পহেলা বৈশাখে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা। সোমবার (১৪ এপ্রিল) লাক্কাতুরা চা বাগান দুর্গা মন্দিরের পাশের একটি খালি জায়গায় এই চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই চড়ক পূজায় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
৪৫ বছর যাবৎ পহেলা বৈশাখের দিন লাক্কাতুরা চা বাগানে এই চড়ক পূজা হয়ে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লাক্কাতুরা চা বাগান দুর্গা মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। গুরু সন্ন্যাসী মতিলাল শব্দকরের নেতৃত্বে এই পূজা সম্পন্ন হয়। লাক্কাতুরা চা বাগান দুর্গা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রক্ষা বিজয় ভট্টাচার্য এই চড়ক পূজার সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন।
ছবি: খবরের কাগজ
লাক্কাতুরা চাবাগানে চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে পহেলা বৈশাখের দিন মেলার আয়োজনও করা হয়। চা বাগানের মানুষজন ছাড়াও শহরে হিন্দু-মুসলমান মানুষ এই মেলায় আসেন বৈশাখের প্রথম দিনটি উদযাপন করতে।
চড়ক পূজা দেখতে আসা সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা লালু দাস খবরের কাগজকে বলেন, আজকে বাংলা নববর্ষ। অনেক আনন্দের দিন এই লাক্কাতুরা চা বাগানে চড়ক পূজা হয়। বৈশাখী মেলা হয়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি।
ছবি: খবরের কাগজ
মেলায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘুরছিলেন সিলেটের সংস্কৃতি কর্মী ও সাংবাদিক রাজিব রাসেল। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, পহেলা বৈশাখ এমন একটি উৎসব যা কোনো ধর্মের মানুষের জন্য নির্ধারিত নয়। এটা একটা সার্বজনীন উৎসব। সবাই সবার মত করে এই উৎসব উদযাপন করেন। আমিও আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে এখানে এসেছি আনন্দ করতে। এই চড়ক পূজায় অনেক বিচিত্র আয়োজন থাকে এটা দেখতে এসেছি। পাশাপাশি বৈশাখী মেলাতেও ঘুরেছি। ছেলের জন্য কেনাকাটা করেছি।
চড়ক পূজা দেখতে বেলা ১২টা থেকে লাক্কাতুরা চা বাগানের দুর্গা মন্দির এলাকায় আসতে শুরু করেন। এই পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠান হলেও প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখের দিন সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানে চড়ক পূজার বিচিত্র আয়োজন দেখতে হিন্দু-মুসলমানসহ সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষদের ঢল নামে। বিকাল ৪টার দিকে চড়কপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
শাকিলা ববি/মাহফুজ