বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে মানুষকে বিনামূল্যে বই দিয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।
নরসিংদী প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই বইয়ে আসক্ত। অন্যদের মধ্যে এই আসক্তি গড়ে তুলতে এরই মধ্যে তিনি ৩০ হাজার বই মানুষকে দিয়েছেন। তা ছাড়া প্রতিনিয়তই তিনি মানুষকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন।
স্মার্ট ফোন ছেড়ে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি নিজের টাকায় ২০০ জন সদস্য করেছেন।
নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অন্যকে বই পড়তে আগ্রহী করে তোলা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১৩ নভেম্বর দুপুরে তার কলেজের ২০০ শিক্ষার্থীকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য করে দেন।
তিনি নরসিংদীতে বই পড়ার জন্য মানববন্ধনও করেছেন।
তা ছাড়া দুটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।

নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম মোস্তাফা মিয়া বলেন, ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়ার একটি সুন্দর পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ।
শিক্ষার্থী আইয়ুব খান বলেন, স্যার সব সময় আমাদেরকে বিভিন্ন বই পড়ার কথা বলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেনের জন্ম নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার খৈনকুট গ্রামে। মামা আব্দুল গফুর ছিলেন বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। তার উৎসাহে বইপড়া শুরু মোয়াজ্জেম হোসেনের।
১৯৮৫ সালে যখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়েন তখনই পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়া শুরু করেন। ১৯৯০ সাল থেকে বই সংগ্রহ করতে থাকেন। নরসিংদী স্টেশন, লাইব্রেরি ঘুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, ডেল কার্নেগির বই কেনেন। গ্রামের পরিচিতদের কাছ থেকে বই এনে পড়ার টেবিলে সাজিয়ে রাখতেন। বন্ধুদের পড়তে দিতেন। পাঠচক্র করতেন।
তিনি ২০০০ সালে নরসিংদী শহরে এসে প্রতিষ্ঠা করেন নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরি। ২০১০ সালে নিজ গ্রাম খৈনকুটে প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষানুরাগী সামসুউদ্দিন পাবলিক লাইব্রেরি।
নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরিতে বই আছে প্রায় ছয় হাজার। যা সবার জন্য উন্মুক্ত। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকে। বাসায় বই নিতে চাইলে নাম এন্ট্রি করতে হয়। পাঠাগারের সংগ্রহও মন্দ নয়। গ্রামীণ পুথির পাণ্ডুলিপি আছে ৩০টি।
ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন একজন শিক্ষাবিদ, সমাজ চিন্তক ও লেখক।
অমিয়/