ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ আজ বিশ্ব সংগীত দিবস সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক ২১ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও এক যুগ পেরোলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আয়াজ হত্যা মামলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা! বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে নামছে জাপান-তিউনিসিয়া তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামের সামনে সংগঠিত ইরান

সড়ক দুর্ঘটনায় হেফাজত নেতার মৃত্যু: চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪২ এএম
আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১০ এএম
সড়ক দুর্ঘটনায় হেফাজত নেতার মৃত্যু: চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ
ছবি: খবরের কাগজ

হাটহাজারী-রাউজান সড়কে বাসচাপায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ চলছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে বুধবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ঘোষণা দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর ফলে বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম উত্তরের বিশেষ করে অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজানগামী গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের সঙ্গে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির গণপরিবহনও বন্ধ আছে। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে দুইবার গুম করা হয়েছিল। এবার মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার সময় পেছন থেকে সুপরিকল্পিতভাবে বাসচাপা দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালন করা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় ট্রাকচাপায় সোহেল চৌধুরীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে হেফাজত।

কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা গতকাল রাউজান থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ নানা টালবাহানা করে এবং ঘটনাটি নিজেদের মতো করে লেখার চেষ্টা করে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

বুধবার সকালে দেখা যায়, অবরোধ কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাওলানা সোহেল চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায় হলেও গত ১৭ বছর ধরে তিনি পরিবারসহ হাটহাজারীতে বসবাস করছিলেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি একবার গুমের শিকারও হয়েছিলেন।

মেহেদী/

দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। 

তবে এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত আমির হামজা প্রকাশ মিলন (৩২) পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (২০ জুন) রাত ১১ টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) টেকনাফ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানবাজার এলাকায় টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হাজী আব্দুল করিম মার্কেটের ‘এস এস মোবাইল মিডিয়া অ্যান্ড ডিজিটাল স্টুডিও’ নামের একটি দোকানের পেছনের অংশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে দোকানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দোকানের মেঝেতে রাখা ২০টি কার্টনের মধ্যে প্রতি কার্টনে ৭২ ক্যান হিসেবে মোট ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশে উৎপাদিত ‘হান্টার ৫%’ বিয়ার জব্দ করা হয়।

তবে অভিযুক্ত আমির হামজা প্রকাশ মিলন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের অবৈধ উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির বিরুদ্ধে তাদের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, দোকানটির মালিক সেবক পালের কাছ থেকে উপ-ভাড়া নিয়ে আমির হামজা প্রকাশ মিলন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধভাবে বিয়ার সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মো. শাহীন/অন্তরা/

ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক
ছবি: ড্রাগন ফলসহ অন্যান্য ফলের চাষ করে সফল হয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফের জিনাপাড়া এলাকার জাফর সাদেক।

দীর্ঘ ১৬ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আধুনিক ফল চাষের মাধ্যমে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাফর সাদেক। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের জিনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিজের স্বপ্ন, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

জানা যায়, প্রবাস থেকে ফিরে ইউটিউবে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ভিডিও দেখে আধুনিক ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন সাদেক। পরে তিনি কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন ফল, মাল্টা, পেয়ারা, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপণ করেন। প্রায় ১৭ মাসের নিবিড় পরিচর্যার পর বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া এলাকায় সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে প্রায় এক একর বর্গা নেওয়া জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের চাষ করা হয়েছে। চারপাশে নেট বা ত্রিপল দিয়ে ঘেরা বাগানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা গাছগুলোতে এখন ফলের সমারোহ। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। অনেকে ফল সংগ্রহও করছেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

দর্শনার্থী রবিউল আলম বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে জানতে পারি টেকনাফে একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ড্রাগন, মাল্টা ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। বন্ধুদের নিয়ে বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানটি পরিদর্শন করে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।’

আরেক দর্শনার্থী আবদুল আজিজ বলেন, ‘টেকনাফে এমন একটি বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠবে, তা কল্পনার বাইরে ছিল। টেকনাফের উর্বর মাটি এ ধরনের উদ্যোগ সফল হওয়ার বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’

বাগানের মালিক মৌলভী জাফর সাদেক জানান, প্রায় তিন কানি জমি ১০ বছরের জন্য বর্গা নিই। প্রতি কানির জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এর পর প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপণ করি। দীর্ঘ ১৭ মাস পরিচর্যার পর বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করে তিন লাখ টাকার বেশি আয় করেছি। ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আমার বাগানের সব ফলই সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্বাদু। আমার লক্ষ্য ছিল নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে স্থানীয় অনেক মানুষ এখনো কৃষিকাজে আগ্রহ দেখান না।’

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রসঙ্গে সাদেক অভিযোগ করে জানান, কৃষি অফিস থেকে তিনি তেমন সহযোগিতা পাননি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সমস্যার ভিডিও পাঠাতে বলত এবং কিছু পরামর্শ দিত। কিন্তু কখনো বাগান পরিদর্শনে আসেনি। এমনকি কৃষকদের জন্য ঘোষিত কৃষিকার্ডও এখনো হাতে পাইনি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কৃষক জাফর সাদেকের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তার বাগান পরিদর্শন করে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন। আগামী জুলাই মাস থেকে কৃষকদের মধ্যে কৃষিকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তখন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সব কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে।’

 

হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘর তৈরি জন্য ভিত্তি তৈরির কাজ চলছে। ছবি: খবরের কাগজ

বগুড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা মহাস্থানগড়ে হাইকোর্টের রায় ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে নির্মিত হচ্ছে রাস্তাসহ নানা ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো। প্রাচীন অবকাঠামো ভেঙে রাস্তা ও ঘর নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও নির্মাণকাজ বন্ধে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাস্থান মাজারসংলগ্ন এলাকায় ইটের তৈরি একটি রাস্তা তিন মাস আগে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার মাজার চত্বর এলাকায় ঘর নির্মাণ চলছে। বগুড়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে গত ১৭ জুন জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানানো হলেও জেলা প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবকাঠানো নির্মাণ হচ্ছে তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৯৬৮ সালের সংশোধিত পুরাকীর্তি আইনে বলা হয়েছে–তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস, অঙ্গহানি, এমনকি নিদর্শনে আঁচড় কাটাও দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আড়াই হাজার বছরের পুরোনো মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে মাজারসংলগ্ন এলাকা খনন করে রাস্তা এবং ঘর নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মহাস্থান মাজারসংলগ্ন এলাকায় নতুন ঘর তৈরির কাজ তদারকি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি জানান, মাজারভক্ত নারী-পুরুষের জন্য এ ঘর তৈরির কাজে সহযোগিতা করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন আর আর্থিক সহযোগিতা করছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

কত টাকা ব্যয়ে এই ঘর তৈরি হচ্ছে–প্রশ্নের উত্তরে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘সেটি আমার জানা নেই, তবে যতটুক জেনেছি পুরো টাকাই সংগ্রহ করে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।’ এ ছাড়া মাজারে মিষ্টি বিক্রেতা মো. মাসুদ মিয়া জানান, প্রায় তিন মাস আগে মাজারসংলগ্ন এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কত টাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে এ তথ্য নেই। তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম টাকা দিয়েছেন এতটুকুই জানি। রাস্তাটি নির্মাণ করায় উপকার হয়েছে। বৃষ্টির সময় এ রাস্তায় চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হতো, কিন্তু এখন আর সেই সমস্যা নেই।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত এ প্রত্নস্থলে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও এখানে সেটি করা হয়নি। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, এ ছাড়া মানা হয়নি পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনও।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে প্রত্নস্থলে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বাইরে গিয়ে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ অবকাঠামো তৈরির কাজ বন্ধ করা হবে।’ কিন্তু গতকাল শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে এবং কাজ বন্ধ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। 

গত শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিকরা মহাস্থানগড়ের এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় খনন করে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছরে পুরোনো মাটির চুলাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নিদর্শন পান। মৌর্যপূর্ব, মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসনামলের নানা ধরনের নির্দেশনার ভান্ডার এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। এখানে আগে খনন করে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করলে উচ্চ আদালত সেটি বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই মামলার রায়ে ২০১২ সালে হাইকোর্ট প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি রক্ষায় বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। ওই রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাটি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে স্থানীয় প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা
ছবি: হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে টিকা না থাকায় সবাইকে যেতে হচ্ছে সদর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে প্রতিষেধকের সংকট। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে চড়া দামে টিকা কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সরবরাহ কম থাকায় জেলার স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পর থেকে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আসেনি। শুধু ব্যক্তি উদ্যোগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এক হাজার ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ২৯৭ জন কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগী টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার মাসে ৪ হাজার ৬৫৩ জন রোগী সদর জেনারেল হাসপাতালের টিকা বিভাগে জলাতঙ্কের টিকার জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার একজন, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬০ জন, মার্চে ৭০৭ জন, এপ্রিলে ১৭৭০ জন এবং মে মাসে ১৪১৫ জন মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় বেশির ভাগ রোগীকেই নিজ খরচে টিকা নিতে হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিকা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিদিন অনেক রোগী টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে নিজ খরচে টিকা কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যের এই টিকা বাইরে থেকে প্রতি ডোজ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। উপজেলা হাসপাতালে টিকা না থাকায় রোগীদের সদর হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের টিকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) সিনিয়র স্টাফ নার্স শিবানি বিশ্বাস বলেন, ‘র‌্যাবিস টিকার সরকারি সরবরাহ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ। কিন্তু আক্রান্তদের ডোজ প্রদান জরুরি। এমন অবস্থায় রোগীরা টিকা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। রোগীর চাপ বেশি থাকলে তিনজনকে একত্রিত হয়ে ভ্যাকসিন কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ একটি ভ্যাকসিনে তিনটি ডোজ থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে যখনই যে পরিমাণ ভ্যাকসিনের সরবরাহ আসছে, তা রোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে। তবে টিকা না পেয়ে অনেক সময় রোগীর স্বজনরা নার্সদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

টিকা সংরক্ষণাগারের ভাণ্ডার রক্ষক নোমান ভূইয়া জানান, গত বছরের ২২ নভেম্বর থেকে সরকারি সরবরাহের র‌্যাবিস টিকা আসা বন্ধ রয়েছে। অনুদানের ২৩৯টি ভ্যাকসিন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়ের জন্য মজুত রয়েছে। সে হিসেবে মাত্র ৯৫৬ জন তা পাবেন। অথচ গত এপ্রিল মাসেই নতুন ও পুরোনো রোগী মিলিয়ে ৬ হাজার ৭১১ টিকা আক্রান্তদের দেওয়া হয়েছে। যার বেশির ভাগই রোগীরা নিজেরাই সংগ্রহ করেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। তখন ৪০০০ ভায়াল চাহিদার বিপরীতে আসে মাত্র ৪০০ ভায়াল। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ কমতে থাকে। দীর্ঘদিন সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকার পর এ মাসের শুরুতে কিছু ভ্যাকসিন আসা শুরু হয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম।

নারায়ণগঞ্জে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) টিকার তীব্র সংকট নিয়ে সিভিল সার্জন মুশিয়ার রহমান জানান, জেলা পর্যায়ে টিকার সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ডোজ পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে চাহিদামতো বরাদ্দ পেলেই সদর হাসপাতালের সংকট কেটে যাবে। পাশাপাশি চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালেও টিকা সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই এই সংকটের সমাধান হবে। টিকা সংগ্রহে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের শিকার রোগীদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। কোনো রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন, এমন অভিযোগ নেই।

ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর
মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম (৪৪) নামে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামর পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর এলাকার হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

ভুক্তভোগী শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। শিশুর বাবা মাছের একটি প্রজেক্টে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি প্রতিদিন চিকনা মনোহর এলাকায় হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে পবিত্র কোরআন শিখতে যায়। মেয়ের সঙ্গে ৫ ও ৬ বছরের আরও দুই ছেলে শিশু পবিত্র কোরআন শিখতো। মেয়েটিকে দেরীতে ছুটি দিত ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। কিন্তু অপর দুই শিশুকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হতো। এতে মেয়েটির মায়ের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সাথে আলোচনা করলে স্বামী তা বিশ্বাস করে না।

প্রতিদিনের মতো শনিবার (২০ জুন) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে কোরআন শিখতে যায় মেয়েটি। মেয়ে বাড়ীতে আসতে দেরী হওয়ায় মেয়ের মা এদিন বিকেল তিনটায় মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে মেয়ে ও ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে মেয়ের মায়ের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আটক করে। 

আরও জানা গেছে, মেয়েটির মায়ের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজন মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে মারধর করে এবং মসজিদের ভিতরে তালাবদ্ধ রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেয় এবং মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ের বক্তব্য শুনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানোর পরামর্শ দেন এবং মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

শিশুটির মা বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন