ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তৎপর প্রার্থীরা, প্যানেল দিতে হিসাব-নিকাশ

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০১:৫১ পিএম
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তৎপর প্রার্থীরা, প্যানেল দিতে হিসাব-নিকাশ
ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে কেউ দলীয়, কেউ স্বতন্ত্র আবার কেউবা শিক্ষার্থীবান্ধব নানা নামে প্যানেল গঠনের চেষ্টা করছেন। 

গত ২৯ জুলাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ভোটার থেকে প্রার্থী সবার মনেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নির্বাচন। ইতোমধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩৯ হাজার ৯৩২ জনকে ভোটার করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট বিকেল ৪টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১২ আগস্ট থেকে শুরু হবে মনোনয়নপত্র বিতরণ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মনোনয়নপত্র বিতরণের আগ মুহূর্তেই ছাত্রসংগঠন ও অন্যরা প্যানেল গঠনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

প্যানেল গঠনের পথে ছাত্রসংগঠনগুলো

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্রসংগঠনগুলো প্যানেল দিতে বেশ কড়া হিসাব-নিকাশ করছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যদের প্রার্থী হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এসব প্যানেল গঠনে। অনেকে প্যানেল শীর্ষ পদে প্রার্থীও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। কেউবা অপেক্ষায় চূড়ান্ত ঘোষণার। তবে কেউ কেউ এখনো প্যানেল গঠনে তেমন মনোযোগই দেননি। যদিও ব্যক্তি পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কৌশলে সরব থাকার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ভিন্ন-ভিন্ন প্যানেল তৈরির জন্য আলোচনা করছেন। এ ছাড়া বামধারার সংগঠনগুলো থেকেও একটি প্যানেল আসতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে সংগঠনগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ জোর আলোচনা চলছে। এ ছাড়া, ব্যক্তিপর্যায়ে প্যানেলবিহীন স্বতন্ত্র প্রার্থী তো রয়েছেই।

বেড়েছে পদ, আলোচনায় যারা

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদ ছিল। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আরও তিনটি পদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অন্য একজন শিক্ষক ডাকসুর সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদ তিনটি সবচেয়ে আলোচিত। এসব পদে প্রতিটি দল থেকেই শক্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে হল সংসদের গঠনতন্ত্রের ১৭ ও ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি পদ অপরিবর্তিত রয়েছে।

জানা গেছে, ছাত্রদলের প্যানেল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত আলোচনা না হলেও ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুল ইসলাম খান, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও কবি জসীমউদদীন হল শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক শেখ তানভীর বারী হামিম ছাত্রদল থেকে ভিপি-জিএস পদে লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম, ঢাবি শাখা শিবিরের বর্তমান সভাপতি ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এসএম ফরহাদও আলোচনায় রয়েছেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদও শীর্ষ দুই পদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। ভিপি পদে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের এবং জিএস পদে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদারের নাম চূড়ান্ত করে আংশিক প্যানেলের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে আলোচনায় রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র এবং ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা। এ ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া বাম ধারার ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছেন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর জাবির আহমেদ জুবেল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। পাশাপাশি ব্যক্তি স্বতন্ত্র পর্যায়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফত চৌধুরী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে।

প্যানেল গঠন নিয়ে যা বলছে ছাত্রসংগঠন এবং আলোচিতরা

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল দেওয়ার জন্য কাজ করছি, এখনো পুরোপুরিভাবে ঠিক হয়নি। অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক এবং আগে যারা শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে সরব ছিল, তাদেরকে আমাদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করব। আমরা সর্বাধিক সংখ্যক নারী প্রার্থী প্যানেলে রাখার পাশাপাশি আদিবাসী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের নিয়ে আমরা ইনক্লুসিভ একটি প্যানেল গড়ে তুলতে চাই।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের মাঝে আলাপ-আলোচনা এবং প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত প্যানেলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি।’ ১৭ বছর ধরে ছাত্রলীগ করে কিংবা গুপ্ত থেকে নানা কায়দাকানুনে হলে ছিল, যেকোনোভাবে তাদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কিন্তু ছাত্রদলের তো সেটি ছিল না। সেই জায়গা থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। নানা অজুহাতে মৌলিক সংস্কার পিছিয়ে দিয়ে যদি ডাকসু নির্বাচন হয় সেই ডাকসু কোনোভাবে কার্যকর ও ইতিবাচক হবে না।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্যানেলের নাম ডাকসু ফর চেঞ্জ, ভোট ফর চেঞ্জ। মূলত এই প্যানেলটিতে যারা দীর্ঘসময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই-সংগ্রামে নিয়োজিত রেখেছিল এবং অভ্যুত্থানে অংশ রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সরব ছিল, তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘আদর্শে বৈচিত্র্য, অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ এবং চিন্তায় অগ্রসর শিক্ষার্থীদের একটি স্বতন্ত্র প্যানেল দিতে আমরা কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি ট্যাগলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে প্যানেল দিলে হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করব। ইতোমধ্যে অনলাইনে অনেকেই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।’

এক হয়ে প্যানেল দিতে পারে বাম সংগঠনগুলো

বাম ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো একতাবদ্ধ হয়ে একটি প্যানেল দেওয়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটসহ (বামপন্থি, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট) অপরাপর বামপন্থি যেসব সংগঠন রয়েছে, এর পাশাপাশি বিশেষ করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যক্তি পর্যায়ে যারা কি-না সাম্প্রদায়িক না এবং শিক্ষা সংক্রান্ত দাবি নিয়ে কাজ করে তাদেরকে আমরা সঙ্গে নিয়ে প্যানেল দিতে চাই।’

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্যানেল চূড়ান্ত না হলেও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটভুক্ত সংগঠন এবং অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রগতিশীল একটি ঐক্যবদ্ধ প্যানেল তৈরির চেষ্টা আমাদের অনেক দিন ধরেই চলছে এবং আমরা অনেকদূর এগিয়েও গেছি, খুব শিগগির হয়তো আমরা অফিশিয়াল ঘোষণার মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করব।’
প্যানেলের ফাঁদে পা দিতে চান না স্বতন্ত্ররা

প্যানেলের বাইরে নিজেদের স্বতন্ত্র ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে চান অনেক প্রার্থী। যাদের মূল শক্তিই শিক্ষার্থীরা। এই শক্তিই তাদের এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস অনেকের। 

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত চৌধুরী বলেন ‘বিগত সময়ে আমরা দেখেছি দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও মাদার পার্টির পারপাস সার্ভ করতে তৎপর থাকেন। ফলে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা সবসময় উপেক্ষিত হয়। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবারের ডাকসু নির্বাচনে নির্দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চে কাজ করার সুবাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমার কাজ করার একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের পালসকে প্রাধান্য দিয়ে আমি আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ইংরেজি বিভাগের শামীম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দরকার। যিনি ছাত্রদের জন্য কথা বলবেন, শিক্ষার্থী ভয়েস হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করবেন। এখন আমি যদি কোনো প্যানেল থেকে প্রতিনিধিত্ব করি, তখন বিষয়টি এমন দেখাবে যে, আমি তো তাদেরই নেতা এবং অমুক ব্যক্তির আদর্শ প্রচার করি। আমার তো এমন কোনো আদর্শ নেই। আমার আদর্শ একটাই, যখন আমার কোনো ছোট ভাই-বন্ধুরা কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হবে তখন তাদের সেই ভয়েসটা রেইজ করার জায়গা তৈরি করে দেব এবং সেই ভয়েসটি হব আমি।’ 

এবারের নির্বাচনে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের তুলনায় ২০২৫-এর ডাকসু নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে অনেক বেশি। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের যেসব শক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি কঠিন প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে করেন ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবারের ডাকসু নির্বাচনে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের যেসব শক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি কঠিন প্রতিযোগিতা হবে। এখন তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে কতটা প্রাধান্য দেবে সেটি বলতে পারছি না।’ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার  অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বসার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। তিনি আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জবাবও আমি দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাম পাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে তাদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং কাউকে সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ সেখানে আসার পর পেছনে বসা শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারছিল না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলে যান।’

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ’দঁড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। তবে বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

শাকিবুল হাসান/খাদিজা রুমি/