ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের

সাক্ষাৎকার নীতি হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
নীতি হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব
রেনকন মোটরবাইকস লিমিটেড (সুজুকি)-এর নির্বাহী পরিচালক কাজী আসিক উর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

কাজী আশিক উর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, রেনকন মোটরবাইকস লিমিটেড (সুজুকি)। দীর্ঘ সময় ধরে অটোমোবাইলশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ শিল্পের যাত্রা, নীতিগত বিষয়, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, সমস্যা-সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে।

খবরের কাগজ: বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের যাত্রা সম্পর্কে কিছু বলুন? 
কাজী আসিক উর রহমান: বাংলাদেশে অটোমোবাইলশিল্পের যাত্রা শুরু হয় মূলত ২০১৬ বা ২০১৭ সালের দিকে। প্রথম একটি আদেশ (এসআরও) জারি করা হলো। সেখানে মোটরসাইকেলশিল্পে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হয়। এর পর একটি বিজনেস পলিসি (নীতি) তৈরি করা হলো। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্প মন্ত্রণালয় এই পলিসি তৈরির ক্ষেত্রে মূল যে লক্ষ্য রেখেছিল তা হচ্ছে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ১০ লাখ মোটরসাইকের বাজার তৈরি করা। এজন্য প্রথম দিকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রেখে পলিসি তৈরি করা হয়। তখন থেকেই মূলত দেশে মোটরসাইকেলশিল্প প্রসারের উদ্যোগটি সামনে আসে। এ খাতের নতুন বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। 

/আবরার জাহিন

খবরের কাগজ: আপনারা যখন শুরু করলেন তখন কী ধরনের সম্ভাবানা দেখেছিলেন? 
কাজী আসিক উর রহমান: মোটরসাইকেলশিল্পতে যখন উৎপাদন পর্যায়ে দেশীয় বাজার দখলের উদ্যোগ নেওয়া হলো তখন আমরা অনেক সম্ভাবনা দেখেছি। গত ১০ বছরের কিছু কম সময়ে দেশের মোটরসাইকেলশিল্পটি অগ্রগামী শিল্প হিসেবে দৃশ্যমান হওয়ার কথা। আমি না হওয়ার পেছনে কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। তবে সাদা চোখে যেটা মনে হয়েছে, এ খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করার জন্য প্রথম দিকে যেসব পলিসি নেওয়া হয়েছিল পরে তা আর থাকেনি। ফলে সম্ভাবনার জায়গাটিও এখন অনেকটা মলিন। 

খবরের কাগজ: বাধাগুলো কী কী? 
কাজী আসিক উর রহমান: এ খাতটিকে প্রথমে লাইট ইঞ্জিনিয়ানিং খাত হিসেবে দেখা হয়েছিল। ২০২০ সালকে অটোমোবাইল ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরও কেন এ খাতটি পিছিয়ে গেল? এক কথায় যদি বলি, তা হচ্ছে দ্রুত কিছু পলিসি পরিবর্তন হয়েছে। আমরা যারা ব্যবসায়ী আছি, তারা নতুন একটি প্রকল্প নেওয়ার সময় ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করি। যখন দেখা গেল ১০ বছরের মধ্যে এ খাতের বিনিয়োগ হবে এমন পলিসিগুলোর পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, তখন আর এটি বিনিয়োগের পর্যায়ে থাকেনি। উদ্যোক্তা হিসেবে তখন আমরা ধাক্কা খেয়েছি। ফলে এই মার্কেটটি যখন মুভিং পর্যায়ে যাওয়ার কথা, সেখানে আমরা পিছিয়ে গেছি। বাধাগুলোর মধ্যে এ সেক্টরে নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি ছিল, ভ্যাট সহনীয় পর্যায়ে ছিল, পর্যায়ক্রমে এগুলো সবই উঠে গেছে এখন।

খবরের কাগজ: কর অব্যাহতি আরও কিছু দিন রাখা উচিত ছিল কি না? 
কাজী আসিক উর রহমান: নতুন যেকোনো শিল্পকে স্বাবলম্বী করার জন্য অবশ্যই এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের কিছু না কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতেই হবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের মোটরসাইকেল বাজারকে ২০৩০ সালের মধ্যে যে ১০ লাখে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই ধারাটি অব্যাহত থাকলেই কেবল এ শিল্প পরিপূর্ণতা পেত। কিন্তু পলিসিগত জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারাও নতুন করে আসেনি, ফলে এ বাজারটি ছোট হয়ে গেছে। পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, ক্রেতারাও চলে গেছে। 

কর অব্যাহতি সুবিধা বন্ধের কারণে শিল্পোউদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সময়ে যে পলিসিগত পরিবর্তন এসেছে সেগুলো করার সময়ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে করা হয়নি। এখানে বিনিয়োগের একটা বিষয় আছে। কর অব্যাহতি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মোটরসাইকের দাম কম থাকত। কিন্তু উল্টো হওয়ায় এখন পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে ভলিউম অব প্রোডাকশন কমে গেছে। এখন আমাদের প্রোডাকশন কমে গেলে সরকার তো আর আগের মতো কর পাবে না, ফলে সরকার যে উদ্দেশ্যে এ পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর বসিয়েছিল, তার সুফল কিন্তু পায়নি। 
গত ৫ বছরে পলিসির ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণে বিজনেস প্ল্যানটা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ভ্যাট মওকুফ ছিল। এর পর ১৫ শতাংশ ভ্যাট চলে এল। বলা হয়েছিল, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ফ্রি থাকবে, সেটিও হয়নি। কাস্টমস ডিউটিগুলো সহনীয় হবে। কিন্তু এর মধ্যে হঠাৎ করে ভ্যাট বসল। ২০২০ সালের পর থেকে ভ্যাট মওকুফের বিষয়টি উঠে গেল। 

খবরের কাগজ: বর্তমানে মোটরসাইকেলের বাজার কেমন? 
কাজী আসিক উর রহমান: আমরা বিজনেস চালাতে গিয়ে যে সমস্যাটি মোকাবিলা করেছি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। আমরা ২০১৮ সালে মোটরসাইকেল তৈরির লাইসেন্স পেয়েছি। এই সাত ও আট বছরে অসংখ্যবার এই পলিসি পরিবর্তন হয়েছে। পলিসিগুলো আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে খুব বেশি এগিয়ে নিতে পারেনি। এর ফল কিন্তু ভয়ংকর। ২০১৮ সালে আমাদের বাজারের সাইজ ছিল ৫ লাখ পিস মোটরসাইকেল। কোভিড-১৯-এর সময় ২০২০ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার, ২০২১-২২-এ এই সংখ্যা ৬ লাখে উঠে এল। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ৪ লাখের বেশি হতে পারেনি। 

এখন এই ৪ লাখের নিচে নেমে আসার ফলে, এই শিল্পের জন্য যে বিনিয়োগটা সেটা নিরাপদ হয়নি। আমি যদি বলি, একটি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া মানে শুধু সেই সেক্টরে উদ্যোক্তাকে সুবিধা দেওয়া নয়। এ শিল্পের অন্যান্য বিষয়গুলোকেও এগিয়ে নেওয়া বোঝায়। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। 

খবরের কাগজ: ডলারসংকটরে কারণে আমদানি জটিলতা কি এখন আছে? 
কাজী আসিক উর রহমান: ডলারসংকটের বিষয়টি আমরা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে মোকাবিলা করছি। এখন এ সমস্যাটি অনেকটা কেটে গেছে। আমরা এখন আমাদের কর্ম-পলিকল্পনা পরিবর্তন করেছি। আগে যে পণ্য আমদানি করার জন্য সাত দিন আগে পরিকল্পনা করতাম, এখন সেটি এক মাস আগে করি। ফলে ডলারসংকট আমরা এখন খুব বেশি মোকাবিলা করছি না। 

খবরের কাগজ: এ শিল্পে প্রযুক্তি ব্যবহার কেমন, যেসব মোটরসাইকেল তৈরি হয় সেগুলো কি আন্তর্জাতিক মানের কি না? 
কাজী আসিক উর রহমান: এ শিল্প যতটুকু সম্প্রসারিত হয়েছে পুরোটাই আন্তর্জাতিকমানের পণ্য তৈরি করেই এগিয়েছে। দেশের বাজারে যে ব্র্যান্ডগুলো আছে, সবগুলোই আন্তর্জাতিকমানের। প্রতিনিয়তই আমরা নতুন নতুন মডেলের বাইক ক্রেতাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা নতুন মডেলের বাইক তৈরি করতে চাইলে প্রথমে সেটি তৈরি করে জাপানে পাঠাতে হয়। সেখানে বিশ্বের সব নতুন মডেলের বাইক পরীক্ষা করা হয়। সব বাইকের মান একই রেখে আমাদের কাছে পাঠানো হয়। সুজুকি নতুন বাইকটিকে ন্যূনতম তিন থেকে ছয় মাস সময় নিয়ে এর মান পরীক্ষা করে। তাদের পক্ষ থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই আমরা সেটি দেশের বাজারের জন্য উৎপাদনে যেতে পারি। 

এ ছাড়া দেশীয়ভাবে যেসব বাইক তৈরি হচ্ছে সেগুলোর মান পরীক্ষার জন্য বিআরটিএ, বুয়েট থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। ফলে এখানে যে কয়টিই বাইক তৈরি হোক না কেন সবই আন্তর্জাতিকমানের। 

খবরের কাগজ: মোটরসাইকেলশিল্পের কতটুকু সম্ভাবনা আছে? 
কাজী আসিক উর রহমান: ১৮ কোটি মানুষের দেশ। সেখানে আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। আমরা খুবই আশাবাদী। একটি মোটরসাইকেল তৈরির জন্য শুধু যে একটি কারখানা প্রয়োজন তা কিন্তু নয়। এ শিল্পের সঙ্গে অনেকগুলো ‘ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রি’ জড়িত। 

এখানে কেউ লাইট বানাবে, কেউ সিট বানাবে, কেউ বিয়ারিং বানাবে। এর সঙ্গে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প যুক্ত। সেখানে কর্মসংস্থান হবে- সেই উদ্দেশ্যেই এ শিল্পটাকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পলিসিগত জটিলতার কারণে এখন মূল শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

খবরের কাগজ: ইকোনমিক জোনগুলো এ শিল্পের অগ্রগতিতে কতটা সহায়ক হবে?
কাজী আসিক উর রহমান: এ ব্যাপারে আরও উৎসাহিত করা উচিত। আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। ইকোনমিক জোনগুলো যারা নতুন বিনিয়োগে আসবে তাদের জন্য খুবই ভালো হবে। কিন্তু যারা এরই মধ্যে ইকোনমিক জোনের বাইরে বিনিয়োগ করে ফেলেছে তাদের জন্য তাহলে কী হবে? তাদের জন্যও সরকারকে ভাবতে হবে। ফলে এখানে সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে- সরকারের পলিসিগত সুবিধাটা বিনিয়োগবন্ধব করতে হবে। 

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম
অটোমোবাইল ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সমৃদ্ধ গাড়ির জাদুঘর। গাড়ির ইতিহাস, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের নকশা দিয়ে সাজানো এই জাদুঘর গাড়িপ্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সূচনা করে।

১৯৯৪ সালে রবার্ট ই. পিটারসেন ও মার্জি পিটারসেন জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। রবার্ট ছিলেন একজন বিখ্যাত ম্যাগাজিন প্রকাশক, যিনি মোটরগাড়ি শিল্পের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে মানুষ গাড়ির প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবে এবং এই শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। মূলত গাড়ির সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

২০১৫ সালে ১২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি আধুনিকায়ন করা হয়, ফলে জাদুঘরটির নকশায় আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে এর স্টেইনলেস স্টিলের ঢেউখেলানো বাহ্যিক নকশা গতির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে ১০ হাজারের বেশি গাড়ির সংগ্রহ রয়েছে, যা ক্ল্যাসিক গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজাইন পর্যন্ত বিস্তৃত।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি প্রদর্শন করা হয়, যা অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস তুলে ধরে। এতে ক্ল্যাসিক গাড়ি, রেসিং কার, মোটরসাইকেল ও কনসেপ্ট কার রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বেশ কয়েকটি ইন্টার‌্যাক্টিভ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে, যা দর্শকদের অটোমোবাইল শিল্পের বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এখানে সিনেমা ও টেলিভিশন শো-তে ব্যবহৃত গাড়িগুলো প্রদর্শিত হয়। বিশ্বের বিখ্যাত কিছু রেসিং কার এখানে দেখা যায়। এ শিল্পের একদম শুরুর দিকের ক্ল্যাসিক গাড়িগুলো এখানে রয়েছে। ভবিষ্যৎ গাড়িগুলোর ডিজাইন এখানে প্রদর্শন করা হয়।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম জনসাধারণের মধ্যে অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাদুঘরটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এ ছাড়া এখানে একটি গবেষণা গ্রন্থাগার রয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

বছরজুড়ে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে মাঝে মধ্যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কার শো, লেকচার ও ওয়ার্কশপ। এ ছাড়া এখানে কিছু বিশেষ প্রদর্শনী হয়, যা সীমিত সময়ের জন্য দেখানো হয়।

জাদুঘরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘দ্য ভল্ট’, যেখানে ২৫০টিরও বেশি ক্ল্যাসিক, দুর্লভ ও ঐতিহাসিক গাড়ি সংরক্ষিত আছে। গাড়ির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একত্রে উপস্থাপন করে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গাড়ি সংগ্রহশালা হিসেবে স্বীকৃত। পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম সপ্তাহের সাত দিনই জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬০৬ উইলশায়ার বুলেভার্ডে অবস্থিত।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। মাঠে ক্রিকেটের রোমাঞ্চের পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব ই-মবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটারদের অদম্য স্পৃহাকে সম্মান জানাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। চলমান এই সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে যে বাংলাদেশি বোলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করবেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পুরস্কার দেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভি মটো গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নূর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই গৌরবময় যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্মরণীয় সিরিজ উপহার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ভি মটো বাংলাদেশ।

অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোটিভ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জার্মানির বিখ্যাত ভক্সওয়াগেন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানিভিত্তিক স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অব অটোমোটিভ ম্যানেজমেন্ট (সিএএম)’ প্রকাশিত ‘অটোমোটিভ ইনোভেশনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই তথ্য জানানো হয়। বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এমন গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করল।

প্রতিবেদনের ২২তম সংস্করণে বিশ্বের ৩৬টি বড় অটোমোটিভ গ্রুপের মোট ৮৬৭টিরও বেশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সিএএম তাদের নিজস্ব ‘এম.ও.বি.আই.এল’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই জটিল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই পদ্ধতিতে অটোমোবাইল উদ্ভাবনগুলোর পরিপক্বতা, মৌলিকত্ব, গ্রাহক উপযোগিতা এবং কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে স্কোর দেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে ১৫৭ দশমিক ২ ইনডেক্স পয়েন্ট পেয়ে উদ্ভাবনী সূচকে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় বিওয়াইডি। অন্যদিকে পূর্ববর্তী চ্যাম্পিয়ন ভক্সওয়াগেন গ্রুপ ১৪৩ দশমিক ১ পয়েন্ট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপ ১৩৪ দশমিক ২ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অটোমোটিভ গ্রুপ হওয়ার পাশাপাশি ‘মোস্ট ইনোভেশন ভলিউম ব্র্যান্ড ২০২৬’-এর মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিও নিজেদের করে নিয়েছে বিওয়াইডি। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০৫-এর বেশি ইনডেক্স পয়েন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রেনল্ট ও টয়োটার মতো সুপ্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে সহজে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিএএম-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন, আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেম এবং একাধিক বিশ্বমানের উদ্ভাবনই মূলত বিওয়াইডির এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরে বিওয়াইডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। নিজেদের তৈরি ব্লেড ব্যাটারি, ডিএম-আই সুপার হাইব্রিড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-এর মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে সম্পূর্ণ নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুই ধাপে জমকালো মেগা ডেলিভারি ইভেন্টের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে সরাসরি ৯০টি পরিবেশবান্ধব আধুনিক গাড়ি হস্তান্তর করেছে। দেশের বাজারে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/আবরার জাহিন

চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে
চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি।

চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত বা পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানিতে বিশাল সাফল্য দেখছে চীন। দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ি সংস্থার (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার গাড়ি রপ্তানি ১১২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৪ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।  
তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো মোট যাত্রীবাহী গাড়ির ৫৪ দশমিক ১ শতাংশই ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত যান, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
রপ্তানিকৃত এনইভিগুলোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। 
সিপিসিএ বলেছে, চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি। অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলক দুর্বল চাহিদার মধ্যেও চীনা গাড়ি নির্মাতারা লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং রপ্তানির ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা 

ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’
ওয়েমোর তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’। ছবি: সংগৃহীত

চালকহীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমো তাদের তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ উন্মুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফিনিক্সের যাত্রীরা এখন এই স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সেবা বিনামূল্যে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষভাবে তৈরি এই রোবোট্যাক্সি ওয়েমোর জন্য একটি বড় মাইলফলক। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাণিজ্যিক গাড়িকে রূপান্তর করে চালকহীন হিসেবে ব্যবহার করত। ভ্যান আকৃতির এই গাড়িটি বেশ বড় ও প্রশস্ত। এটি টেসলার ছোট আকারের সাইবার ক্যাবের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাতে মাত্র দুজন মানুষ মালামালসহ বসতে পারেন।

চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জিকর’ ওজাই গাড়িটি তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ওয়েমোর নিজস্ব কারখানায় এতে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।

গাড়িটিতে যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, তিনটি স্ক্রিন এবং চার্জিং পোর্ট রয়েছে। এতে ওয়েমোর ষষ্ঠ প্রজন্মের নতুন চালনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে গাড়িটির ক্যামেরা সেন্সর ২৯টি থেকে কমিয়ে ১৩টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে লিডার ও রাডার সেন্সরের সংখ্যাও কমেছে। ফলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০ হাজার ডলারের কম।

নতুন সফটওয়্যারের জন্য বরফাবৃত ও ঠাণ্ডা শহরের রাস্তায় গাড়িটি চলতে সক্ষম। এর আগে ওয়েমো কেবল উষ্ণ অঞ্চলের শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন শিকাগো শহরে তাদের সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে আমেরিকার ১১টি প্রধান শহরে ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সেবা চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটিরও বেশি সফল ট্রিপ সম্পন্ন করেছে, যা এই খাতের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে বন্যার পানিতে গাড়ি চলে যাওয়ার কারণে দুটি শহরে ওয়েমো তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনার পর প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।