ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক ২১ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও এক যুগ পেরোলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা! বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে নামছে জাপান-তিউনিসিয়া তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামের সামনে সংগঠিত ইরান ২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কুকুরেইয়ার ‘জেগে ওঠার ডাক’ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি

সিলেটের সাবেক মেয়রের বাড়িতে হামলা নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেসবুকে দিলেন বিএনপি নেতা

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১২ পিএম
আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৩ পিএম
নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেসবুকে দিলেন বিএনপি নেতা
সিলেটের বিএনপি নেতা কয়েস লোদী (বায়ে) ও লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ। তাতে কেবল একজনের নাম ধরে অভিযোগ। লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ করেছেন। তার বলা কথা এমন, ‘বিএনপির একজন ভারপ্রাপ্ত মহানগরের কয়েস লোদী। তার প্রকাশ্য মদদে কিন্ত এটা ঘটেছে...!’

সিলেটে নিজের বাসা ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরীর বাসায় হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তাতে সিলেটের সহনশীল রাজনৈতিক অবস্থানের সংস্কৃতি ভেঙে পড়েছে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্য পেশ করার পাশাপাশি তিনি সংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরও দেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এম এ মালেকের দক্ষিণ সুরমার বাসায় ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর নগরীর ফাজিলচিস্ত এলাকার বাসায় হামলা হয়েছিল বলে সাংবাদিকদের জানালে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তখন এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং আওয়ামী লীগ প্রতিবাদী ছিল বলে জানান। সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে কারা হামলা করেছে? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি সেখানকার সাংবাদিকদের মাধ্যমেই খবর পেয়েছি। এ কথা বলে তিনি অভিযোগ করেন কয়েস লোদীর নাম ধরে।

লন্ডনে এই সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সরাসরি সম্প্রচার হয়। বিশেষ করে ফেসবুকে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া আনোয়ারুজ্জামানের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে ‘বিএনপির একজন ভারপ্রাপ্ত  মহানগরের কয়েস লোদী’ বলা ব্যক্তি হচ্ছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র কয়েস লোদী সর্বশেষ আনোয়ারুজ্জামানের নির্বাচনকালীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। আনোয়ারুজ্জামানের সরাসরি অভিযোগের ভিডিওটি কয়েস লোদী তার ফেসবুকে দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪ টায় কয়েস লোদী তার ফেসবুক আইডিতে ভিডিও ক্লিপটি আপ দেন। যুক্তরাজ্যের ‘রানার টিভি’র সম্প্রচারিত সংবাদ থেকে ভিডিও ক্লিপটি সংগৃহীত। এতে বার বার একই কথা-বিএনপির একজন ভারপ্রাপ্ত মহানগরের কয়েস লোদী! তার প্রকাশ্য মদদে কিন্ত এটা ঘটেছে।

ফেসবুকে দেখা গেছে, প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে ভিডিওটি দেখেছেন ৫২ হাজার। মন্তব্য ও শেয়ার করেছেন শতাধিক ব্যক্তি। মন্তব্যের কলামে কয়েস লোদীকে ‘সৎসাহসী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে। ভিডিওটি আপ দিয়ে কয়েস লোদী বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ভিত্তিহীন ও কান্ডজ্ঞানহীন অভিযোগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি গণমানুষের আস্থা ও ভরসার এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দলটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও চর্চা, রাজনৈতিক সম্প্রীতির লালন ও বিকাশের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিএনপি বিশ্বাস করে রাজনীতিকে মোকাবেলা করতে হয় রাজনীতি দিয়ে। গত ১৬ বছর আওয়ামী ফ্যাসিজম মোকাবেলা করতে বিএনপি রাজনৈতিক কাঠামো ব্যবহার করেছে, কখনো কোনো অপরাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। বিগত সরকারের নানামুখি নির্যাতন, জেল-জুলুম, গুমের রাজনীতি সারাদেশের মতো সিলেটেও অব্যাহত ছিল। আমাদের সবার মনে থাকার কথা, রেজিষ্ট্রি মাঠে এস আই তারেক কীভাবে মাথা ফাটিয়েছিল প্রবীণ নেতা মরহুম এম এ হকের, কীভাবে কোমরে রশি বেঁধে টেনে নেওয়া হয়েছিল সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমকে। সেদিন আমার পিঠেও লাঠির প্রচন্ড আঘাত করেছিল আওয়ামী এসআই তারেক, এখনো আমার পিঠে সেই কালো দাগ আছে। জননেতা এম ইলিয়াস আলী, ইফতেখার আহমদ দিনার জুনেদ ও আনছারকে গুমের মাধ্যমে সিলেটের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে কালিমা লেপন করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেওয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ও গুলি ছোঁড়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসা ভাঙচুর, বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিমের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'তারু মিয়া স্টোর' বারবার ভাঙচুর করেছিল স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ। সিলেট নগরীর ৭নং ওয়ার্ডে একাধিক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, সিলেটে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ নিজেদের ফ্যাসিবাদী চেহারা প্রকাশ করেছে বিগত ১৬ বছর। বিগত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দলবেঁধে পাহারা দিয়েছে। আমরা লক্ষ করছি ইদানিং আবারো রাজনৈতিক রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সিলেটের রাজনীতির মাঠকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। মানুষ যখন ঘুমে থাকে তখন তাদের ৭/৮ জনের টিম মুখে কাপড় বেঁধে ২/৩ মিনিটের ঝটিকা মিছিল দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচার করছে। এই অশুভ তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা জনসম্মুখে প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করেছে। আমরা একই সঙ্গে সাধারণ ছাত্র জনতাকেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে দেখেছি। পরবর্তী সময়ে কে বা কারা কয়েকটি বাসা বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করেছে যা অন্য সবার মতো আমিও মিডিয়ায় দেখেছি। এসব ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং বিএনপি কোনোভাবেই এগুলো সমর্থন করে না। আমরা চিরাচরিতভাবে সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী, কোনো অপকর্ম আমরা সমর্থন করি না বা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় বা শেল্টার দিই না। ইতোমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে আমরা হয় তাদের বহিষ্কার করেছি কিংবা তদন্তের আওতায় এনেছি, এসব প্রমাণ সবাই দেখেছেন। আমি মিডিয়ায় দেখেছি, লন্ডনে বসে সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি নাকি শুনেছেন ২ এপ্রিলের ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরাসরি মদদ দিয়েছেন। কোনোরুপ তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে এরকম ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য আমাকে বিস্মিত করেছে। জনাব আনোয়ারুজ্জান চৌধুরী পদচ্যুত হওয়ার পর থেকেই এরকম লাগামহীন অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটের রাজনীতিতে নোংরা কালিমা লেপনের চূড়ান্ত আঁচড় দিয়ে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে গেছেন। মাত্র ৮ মাসের মেয়াদে তিনি সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতা-কর্মীদের অবৈধ নিয়োগ, টেন্ডারবাজি করে শত কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন। মেয়র কার্যালয়কে অস্ত্রের স্টোররুমে পরিণত করেছিলেন, যার তদন্ত চলমান আছে; একসময় কর্তৃপক্ষ তা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন বলে বিশ্বাস করি। 

জুলাই আন্দোলনে এই বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র তার অনুসারীদের হাতে বিপজ্জনক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ছাত্র জনতাকে দমনের চেষ্টা চালিয়েছেন, মিডিয়ার মাধ্যমে সেসব তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। নিজের এসব অপকর্ম আড়াল করতে বর্তমানে হেন কোনো নোংরা কাজ নেই যা তিনি করছেন না। মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে বর্তমানে এসব নিষিদ্ধ মিছিল এবং হামলার ঘটনা তিনিই যে করাচ্ছেন না সে নিশ্চিয়তা কে দেবে? আমি প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, জুলাই বিপ্লবের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানক্ষেতে রাত্রি যাপন করেও যেখানে পার পায় নি, সেখানে অস্ত্রধারী এবং মামলার আসামিরা কী করে এখন শহরে অবাধে চলাফেরা করে? কীভাবে একটি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন গভীর রাত হোক আর ভোর বিহানে হোক, রাস্তায় নেমে মিছিল করে? এ বিষয়ে আপনাদের আরও কার্যকর তৎপরতা দেখাতে হবে। নতুবা পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা স্থাপিত হবে না।

একই সঙ্গে বাসা বাড়িতে হামলার প্রকৃত মদদ দাতাকে শনাক্ত করুন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধ করতে গণমানুষের দল বিএনপি সবসময়ই আপনাদের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।'

নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেসবুকে দিলেন কেন? বৃহস্পতিবার সন্ধ‍্যায় জানতে চাইলে কয়েস লোদী খবরের কাগজকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে উদ্ভট এই অভিযোগ পাবলিকলি প্রচার করে আমি নিজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে স্পষ্ট করেছি। আমি সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একজন লালনকারী। অতীতে এমন অনেক কিছু হয়েছে, যা বর্ণনাতীত। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলন চলাকালে আমাকে কারাবন্দী করা হয়। কার ইন্ধনে আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট। কিন্তু আমি প্রতিশোধ প্রণায়ন নই। যে কারণে আমার কারাভোগ ও নির্যাতন আমি মেনে নিয়েছি। নির্যাতন বলতে কী, আমাকে আটক করে সাড়ে তিনঘণ্টা প্রিজনভ্যানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। গরমে আর বন্দীদের সঙ্গে গাদাগাদি করে অবস্থানের কারণে আমি অবচেতন হয়ে পড়েছিলাম। সেই সব নির্যাতন ভুলে যাওয়ার নয়। তবে যে অভিযোগ লন্ডনের আয়েশি জীবন থেকে তিনি করেছেন, তা অলীক। বাস্তবতা ভিন্ন। আমি এখন নই, সব সময়ই রাজনৈতিক কারণে বাসাবাড়িতে হামলার বিপক্ষে। আনোয়ারুজ্জাানের উদ্ভট অভিযোগের অসংলগ্ন কথা যাতে বিবেকবান মানুষ শুনেন, এ জন্য ভিডিওটি নিজ ফেসবুকে আপ দিয়েছি। তারা কতটা পাগলপারা, মানুষ দেখুক।’    

উল্লেখ্য, বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়ে ঝটিকা মিছিল করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিলে ২০/২৫ জন অংশ নেন। এই মিছিলের ভিডিও আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় মিছিলকারীদের আটজন আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে সিলেট নগরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। এ দিন বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের অপসারিত সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর সন্ধ্যায় নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের বাসায়ও হামলা চালানো হয়েছে। রাতে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের কানিসাইলের বাসায় ভাঙচুর করা হয়। এর আগে মিছিলকারীরা টিলাগড় গোপালটিলায় সাবেক এমপি রনজিত সরকারের বাসভবনে, মেজরটিলায় সিসিকের অপসারিত কাউন্সিলর রুহেল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালানো হয়।

মাহফুজ/

টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী উখ্যাইংওয়ং মারমা। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু চরম দারিদ্র্য তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভর্তি ও প্রাথমিক খরচের জন্য এখন তার জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

জানা গেছে, উখ্যাইংওয়ং মারমা বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম চান্দা হেডম্যানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি সরকারি শিশু সদনে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি কখনো শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

উখ্যাইংওয়ং জানান, ২০২৩ সালে ফরহাদাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৬১ অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ৩৫৩৯তম স্থান অর্জন করেন ও বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন তার। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখনো তিনি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উখ্যাইংওয়ং। তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেধা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে এতদূর এসেছি। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে শুধু আমার নয়, আমার বাবা-মায়েরও বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমি চাই পড়াশোনা করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে।’
 
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উখ্যাইংওয়ং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য আর্থিক সহায়তা একটি মেধাবী তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে ও তাকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

উখ্যাইংওয়ং মারমা তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।

মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও যেন অর্থের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে না যায়- এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক
ছবি: ড্রাগন ফলসহ অন্যান্য ফলের চাষ করে সফল হয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফের জিনাপাড়া এলাকার জাফর সাদেক।

দীর্ঘ ১৬ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আধুনিক ফল চাষের মাধ্যমে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাফর সাদেক। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের জিনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিজের স্বপ্ন, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

জানা যায়, প্রবাস থেকে ফিরে ইউটিউবে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ভিডিও দেখে আধুনিক ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন সাদেক। পরে তিনি কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন ফল, মাল্টা, পেয়ারা, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপণ করেন। প্রায় ১৭ মাসের নিবিড় পরিচর্যার পর বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া এলাকায় সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে প্রায় এক একর বর্গা নেওয়া জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের চাষ করা হয়েছে। চারপাশে নেট বা ত্রিপল দিয়ে ঘেরা বাগানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা গাছগুলোতে এখন ফলের সমারোহ। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। অনেকে ফল সংগ্রহও করছেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

দর্শনার্থী রবিউল আলম বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে জানতে পারি টেকনাফে একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ড্রাগন, মাল্টা ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। বন্ধুদের নিয়ে বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানটি পরিদর্শন করে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।’

আরেক দর্শনার্থী আবদুল আজিজ বলেন, ‘টেকনাফে এমন একটি বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠবে, তা কল্পনার বাইরে ছিল। টেকনাফের উর্বর মাটি এ ধরনের উদ্যোগ সফল হওয়ার বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’

বাগানের মালিক মৌলভী জাফর সাদেক জানান, প্রায় তিন কানি জমি ১০ বছরের জন্য বর্গা নিই। প্রতি কানির জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এর পর প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপণ করি। দীর্ঘ ১৭ মাস পরিচর্যার পর বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করে তিন লাখ টাকার বেশি আয় করেছি। ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আমার বাগানের সব ফলই সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্বাদু। আমার লক্ষ্য ছিল নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে স্থানীয় অনেক মানুষ এখনো কৃষিকাজে আগ্রহ দেখান না।’

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রসঙ্গে সাদেক অভিযোগ করে জানান, কৃষি অফিস থেকে তিনি তেমন সহযোগিতা পাননি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সমস্যার ভিডিও পাঠাতে বলত এবং কিছু পরামর্শ দিত। কিন্তু কখনো বাগান পরিদর্শনে আসেনি। এমনকি কৃষকদের জন্য ঘোষিত কৃষিকার্ডও এখনো হাতে পাইনি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কৃষক জাফর সাদেকের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তার বাগান পরিদর্শন করে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন। আগামী জুলাই মাস থেকে কৃষকদের মধ্যে কৃষিকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তখন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সব কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে।’

 

হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘর তৈরি জন্য ভিত্তি তৈরির কাজ চলছে। ছবি: খবরের কাগজ

বগুড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা মহাস্থানগড়ে হাইকোর্টের রায় ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে নির্মিত হচ্ছে রাস্তাসহ নানা ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো। প্রাচীন অবকাঠামো ভেঙে রাস্তা ও ঘর নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও নির্মাণকাজ বন্ধে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাস্থান মাজারসংলগ্ন এলাকায় ইটের তৈরি একটি রাস্তা তিন মাস আগে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার মাজার চত্বর এলাকায় ঘর নির্মাণ চলছে। বগুড়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে গত ১৭ জুন জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানানো হলেও জেলা প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবকাঠানো নির্মাণ হচ্ছে তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৯৬৮ সালের সংশোধিত পুরাকীর্তি আইনে বলা হয়েছে–তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস, অঙ্গহানি, এমনকি নিদর্শনে আঁচড় কাটাও দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আড়াই হাজার বছরের পুরোনো মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে মাজারসংলগ্ন এলাকা খনন করে রাস্তা এবং ঘর নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মহাস্থান মাজারসংলগ্ন এলাকায় নতুন ঘর তৈরির কাজ তদারকি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি জানান, মাজারভক্ত নারী-পুরুষের জন্য এ ঘর তৈরির কাজে সহযোগিতা করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন আর আর্থিক সহযোগিতা করছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

কত টাকা ব্যয়ে এই ঘর তৈরি হচ্ছে–প্রশ্নের উত্তরে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘সেটি আমার জানা নেই, তবে যতটুক জেনেছি পুরো টাকাই সংগ্রহ করে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।’ এ ছাড়া মাজারে মিষ্টি বিক্রেতা মো. মাসুদ মিয়া জানান, প্রায় তিন মাস আগে মাজারসংলগ্ন এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কত টাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে এ তথ্য নেই। তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম টাকা দিয়েছেন এতটুকুই জানি। রাস্তাটি নির্মাণ করায় উপকার হয়েছে। বৃষ্টির সময় এ রাস্তায় চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হতো, কিন্তু এখন আর সেই সমস্যা নেই।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত এ প্রত্নস্থলে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও এখানে সেটি করা হয়নি। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, এ ছাড়া মানা হয়নি পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনও।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে প্রত্নস্থলে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বাইরে গিয়ে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ অবকাঠামো তৈরির কাজ বন্ধ করা হবে।’ কিন্তু গতকাল শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে এবং কাজ বন্ধ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। 

গত শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিকরা মহাস্থানগড়ের এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় খনন করে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছরে পুরোনো মাটির চুলাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নিদর্শন পান। মৌর্যপূর্ব, মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসনামলের নানা ধরনের নির্দেশনার ভান্ডার এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। এখানে আগে খনন করে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করলে উচ্চ আদালত সেটি বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই মামলার রায়ে ২০১২ সালে হাইকোর্ট প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি রক্ষায় বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। ওই রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাটি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে স্থানীয় প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা
ছবি: হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে টিকা না থাকায় সবাইকে যেতে হচ্ছে সদর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে প্রতিষেধকের সংকট। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে চড়া দামে টিকা কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সরবরাহ কম থাকায় জেলার স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পর থেকে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আসেনি। শুধু ব্যক্তি উদ্যোগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এক হাজার ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ২৯৭ জন কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগী টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার মাসে ৪ হাজার ৬৫৩ জন রোগী সদর জেনারেল হাসপাতালের টিকা বিভাগে জলাতঙ্কের টিকার জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার একজন, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬০ জন, মার্চে ৭০৭ জন, এপ্রিলে ১৭৭০ জন এবং মে মাসে ১৪১৫ জন মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় বেশির ভাগ রোগীকেই নিজ খরচে টিকা নিতে হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিকা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিদিন অনেক রোগী টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে নিজ খরচে টিকা কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যের এই টিকা বাইরে থেকে প্রতি ডোজ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। উপজেলা হাসপাতালে টিকা না থাকায় রোগীদের সদর হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের টিকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) সিনিয়র স্টাফ নার্স শিবানি বিশ্বাস বলেন, ‘র‌্যাবিস টিকার সরকারি সরবরাহ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ। কিন্তু আক্রান্তদের ডোজ প্রদান জরুরি। এমন অবস্থায় রোগীরা টিকা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। রোগীর চাপ বেশি থাকলে তিনজনকে একত্রিত হয়ে ভ্যাকসিন কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ একটি ভ্যাকসিনে তিনটি ডোজ থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে যখনই যে পরিমাণ ভ্যাকসিনের সরবরাহ আসছে, তা রোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে। তবে টিকা না পেয়ে অনেক সময় রোগীর স্বজনরা নার্সদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

টিকা সংরক্ষণাগারের ভাণ্ডার রক্ষক নোমান ভূইয়া জানান, গত বছরের ২২ নভেম্বর থেকে সরকারি সরবরাহের র‌্যাবিস টিকা আসা বন্ধ রয়েছে। অনুদানের ২৩৯টি ভ্যাকসিন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়ের জন্য মজুত রয়েছে। সে হিসেবে মাত্র ৯৫৬ জন তা পাবেন। অথচ গত এপ্রিল মাসেই নতুন ও পুরোনো রোগী মিলিয়ে ৬ হাজার ৭১১ টিকা আক্রান্তদের দেওয়া হয়েছে। যার বেশির ভাগই রোগীরা নিজেরাই সংগ্রহ করেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। তখন ৪০০০ ভায়াল চাহিদার বিপরীতে আসে মাত্র ৪০০ ভায়াল। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ কমতে থাকে। দীর্ঘদিন সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকার পর এ মাসের শুরুতে কিছু ভ্যাকসিন আসা শুরু হয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম।

নারায়ণগঞ্জে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) টিকার তীব্র সংকট নিয়ে সিভিল সার্জন মুশিয়ার রহমান জানান, জেলা পর্যায়ে টিকার সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ডোজ পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে চাহিদামতো বরাদ্দ পেলেই সদর হাসপাতালের সংকট কেটে যাবে। পাশাপাশি চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালেও টিকা সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই এই সংকটের সমাধান হবে। টিকা সংগ্রহে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের শিকার রোগীদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। কোনো রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন, এমন অভিযোগ নেই।

ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর
মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম (৪৪) নামে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামর পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর এলাকার হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

ভুক্তভোগী শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। শিশুর বাবা মাছের একটি প্রজেক্টে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি প্রতিদিন চিকনা মনোহর এলাকায় হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে পবিত্র কোরআন শিখতে যায়। মেয়ের সঙ্গে ৫ ও ৬ বছরের আরও দুই ছেলে শিশু পবিত্র কোরআন শিখতো। মেয়েটিকে দেরীতে ছুটি দিত ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। কিন্তু অপর দুই শিশুকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হতো। এতে মেয়েটির মায়ের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সাথে আলোচনা করলে স্বামী তা বিশ্বাস করে না।

প্রতিদিনের মতো শনিবার (২০ জুন) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে কোরআন শিখতে যায় মেয়েটি। মেয়ে বাড়ীতে আসতে দেরী হওয়ায় মেয়ের মা এদিন বিকেল তিনটায় মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে মেয়ে ও ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে মেয়ের মায়ের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আটক করে। 

আরও জানা গেছে, মেয়েটির মায়ের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজন মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে মারধর করে এবং মসজিদের ভিতরে তালাবদ্ধ রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেয় এবং মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ের বক্তব্য শুনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানোর পরামর্শ দেন এবং মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

শিশুটির মা বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন