অদ্ভুত সুন্দর এক নগরী ওয়াফি। এই নগরীতে রয়েছে চমৎকার সব নিয়মকানুন। এখানে সবাই মিলে নিয়ম মেনে চলে। এখানে কেউ কারো ক্ষতি করে না। একটি মানবতাবাদী আদর্শকে সামনে রেখে যে যার মতো চলে যেন সবাই ভালো থাকে। ঘৃণা-বিদ্বেষ এর দেখা মেলা ভার। সবাই মিলেমিশে ভালোবেসে জীবন যাপন করে। এ আশ্চযর্নগরীতে ধুলো নেই। পরিচ্ছন্ন পরিপাটি সবকিছু। বিশুদ্ধ বাতাস। নদীর মতো কুলকুল বয়ে চলে নিরন্তর এক আনন্দধারা...
কী! এতকিছু শুনে ভাবছ ইস যদি আমাদের দেশটা এমন স্বপ্নপুরী হতো! কিংবা আমি-ই চলে যেতে পারতাম ওয়াফি নগরীতে। কী মজাটাই না হতো!
এমন মজার এক আশ্চর্য নগরীরই দেখা পেয়েছে বিজয় এবং জয়া দুই ভাইবোন। বিজয়ের বয়স দশ আর জয়ার আট। তাদের বাবা দক্ষ জেলে আজাদ। তিনি গিয়েছেন পদ্মায় ইলিশ ধরতে। আর এদিকে এক সাতসকালের সোনারোদে বিজয় আর জয়া মেঘনার পাড়ে খেলছিল। হঠাৎ ওরা দেখতে পায় মেঘনার জলে কে যেন সাঁতার কাটছে। ভাসতে ভাসতে কাছে আসার পর ওরা দেখে আগন্তুকের অর্ধেক শরীর মাছের মত। বিজয় আর জয়া ভয় পেয়ে যায়। তাদের ভয় না পাওয়ার অনুরোধ করে মৎস্যকুমারী। জানায় তার নাম সালফি।
গল্পে গল্পে বিজয় জানায়, সালফির সঙ্গে তার হারানো মায়ের চেহারার মিল আছে। আর তখনি সালফি জানায়, সে-ই আসলে তাদের মা। বেশ কয়েকবছর আগে মাছ ধরতে এসে তাদের বাবা মৎস্যকুমারী সালফির পোশাকটি নিয়ে নেন।সেই পোশাক ছাড়া মৎস্যকুমারী সমুদ্রে ফিরতে পারবে না। তাই পোশাক উদ্ধারের জন্য মৎস্যকুমারী সালফি অপরুপ এক মেয়ের রুপ ধারণ করে তাদের বাবার বাড়িতে যায়। বাবা তো তাকে দেখেই পছন্দ করে ফেলেন। এরপর বিয়ে। বিজয়, জয়ার জন্ম। বছর পাঁচেক আগে যেদিন বাড়ির এক গোপন জায়গায় পোশাকটি পায় তখন পোশাক পরে সে সমুদ্রে ফিরে যায়। কিন্তু ছেলেমেয়ের জন্য যে তার সারাক্ষণ মন কাঁদে! মায়ের কথা শুনে বিজয় আর জয়া মায়ের পিঠে চড়ে বসে। আর তারা চলে যায় গভীর সমুদ্রের তলদেশে সেই আনন্দনগরী ওয়াফিতে।
ওয়াফির এত আনন্দের মাঝেও চিরদুঃখী এখানকার রাজা বানশী। কারণ সে নগরীর নিয়ম ভেঙ্গে লোভ করেছে। বিশাল প্রাসাদ বানিয়ে সবকিছু মজুদ করেছে। সবচেয়ে বেশি সুখের জীবনযাপন করতে গিয়ে নগরীর সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিঃসঙ্গ, একদম একা দুঃখী বানশী সালফিদের পেয়ে তাদের কাছে আকুতি জানায় তাকে সঙ্গ দেওয়ার। এরইমাঝে সালফি, বিজয়, জয়া বানশীর দুঃখ লাঘব করতে আয়োজন করে ঢোল-বাঁশি-বিউগলসহ এক আনন্দ আয়োজনের। তারা কী পারবে ওয়াফিকে সেই আগের আনন্দনগরীতে ফিরিয়ে দিতে?
বিজয়-জয়া কী মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে তাদের সংসারটাকে বানাতে পারবে আরও একটি আনন্দনগরী? নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে তোমাদের? তাহলে তো পড়তে হবে লেখক কামরুল হাসান শায়ক এর মৎস্যকুমারী ও এক আশ্চর্য নগরী বইটি। কালো অক্ষরের শব্দগুলোতে মগ্ন হয়ে ঘুরে আসো ওয়াফি নগরীতে। জেনে নাও মৎসকুমারী আর আশ্চর্য নগরী ওয়াফির চমকপ্রদ ঘটনাগুলো।
বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.। মূল্য ১৫০ টাকা।