বইমেলা জমে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক লোক মেলায় আসছেন। আগামী প্রকাশনী মূলত সৃজনশীল, মননশীল ও সিরিয়াসধর্মী বই প্রকাশ করে থাকে। এ ছাড়া প্রবন্ধ, গবেষণা ও রাজনৈতিক বইও প্রকাশ করে। এবার ড. সলিমুল্লাহ খানের আহমদ ছফার ওপর একটি বই প্রকাশ হয়েছে। ফরহাদ মজহারের কয়েকটি বই বের হচ্ছে। হুমায়ুন আজাদের রচনাবলি বের হবে শিগগিরই।
হুমায়ুন আজাদের বই চিরায়ত। তার বইয়ের চাহিদা সব সময় আছে। আমরা উপন্যাস ও গল্পের বই কম করি। গবেষণাধর্মী বই বেশি প্রকাশ করি। আমরা যেমন পাণ্ডুলিপি আশা করি, তেমন হয়তো পাই না। মোটামুটি যতটুকু পাই তার সঠিক সম্পাদনা করেই বই প্রকাশ করি। সারা বছরই আগামী প্রকাশনী থেকে বই বের হয়। একটা পাণ্ডুলিপি হাতে পাওয়ার পর বই আকারে বাজারে আসতে প্রায় এক বছর লেগে যায়। একটা বইকে ভালো মানে নিতে হলে অবশ্যই ভালো সম্পাদনা দরকার।
আমার ‘ময়ূরপংখী’ নামে শিশুতোষ বইয়ের একটি প্রকাশনা আছে। এখান থেকে শিশুদের ছবি আঁকা ও গল্পের বই প্রকাশ করি। শিশুদের জন্য ভালো পাণ্ডুলিপি পাচ্ছি না। শিশুদের বইয়ে লেখকরা শিক্ষার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আমি মনে করি, শিশুদের সবকিছুতেই শিক্ষামূলক থাকা উচিত না। শিশুরা যাতে আনন্দ পায়, সেই ধরনের বইও প্রকাশ করা দরকার।
শিশু চত্বরকে আরও নান্দনিক করতে বড় বাজেট দরকার। শিশু চত্বর উঁচু-নিচু থাকায় শিশুরা হাঁটতে গেলে কষ্ট হয়। শিশুরা যাতে অবাধে চলতে পারে, সে ব্যাপারে বাংলা একাডেমিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বইমেলায় গল্প ও উপন্যাসের বই বেশি চলে। একশ্রেণির পাঠক থাকেন, যারা মননশীল ও সৃজনশীল বই পছন্দ করেন।
আগামী প্রকাশনীর প্রায় ৩৯ বছর হতে চলেছে। অনেক নামকরা লেখক তাদের প্রথম বই আমাদের প্রকাশনা থেকে বের করেছেন। নতুন লেখকদের তুলে আনতে আগামী প্রকাশনীর বড় ভূমিকা রয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা এই প্রত্যয়ে আগামী প্রকাশনী’ স্লোগান নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
এবার বইমেলায় বিভিন্ন ধরনের বই দেখতে পাচ্ছি। বইমেলায় শিশুদের ব্যাপারে বাংলা একাডেমির একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শিশুতোষ অনেক প্রকাশনা রয়েছে, কিন্তু সেগুলো মানসম্পন্ন নয়। পাইরেসি করে তারা অনেক বই প্রকাশ করে থাকে। পাইরেসির ব্যাপারে আরও কঠোর নীতিমালা হওয়া উচিত।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক, আগামী প্রকাশনী
অনুলিখন: সানজিদ সকাল