নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার কিছুটা কম সময় নিয়ে বইমেলা হচ্ছে। রমজানে বইমেলা হওয়ায় এখন পর্যন্ত পাঠক-ক্রেতা সেভাবে আসছেন না। তবে সব শঙ্কা পেরিয়ে একুশের চেতনাকে ধারণ করে বইমেলা যে হচ্ছে, পাঠক, লেখক, প্রকাশকের যে মেলবন্ধন হচ্ছে, এটাও আনন্দের। শিশু প্রহরসহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন, একুশের চেতনা– সবকিছু মিলিয়ে বইমেলা এক অনন্য উৎসব। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুব জরুরি। আমি শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ রচনা করলেও আমার মূল সাধনা কবিতায়। কবিতা মানবজীবনের বৈচিত্র্যকে ধারণ করে। হালকা আবেগ, গভীর আবেগ, ভালোবাসা, দেশপ্রেম–সব বৈচিত্র্য ধারণ করার ক্ষমতা আছে কবিতার। তাই কবিতা আমাকে বেশি টানে এবং আমি নিজেকে কবি পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
চার দশকের লেখকজীবনে প্রকৃতি, প্রেম, সমসময় প্রেক্ষাপটসহ নানা বিষয় আমার কবিতার বিষয় হয়ে এসেছে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বিস্ময়কর ও আলাদা; এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে। আবেগ, অনুভূতি ও সুন্দরের প্রকাশমাধ্যম কবিতা। কবিতা মানবজীবনের আলেখ্য, দূরের পথ। কবিতা যেমন বর্ষার বৃষ্টিমুখর স্নিগ্ধ, তেমনি খরার চরের মতো উত্তপ্ত। কবি কবিতা লিখতে কখনো শব্দকে খুঁজে নেন, আবার কখনো শব্দই কবিকে খুঁজে নেয়। এটা পারস্পরিক ব্যাপার।
একুশে বইমেলায় লেখক ও পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়, তারা লেখার নানা বিষয় নিয়ে লেখকের সঙ্গে ভালোমন্দ শেয়ার করার সুযোগ পান। এই প্রতিক্রিয়া লেখকের জন্য খুব উপকারী ও দরকারি। দেশে বইয়ের পাঠক হয়তো সেভাবে বাড়েনি, এর মধ্যে কবিতার পাঠক আরও কম, তবে এ জন্য আমি প্রযুক্তিকে দায়ী করি না। ইউরোপে প্রযুক্তি অনেক আগেই এসেছে এবং তারা তা ব্যবহারে অভ্যস্ত, তবু তারা নিয়মিত বই পড়ে। আসলে এটি চর্চা, অভ্যাস ও অনূকূল পরিবেশের ব্যাপার।
এবারের বইমেলায় পুঁথিনিলয় প্রকাশনী থেকে আমার ‘জলজ সংসার’ ও ‘ভালোবাসার লিরিক-৯’ নামে কবিতার দুটি বই আসছে। ভালোবাসার লিরিক মূলত রোমান্টিক অণুকাব্যের বই। বিগত ভালোবাসার লিরিক সিরিজের ৮টি বই পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ায় প্রকাশকের ইচ্ছায় এবার নবম বইটি আসবে। এ ছাড়া অনুভব প্রকাশনী থেকে শিশুতোষ গল্পের বই ‘মিশির চোখে হাসি’ বইটি বেরিয়েছে। পাঠকদের আহ্বান জানাব, আপনাদের সন্তানদের, শিশুদের নিয়ে বইমেলায় আসুন। বই কিনুন। নিজে বই পড়ুন এবং প্রিয়জনদের বই উপহার দিন।
লেখক: কবি। অনুলিখন: মুসতাক মুকুল