প্রথম দেখাতে কারও কারও কাছে মনে হতে পারে কোনো বিশেষ পানীয়। কিন্তু না, এটি আসলে চা। আমাদের দেশে যেভাবে ফুঁ দিয়ে গরম চা খাওয়া হয়, এটি সেই ধরনের চা নয়। একটুও গরম নয়, বরং একেবারে ঠাণ্ডা। অনেকে যেমন মদের গ্লাসে বরফের টুকরো দিয়ে পান করেন, তেমনি কাপের মধ্যে বরফ দিয়ে পরিবেশন করা হয় এই চা।
একে কোল্ড টিও বলা হয়। বাংলাদেশের মানুষ কোল্ড কফির সঙ্গে পরিচিত হলেও কোল্ড টির সঙ্গে অনেকটাই অপরিচিত। কোল্ড টির সঙ্গে পরিচিত হতে হলে যেতে হবে ভিয়েতনাম। সে দেশের মানুষ আমাদের মতো ফুঁ দিয়ে গরম চা পান করেন না, তারা চায়ের কাপে বরফ কুচি দিয়ে নেন। ভিয়েতনামে এই এক কাপ চা খেতে গুনতে হয় ৫ হাজার ডং, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ টাকা।
বাংলাদেশিদের ভ্রমণের জন্য ভিয়েতনাম দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি দেশটিতে ভ্রমণে যান। ভিয়েতনামে এক বাংলাদেশি এই বরফের চা পান করার পর এই প্রতিবেদকের কাছে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরে দেখা হয় তার সঙ্গে। তিনিসহ বাংলাদেশে ১৯ সদস্যের একটি দল ভিয়েতনামে ভ্রমণে গিয়েছিল।
শেখ মাসুম নামের ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। আমার একটু চায়ের নেশা আছে। ঘন ঘন চা পান করি। ভিয়েতনামে যাওয়ার পর নাশতা শেষে চা খেতে ইচ্ছে করছিল। খুঁজতে শুরু করলাম চায়ের দোকান। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের মতো মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকান নেই। তাই চা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক ঘোরাঘুরির পর এক দোকানে চা পেলাম। সেখানে আগে চায়ের দাম জিজ্ঞেস করে নিলাম। প্রতি কাপ চা ৫ হাজার ডং।’ তিনি বলেন, ‘অর্ডার দেওয়ার পর দেখলাম চায়ের দোকানি নারী বড় কাপের মধ্যে প্রথমে এক টুকরো বরফ রাখলেন। তারপর কেটলি থেকে কী যেন কাপে ঢেলে দিলেন। রংটা অন্য রকম মনে হলো। ভাবলাম, হয়তো তিনি নিজস্ব পানীয় পান করতে করতে চা বানাবেন। কিন্তু না, ওই কাপটি আমার দিকেই এগিয়ে দিলেন। কী করব বুঝতে একটু সময় লাগল। কারণ প্রথমে আমি ভাবছিলাম চা তো আমাদের দেশের মতো হবে। কিন্তু না। আমাকে যে বরফ দেওয়া কাপটি এগিয়ে দিলেন, সেটাই আসলে চা। ভিয়েতনামে নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্য রকম ছিল।’
এই চায়ের কোনো বিশেষত্ব আছে কি না জানতে চাইলে ঢাকার জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আফরিন জাহান বলেন, ‘আমার জানামতে কোল্ড চায়ের উপকারিতা বা অপকারিতা নিয়ে গবেষণা তেমন নেই। তাই এতে কোনো বিশেষত্ব আছে কি না এখনো সেভাবে কিছু জানা যায়নি। যেহেতু কোল্ড চা খেলে অপকার হয় না এবং স্বাদেও ভিন্নতা পাওয়া যায়; সে জন্য হয়তো তারা বরফ দিয়ে চা পান করেন। উপরন্তু গরমের দিনে হাইড্রেশন মেইনটেইনও হয় হয়তো।’
পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সেক্রেটারি পুষ্টিবিদ নাঈমা রুবী বলেন, ‘গরম পানিতে চা পাতা দেওয়ার চেয়ে ঠাণ্ডা পানিতে যদি চা পাতা দেওয়া হয়, তাহলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। আমরা অনেক বেশি জ্বাল দিয়ে, দুধ-চিনি দিয়ে সাধারণত যেভাবে চা খাই, তাতে চায়ের যে উপকারিতা, তা পাই না। শুধু স্বাদ পাই। ঠাণ্ডা পানিতে চা পাতা দেওয়ার পর চায়ের রংটা যখন ছড়িয়ে যাবে, তখন সেটি ছেকে নিয়ে পান করলে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পানীয় পাওয়া যাবে, যা উপকারী।’