গরমে শরীরের ঘামে জামা ভিজে যাচ্ছে। তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত নারী-পুরুষ। কয়েক ঘণ্টা পর মিলছে এক কেজি গরুর মাংস। তবে তা বিনামূল্যে নয়। বাজারের তুলনায় মাত্র ১৫০ টাকা কমে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষরা এভাবেই লাইন ধরে ভিড় জমিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়। তখন দুই পাশে দুটি লাইন করা হয়। একটি লাইনে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন বয়সী পুরুষ। অন্যটিতে নারী। ঈদের কয়েক দিন আগে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ঘামে ভিজে হলেও কিছুটা কম দামে মাংস কিনতে পারায় খুশি অনেকে। তবে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রোজার দিনে রোদের মধ্যে এভাবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে মাংস বিক্রি ঠিক হয়নি। এ ছাড়া বাজারের তুলনায় যতসামান্য টাকা কম রাখায় মনোক্ষুণ্ণও হয়েছেন অনেকে।
মাংস নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়মনসিংহ নগরের বাসিন্দা পপি আক্তার। তিনি বলেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। লাইন দীর্ঘ হওয়ায় রোজা রেখে খুব কষ্ট হচ্ছে। ভেবেছিলাম, মাংস ছাড়াও ডিম বিক্রি করা হবে। তবে এসে দেখি, জনপ্রতি শুধু এক কেজি করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।
তার পাশের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রিফাত নামের একজন বলেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মাংস বিক্রি শুরু হয়। তবে এর আগে থেকেই শত শত মানুষ ভিড় জমায়। বাজারে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা। এখানে রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা। অনেকে কিছুটা দূর থেকে মাংস কিনতে এখানে এসেছেন। খরচসহ ধরলে এই মাংস কিনে লাভ নেই। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে দাম আরও কমানোর দরকার ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রমজান মাস উপলক্ষে গত ৪ মার্চ সকালে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস ও ডিম বিক্রির এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম। জেলা প্রশাসন ও জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিক্রি ও বিপণনের কাজ করছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন। মাংস বিক্রির প্রথম দিন থেকে প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা ও প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলকার গরুর মাংস ৬০০ টাকা করে কেজি রাখা হয়। একেকজন এক কেজি মাংস ও এক ডজন ডিম নিতে পেরেছেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার শুধু গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। এদিন কমপক্ষে ১১০০ মানুষ মাংস কিনতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, পুরো রমজান মাসের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ছিল বিক্রির শেষ দিন। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, স্বল্প আয়ের মানুষরা যেন সুলভ মূল্যে মাংস কিনতে পারেন। সরকারি কোনো ভর্তুকির ছাড়া এই কার্যক্রম চলেছে। হঠাৎ বেশি রোদ ওঠায় অনেকের কষ্ট হয়েছে। তবে সুলভ মূল্যে মাংস পেয়ে অনেকে খুশি মনে কিনতে আসেন।