সিলেটে চিকিৎসকের বাসায় লাকী নামের (১৩) এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতন করে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মার্চ) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাকী মারা যায়।
তবে ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, লাকীকে নির্যাতনের পর হারপিক খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি প্রেমে বাধা দেওয়ার ক্ষোভে হারপিক খেয়েছে লাকী।
লাকীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিলেটের মেজরটিলার নূরপুর এলাকায় চিকিৎসক জাকারিয়া আহমেদ রুমেলের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে গত ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করতেন কানাইঘাটের সড়কের বাজার এলাকার লাকী আক্তার। গত ২২ মার্চ রাতে লাকী আক্তারকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন ডাক্তার জাকারিয়া আহমেদ রুমেলের পরিবারের লোকজন। পরে লাকীর পরিবারকে জানানো হয় তার পেটে ব্যথা করছে। কিন্তু হাসপাতালে এসে লাকীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ক্ষতচিহ্ন চোখে পড়ে তার পরিবারের। এর পর ২৩ মার্চ রাতে লাকী আক্তারের মৃত্যু হয়।
লাকী আক্তারের মা বিলাতুল বেগমের অভিযোগ করে বলেন, 'এর আগেও লাকী আক্তারকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের পর জোরপূর্বক হারপিক খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে তার মেয়েকে। আমি আমার মেয়ের শরীরে নির্যাতনের জখম দেখেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। মেয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।'
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডাক্তার জাকারিয়া আহমেদ রুমেল। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রেমে বাধা দেওয়ার ক্ষোভে হারপিক খেয়েছে লাকী।
এদিকে, খবর পেয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সকালে লাকী আক্তারের মরদেহের সুরতহাল করে শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে গলায় বিষের সন্ধান পেয়েছেন। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। এর পরেও আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি।
শাকিলা ববি/জোবাইদা/