গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল নারী ফিলোমিনা হাসদাকে (৫৫) মারধরের ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ঢাকায় কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভুক্তভোগী ও এলাকার সাধারণ মানুষের থেকে ঘটনা সম্পর্কে তথ্য নেন। পরে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ওই নারীর বাড়ি পরিদর্শন ও তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে যারা এসেছেন তারা হলেন- অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রির্ফম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী ও প্রোগ্রাম অফিসার রফিকুল ইসলাম, কাপিং ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হিরন মিত্র, লাস্টের সিনিয়র আউটরীচ অফিসার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সদস্য সুশীল মাহাতো, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম, পল্লী অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুরুজ হক, ডব্লিউসিডিবির নির্বাহী পরিচালক সন্ধ্যা মালো, স্বপ্ন সংস্থা বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক জিয়াউর রহমান, রোপ সংস্থা বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা পারভীন, পিইউপি সংস্থা বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আবু হাসানাত প্রমুখ।
গত চার জানুয়ারি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সাঁওতাল নারী ফিলোমিনা হাসদাকে (৫৫) মারধর ও তার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠে রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। আহত ওই সাঁওতাল নারীকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ফিলোমোনা হাঁসদার ছেলে জুলিয়াস সরেন গত ৪ জানুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন।
এ ছাড়া গত মঙ্গলবার দেশের ৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে আদিবাসী নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এ হামলার প্রতিবাদে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ এবং সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করে।
রফিক খন্দকার/সুমন/