কারণ এ তো কেবলই আমার কল্পনা। বাস্তবে তো তুমি কোথাও নেই। তুমি সবসময় বলতে, আমি সাহসী, আমাকে নিয়ে তোমার চিন্তা নেই। জানো, এই সাহসী মানুষটাও ভয় পায়, কখনো রাস্তা পার হতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায় আর অসহায়ের মতো তোমায় খোঁজে। কতকাল হয়ে গেল তুমি আমার হাতের রান্না খেয়ে আমার মন রক্ষা করার জন্য মিথ্যে মিথ্যে বলো না ‘মাথু দারুণ রান্না করেছ, খুব ভাগ্য করে তোমাকে পেয়েছি’। আমি একা একা এখান থেকে ওখানে ঘুরে বেড়াই পথে, কোন প্রেমিক যুগল দেখলে মনের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে সুখের হাসি ফুটে উঠে।

পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, যারা আদর আহ্লাদ পায় না, অনাদরেই তাদের জীবন কেটে যায়; আমিও তেমনই একজন মানুষ। আমার মন খারাপ হলে বলতে পারি না, আনন্দে হলে বলতে পারি না, আমি তোমাকে ছাড়া আসলে কাউকে বলতেই চাই না। তাই সব অনুভূতিগুলো মনের কোণেই জমিয়ে রাখি। তুমি কি নিজের যত্ন নাও, নাকি এখনও আগের মতো বেখেয়ালি জীবনযাপন করো? আমাদের কি কখনো একটা লাল-নীল অভাবের সংসার হবে? যেখানে সবকিছুর অভাব থাকলেও ভালোবাসার অভাব হবে না। যে ওষ্ঠে চুম্বন লেপ্টে থাকার কথা ছিল, সে ঠোঁটে তুমি নিকোটিনের ধোয়া উড়াও! উড়াও, তবুও বেঁচে থাকো প্রিয়। এই কাল্পনিক সংসারটার ভার একা একা বইতে কষ্ট হচ্ছে। একটা বাস্তব সংসারের আক্ষেপ নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে যদি চলে যাই, কবরের পাশে এসে দাঁড়িয়ে আমার জন্য মাগফেরাত চেও। কারণ, তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই!

সুবর্ণরেখা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
সুবর্ণরেখা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বাংলা উপন্যাসের সার্থক রূপায়ণ ঘটে। ইতিহাস ও রোমান্সকে তিনি উপন্যাসের বিষয়বস্তু হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। মনস্তাত্ত্বিকতাও তার উপন্যাসে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী পাঠক তার উপন্যাসের মাধ্যমে এক নতুন জগতের সন্ধান পান। যে জগৎ তাদের নিজস্ব। কিন্তু তা অচেনা ও অজানা ছিল। অথবা প্রকাশের আড়ালেই পড়েছিল। তিনিই সর্বপ্রথমে হাস্যরসকে সাহিত্যের উচ্চশ্রেণিতে উন্নীত করেন। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট। সাহিত্য সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।’...

এই সপ্তাহের নতুন বই

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
এই সপ্তাহের নতুন বই

বই এমনই এক দর্পণ, যা মনের ইতিহাস সঞ্চয় করে। যারা সাধারণের ঊর্ধ্বে উঠতে চায় তাদের জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক প্রতিভা বসু বলেছেন, ‘বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ আত্মীয়, যার সঙ্গে কোনদিন ঝগড়া হয় না, কোনদিন মনোমালিন্য হয় না।’...

আমাদের চিন্তাচর্চার দিক্-দিগন্ত
যতীন সরকার
শ্রেণি: সাহিত্য ও সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ
প্রকাশনী: সৌম্য প্রকাশনী, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৬০; মূল্য: ৪৫০ টাকা

দুর্দান্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ, দুঃসাধ্য সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ থাকে যেসব গ্রন্থে, সেসবেরই পরিচিতি ‘গবেষণামূলক গ্রন্থ’ রূপে। অপণ্ডিত জনসাধারণ সেসব গ্রন্থের পাতা উল্টাতেও সাহসী হয় না, গ্রন্থাকারদেরও দূর থেকেই ভীতিমিশ্রিত ভক্তি প্রদর্শন করে। পাণ্ডিত্যের প্রতি ভীতি তো চিরকালই অপণ্ডিতদের মজ্জাগত। পণ্ডিত গ্রন্থাকারগণও ‘জনতার জঘন্য মিতালি’ মোটেই পছন্দ করেন না। আমজনতার ছোঁয়া বাঁচিয়ে তারা অবস্থান করেন পাণ্ডিত্যের খাশ কামরায়। গবেষক ও গবেষণাগ্রন্থ সম্পর্কে প্রচলিত এই ধারণাগুলো মোটেই অমূলক নয়। তবে সব ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম আছে। এমন কিছু গবেষকও আছেন যারা পাণ্ডিত্যের উঁচু মিনারে বসে থেকে জনতার প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকান না, বরং জনতার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তারা গবেষণাকর্মে নিরত হন। এই গবেষণা গ্রন্থে ১১টি প্রবন্ধ রয়েছে, যা পাঠককে আকৃষ্ট করবে।...

বাংলার এবং জীবনানন্দের শালিকেরা
সৌরভ মাহমুদ
শ্রেণি: পরিবেশ ও প্রকৃতি: প্রবন্ধ ও অন্যান্য
প্রকাশনী: মাছরাঙা প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৯৬; মূল্য: ৩৯০ টাকা

‘শালিক শালিক শালিক/ ওরা রোদে পোড়ে ছায়ায় ঘোরে/ ওরা রৌদ্র ছায়ার মালিক’। শামসুর রাহমান ওদের রৌদ্র ছায়ার মালিক বানালেও আসলে ওরা সমগ্র রূপসী বাংলার মালিক। কোথায় শালিক নেই! ওদের বিচরণ সর্বত্র। শালিক বাংলার এক প্রধান গায়ক পাখিও। ওদের সুরেলা সংগীত বনের নিবিড়তাকে মধুময় করে তোলে। জীবনানন্দের কবিতায় সেই ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে বারবার। তার লেখায় অসংখ্যবার শালিকের প্রসঙ্গ এসেছে। সৌরভ মাহমুদ এ কথাগুলোই তুলে এনছেন তার ‘বাংলার এবং জীবনানন্দের শালিকেরা’ গ্রন্থে।...

হাওয়ার বকেয়া হিসাব
মোস্তাফিজ জুয়েল
শ্রেণি: কাব্যগ্রন্থ
প্রকাশনী: দেশ পাবলিকেশন্স, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৬৪; মূল্য: ২০০ টাকা

‘হাওয়ার বকেয়া হিসাব’ গ্রন্থে সংকলিত কবিতাগুলোর ভাষা সহজ-সরল। সব শ্রেণির পাঠকের সঙ্গে সহজেই সংযোগ স্থাপনে সমর্থ। বিষয়বস্তু জীবনঘনিষ্ঠ, যাপিত জীবনের নির্যাস। পাঠ করলেই বোঝা যায় ভবিষ্যতের মানুষের জন্য বর্তমান সময়কে লিখে রাখা হয়েছে গদ্য ছন্দে। এই সময়ের পাঠক কবিতাগুলো পাঠের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়কে পুনর্মূল্যায়ন করার প্রসঙ্গ খুঁজে পেতে পারেন। ভবিষ্যতের পাঠক কবিতার রসের মধ্য দিয়ে পাবেন ইতিহাস আবিষ্কারের আনন্দ। এই সময়ের মানুষের ভাবনা, সভ্যতার বিনির্মাণ, মানুষের মন, প্রেম ও ভালোবাসা এমনকি ভাষাহীন প্রাণের কথাও ধরা হয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে, ধরা হয়েছে বাঙালির ইতিহাস, আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তির তফাৎ।…

The Housemaid is Watching 
দ্য হাউসমেইড ইজ ওয়াচিং
ফ্রিডা ম্যাকফাডেন
প্রকাশনী: বুকাউচার, আমেরিকা    
প্রকাশকাল: ১১ জুন ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩৬৪; মূল্য: ৫.৯৯ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কথাসাহিত্যিক ফ্রিডা ম্যাকফাডেন পেশায় একজন চিকিৎসক। ব্রেইন বিশেষজ্ঞ ম্যাকফাডেন প্রধানত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার লিখে থাকেন। তার সব উপন্যাসই বেস্ট সেলার। তার নতুন উপন্যাসের নাম ‘দ্য হাউসমেইড ইজ ওয়াচিং’। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মিলি হাউসমেইডের কাজ ছেড়ে দিয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে উপশহরের দিকে নিরিবিলি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবেশীদের চেনাজানার উদ্দেশে তার এক প্রতিবেশী মিসেস লোয়েলের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয় মিলি। সেখানে এক মহিলা মিলিকে প্রতিবেশীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। মিলির মনে খটকা লাগে: এত সুন্দর একটা স্বর্গীয় জায়গাও বিপজ্জনক হতে পারে!

Swan Song
সোয়ান সং
এলিন হিল্ডারব্যান্ড
প্রকাশনী: লিটল ব্রাউন অ্যান্ড কোম্পানি, আমেরিকা    
প্রকাশকাল: ১১ জুন ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩৮০; মূল্য: ১৪.৯৯ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কথাসাহিত্যিক এলিন হিল্ডারব্যান্ড এক সময় প্রকাশনা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ পর্যন্ত ৩০টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। তার বেশির ভাগ উপন্যাসই বেস্ট সেলার। তার সাম্প্রতিক উপন্যাসের নাম ‘সোয়ান সং’। প্রধান চরিত্র এড কাপানেশের ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে এ উপন্যাসের কাহিনি। নানটাকেটের পুলিশ প্রধান হিসেবে ৩০ বছর কাজ করার পর আর কয়েক দিনের মধ্যেই অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এড। নানটাকেটে আসার পর থেকে এখানকার ক্লাবে প্রবেশের জন্য সাধ্যমতো অনেক কিছুই করার চেষ্টা করে যাচ্ছে রিচার্ডসন পরিবার। তাদের ইয়টে পার্টির আয়োজন করে রিচার্ডসন পরিবার। তখনই দেখা যায়, তাদের বাড়িটা পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এডের ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার মেয়ের বন্ধুকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এড এবার অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা বাতিল করে। তদন্তের কাজ নিজে করার চিন্তা করে সে।

ঘুমের নদী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
ঘুমের নদী
অলংকরণ: নাজমুল আলম মাসুম

১.
শিয়রে থাকা ঘুমের নদীটার নাম চন্দনা
সে একা চুপচাপ থাকে
হিজলের রেণু, ঘ্রাণ গায়ে মাখে
কচুরি ফুলের শোভায় শোভিত হয়, মন্দ না।

ডাহুকেরা ছানা লয়ে সাঁতরে যায় এপাড় হতে
লতাগুল্মে কত পাখি বাঁধে ঘর
স্বপ্ন ফলায় রাশি রাশি কিষানির চর
নাইতে নেমে কিশোরীরা ভেলা টানে উল্টো স্রোতে।

২.
লালকোর্তা পরে মাষকলাইর খেতে শুয়ে
লাল-সবুজের পতাকা হতে চেয়েছি
রমণীর কপালের ফোঁটায় পেয়েছি
গোধূলির সূর্য আঁকা বাংলার প্রতিচ্ছবি।

পাখিদের ঘরে ফেরা, পাখা ঝাঁপটানো শেষে
ষোড়শীর কোলে আনা ছাগলের বাছুর
পথিকের মন ভেঙে চুরমাচুর
ফাগুনে আগুন লাগে বনে, ফুল গতরে মেশে।

খুন হয় কত স্বপ্ন নারঙ্গী কাঁটায়
প্রেমিক রূপে কত ন্যাকামি
আসলে কে মন খাটায়!

একাল সেকালের শীতরজনী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৯ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৯ পিএম
একাল সেকালের শীতরজনী
অলংকরণ: নাজমুল আলম মাসুম

গভীর শীতের রাতে ব্যালকনিতে দাঁড়ালেই 
কোনো বহুদূরবর্তী দেশ-দেশান্তর পেরিয়ে, 
ভুলে যাওয়া কবেকার কোনো প্রিয় মানুষের 
এক চিলতে নিশ্বাস মিশিয়ে, 
কুয়াশার গন্ধ গায়ে মেখে 
তিরতির করে আসে 
হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়া শীতল বাতাস। 
কফির মগে চুমুক দিতে হয় কাঁপুনি নিয়েই
আকাশটাও যেন মহাকাশ পরিমাণ 
অনিশ্চয়তা নিয়ে মাথার ওপর 
ঠায় দাঁড়িয়ে। 

আজ থেকে এক শ বছর আগে 
আমাদেরই অগ্রজ বংশধররা
ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কফির কাপে 
উষ্ণতা খুঁজতে খুঁজতে এভাবেই উপভোগ
করেছিলেন শীতের রজনী। 

একইরকমভাবে আর মাত্র এক শ বছর পর 
একই অনুভূতি রচিত হবে অন্য প্রজন্মের হাতে। 
অন্য কোনো উপমায় সেজে উঠবে 
ঠিক এই রাতটাই! 

শতবর্ষ পরে নতুন প্রজন্ম, প্রকৃতি পরিবেশ ও
নতুন ভাষার আনাগোনা 
নতুন কবিতায় ভর করে
তখনও কি রবীন্দ্রনাথ নজরুল কথা কবে।
নতুন ভাষার শিশু বোল কি
আমি কি দেখতে পাব বা
শুনতে পাব?