গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন চট্টগ্রাম অমর একুশে বইমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল নামে। মেলার প্রতিটি স্টল এবং গলি মানুষে ঠাসা। গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এই মেলার উদ্বোধন হয়। মেলার শুরু হওয়ার পর প্রথম শুক্রবার পান ক্রেতা-বিক্রেতারা। এ কারণে বিকেল থেকে প্রচুর মানুষ আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার সময় মেলা প্রাঙ্গণে পা ফেলার জায়গা ছিল না।
সরেজমিনে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মেলা শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এসেছেন। এ কারণে তাদের বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে।
বইমেলায় আসা দর্শনার্থী প্রকৌশলী ফজলুল কাদের খবরের কাগজকে জানান, তিনি পুরো মেলা ঘুরে দেখেছেন। গতকাল সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ার সুবাদে মেলায় দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। যে হারে মেলায় মানুষ এসেছে, তার অর্ধেকও যদি বই কিনত তাহলে স্টলকর্মীদের হাহাকার করতে হতো না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত এই প্রকৌশলী পাঠকদের বইবিমুখতার জন্য স্মার্ট মোবাইলের অপব্যবহারকেই দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, ‘সব বয়সী মানুষ আজ মোবাইলে ডুবে থাকে। টিকটক দেখে। নানা ভিডিও দেখে। এসব দেখে তাদের সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ মোবাইল অতিপ্রয়োজনীয় একটি জিনিস। এর চরম অপব্যবহারের কারণে সবাই বই বিমুখ হয়ে পড়ছি। মোবাইল হওয়া উচিত শুধু কথা এবং বার্তা আদান-প্রদানের অন্যতম অনুষঙ্গ। এর বাইরে গেলেই মন-মগজ দুটিই নষ্ট করবে।’
বইমেলায় স্টল নিয়ে আসা সিয়ান প্রকাশনার কর্মী আবু কায়সার খবরের কাগজকে জানান, তাদের স্টলের প্রায় সব বই ধর্মীয়। তাদের স্টলে হজ-ওমরা বিশ্বকোষ নামে যে বইটি রয়েছে, তাতে হজের সব ধরনের নিয়ম-কানুন বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। কেউ এই বই পড়লে তার জন্য হজ করা অত্যন্ত সহজ হবে।
বইয়ের কাটতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, খুব বেশি কাটতি আছে, সেটা বলা যাবে না। তবে তারা যেসব বই বিক্রি করেন, তার কাটতি সারা বছর থাকে।
‘অনুবাদ’ নামে স্টলের কর্মী মোশাররফ হোসেন খবরের কাগজকে জানান, অনুবাদ বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। তারা বেশ কিছু থ্রিলার ধর্মী বই বিক্রি করেছেন। আর শিশুদের বেশ কিছু কার্টুন ও ছড়ার বই তাদের রয়েছে। শিশুদের বইয়েরও কিছুটা কাটতি আছে।
মোশাররফ আরও জানান, গতকাল প্রচুর দর্শনার্থী এসেছেন। সবাই বই ঘেঁটে দেখছেন। ছবি তুলছেন। কিন্তু কেনার আগ্রহ কম। যে পরিমাণ দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন তার একটি বড় অংশও যদি বই কিনে নিয়ে যেতেন, তাহলে তাদের অনেক ভালো ব্যবসা হতো। তবে তিনি আশাবাদী। যেহেতু দর্শনার্থীরা আসা শুরু করেছেন, বিক্রিও হবে।