নড়াইলের লোহাগড়ায় এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার বিকেলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা গ্রামের ব্রামনডাঙ্গা বাজারে উলফাত স্টোরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। প্রভাবশালী মাতব্বররা সালিশ বৈঠক করে ২ লাখ টাকায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযুক্ত উলফাত মোল্লাকে একই ইউনিয়নের চর ব্রামনডাঙ্গা গ্রামের শামসু মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে ভুক্তভোগী ব্রামনডাঙ্গা বাজারে উলফাত স্টোরে কেনাকাটায় যান। এ সময় দোকানদার উলফাত তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারের ব্যবসায়ীরা ভুক্তভোগীর মাকে উপযুক্ত বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তী সময়ে প্রভাবশালী একটি মহল ওই পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাপ দিতে থাকে।
গত রবিবার রাতেই অভিযুক্ত উলফাত মোল্লাকে নিয়ে ব্রামনডাঙ্গা বাজারের সভাপতি কামরুল ইসলাম সাবু ও স্থানীয় লাভলু, নাজির, তাইজেল, জাকিরসহ ১০-১২ জন মাতব্বর একটি সালিশ বৈঠক বসান। সেখানে অভিযুক্ত উলফাত মোল্লাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীর চাচা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই সালিশ বৈঠকে আমাদের কাউকে ডাকা হয়নি। ইজ্জত তো চলে গেছে, টাকা দিয়ে কী হবে? লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না।’ অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে উলফাত মোল্লার ভাতিজি বলেন, ‘আমার চাচা নির্দোষ। মাতব্বররা তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। বাজারে সালিশের মাধ্যমে যদি সমাধান হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের বাড়িতে পুলিশ ও সাংবাদিকরা কেন এল?’
সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা বিষয়ে জানতে চাইলে বাজারের মাতব্বর নাজির হোসেন ধর্ষণ ও সালিশ বৈঠকের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই গত সোমবার সন্ধ্যায় আমরা অভিযুক্ত উলফাতকে আটক করেছি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায়, তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।’