ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এতে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুর অংশে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট না থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ বাড়লেও এই মহাসড়কে কোথাও কোনো ধীরগতি বা যানজটের সৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। এখন পর্যন্ত এই মহাসড়কে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়নি। ফলে আসন্ন ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীদের ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটারে কোনো ভোগান্তির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
তবে ঈদের সময় পরিবহনের বাড়তি চাপ থাকায় পদ্মাসেতুতে উঠতে টোলপ্লাজায় কিছুটা ভিড় হয়ে থাকে। সেতু পার হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়কের কোথাও যানজটের সম্ভবনা নেই বলে জানা গেছে। ঢাকা থেকে এই রুটের বিভিন্ন জেলার পরিবহনের ভাড়া দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
ছবি: খবরের কাগজ
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়ের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর, কুতুবপুর সূর্যনগর বাসস্টান্ডে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ চাপ যেন বাড়ছেই। তবে যানজট বা ভোগান্তি না থাকায় উৎসবের স্বস্তির হাসি মানুষের মুখে। কিন্তু গণপরিবহন ও যাত্রীবাহী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে শিবচরের পাচ্চর পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাড়া ২০০ টাকা সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
এছাড়াও যাত্রীদের অভিযোগ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়াও পরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রী আনা হচ্ছে।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ঢাকা থেকে তারা যাত্রী প্রতি বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। কারণ ফেরার পথে কম যাত্রী বা খালি গাড়ি নিয়েও ঢাকায় ফিরতে হয়। সেখানে সেতুর টোল ও জ্বালানি খরচের বিষয়ে তারা জোর দেন।
নাসির উদ্দিন মাদবর নামের এক নারী বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে পাচ্চর বাসস্ট্যান্ডের ভাড়া সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। সেই ভাড়া এখন ৪০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে বলে গেলে যান, না হলে না যান। বাধ্য হয়েই আসতে হয়। কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না। প্রশাসনেরও তেমন তদারকি নেই।
অপর যাত্রী আরিফ হোসেন বলেন, ঢাকার শ্যামলী থেকে এসেছি। স্বাভাবিক সময় ভাড়া ২৫০ টাকা, আর এখন ভাড়া দাবি করা হচ্ছে দ্বিগুণের বেশি। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন খান নামে শিবচরের এক শিক্ষক বলেন, ঢাকা টু শিবচরগামী আনন্দ পরিবহনের বাসে ২০০ টাকা। এখন ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
শিবচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার থেকে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে চাপ বাড়ছে। দুপুরের পর চাপ আরও বেড়েছে। তবে কোথাও কোনো যানজট নেই। যাত্রী নিরাপত্তার জন্য দিন-রাত সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি টহল টিম রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ দিয়ে ঢাকা ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক মহাসড়কে থাকছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। ঈদে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের একাধিক টহল টিম থাকছে মহাসড়কে।
রফিকুল ইসলাম রাজা/মাহফুজ