চান্দগাঁও বিএফআইডিসি সড়কটি চট্টগ্রামের অন্যতম একটি কর্মচঞ্চল সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, অটোরিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক দিয়েই অনেক কর্মজীবী মানুষ হেঁটে কাজে যান। এখানে আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শ্রম অফিস, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন অফিস রয়েছে। অথচ এই সড়কে বছরজুড়ে ময়লা পানি জমে থাকে। ফলে এখানে ডেঙ্গু বিস্তারকারী এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সারা বছর অবর্জনা ও ময়লা পানি জমে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রযোজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেয় না।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকার এই সড়কটির দুই পাশে ড্রেনের ময়লা কালো পানি ভেসে আছে। সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। রয়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। কেউ কেউ প্লাস্টিক, পরিত্যক্ত কাগজ, আবর্জনা জমে থাকা পানিতে ফেলছেন।
বিএফআইডিসি রোডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ঝন্টু দাস বলেন, ‘আমি এই সড়কে সাত বছর আগে দোকান দিয়েছি। সেই থেকে এখানে পানি জমে থাকতে দেখি। কেউ কোনো সমাধান করেন না। নোংরা পানি জমে থাকে, সব সময় মশার উপদ্রব থাকে। অনেক রাজনৈতিক নেতার এখানে কারখানা রয়েছে। এখানে ব্যবসা করেই শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কিন্তু সড়কটির প্রতি কারও খেয়াল নেই। সাবেক মেয়র, সিডিএ চেয়ারম্যান ও এমপিরা দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু তারা জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে কিছুই করেননি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনিস বলেন, ‘১০ বছরের বেশি সময় ধরে এই রোডে ময়লা পানি জমে থাকে। কারণ এখানকার ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। মশক নিধন ওষুধও কখনো ছিটানো হয় না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কোনো লোককে এখানে দেখিনি। অথচ নিয়মিত ড্রেন ফেটে পানি বের হয়। সড়কে আবর্জনা পড়ে থাকে।’
স্থানীয় তরুণ লোকমান হোসেন মুন্না বলেন, ‘বহু বছর আগে চান্দগাঁও থানাধীন সিঅ্যান্ডবি মোড়ে একটি রাস্তার তলদেশে একটি নালা নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে অন্য নালা পরিষ্কার করা হলেও কষ্টসাধ্য অজুহাতে এটি পরিষ্কার করা হয় না। করপোরেশনের লোকজন কষ্ট করতে চান না।’
ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, ‘আমরা তো সাধারণ মানুষ, আমাদের কিছুই করার নেই। এখানকার অনেক মানুষ ডেঙ্গুতে ভুগছেন। এই তো সেদিন আমার প্রতিবেশীর ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো।’
৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব আলম বলেন, এ ওয়ার্ডে মোট ৬৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন। দিনে ৩৭ আর রাতে ৩০ জন কাজ করেন। তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে আমি চসিকের কয়েকজনসহ ১৩ জনকে পেয়েছি কর্মস্থলে। বাকিদের পাইনি। তাদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার কারণে সবদিকে নোংরা আবর্জনা থেকেই যাচ্ছে।’
চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছি তারা যেন রাস্তায় ময়লা না রাখেন। এরপরও তারা রাস্তায় ময়লা স্তূপ করে রাখেন। যারা রাস্তায় ময়লা ফেলেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেব। ময়লা পানির বিষয়টি আমরা দেখব। সেখানকার সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে এটার সমাধান করব।’
চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ টিম পাঠিয়ে আমরা লিফলেট বিতরণ ও ওষুধ ছিটাচ্ছি।’