তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসে ক্ষুব্ধ তিস্তা পাড়ের মানুষ এবার সরাসরি কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চলতি বাজেটের সংশোধিত বরাদ্দে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু না হলে রংপুর বিভাগ থেকে রাজধানী ঢাকায় খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ এবং প্রয়োজনে ‘ঢাকা ঘেরাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের নেতারা।
শনিবার (২০ জুন) রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা সবাই জানে। বছরের পর বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এখন আর আশ্বাস নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু দেখতে চায় মানুষ। সরকারের সংশোধিত বাজেটেই এ প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন ও পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে মহাপরিকল্পনাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবিকে আর উপেক্ষা করা যাবে না।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান আরিফ। বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আযম খান, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল রংপুর ইউনিটের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি নেতা আল মামুন, ডা. মো. হোসেন, ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট তারেকুজ্জামান তারেক, অ্যাডভোকেট উমর ফারুক এবং আব্দুল মান্নান তালিবসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে অবিলম্বে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।
এদিকে একই সময়ে রংপুর মহানগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত দশটি পয়েন্টে একযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংক মোড়, ডিসি মোড়, কাচারীবাজার, পুলিশ লাইন্স মোড়, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, ওয়ালটন মোড় ও শাপলা চত্বরে শত শত মানুষ অংশ নেন।
প্রেসক্লাব পয়েন্টে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান মাজেদ। এছাড়া শিক্ষাবিদ আবু বক্কর সিদ্দিক, আজহার আলী শাহ, আমিনুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন, ফরহাদ হোসেন মণ্ডল, ইঞ্জিনিয়ার মামুন মিয়া, ব্যবসায়ী শাহনৎ মিয়া ও ড. আজিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
শুধু রংপুর নয়, শনিবার একযোগে তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায়ও একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাচড়ার বুড়িরহাট থেকে মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পর্যন্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রায়হান সিরাজী এমপি। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী চর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপি ও আনোয়ারুল ইসলাম এমপি।
নীলফামারীর জলঢাকার কাঁকড়া এলাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, আল ফারুক আব্দুল লতিফ এমপি, ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও আব্দুল মুনতাকিম এমপি। অপরদিকে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিস্তা সেতু পর্যন্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি ও মওলানা নুরুল আমিন এমপি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তিস্তা অববাহিকা পরিদর্শন করে গেলেও বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে তিস্তা পাড়ের মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
তাদের ভাষ্য, আগামী দিনগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরাঞ্চলের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
সেলিম সরকার/এসএন