সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ঈদুল ফিতরের দিনে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে পাঁচটি গ্রামের মানুষের ঈদের আনন্দ।
বাঁধ ভেঙে বিছট, আনুলিয়াসহ কমপক্ষে ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত মাছের ঘের ও বসতবাড়িসহ কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি।
সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাতক্ষীরা বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ২০০ ফুট বেড়িবাঁধ হঠাৎ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বিছট গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে আমরা গ্রামবাসীরা ঈদের নামাজে ব্যস্ত ছিলাম। নামাজ শেষে জানতে পারলাম বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে আব্দুর রহিম সরদারের চিংড়ি ঘেরের কাছে প্রায় ২০০ ফুট বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি মসজিদের মাইকে প্রচার করে দ্রুত লোকজনকে ভাঙন পয়েন্টে যেতে বলা হয়। গ্রামবাসী বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করে। কিন্তু নদীতে জোয়ারের কারণে রিংবাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সোমবারের ভিতরে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ করা না গেলে জোয়ারের পানিতে আনুলিয়া ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০-২৫টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে যাবে।
এজন্য দ্রুত ভাঙন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ মেরামতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ ফুট খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে সেখানে কাজ করছেন। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/