মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো উড়োজাহাজের কথা ভাবলে, তা ভেঙে যন্ত্রাংশগুলো পুনর্ব্যবহার ছাড়া উড়োজাহাজটির তেমন কোনো উপযোগিতার কথা সাধারণত আমাদের মাথায় আসে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একেবারেই ভিন্ন।
বোয়িং কোম্পানির উড়োজাহাজগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সেগুলো রেস্টুরেন্ট, জাদুঘর, ক্যাফে, এমনকি পার্টি ভেন্যু হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এভাবেই ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ন্যাং-ন্যাং সমুদ্রসৈকতের পাশে পাহাড়ের কোলে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজকে বিলাসবহুল ব্যক্তিগত ভিলায় রূপান্তির করেছেন রাশিয়ান উদ্যোক্তা ফেলিক্স ডেমিন।
ফেলিক্স সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্টে ভিলাটি ঘুরে দেখালে এ নিয়ে আলোচনা করেন ভারতীয় শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা।
ফেলিক্স জানান, এ উড়োজাহাজটিকে নতুন রূপ দিয়ে দুই বেডরুমের ভিলায় পরিণত করেছেন তিনি। এ ভিলায় থাকার ন্যূনতম খরচ সাত হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাত লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
ভিডিওতে দেখা যায়, ধাপে ধাপে সিঁড়ি উঠে গেছে ভিলার দরজায়। দরজা খুলে ভিলার অন্দরমহলে ঢুকলেই চোখে পড়বে ডাইনিং রুম এবং অতিথিদের বসার জায়গা। সামনে দেওয়াল জুড়ে কাঁচের দরজা দিয়ে দেখা যায় সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
কাঁচের দরজা ঠেলে ওপারে গেলেই খোলা বারান্দা। বারান্দায় রয়েছে বসার জায়গা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০ মিটার উপরে থাকা এই উড়োজাহাজ-ভিলায় রয়েছে জাকুজি ও সুইমিংপুল।
ভিলার ভেতরে সরু প্যাসেজ ধরে ভেতরে যাওয়ার সময় দুইদিকে পড়বে দুটি বাথরুম। তার মধ্যে একটি বাথরুমে শুধু গোসল করা যাবে।
ভেতরে আলমারির পাশাপাশি আলাদা ভাবে তৈরি করা হয়েছে ঘর। সেখানে মুখ ধোওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তার সামনে দিয়ে যাওয়া যায় একটি বেডরুমে। বেডরুমে রয়েছে একটি ছোট বাথটাব। বাথটাবের সামনের কাঁচের জানালা দিয়েও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
ভিলায় একটি স্মার্ট বেডরুমও রয়েছে। সেখানে স্মার্ট ভয়েস পদ্ধতির মাধ্যমে ঘরের আলোর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়। এই বেডরুমটির সঙ্গেও রয়েছে একটি বাথটাব। তবে এই বাথটাবটি বেশ বড়।
উড়োজাহাজের ব্যবহৃত দরজার মতো একই ধরনের দরজা রয়েছে বেডরুমে। দরজা খুললেই তলায় দড়ি দিয়ে তৈরি জাল চোখে পড়ে। যেন অতিথিরা জালের উপর বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
উড়োজাহাজ-ভিলার ভিডিও নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে ফেলিক্স লেখেন, ‘যারা নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পারেন তারা ভাগ্যবান। আমি বুঝতে পারছি না এখানে কোনদিন থাকার কথা পরিকল্পনা করে আনন্দ পাবো, নাকি জেট ল্যাগের (জেট ল্যাগ হলো এক ধরনের ক্লান্তি, যা ভ্রমণের কারণে হয়) ফলে যে ক্লান্তি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবো।’
পপি/অমিয়/