বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিজ কার্যালয়ে তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।
পদত্যাগপত্র স্বাক্ষর করে কার্যালয়ে থেকে বের হওয়ার সময় কেঁদে ফেলেন সাবেক এই পরিচালক। এর আগে সকালে পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করেন।
পদত্যাগপত্রে সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘হাসপাতাল পরিচালনা করতে অপারগ, বিধায় আমি স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে অত্র হাসপাতালের পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালাম।’
ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশালের সন্তান আমি। এই মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলাম। এখানে আমার আবেগ ও স্মৃতি জড়িত। সব সময়ই হাসপাতালের ভালো চেয়েছি। তবে পরিচালকের পদ থেকে সরে গেলাম।’
শেবাচিম সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে মেডিকেলের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেবাচিমে আসেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা পরিচালকের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন। তারা বের হয়ে আসার পরই শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে পরিচালক সাইফুল পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। তারপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সহকর্মী চিকিৎসকরা তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যান।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে শিশু ওয়ার্ডে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেন রোগীর স্বজনরা। এ নিয়ে গত শনিবার দুপুর থেকে ৪ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ওই সময় পরিচালককে পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবিগুলো হলো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ নিয়োগ, হাসপাতালে রোগীদের একজনের বেশি ভিজিটর প্রবেশ না করা, চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দক্ষ পরিচালক নিয়োগ।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৩ আগস্ট পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও তার অনুসারীরা স্বৈরাচারের পক্ষে সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এ ছাড়া মেডিকেলের সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, টাকা লুটপাট, সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানিসহ এমন কিছু নেই যা তিনি করেননি। মেডিকেলের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বাণিজ্য করেছেন।